ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

টাঙ্গাইলে স্কুল-কলেজের মাঠে দুই মেলা: সরকারি প্রজ্ঞাপন উপেক্ষার অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা


টাঙ্গাইলে স্কুল-কলেজের মাঠে দুই মেলা: সরকারি প্রজ্ঞাপন উপেক্ষার অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা

মির্জাপুরে দেশীয় শিল্প ও পণ্য মেলার উদ্বোধন, নাগরপুরে তাঁতবস্ত্র মেলার প্রস্তুতি; প্রজ্ঞাপন ও হাইকোর্টের নির্দেশনার কপি পাঠানোর পরও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ, হাইকোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নাগরিক আইনগত সহায়তা কল্যাণ সোসাইটির।


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন না করার বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সরকারি প্রজ্ঞাপন রয়েছে। বরিশালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন-সংক্রান্ত হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনার বিষয়টিও টাঙ্গাইলের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছিল বলে দাবি করেছে নাগরিক আইনগত সহায়তা কল্যাণ সোসাইটি। এরপরও টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও নাগরপুরে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন ও প্রস্তুতি চলায় প্রশাসনের ভূমিকা, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং সরকারি বিধিবিধান বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংগঠনটির অভিযোগ, সরকারি প্রজ্ঞাপন ও আদালতের নির্দেশনার কপি পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করার পরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় মেলা আয়োজনের অনুমোদন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।


টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার এসকে পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ‘মির্জাপুর দেশীয় শিল্প ও পণ্য মেলা-২০২৬’ গত ৯ অক্টোবর উদ্বোধন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।


নাগরিক আইনগত সহায়তা কল্যাণ সোসাইটির দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজনের বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন এবং বরিশালের মেলা-সংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশনার কপি টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসককে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল।

সংগঠনটির প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পাঠানোর পরও মির্জাপুরে মেলার আয়োজন কীভাবে এগিয়েছে? মেলার অনুমোদন কে দিয়েছেন, কোন বিধানের ভিত্তিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল—এসব প্রশ্নের জবাব চাওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ভৈরবে চাঁদা না পেয়ে কারখানা মালিকদের পিটিয়ে জখম, ১৬ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের কাছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন এবং বরিশালের মেলা-সংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশনার কপি রয়েছে। জেলা প্রশাসককে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নথি পাঠানোর কথাও তারা জানিয়েছে।

এ ছাড়া মেলার অনুমোদনপত্র, মাঠ ব্যবহারের অনুমতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নথি যাচাই করা প্রয়োজন। এসব নথি থেকে অনুমোদনদাতা কর্তৃপক্ষ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

টাঙ্গাইলের নাগরপুর সরকারি কলেজ মাঠে ‘তাঁত বস্ত্র পণ্য প্রদর্শনী মেলা-২০২৬’ আয়োজনের লক্ষ্যে অবকাঠামোগত কাজ চলছে বলে জানা গেছে।


স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা কলেজ মাঠে মাসব্যাপী মেলার আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ক্ষেত্রে মাঠ ব্যবহারের অনুমোদন, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুসরণ এবং প্রশাসনের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


নাগরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ তালাশ তালাশ বিডিকে জানান, স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা কলেজ মাঠে মাসব্যাপী মেলার আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। একজন সংসদ সদস্য মেলাটি উদ্বোধন করবেন বলেও তাঁকে বলা হয়েছে।

অধ্যক্ষের দাবি, তিনি কলেজ মাঠে মেলা আয়োজনের কোনো অনুমোদন দেননি। পরিস্থিতিতে নিজেকে অসহায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে শিশু ধর্ষণ মামলায় ১ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

মেলার জন্য কলেজ মাঠ ব্যবহারের লিখিত অনুমতি রয়েছে কি না, অনুমতি দিয়ে থাকলে কে দিয়েছেন, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ভূমিকা কী এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কী পদক্ষেপ নিয়েছে—এসব বিষয় নথিপত্রের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতা, মেলা আয়োজক এবং প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২৯ জুন ২০২২ তারিখে জারি করা ‘মেলা পরিপত্র, ২০২২’-এর ৫(চ) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন করা যাবে না।


প্রজ্ঞাপনের এই বিধান সামনে রেখে প্রশ্ন উঠেছে, মির্জাপুর ও নাগরপুরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজনের অনুমতি কীভাবে দেওয়া হয়েছে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দেওয়ার সময় সরকারি নির্দেশনা বিবেচনায় নিয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

কোনো জনপ্রতিনিধির সুপারিশ বা ডিও লেটার থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষকে প্রযোজ্য আইন ও সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। তাই মেলা দুটির অনুমোদনপত্র, মাঠ ব্যবহারের শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ ও যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

বরিশাল কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে মেলা আয়োজনের বিষয়ে দায়ের করা রিট পিটিশন নম্বর ৬২৫৯/২০২৬-এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ মে ২০২৬ হাইকোর্ট বিভাগের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা জারি হয়।


নাগরিক আইনগত সহায়তা কল্যাণ সোসাইটির দাবি, ওই নির্দেশনার কপি এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের কপি টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসককে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ ও চিঠি পাঠানো হলেও মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।


বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘মেলা পরিপত্র, ২০২২’-এর কপি।
বরিশালের মামলার হাইকোর্টের নির্দেশনার কপি।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসককে পাঠানো হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা ও নথি প্রেরণের প্রমাণ।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠানো চিঠি এবং প্রাপ্তিস্বীকার, যদি থাকে।
মির্জাপুর ও নাগরপুরের মেলা আয়োজনের অনুমোদনপত্র ও প্রশাসনিক নথি।


এসব নথি যাচাই করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কখন, কীভাবে অবগত করা হয়েছিল এবং এরপর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা আরও স্পষ্ট হবে। বরিশালের মামলার নির্দেশনার সুনির্দিষ্ট পরিধি এবং টাঙ্গাইলের মেলা দুটির সঙ্গে তার আইনি সম্পর্কও আদালতের নথির ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।


অভিযোগকারীদের দাবি, টাঙ্গাইলের সাবেক জেলা প্রশাসক শরীফা হককে সরকারি প্রজ্ঞাপন মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়েছিল। বরিশালের মেলা-সংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশনার বিষয়টিও তাঁকে জানানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

সংগঠনটির অভিযোগ, এসব যোগাযোগের পরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে মেয়েসহ ছিনতাইয়ের কবলে সিনিয়র সাংবাদিক আরিফ আলম দিপু


সাবেক জেলা প্রশাসকের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের প্রশাসনিক নথি যাচাই করে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর ভূমিকা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্যও নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

হাইকোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নাগরিক আইনগত সহায়তা কল্যাণ সোসাইটির


নাগরিক আইনগত সহায়তা কল্যাণ সোসাইটির চেয়ারম্যান রনি সিকদার জানিয়েছেন, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও নাগরপুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজনের বিষয়টি জনস্বার্থে হাইকোর্টের নজরে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংগঠনটি।

তিনি জানান, সরকারি প্রজ্ঞাপন, বরিশালের মেলা-সংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠানো চিঠিপত্র আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রতিকার চাওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি পর্যালোচনার আবেদন জানানো হবে।


রনি সিকদারের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সাবেক ও বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট সচিবকে আইনি প্রক্রিয়ায় বিবাদী করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। কারা বিবাদী হবেন এবং কী প্রতিকার চাওয়া হবে, তা আইনজীবীর পরামর্শ ও মামলার নথি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।


টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও নাগরপুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজনের ঘটনায় কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জরুরি:

১.সরকারি প্রজ্ঞাপন থাকা সত্ত্বেও মেলা আয়োজনের অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হলো?

২. বরিশালের মেলা-সংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশনা ও সরকারি প্রজ্ঞাপনের কপি পাওয়ার পর জেলা প্রশাসন কী পদক্ষেপ নিয়েছিল?

৩. মেলা দুটির অনুমোদনদাতা কর্তৃপক্ষ কে এবং কোন নথির ভিত্তিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে?

৪. নাগরপুর সরকারি কলেজ মাঠে মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছিল কি না?

৫. একই বিধান সব ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিয়েছে?

নাগরিক আইনগত সহায়তা কল্যাণ সোসাইটির বক্তব্য, আইন ও সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিধিবিধান প্রয়োগে ভিন্নতা তৈরি হলে তা জনস্বার্থে প্রশ্নের মুখে পড়বে।

আরও পড়ুন: আগ্রাবাদে ৫ আগস্ট থানা থেকে চুরি হওয়া পিস্তল ও গুলি উদ্ধার

এ বিষয় টাঙ্গাইলের নাগরপুর সরকারি কলেজ মাঠে ‘তাঁত ও বস্ত্র পণ্য প্রদর্শনী মেলা-২০২৬’-এর আয়োজন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে মেলার আয়োজক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও অর্থদাতা সিলেটের পারভেজের কাছে 'তালাশ বিডি'-র পক্ষ থেকে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হয়—সরকারি নির্দেশনা ও বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি বারবার স্কুল-কলেজের মাঠে মেলা আয়োজন করছেন?

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, *"আমরা স্থানীয় বিএনপি নেতাদের টাকা দিয়েছি, তারা আমাদের অনুমতি বা জায়গা দিয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মহোদয় এ মেলার উদ্বোধন করবেন। মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপন আছে কি নেই, তা আমাদের দেখার বিষয় নয়।"


মেলা আয়োজক, সংশ্লিষ্ট স্থানীয় বিএনপি নেতা, প্রশাসন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং অনুমোদন-সংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন: দুদকের মামলায় মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ, পরিবার বলছে ‘মৃত্যু নিয়ে তামাশা’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের নতুন রূপ: আবু সাঈদ-মুগ্ধের কথা বললেন ইউজিসি সচিব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৭ পি.এম


বাংলাদেশের নতুন রূপ: আবু সাঈদ-মুগ্ধের কথা বললেন ইউজিসি সচিব

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সচিব ড. মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, "এটা আবু সাঈদ-মুগ্ধের বাংলাদেশ। এখানে কোনো ধরনের পঙ্কিলতা থাকবে না, কোনো জটিলতা থাকবে না। আমরা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করব।"

তিনি শনিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের হিট প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত ‘উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা: সচেতনতা, গবেষণা ও পেশাগত সহায়তা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

ইউজিসি সচিব আরও বলেন, উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে আলোচনায় সাধারণত অবকাঠামো, গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত, গবেষণাগার, প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক অবস্থান ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তবে শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থাও উচ্চশিক্ষার মানের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। মানসিক সুস্থতা না থাকলে শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতা, সৃজনশীলতা ও গবেষণার আগ্রহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, যদি কোনো শিক্ষার্থী উদ্বেগ, হতাশা, একাকিত্ব, অতিরিক্ত মানসিক চাপ কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগে, তাহলে তার হাতে আধুনিক গবেষণাগার বা উন্নত প্রযুক্তি থাকলেও সেগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়ে। সুতরাং, মানসিক সুস্থতাকে শিক্ষার বাইরের কোনো বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মানসম্মত শিক্ষার অন্যতম ভিত্তি।

ড. মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের চাপের কথা উল্লেখ করে বলেন, পরীক্ষার ফলাফল, সিজিপিএ, গবেষণা, পারিবারিক প্রত্যাশা, আবাসন সমস্যা, চাকরির অনিশ্চয়তা ও সামাজিক তুলনা শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মুঠোফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার, দীর্ঘ সময় পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকা এবং সব সময় অনলাইনে যুক্ত থাকার প্রবণতা।

তিনি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানসিক চাপে থাকা দুর্বলতার পরিচয় নয়। পরামর্শদাতার কাছে গেলে কেউ মানসিকভাবে দুর্বল, এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন সংকোচ ছাড়াই নিজেদের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পারে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সে পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা মূল্যায়নে মানসিক সুস্থতা সূচক চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে এ ধরনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, সম্মতি ও নৈতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা ও কার্যক্রম পরিচালনার সময় এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

ইউজিসি সচিব শিক্ষার্থীদের জন্য পেশাগত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার, গবেষণাগার ও তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রের পাশাপাশি শিক্ষার্থী পরামর্শকেন্দ্র এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত পরামর্শদাতা, চিকিৎসামনোবিজ্ঞানী এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিশ্চিত করা দরকার। গুরুতর মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত বা আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের দ্রুত বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে সহজে সরাসরি ও অনলাইনে পরামর্শ নিতে পারে, সে ব্যবস্থা থাকা জরুরি। পাশাপাশি সেবাগ্রহীতার গোপনীয়তা রক্ষা, প্রয়োজনীয় পরবর্তী যোগাযোগ এবং বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতায় বন্ধুদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী পরিবারের সদস্য বা শিক্ষকের কাছে নিজের সমস্যার কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। তারা প্রথমে বন্ধুর কাছে মনের কথা বলতে পারে। তাই ক্যাম্পাসে এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কেউ অন্যকে উপহাস করবে না; বরং বিপদে পড়লে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে। সহমর্মিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অন্তর্ভুক্তি ও বন্ধুত্বের সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

এছাড়া, পরিবারের ভূমিকা তুলে ধরে ইউজিসি সচিব বলেন, সন্তানের কাছ থেকে ভালো ফলাফল প্রত্যাশা করা স্বাভাবিক। তবে সেই প্রত্যাশা যেন তার ওপর অসহনীয় চাপ তৈরি না করে। একজন শিক্ষার্থীর মূল্য শুধু তার সিজিপিএ দিয়ে নির্ধারিত হয় না। তাকে ভালো ফল করার পাশাপাশি ভালো থাকার গুরুত্বও বোঝাতে হবে।

মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সময় ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগের দক্ষতা ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিকশিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

মাদকাসক্তির বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, মাদকের ভয়াবহতা থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনে উৎসাহিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ড. মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এ প্রকল্পের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। প্রকল্পটির সফলতা নির্ভর করবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা এর কার্যক্রম থেকে কতটা উপকৃত হচ্ছেন এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তাঁদের সচেতনতা কতটা বাড়ছে, তার ওপর।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন উচ্চশিক্ষায় গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিভিন্ন উদ্যোগে সহযোগিতা করছে। ভবিষ্যতে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এ ধরনের আরও প্রকল্প গ্রহণ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে নতুন বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ইউজিসি সচিব বলেন, "এটা আবু সাঈদের বাংলাদেশ, এটা মুগ্ধের বাংলাদেশ। এখানে কোনো ধরনের পঙ্কিলতা থাকবে না, কোনো জটিলতা থাকবে না। আমরা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করব।" মাদকমুক্ত, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ মুগ্ধ চিকিৎসাকেন্দ্রের মনোবিজ্ঞানী মো. আবু তারেক। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংসদ মেডিকেল সেন্টারে ১০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৮ পি.এম


সংসদ মেডিকেল সেন্টারে ১০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পার্লামেন্ট মেডিকেল সেন্টারকে আধুনিকায়ন ও মানসম্মত করার জন্য একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সেখানে চিকিৎসাসেবার পরিধি বৃদ্ধি করতে ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মেডিকেল সেন্টারের সেবা উন্নয়ন এবং সেবা বিষয়ে পরামর্শ ও তদারকিসংক্রান্ত কমিটির প্রথম সভায় এসব সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

কমিটির সভাপতি ও হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় কমিটির সদস্য হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সংসদ সচিবালয়ের মেডিকেল সেন্টারের সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সাংগঠনিক কাঠামো বা অর্গানোগ্রাম সংশোধন করে চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য জনবল বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। ১০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়।

এছাড়া, মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসা সরঞ্জামকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় একটি আধুনিক ফিজিওথেরাপি সেন্টার স্থাপন এবং ইকো, ইসিজি, সিটি স্ক্যান, ওপিজি, আরপিজি ও প্যাথলজি পরীক্ষার যন্ত্রপাতি উন্নত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সংসদ সচিবালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ চাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সংসদ সচিবালয়ের মেডিকেল সেন্টার থেকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা রোগীদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য আশপাশের স্বনামধন্য হাসপাতালগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের প্রস্তাবও সভায় উত্থাপন করা হয়।

সভায় অতিরিক্ত সচিবসহ (এফ অ্যান্ড পিআর) সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেত্রকোনায় পানিতে ডুবে মৃত্যু রোধে সচেতনতামূলক আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৩ পি.এম


নেত্রকোনায় পানিতে ডুবে মৃত্যু রোধে সচেতনতামূলক আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ

 

নেত্রকোনায় পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ এবং সাঁতার শেখার গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে জেলা শহরের মুক্তারপাড়ায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান। এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল ‘সচেতন নাগরিক, নেত্রকোনা’। এতে সহযোগিতা করে জেলা প্রশাসন, নেত্রকোনা।

কর্মসূচিতে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সাঁতার শেখার গুরুত্ব এবং এ বিষয়ে পরিবার ও সমাজের সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জলাশয়ের আশপাশে সতর্ক থাকা এবং পানিতে ডুবে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নেত্রকোনা জেলার গ্রামাঞ্চলে পুকুর, ডোবা, খাল-বিল ও নদীর আধিক্যের কারণে পানিতে ডুবে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয়। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে শিশুদের সাঁতার শেখানোর পাশাপাশি তাদের প্রতি বড়দের সার্বক্ষণিক নজরদারি, জলাশয়ের চারপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করা হয়। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সাঁতার শেখার প্রতি আগ্রহ তৈরি এবং পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে জনসচেতনতা আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি ও সাঁতার শেখার কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে সরকারি প্রশাসন এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে কোতোয়ালি পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৪ পি.এম


বরিশালে মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে কোতোয়ালি পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান

ত্রিশ গোডাউন ও কেডিসি বস্তিসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আকস্মিক অভিযান, নেতৃত্বে সহকারী পুলিশ কমিশনার অলক কান্তি শর্মা**


বরিশাল নগরীতে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য প্রতিরোধে আকস্মিক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কোতোয়ালি মডেল থানা। শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে নগরীর ত্রিশ গোডাউন ও কেডিসি বস্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। নগরীর অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপরাধীদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে বিএমপি মিডিয়া সেল জানিয়েছে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) অলক কান্তি শর্মা।** তাঁর নেতৃত্বে কোতোয়ালি মডেল থানার একটি বিশেষ আভিযানিক দল নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আকস্মিক তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করে।


পুলিশের এ অভিযানে নগরীর ত্রিশ গোডাউন ও কেডিসি বস্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও সন্দেহভাজন অপরাধীদের লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আকস্মিক এ অভিযানের মাধ্যমে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি জোরদার করার কার্যক্রম চালানো হয়। বিশেষ আভিযানিক দল মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপরতা অব্যাহত রাখে।


বরিশাল নগরীতে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আইনশৃঙ্খলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। এসব অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি আকস্মিক অভিযান অপরাধ দমনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

বিএমপি মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকায় নয়, সমগ্র বরিশাল মহানগরীজুড়েই মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ।

বিএমপি মিডিয়া সেল জানিয়েছে, বরিশাল মহানগরীতে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের এ তৎপরতা চলবে।

শনিবার সন্ধ্যায় কোতোয়ালি মডেল থানার বিশেষ আভিযানিক দলের এ অভিযান মহানগরজুড়ে চলমান অপরাধবিরোধী কার্যক্রমেরই অংশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%