০৯:৪৫ এম
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ কিছু গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ বা পেন্টাগন দেশটির অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরুরি নির্দেশ দিয়েছে দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে।
অস্ত্র উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রকাশিত একটি স্মারকলিপির বরাত দিয়ে সূত্রটি এ তথ্য জানিয়েছে। মার্কিন উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিভ ফেইনবার্গ বুধবার সামরিক শিল্প খাতের নেতাদের জানান যে, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতার জন্য উৎপাদন বাড়ানো এবং সরবরাহের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো দরকার।
এটি নিশ্চিত করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বাধিক ২১ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। ফেইনবার্গ বলেন, ''বছরের পর বছর ধরে অস্ত্র তৈরির উন্নয়ন ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার সময়সীমা এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়।'' তিনি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎপাদন ও সরবরাহের সময় 'নাটকীয়ভাবে দ্রুত' করার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড দুঃখজনক, পর্যালোচনা চলবে : আইনমন্ত্রী
অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা শনিবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত এখনো যথেষ্ট রয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন ইউনিটের প্রধান উপপরিচালক জ্যারেড কনলিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ''বর্তমান সামরিক কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত গোলাবারুদ রয়েছে।'' কনলি আরও বলেন, ''বর্তমানে যে কাজ চলছে, তার জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আছে।'' তিনি এও জানান যে, যুদ্ধ পরিচালনার জন্য যা প্রয়োজন, তা তাদের কাছে রয়েছে।
তবে একই সময়ে অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর জন্য পেন্টাগনের জরুরি নির্দেশের বিষয়টি সামনে এসেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান মজুত নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী গোলার মজুত নিয়ে উদ্বেগ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল। মাসখানেক আগে চলমান সংঘাতের কারণে এই বিষয়ে আলোচনা উঠে এসেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ''ইরানের সাথে চলমান সংঘাতে মার্কিন সামরিক কৌশলে গোলাবারুদ মজুত কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে।''
একমাত্র ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের মজুত নিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথের ওপর বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ''ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুতের উপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।'' দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষার গোলার ঘাটতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি অনুযায়ী, ট্রাম্পকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ অস্বীকার করেন হেগসেথ। পূর্ণাঙ্গ তথ্য না দেওয়ার জন্য তিনি উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিভ ফেইনবার্গের দিকে দায় ঠেলে দেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ওয়াশিংটন পোস্টের ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে সরাসরি 'ভুয়া' বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোস্যালে পোস্ট করে ট্রাম্প জানান, পেন্টাগনের প্রধান হিসেবে হেগসেথের ওপর তার 'পূর্ণ আস্থা' রয়েছে এবং তিনি হেগসেথের কাজের প্রশংসা করেন। ট্রাম্প প্রতিবেদনে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তাদের জানানো হয়েছিল যে এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
আরও পড়ুন: হরমুজে নৌ-মাইনের বিস্ফোরণে দুই তেল ট্যাংকারে আগুন
ট্রাম্প থান মন্তব্য করেন, ওয়াশিংটন পোস্ট যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে অন্যতম 'খারাপ' বলেও মন্তব্য করেন। একইসাথে তিনি এই প্রতিবেদনকে 'রাষ্ট্রদ্রোহী' বলে আখ্যা দেন। ট্রাম্প আরও বলেন, হেগসেথের নেতৃত্বে মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রশংসা করেন। তিনি ভেনেজুয়েলা ও ইরানে তার প্রশাসনের সামরিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের দাবি, দুটি অভিযানই নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করেছে।
এদিকে, হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন—দুই পক্ষই ট্রাম্প ও হেগসেথের মধ্যে বিরোধের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, এমন ঘটনা 'আক্ষরিক অর্থেই কখনো ঘটেনি'। তিনি বলেন, ''মন্ত্রী হেগসেথের ওপর ট্রাম্পের 'পূর্ণ আস্থা' রয়েছে।'' পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেলও ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনকে নাকচ করেন। তিনি বলেন, ''যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত নিয়ে হেগসেথ কাউকে বিভ্রান্ত করেননি।''
অস্ট্রেলিয়া গমনেচ্ছুদের জন্য ঢাকাস্থ হাইকমিশনের বিশেষ সতর্কবার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত নিয়ে সরকারিভাবে এখনো পর্যাপ্ত থাকার কথা বলা হলেও একই সময়ে অস্ত্র উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফেইনবার্গের ২১ দিনের সময়সীমা থেকে এটি স্পষ্ট যে, পেন্টাগন অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরো দ্রুত করতে চাচ্ছে। ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সামরিক পরিস্থিতির জন্যও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অস্ত্রের মজুত শক্তিশালী করতে চাচ্ছে। এই কারণে দীর্ঘ সময় ধরে চলা অস্ত্র উৎপাদন প্রক্রিয়াকে দ্রুত বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ঠিক কত পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে এবং কোন কোন অস্ত্রের মজুত সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে রয়েছে, সে বিষয়ে পেন্টাগন বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
আরও পড়ুন: ব্রেন্ট ক্রুডের দাম পাঁচ মাসের সর্বোচ্চে, তেলের বাজারে অস্থিরতা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন