০৭:৩৮ পি.এম
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বাবুনগর মাদরাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়সভায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ৯ দফা দাবি পেশ করেছে। রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে অনুষ্ঠিত সভায় সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমান প্রধানমন্ত্রী কাছে লিখিতভাবে এসব দাবি তুলে ধরেন।
হেফাজতে ইসলামের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মহান আল্লাহ, রাসুলুল্লাহ (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে কঠোর ব্লাসফেমি আইন প্রণয়ন করা। এছাড়া কোরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করার দাবি জানানো হয়।
আরও পড়ুন: নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মাণ, এবার উচ্ছেদের হুঁশিয়ারি পাউবোর
লিখিত দাবিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হুকুমদাতা ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিগত সরকারের সময়ে আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে করা ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার করে তাদের রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে অংশীদার করার দাবি জানান।
শিক্ষাসংক্রান্ত দাবির মধ্যে বর্তমান রয়েছে কওমি মাদরাসার ‘দাওরায়ে হাদিস’ ডিগ্রির (মাস্টার্স) সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করা এবং সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে এ ডিগ্রির উল্লেখ রাখা। এছাড়া প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যান্য দাবির মধ্যে আছে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা, হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা, পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের কথিত ষড়যন্ত্র বন্ধ করা এবং ভারতের মাওলানা সাদ সাহেবের বাংলাদেশে আগমনে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার দাবি। একই সঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার দাবি জানানো হয়েছে।
মতবিনিময়সভায় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন: মদনে দুর্গোৎসব শুরু, ১৯ মণ্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
এর আগে রবিবার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়িতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও মাদরাসার পক্ষ থেকে তাকে অভ্যর্থনা জানান। পরে তিনি বাবুনগর মাদরাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন