ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সুন্দরবনে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যেয়ে ১১ মৌয়াল ধরা


সুন্দরবনে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যেয়ে ১১ মৌয়াল ধরা

সুন্দরবনে তিন মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন গোপনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বন বিভাগের জালে ধরা পড়েছেন ১১ মৌয়াল। গহীন অরণ্য থেকে প্রায় এক হাজার কেজি মধু সংগ্রহ করে লোকালয়ে ফেরার পথে তাদের আটক করা হয়। এ সময় দুটি নৌকাও জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের টেংরাখালী বন টহল ফাঁড়ির সদস্যরা পিনমারি খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করেন। পরে বিকেলে তাদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আটককৃতরা সবাই সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের সোরা গ্রামের বাসিন্দা। তাদের কাছ থেকে প্রায় এক হাজার কেজি মধু এবং দুটি নৌকা উদ্ধার করা হয়। পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মশিউর রহমান জানান, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জারি করা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তারা অবৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ করে মধু সংগ্রহ করছিলেন। ফেরার পথে টেংরাখালী এলাকার পিনমারি খাল থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে বন আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে আটক হওয়া মৌয়ালদের দাবি, বন বিভাগের এক দালালের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে চুক্তি করেই তারা সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১ জুন থেকে সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও ওই চুক্তির আশ্বাসে তারা মধু সংগ্রহে যান। কিন্তু ফিরে যাওয়ার সময় বন বিভাগের সদস্যরা তাদের আটক করেন। এ অভিযোগের বিষয়ে এসিএফ মশিউর রহমান বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আমি প্রথম শুনলাম। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অন্যদিকে অভিযুক্ত জালাল মোল্লা দাবি করেন, গত ১৫ মে বৈধ পাস নিয়ে তিনটি নৌকা সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিল। পরে দুটি নৌকা বনদস্যুদের কবলে পড়ায় নির্ধারিত সময়ে তারা ফিরতে পারেনি। পাসের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় আইনের চোখে তারা অবৈধ হয়ে পড়েছে। তবে অতিরিক্ত সময়ের রাজস্ব পরিশোধের সুযোগ দিলে তাদের মুক্তি দেওয়া যেতে পারে বলেও তিনি মত দেন। উল্লেখ্য, বনের প্রাণ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গত ১ জুন থেকে টানা তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ। এ সময়ে মাছ, কাঁকড়া, মধুসহ সব ধরনের বনজ সম্পদ আহরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। সেই নিষেধাজ্ঞা ভেঙেই মধু সংগ্রহে গিয়েছিলেন এসব মৌয়াল। তবে শেষ পর্যন্ত বন বিভাগের অভিযানে ধরা পড়ে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবাসীদের নিয়ে সরকারের নতুন উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫০ এম


প্রবাসীদের নিয়ে সরকারের নতুন উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, সরকার প্রবাসীদের মেধা-দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ‘ব্রেন ড্রেন’ (মেধা পাচার) থেকে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ বা মেধার সদ্ব্যবহারে রূপান্তর করতে চায়।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

মাহদী আমিন বলেন, আমি মূলত ব্লু-কলার চাকরি নিয়ে কথা বলেছি। তবে ভবিষ্যতে হোয়াইট-কালার চাকরির ক্ষেত্রেও আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন। যে ‘ব্রেইন ড্রেন’ ঐতিহাসিকভাবে আমরা দেখেছি, সেটিকে ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তর করতে চাই। যেখানে প্রবাসী ও বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা বাংলাদেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন। তারা বাংলাদেশে আসতে পারেন, বিনিয়োগ করতে পারেন। তাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাংলাদেশের ইকোসিস্টেমে স্থানান্তর করতে সক্ষম হতে পারেন। বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা ও বাংলাদেশে তাদের প্রতিনিধিরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। যদি আমরা তাদের সঠিক নীতি ও সঠিক উপকরণ দিয়ে সহায়তা করতে পারি, তাহলে তা বাংলাদেশের বৈশ্বিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থান ও অভিবাসন বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে। যে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিত্ব করছি, সেই প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। সুতরাং, অভিবাসন শুরু হয়েছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালীন, এবং এটি বিকশিত হয়েছিল যখন বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাই বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন বিএনপির রাজনৈতিক দল হিসেবে ডিএনএতেই বিদ্যমান।

তিনি বলেন, নির্বাচনের পূর্ববর্তী প্রচারণার দিকে নজর দিলে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বারবার সেই ভিশনের কথা তুলে ধরেছেন, যা আমরা আমাদের জনগণের বিদেশে গিয়ে কাজ করার বিষয়ে ধারণা করি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে আমাদের অভিবাসন নীতি হতে হবে সুশৃঙ্খল, যাতে আমরা যথাযথ যাচাই-বাছাইকে অনুসরণ করি এবং এমন একটি প্রক্রিয়া তৈরি করি, যা স্বচ্ছ, কার্যকর, এবং যেখানে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা কমিয়ে আনতে পারি। আমাদের ভিশন হলো বাজারের বহুমুখীকরণ।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সাহেব বলেন, শুধু অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য নয়, বরং দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও অধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত, যাতে আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে আরও বেশি দক্ষ মানুষ বিদেশে কাজ করতে পারে। নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশে নয়, যদি আমরা সেই বাজারকেও বহুমুখী করতে পারি এবং একই সঙ্গে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারি, যা বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ৫ থেকে ৭ শতাংশ। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীকে বিদেশে পাঠাতে পারা সম্ভব, কারণ আমাদের দেশের জনসংখ্যার ৫০ শতাংশেরও বেশি নারী। তাই আমরা বাজারের বহুমুখীকরণ চাই, তারা যে কাজগুলো করবে তার বহুমুখীকরণ চাই এবং জনসংখ্যাগত বৈচিত্র্য বজায় রাখতে চাই। সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করার জন্য আমরা ‘প্রবাসী কার্ড’ বা ‘এক্সপ্যাট্রিয়েট কার্ড’ চালুর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।

প্রবাসী কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যখন আমরা এটি চালু করব, তখন বিদেশে যাওয়া প্রত্যেক বাংলাদেশিকে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এটি সরকারি অবকাঠামোর আওতায় থাকবে। পাশাপাশি আমরা ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করার জন্য কর্মরত।

উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, ভিসার জন্য আবেদনকারী প্রত্যেক বাংলাদেশির আর্থিক নথিপত্র কিউআর কোডের মাধ্যমে অনুসরণযোগ্য হবে এবং তাদের শিক্ষাগত সনদও অনুসরণযোগ্য হবে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আমরা ইতোমধ্যে দুই মাস আগে একটি নতুন কর্মসূচি চালু করেছি। যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যদি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বা স্বল্পমেয়াদি কোর্সের জন্য বিদেশে যেতে চান, তাহলে তারা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারবেন। আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছি এবং ইতোমধ্যেই তারা চাহিদা নিরূপণের কাজ শুরু করেছে। বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের ক্ষেত্রে একটি বিশাল জনমিতিক সুবিধা রয়েছে, যেখানে বিপুলসংখ্যক তরুণ তরুণী বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা প্রকাশ করে। তাই সরবরাহ প্রচুর, তবে একই সঙ্গে আমাদের বুঝতে হবে অন্যান্য দেশে কী ধরনের চাহিদা রয়েছে, তারা কী ধরনের দক্ষতা ও সক্ষমতা চাইছে। এরপর আমরা আমাদের মানুষদের সেই অনুযায়ী আমাদের টিভিইটি ব্যবস্থা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে প্রশিক্ষণ দিতে সক্ষম হব।

মাহদী আমিন আরও বলেন, দেশভিত্তিক বৈশ্বিক চাহিদাকে আমরা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করব এবং সেই অনুযায়ী আমাদের জনগণকে প্রশিক্ষণ দেব। তবে আমরা সনদের গুরুত্বও বুঝি। তারা যে সনদগুলো অর্জন করছে, সেগুলোকে বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য করার জন্য আমরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি, যাতে আমাদের মানুষ বিদেশে গেলে তাদের সনদগুলো গ্রহণকারী দেশগুলোতে স্বীকৃত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র উল্লেখ করেন, সামগ্রিকভাবে আমরা অভিবাসনকে একটি বৃহত্তর ইকোসিস্টেমের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করি। যেখানে আলাদাভাবে কাজ করা সম্ভব নয়। আমাদের গ্রহণকারী দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং বৈশ্বিক সমন্বয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে কিভাবে আমরা তাদের সঠিক উপকরণ, প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ভাষাগত দক্ষতা দেব এবং নিশ্চিত করতে হবে যে অভিবাসন একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে, যা শনাক্ত করা সম্ভব। কিছু ক্ষেত্রে আমরা বুঝতে পারি যে কিছু মানুষ নির্দিষ্ট কোনো দেশকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে। আমরা সেটিও বন্ধ করতে চাই। এবং সুশৃঙ্খল অভিবাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আমাদের বিশ্বাস জনগণের যে সম্ভাবনা রয়েছে, আমরা তা উন্মোচন করতে সক্ষম হব।

মাহদী আমিন বলেন, অনেক দেশে বাংলাদেশিদের শ্রমিক গ্রহণ একটি অগ্রাধিকার কারণ তারা শৃঙ্খলা প্রদর্শন করেছেন। যদিও ব্যয়-সাশ্রয়িতা একটি বিষয়, কিন্তু কর্মদক্ষতাও অতি গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় মাত্রার সহায়তা ছাড়াই যদি তারা এইভাবে সফল হতে পারে, তবে আমি বিশ্বাস করি যে যখন নীতিগত সমন্বয় হবে, তখন তারা আরও বেশি সুযোগ পাবে। এবং গ্রহণকারী দেশগুলোও আরো বেশি বাংলাদেশিকে গ্রহণ করতেই অধিক আগ্রহী হবে।

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ বিশ্ব গোসল দিবস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫২ এম


আজ বিশ্ব গোসল দিবস

গোসল—কারও কাছে এটি দিনের সবচেয়ে আরামদায়ক মুহূর্ত, আবার কারও কাছে শীতের সকালে কঠিনতম কাজ। তবে অবাক করার বিষয় হলো, এই সাধারণ অভ্যাসের একটি বিশেষ দিবস রয়েছে। প্রতি বছর ১৪ জুন পালিত হয় আন্তর্জাতিক গোসল দিবস।

কীভাবে গোসল দিবসের গল্প শুরু হলো?

এই দিবসের পেছনে প্রায় দুই হাজার বছরের পুরোনো এক মজার ইতিহাস বিদ্যমান। প্রাচীন গ্রিসের বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও গণিতবিদ আর্কিমিডিস একদিন গোসল করার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সত্য আবিষ্কার করেন।

গোসলের টবে নামার সঙ্গে সঙ্গে তিনি লক্ষ্য করেন, পানির স্তর উপরে উঠে যাচ্ছে। তারপর তিনি বুঝতে পারেন, যে কোনো বস্তু পানিতে ডুবালে সেটি নিজের আয়তনের সমান পানি সরিয়ে দেয়।

এই ধারণা আবিষ্কার করে তিনি এতটাই উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন যে, টব থেকে উঠে নগ্ন অবস্থায় রাস্তায় দৌড়ে “ইউরেকা” বলে চিৎকার করেছিলেন—এই শব্দের অর্থ “আমি পেয়ে গেছি”।

এই ঘটনাকে স্মরণ করেই পরে ১৪ জুনকে আন্তর্জাতিক গোসল দিবস হিসেবে প্রতীকীভাবে পালন করা শুরু হয়।

গোসল নিয়ে মানুষের মজার অভিজ্ঞতা

গোসল নিয়ে মানুষের অনুভূতি একেক রকম। গরমের দিনে ঠান্ডা পানির গোসল অনেকের কাছে স্বর্গীয় অনুভূতি দেয়, আবার শীতের সকালে একই পানি অনেকের কাছে যেন ছোটখাটো ভয় হয়ে দাঁড়ায়।

এমনকি অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, লোকজন গোসলের আগে বাথরুমের সামনে দাঁড়িয়ে কয়েক মিনিট সাহস সঞ্চয় করেন—এমন ঘটনা অস্বাভাবিক নয়।

গোসলেই আসে সেরা চিন্তা!

গবেষকদের মতে, আরামদায়ক পরিবেশে মস্তিষ্ক অনেক বেশি সৃজনশীলভাবে কাজ করে। তাই গোসলের সময় অনেকের মাথায় নতুন আইডিয়া আসে।

কেউ ব্যবসার পরিকল্পনা করেন, কেউ জীবনের বড় সিদ্ধান্ত ভাবেন, আবার কেউ পুরো একটি গল্পও কল্পনা করে ফেলেন।

শরীরের পাশাপাশি মনেরও বিশ্রাম

আধুনিক জীবনে গোসল শুধুমাত্র পরিষ্কার থাকার মাধ্যম নয়, বরং এটি মানসিক প্রশান্তিরও একটি উপায়। ব্যস্ত দিনের শেষে কয়েক মিনিটের গোসল শরীরকে যেমন সতেজ করে, তেমনি মনকেও শান্ত করে।

আন্তর্জাতিক গোসল দিবস শুধু একটি মজার উপলক্ষ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে বিজ্ঞানের এক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার এবং একটি দারুণ ইতিহাস। তাই আজকের দিনে গোসলকে শুধুমাত্র একটি দৈনন্দিন কাজ না ভেবে একটু ভিন্নভাবে দেখা যেতেই পারে—কারণ কে জানে, আপনার পরের বড় আইডিয়াটাও হয়তো গোসলের সময়ই জন্ম নিতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে পুলিশের বিশেষ অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

 রিয়াদ মাহমুদ সিকদার,কাউখালী প্রতিনিধি

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫৩ এম


কাউখালীতে মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে পুলিশের বিশেষ অভিযান
 
 
পিরোজপুরের কাউখালী থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাং কার্যক্রম প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যার পর উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
 
অভিযান চলাকালে কাউখালী বাজার, বিভিন্ন সড়ক, জনসমাগমস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়। এ সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি, জনসচেতনতামূলক প্রচারণা এবং অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়।
কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন,
মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাং বর্তমানে সমাজের জন্য বড় হুমকি। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাউখালী থানা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অপরাধ দমনে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
 
আমরাজুরী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ দেলোয়ার হোসেন  বলেন,
পুলিশের এমন অভিযানকে আমরা স্বাগত জানাই। মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের কারণে অনেক পরিবার উদ্বিগ্ন থাকে। নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলে অপরাধ  কমে আসবে বলে আমরা আশা করি। কচুয়াকাঠি গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সরোয়ার হোসেন ও সালমা বেগম বলেন,
সন্ধ্যার পর পুলিশের টহল ও অভিযান বাড়ায় সাধারণ মানুষ নিরাপদ বোধ করছে। বিশেষ করে তরুণদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ খুবই প্রয়োজন।
 
কাউখালী থানা পুলিশ জানিয়েছে, উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত রাখতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে। সন্ধ্যার পরে ছেলেমেয়েরা আড্ডা না দিয়ে পড়ার টেবিলে বসবে এটাই আমাদের কামনা।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদারীপুরে ‘আর্জেন্টিনা গ্রাম’, এক কিলোমিটার সড়কজুড়ে মেসিদের ছবি-ব্যানারে উৎসবের আমেজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫৪ এম


মাদারীপুরে ‘আর্জেন্টিনা গ্রাম’, এক কিলোমিটার সড়কজুড়ে মেসিদের ছবি-ব্যানারে উৎসবের আমেজ

আর্জেন্টিনাকে ভালোবেসে এবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মোল্লাকান্দি গ্রামের ফুটবলপ্রেমীরা। প্রিয় দল ও খেলোয়াড়দের প্রতি ভালোবাসা জানাতে গ্রামের প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক সাজানো হয়েছে আর্জেন্টিনার পতাকা, তারকা খেলোয়াড়দের ছবি ও নানা রঙের ব্যানারে। মনোমুগ্ধকর এ দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে মোল্লাকান্দি গ্রামে এখন চলছে উৎসবের আবহ। সড়কের দুই পাশে শোভা পাচ্ছে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি সহ দলের জনপ্রিয় খেলোয়াড়দের ছবি। মোড়ে মোড়ে টানানো হয়েছে বড় বড় বিলবোর্ড ও ফেস্টুন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও অংশ নিচ্ছেন এই আয়োজনের আনন্দে।


স্থানীয় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের অনেকেই মজা করে গ্রামটির নাম ‘আর্জেন্টিনা গ্রাম’ রাখার দাবিও তুলেছেন। পথচারী ও যাত্রীরা এই সাজসজ্জা দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন। অনেকেই ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে সেখানে থামছেন।
স্থানীয়রা জানান, চার বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ ঘিরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস দিন দিন বাড়ছে। কেউ আর্জেন্টিনার জার্সি পরে ঘুরছেন, কেউ পতাকা নিয়ে মিছিল করছেন। তাদের বিশ্বাস, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপও নিজেদের ঘরে তুলবে আর্জেন্টিনা।
তবে পুরো গ্রামে আর্জেন্টিনার আধিপত্যের মধ্যেও রয়েছেন একজন ব্রাজিল সমর্থক—খালিদ হাসান। তিনি জানান, তিনি একমাত্র ব্রাজিল সমর্থক হলেও সবার সঙ্গে মিলেমিশেই খেলা উপভোগ করেন।


ব্রাজিল সমর্থক খালিদ হাসান বলেন, “এই গ্রামে আমি একমাত্র অন্য দলের সমর্থক হলেও সবার সঙ্গে মিলেমিশে খেলা দেখি, আনন্দ করি। কেউ কাউকে উসকানিমূলক কথা বলি না, বিষয়টি ভালো লাগে।”
আর্জেন্টিনা সমর্থক মো. আল আমিন বলেন, “গত বিশ্বকাপের মতো এবারও আমরা আশা করছি আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতবে। মেসির শেষ বিশ্বকাপ হওয়ায় এবার আমাদের আবেগ ও প্রত্যাশা আরও বেশি।”


সড়ক দিয়ে চলাচলকারী নুর নাহার বেগম বলেন, “প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি। এমন সুন্দর আয়োজন দেখে খুব ভালো লাগে। এলাকার মানুষ যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী, তা এই ছবি ও ব্যানার দেখলেই বোঝা যায়।”
মোল্লাকান্দির এই ব্যতিক্রমী আয়োজন এখন শুধু স্থানীয়দের নয়, আশপাশের এলাকার মানুষের কাছেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%