০৩:৫৬ পি.এম
রংপুর ক্যাডেট কলেজ, বরাবরের মতো, এবারের এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ঈর্ষণীয় ফলাফল অর্জন করেছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৪৭ জন এবং মানবিক বিভাগ থেকে ৩ জনসহ মোট ৫০ জন পরীক্ষার্থী এবারের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং সকলেই জিপিএ ৫.০০ পেয়ে সফলতা লাভ করেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে ফল প্রকাশের পর রংপুর ক্যাডেট কলেজে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এসএসসি পরীক্ষার্থীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের ফলে কলেজের অধ্যক্ষ, কলেজের সকল স্তরের কর্মচারী, কর্মকর্তা, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট ক্যাডেটদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
রংপুর ক্যাডেট কলেজের ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে সেনাসদরের দিক নির্দেশনা, কলেজের অধ্যক্ষের সুযোগ্য নেতৃত্ব ও দক্ষ পরিচালনা, উপাধ্যক্ষের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান, শিক্ষক ও কর্মকর্তাগণের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও উৎসাহ এবং সর্বোপরি অভিভাবকবৃন্দের সহযোগিতা বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় রেস্তোরাঁর পেছনে নিরবকে কুপিয়ে চলে যায় ১২ দুর্বৃত্ত
কলেজের অধ্যক্ষ এ এইচ এম ছেরাজুজ্জামান বলেন, ক্যাডেট কলেজের সুশৃঙ্খল পরিবেশ, গঠনমূলক অনুশাসন এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক তদারকি এই ভালো ফলাফলের অন্যতম অনুষঙ্গ। তিনি আরো বলেন, ক্যাডেটদের যোগ্য ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে সাথে নৈতিকতা ও চরিত্র গঠন, খেলাধুলা ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। এটি ক্যাডেটদের শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
এদিকে, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে রংপুরের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোও ভাল করেছে। দিনাজপুর বোর্ডের অধীনে রংপুর জিলা স্কুলে ২২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস ২১৭ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫০ জন। রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৬৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস ২৬৪ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭৭ জন। রংপুর ক্যান্টপাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫৩৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস ৫৩০ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২৯ জন। পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫৭১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস ৫৬৭ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২২ জন।
শিক্ষকদের আন্তরিকভাবে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ সহকারে লেখাপড়া এবং অভিভাবক ও সহপাঠিদের সহযোগিতা ভাল ফলাফলের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা।
আরও পড়ুন: নেত্রকোনায় ৭২ বোতল ভারতীয় মদসহ যুবক আব্দুল খালেক আটক
রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ওবায়দুল আনোয়ার বলেন, সিলেবাস শেষ হওয়ার পর পরীক্ষার আগ পর্যন্ত আমরা শিক্ষার্থীদের মডেল টেস্টসহ নানা পরীক্ষার মাধ্যমে অধিকতর প্রস্তুত করে তুলেছিলাম। যার ফলে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৯৯ দশমিক ৩০। এ কৃতিত্ব শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ প্রতিষ্ঠান ম্যানেজিং কমিটির। পুলিশের প্রতিষ্ঠান হওয়ায় আমাদের শিক্ষার্থীরা সারাবছর শৃঙ্খলার সাথে লেখাপড়া করেছে। ফলে ভাল ফলাফল অর্জন তাদের জন্য সহজ হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন