ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জেট ফুয়েলের দাম আরও কমলো


জেট ফুয়েলের দাম আরও কমলো

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) দেশের বাজারে বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল জেট ফুয়েলের দাম আরও কমিয়েছে।

রোববার (৭ জুন) বিইআরসি সচিব মো. নজরুল ইসলাম সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দর নির্ধারণের বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন এই দর কার্যকর হবে আজ রাত ১২ টা থেকে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জুন মাসে দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটারের দাম ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা থেকে কমিয়ে ১৫০ টাকা ২১ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ লিটারপ্রতি দাম কমানো হয়েছে ১৫ টাকা ৬৭ পয়সা।

আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন সময়সীমা ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি

এছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার ফুয়েলের দাম ১ দশমিক ০৮২৩ ডলার থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৯৮০৮ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে ২৩ মে দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে কমিয়ে ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা করা হয়েছিল। এছাড়া আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য জেট ফুয়েলের দাম লিটারপ্রতি ১ দশমিক ৩৩৮৫ ডলার থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ০৮২৩ নির্ধারণ করা হয়।

অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে বাংলাদেশি ক্রেতা ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে দেশি-বিদেশি ক্রেতারা হলো- চট্টগ্রামের হযরত শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, যশোর বিমানবন্দর, সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কক্সবাজার বিমানবন্দর ও ভবিষ্যতে চালুতব্য বিমানবন্দর।

আরও পড়ুন: গার্মেন্টস শিল্পে এক সপ্তাহের মধ্যে মজুরি বোর্ড গেজেট প্রকাশের ঘোষণা শ্রমমন্ত্রীর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রকৃতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং শিশু সুরক্ষার নতুন বাস্তবতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সংবাদদাতা, মোঃসানি

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:১৫ পি.এম


প্রকৃতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং শিশু সুরক্ষার নতুন বাস্তবতা

লেখক:
মো. আবুল বরকাত
উপ-পরিচালক, সিআইপিআরবি

ভোর হওয়ার আগেই ঘুম ভেঙে যায় তাঁর। বরিশালের উপকূলীয় গ্রামের এক বাসিন্দা। ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলে তিনি প্রথমে আকাশের দিকে তাকান! আমরা অনেকেই আকাশ দেখি সৌন্দর্যের জন্য। তিনি দেখেন দুশ্চিন্তা নিয়ে। কালো মেঘ মানে তাঁর কাছে সম্ভাব্য বিপদ। হঠাৎ জোরে বাতাস তার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে অনিশ্চয়তার। নদীর ফুলে ওঠা পানি মানে শুধু জোয়ার নয়, ঘর হারানোর আশঙ্কা। প্রকৃতি এখানে জীবন, জীবিকা, ভয়, আশা এবং ভবিষ্যতের আরেক নাম।
আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে বিভিন্ন অঙ্গীকার করা হয় এ দিনে। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপনে এবারের প্রতিপাদ্য “Inspired by Nature. For Climate. For Our Future” যা বাংলাদেশের বাস্তবতায় “প্রকৃতি থেকে অনুপ্রেরণা: জলবায়ুর জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য”- স্লোগানে পালন করা হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী দেশগুলোর একটি হওয়া সত্বেও বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত সবচেয়ে বেশি। উপকূলে জলোচ্ছ্বাস বাড়ছে, লবণাক্ততা বিস্তার লাভ করছে, অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা মানুষের জীবনযাত্রাকে বদলে দিচ্ছে। তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্বও বেড়েছে মারাত্মকভাবে।
উপকূলীয় এলাকায় কাজ করতে গিয়ে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) এর গত কয়েক বছরে অনেক কঠিন ও অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতা নজরে এসেছে। ‘নিরাপদে ভাসা’ প্রকল্পের মাধ্যমে সিআইপিআরবি জানার চেষ্টা করেছে, জলবায়ু পরিবর্তন কীভাবে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে।
বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ পানিতে ডুবে মৃত্যু। এ ঝুঁকি কমাতে দীর্ঘদিন ধরে আঁচল ( শিশু যত্নকেন্দ্র) এবং সুইমসেফ (জীবন রক্ষাকারী সাঁতার শিক্ষা) ও প্রাথমিক চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে হাজার হাজার শিশুর পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
কিন্তু উপকূলের বাস্তবতা দ্রুত বদলাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শিশুদের ওপর প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ, ধারাবাহিক এবং আন্তঃসম্পর্কিত। একটি ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি কিংবা আকস্মিক জলোচ্ছ্বাসে অনেক সময় কাঁচা রাস্তা ডুবে যায়। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। আঁচল কেন্দ্রগুলো নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরিবারগুলো তখন জীবিকা রক্ষা, ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেওয়া কিংবা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ব্যস্ত থাকে। শিশুদের ওপর নজরদারি কমে যায়। চারপাশে জমে থাকা পানি, প্লাবিত জমি, খাল, ডোবা কিংবা পুকুর নতুন বিপদের উৎস হয়ে ওঠে। অন্যদিকে তীব্র তাপদাহ এবং বিভিন্ন রোগেও শিশুরা এসব সুরক্ষাসেবা থেকে বঞ্চিত হন।
“প্রকৃতি থেকে অনুপ্রেরণা” বলতে আমরা প্রায়ই বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান কিংবা পরিবেশ সচেতনতার কথা বুঝি। অবশ্যই এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রকৃতি থেকে শেখার অর্থ আরও বিস্তর- পরিবর্তিত বাস্তবতাকে বোঝা, ঝুঁকিগুলোকে নতুনভাবে চিহ্নিত করা এবং মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে সমাধান তৈরি করা।
উপকূলের মানুষ বরাবরই প্রকৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছে। আজ জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে সেই অভিযোজনের ধারণাকেই শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক করতে হবে।
জলবায়ুজনিত দুর্যোগের মধ্যেও কীভাবে শিশু সুরক্ষা ও পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ কার্যক্রম সচল রাখা যায়, তা নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইন্সটিটিউশন (RNLI) ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআইপিআরবি। মাঠপর্যায়ে সফলতা পাওয়া গেলে এসব অভিজ্ঞতা দেশব্যাপী প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে সমন্বিত শিশু সুরক্ষা ও বিকাশ কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিচ্ছে। নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী পরিচালিত আইসিবিসি প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। এই সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন এবং শিশু সুরক্ষার সম্পর্ককে নীতিগতভাবে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে তাই আমাদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হয়তো এটাই—আমরা কি শুধু প্রকৃতির ক্ষতি কমানোর কথা ভাবব, নাকি প্রকৃতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় মানুষের জীবন বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও ভাবব?
উত্তরটি হয়তো উপকূলের সেই মায়ের কাছেই আছে, যিনি প্রতিদিন আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রকৃতির ভাষা বোঝার চেষ্টা করেন। প্রকৃতি আজও আমাদের শেখাচ্ছে। প্রশ্ন হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা কি সেই শিক্ষা গ্রহণ করতে প্রস্তুত ?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাজেটে বিমান ও পর্যটন খাতে নীতি সহায়তার দাবি অংশীজনদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:১৬ পি.এম


বাজেটে বিমান ও পর্যটন খাতে নীতি সহায়তার দাবি অংশীজনদের

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নীতি সংস্কার, কর ছাড় এবং অবকাঠামো সহায়তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিমান ও পর্যটন খাতের অংশীজনরা। তারা এই দাবি তুলেছেন, যেন দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায়।

বিএনপি সরকার নির্বাচনী বিজয়ের পর প্রথম জাতীয় বাজেট ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারই প্রেক্ষাপটে খাতসংশ্লিষ্ট নেতারা বলেছেন, বিমান ও পর্যটন খাতের জন্য কেবল আর্থিক বরাদ্দ নয়, বরং একটি সুসংগত ও স্থিতিশীল নীতি কাঠামোর প্রয়োজন। যার ফলে এই দুটি খাত অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।

বিমান পরিবহন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বলেছে, তারা প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এবং বিমান ভাড়া কমানোর লক্ষ্যে জেট ফুয়েল, বিমান লিজ এবং এয়ারলাইন পরিচালনায় কর সুবিধা নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। অপরদিকে, পর্যটন খাতের অংশীজনরা দাবি জানিয়েছেন যে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিনিয়োগে প্রণোদনা বাড়ানো দরকার।

খাতসংশ্লিষ্টরা বাসস’কে জানান, আসন্ন বাজেটটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছার মূল পরীক্ষা হবে। বিএনপি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিমান হাব এবং বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতা সক্ষম পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বিমান চলাচল খাতের নেতারা ইংগিত করছেন যে, উচ্চ জ্বালানি কর এবং পরিচালন ব্যয় স্থানীয় বিমান সংস্থাগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে ক্রমাগত দুর্বল করে দিচ্ছে।

অ্যাভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এওএবি) মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেছেন, সরকারের উচিত বিমান জ্বালানিতে একটি পূর্বানুমানযোগ্য কর ব্যবস্থা চালু করা এবং পরিচালন ব্যয় কমাতে এয়ারলাইনগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া।

তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর জেট ফুয়েলের দাম বেড়েছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হল, করের চাপও বেড়েছে। জেট ফুয়েলের ওপর যৌক্তিক ও স্থিতিশীল কর কাঠামো পরিচালন ব্যয় কমাতে, যাত্রীদের চাহিদা বাড়াতে এবং বাংলাদেশি এয়ারলাইনগুলোকে আরও প্রতিযোগিতা সক্ষম করতে সহায়তা করবে।’

মফিজুর রহমান জেট ফুয়েলের ওপর ভ্যাট অব্যাহতি, বিমান লিজ ও রক্ষণাবেক্ষণে কর কমানো এবং বিমান-সংক্রান্ত শুল্ক যৌক্তিক করার দাবিও জানিয়েছেন।

শিল্প অংশীজনরা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কার্যক্রম চালু করতে পর্যাপ্ত জনবল ও সম্পদ বরাদ্দ দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।

বিমান বিশ্লেষক এটিএম নজরুল ইসলাম বলেছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী টার্মিনালটি চালু করতে হলে জনবল নিয়োগ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচালনার প্রস্তুতির ওপর এখনই গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, ‘অবকাঠামো নির্মাণ আর সেটি কার্যকরভাবে পরিচালনা করা ভিন্ন বিষয়।’ দক্ষ জনবল ও শক্তিশালী ব্যবস্থাপনার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিমান হাবে পরিণত করার লক্ষ্য পূরণ করতে বিমানবন্দর আধুনিকায়ন, কার্গো লজিস্টিকস, নেভিগেশন অবকাঠামো এবং ডিজিটাল বিমান ব্যবস্থায় বড় বিনিয়োগের আহ্বান করা হয়েছে।

পর্যটন অংশীজনরা নতুন উদ্যোগ ঘোষণার চেয়ে বিদ্যমান নীতি ও প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন।

তারা জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাবারাং (কক্সবাজার) সমন্বিত পর্যটন অঞ্চলসহ ইকো ট্যুরিজম, কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটন ও উপকূলীয় পর্যটন উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ রাফিউজ্জামান বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ উৎসাহিত করার জন্য পর্যটন সরঞ্জাম, পর্যটকবাহী যানবাহন এবং আতিথেয়তা অবকাঠামোর ওপর কর ছাড়ের দাবি জানিয়েছেন।

তিনি বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে প্রণোদনা প্যাকেজ চালু এবং ই-ভিসা ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানান।

টোয়াবের পরিচালক ড. মো. তাসলিম আমিন শোভন বলেন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অবদান সত্ত্বেও পর্যটন খাত দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত।

তিনি আরও বলেন, ‘পর্যটন খাতে আরও বেশি গুরুত্ব এবং উন্নয়ন বাজেটের বড় বরাদ্দ দরকার। তবে কার্যকর বাস্তবায়ন ও নেতৃত্বই শেষ পর্যন্ত বাজেট বরাদ্দের সফলতা নির্ধারণ করবে।’

প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন (পাটা) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব তৌফিক রহমান সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, পর্যটনের উন্নয়ন পরিবহণ, অবকাঠামো, নিরাপত্তা, পরিবেশ, সংস্কৃতি ও পররাষ্ট্রসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ের ওপর নির্ভরশীল।

অংশীজনরা বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের মূল্যায়ন হবে বরাদ্দের পরিমাণ দিয়ে নয়, বরং এটি নীতি সংস্কারের মাধ্যমে উভয় খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারবে কিনা তা নিয়ে।

তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট বাংলাদেশের বিমান ও পর্যটন শিল্পে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক যুগ ধরে শিকলবন্দি রয়েছেন পাবনার নূরী খাতুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:১৬ পি.এম


এক যুগ ধরে শিকলবন্দি রয়েছেন পাবনার নূরী খাতুন

প্রায় এক যুগ ধরে জানালা এবং দরজা ছাড়া বিদ্যুৎহীন অন্ধকার ঘরে এক বাহ্যিক অযত্নের মধ্যে শিকলবন্দি হয়ে আছেন নূরী খাতুন (৫৫)। অনাহারে ও অর্ধাহারে তার দিন কাটছে। এটা যেন দেখার কেউ নেই।

এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার তেথুলিয়া মধ্যপাড়া গ্রামে। নূরী খাতুন ওই গ্রামের মৃত লবা প্রামানিকের মেয়ে।

তিনি প্রায় এক যুগ ধরে নিজ ঘরে বন্দি থেকে জীবন অতিবাহিত করছেন। তার পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন যে, প্রায় ৪০ বছর ধরে ডাক্তার, কবিরাজ এমনকি মানসিক হাসপাতালেও চিকিৎসা করানো হয়েছে। কিন্তু কোনো পরিবর্তন না আসায় প্রায় এক যুগ ধরে শিকলবন্দি করে তাকে ঘরে আটকে রাখা হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নূরী খাতুনকে রাখা হয়েছে বাড়ির পেছনের একটি নির্জন ঘরে। এই ঘরের কোনো জানালা, দরজা ও আলোর ব্যবস্থা নেই, ফলে দিনেও অন্ধকারে থাকতে হয়। অবহেলা এবং অনাহারে কাটছে তার দিন। প্রকৃতির ডাক এলে ঘরের মেঝেতে কাজ সারেন। দুরগন্ধে ঘরে প্রবেশ করা দায়- এ যেন মানবিকতার চরম বিপর্যয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে অসহায়ত্ব বা অন্য কোনো অজুহাতে আড়াল করার চেষ্টা করা হলেও, এলাকাবাসীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন।

স্থানীয়দের দাবি, নূরী খাতুনের প্রতি তার পরিবার দীর্ঘকাল ধরে অত্যাধিক অমানবিক ও নির্মম আচরণ করে আসছে। একজন অসুস্থ ও মানসিক প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা এবং চিকিৎসার পরিবর্তে শিকলবন্দি রাখার ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেন, বিষয়টি অমানবিক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চা বাগানে পাতা উত্তোলন ও উৎপাদন শুরু, ভালো ফলনের আশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:১৭ পি.এম


চা বাগানে পাতা উত্তোলন ও উৎপাদন শুরু, ভালো ফলনের আশা

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি বছর চায়ের বাম্পার ফলনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এছাড়াও, এবার চায়ের গুণগত মানও অন্যান্য বছরের তুলনায় ভালো হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এরই মধ্যে জেলার ছোট-বড় ৯৩টি চা বাগানে শুরু হয়েছে পুরোদমে পাতা উত্তোলন ও উৎপাদন।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পাহাড়ের ঢালে সারি সারি চা-বাগান।

বাগানজুড়ে সবুজ কচি চা-পাতার সমাহার। চলতি বছর চা উৎপাদন মৌসুমের শুরুতেই আগাম বৃষ্টিপাত এই জেলার চা শিল্পে আশার আলো জাগিয়েছে।

চা উৎপাদনের ভরা মৌসুমে এসে দুহাত ভরে ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগানের নারী শ্রমিকরা।

গত বছরের এই সময়ে জেলার সবকটি বাগানে এমন সবুজের সজীবতা ছিল না।

পর্যাপ্ত চা-পাতার অভাবে তখন নারী শ্রমিকদের দৈনিক লক্ষ্যমাত্রা (নিরিখ) পূরণ করা কঠিন ছিল।

তবে এবার ভরা মৌসুমেও প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত ও সহনীয় তাপমাত্রায় চায়ে ব্যাপক সফলতা এসেছে।

খুশি মনে শ্রমিকরা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পাতা উত্তোলনের কাজ করছেন।

সেই সাথে কারখানাগুলোতেও পুরোদমে চায়ের উৎপাদন শুরু হয়েছে।

ভাড়াউড়া চা বাগানের নারী শ্রমিক গীতাসহ একাধিক শ্রমিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ বছর চা গাছে পর্যাপ্ত কচি পাতা রয়েছে।

তারা জানান, প্রতিদিন একেকজন শ্রমিক ২৫ থেকে শুরু করে ৪০ কেজি পর্যন্ত পাতা উত্তোলন করতে পারছেন।

চা শ্রমিক সর্দার উত্তম জানান, সামনের মাসগুলোতে আরও বেশি পাতা পাওয়া যাবে।

ভালো পাতা পাওয়ায় নারী শ্রমিকরা সহজেই নিরিখ পূর্ণ করতে পারছেন, এতে সবাই বেশ খুশি।

চা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ছেরাগ আলী মাস্টার উৎপাদিত চায়ের গুণগত মান ভালো হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, পাশাপাশি বাগানে পোকামাকড়ের আক্রমণের কথাও জানিয়েছেন।

রোগবালাই দমনে তিনি বাগান কর্তৃপক্ষের নজর দেয়ার দাবি করেন।

বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট শাখার চেয়ারম্যান জি এম শিবলী জানান, ‘এই আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদন হবে।’

অপরদিকে, চায়ের গুণগত মান ও উৎপাদন বাড়াতে এ বছর বাগানগুলোতে সব ধরনের সহায়তা দেয়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন পরিচালক ড. এ কে এম রফিকুল হক।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের দেয়া তথ্যমতে, চলতি বছর (২০২৬ সাল) দেশে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%