০১:৩৩ এম
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের নেতারা দাবি করেছেন যে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা এবং ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করতে হবে।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, অন্যথায় সারা দেশের সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করে নেত্রকোনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম রফিক এসব দাবি উত্থাপন করেন।
আরও পড়ুন: এনসিপির তিন দাবি: একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্তি ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের পরিচালক (আইন ও মানবাধিকার) আলী আবিদ, ময়মনসিংহ অঞ্চলের সংগঠনের প্রধান বিলাল হোসেন মানিক, কেন্দ্রীয় ফাউন্ডেশনের নেতা জামাল উদ্দিন, ময়মনসিংহ জেলা প্রস্তাবিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা।
মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে একটি চায়ের দোকানে বন্দুকধারী দুই যুবকের গুলিতে সাংবাদিক আলিফ নিহত হয়েছেন। তিনি এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেন।
ঘটনাস্থল দেখিয়ে তিনি বলেন, এখানে সাংবাদিক আলিফকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং তার রক্তের দাগ এখনো রয়েছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এখানেই পড়ে যান। তিনি বলেন, একজন সাংবাদিককে এভাবে হত্যা করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করে তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করে ১৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি ২০২৫ সালে গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তুহিন হত্যাকাণ্ডের পর সাংবাদিকদের আন্দোলন এবং গাজীপুরের প্রশাসনের তৎপরতার ফলে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অভিযোগপত্র দাখিলের নজির তৈরি হয়েছিল।
আরও পড়ুন: আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামানকে বিপিপিএ সিইও হিসেবে একনেকের সহায়তাদানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ
গাজীপুরের পুলিশ প্রশাসন যে তৎপরতা দেখিয়েছিল, নেত্রকোনাতেও সেই তৎপরতা অব্যাহত দেখতে চান। সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে আট আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং ১৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তখন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ তারা দেখতে চান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে যদি নেত্রকোনা পুলিশ প্রশাসন সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে না পারে, তাহলে সারা দেশের সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। যতক্ষণ পর্যন্ত জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হবে এবং ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
তিনি আরও বলেন, দুর্গাপুরে সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের পর যেন, সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে না হয়। গাজীপুরের সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ডের পর সারা দেশের সাংবাদিকরা যেভাবে প্রতিবাদে জেগে উঠেছিলেন, আলিফ হত্যাকাণ্ডের পরও সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধের দাবিতে দেশের সব সাংবাদিকদের এক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে ট্রাক চাপায় ইজিবাইকে থাকা একই পরিবারের ৫ জন নিহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন