ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইয়েমেনের তাইজে অবরোধ, খাদ্য-জ্বালানির দাম বাড়ছে


ইয়েমেনের তাইজে অবরোধ, খাদ্য-জ্বালানির দাম বাড়ছে

ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ শহরে আবারও অবরুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। হুথি যোদ্ধাদের অগ্রযাত্রা এবং সরকারনিয়ন্ত্রিত এলাকার সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে শহরটিতে খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন মানবিক সংকটের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে হুথিদের অবরোধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এখনো ভুলতে পারেননি তাইজের বাসিন্দারা। ৩৭ বছর বয়সী ইস্কান্দার আবদুল্লাহ জানান, পূর্ববর্তী অবরোধের সময় মানুষকে খাবার, পানীয় জল, জ্বালানি ও ওষুধের মতো মৌলিক প্রয়োজনীয়তার জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেই দুর্দিন যেন আবার ফিরে না আসে।

গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে লোহিত সাগর উপকূলবর্তী তাইজ প্রদেশে হুথিদের অভিযান শুরু হয়। পরে তারা বন্দরনগরী মোখা ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিকটবর্তী ধুবাব এলাকা দখল করে নেয়। বাব আল-মান্দেব প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথগুলোর একটি, যেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ পরিচালিত হয়।

আরও পড়ুন: আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনকে লজ্জাজনক বললেন নেতানিয়াহু

অক্টোবরের শুরুতে সউদী আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনী পাল্টা অভিযান চালিয়ে কিছু হারানো এলাকা পুনর্দখল করে। তবে তাইজ শহরের আশপাশের গ্রামীণ এলাকায় হুথিদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। ৪ অক্টোবরের মধ্যে তারা আল-তুরবাহ শহর দখল করে নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে তাইজ শহরের সঙ্গে সরকারনিয়ন্ত্রিত অন্যান্য এলাকার সংযোগকারী শেষ প্রধান সড়কটিও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

তাইজ প্রদেশের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কার্যালয়ের মহাপরিচালক নাবিল জামিল জানান, এবারের অবরোধ ২০১৫ সালের তুলনায় আরও বিস্তৃত এবং এর প্রভাবও বেশি গুরুতর। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, প্রদেশটির সরকারনিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রায় ২৮ লাখ মানুষ বসবাস করেন। উপকূলীয় ও গ্রামীণ এলাকায় সাম্প্রতিক লড়াইয়ের কারণে আরও প্রায় দুই লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে এসব মানুষের জীবনযাত্রার পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

অবরোধের প্রভাব ইতোমধ্যে শহরের জ্বালানি বাজারে পড়েছে। আল-তুরবাহ হয়ে আদেন থেকে আসা জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সড়কে যানবাহনের চলাচল কমে গেছে। কালোবাজারে ২০ লিটার পেট্রলের দাম ৩০ হাজার ইয়েমেনি রিয়াল থেকে বেড়ে ৯০ হাজার রিয়ালে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ডলারে হিসাব করলে দাম প্রায় ১৯ ডলার থেকে বেড়ে ৫৮ ডলার হয়েছে।

খাদ্যপণ্যের বাজারেও চাপ বাড়ছে। অবরোধের আশঙ্কায় বাসিন্দারা আগাম খাবার কিনে মজুত করছেন। ফলে বাজার ও মুদিদোকানে চাহিদা বেড়েছে। অর্থনীতি বিষয়ে কাজ করা সাংবাদিক ওয়াফিক সালেহ জানান, গম ও আটার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে এবং শাকসবজি ও ফলমূলের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, শহরে কয়েক মাস চলার মতো খাদ্য মজুত থাকলেও কিছু ব্যবসায়ী সংঘর্ষ তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: লুলার বিজয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা, ভূরাজনীতির নতুন সমীকরণ

২০১৬ সালে সরকারি বাহিনী তাইজ শহরের দক্ষিণের কিছু এলাকা পুনর্দখল করার পর অবরোধ ভাঙতে সক্ষম হয়েছিল। ২০২৪ সালে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে হুথিরা শহরের পূর্ব দিকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক খুলে দিতে সম্মত হয়। ওই পথ দিয়ে সানা ও উত্তর ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা যেত। তবে সাম্প্রতিক লড়াই ও হুথি যোদ্ধাদের অনুপ্রবেশের চেষ্টার পর পথটি আবার বন্ধ হয়ে গেছে বলে নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে আল জাজিরা।

তাইজে চলমান সংঘাতের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। হুথি-বিষয়ক সাংবাদিক সালমান আল-মাকরামি মনে করেন, শহরটির অবরোধের মাধ্যমে গোষ্ঠীটি তাদের বিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে বিভক্তি তৈরি করতে চাইছে। দীর্ঘদিন ধরে তাইজ হুথিবিরোধী মনোভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। শহরটি দখল করতে পারলে সরকারনিয়ন্ত্রিত অন্যান্য এলাকাতেও নিজেদের সামরিক প্রভাব বিস্তারের বার্তা দিতে পারবে গোষ্ঠীটি।

তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে। বিচার ও উন্নয়ন অধিকার সংস্থার প্রধান এবং আইনজীবী নাবিল শারিয়ান বলেন, কোনো সংঘাতেই বেসামরিক মানুষকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা, ওষুধ এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর সুযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। চলাচলে বাধা পড়লে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবনও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তাইজের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সংকট মোকাবিলায় সহায়তা চেয়ে জাতিসংঘের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। তাদের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে বেসামরিক মানুষের চলাচলের জন্য নিরাপদ সড়ক ও করিডর চালু করা, খাদ্য ও ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনো তারা জাতিসংঘের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

আরও পড়ুন: পুতিনের ‘গোপন তহবিল’ থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলছেন ট্রাম্প, রুশ-মার্কিন সম্পর্কে নতুন মোড়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারীর মর্যাদা বাড়াতে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে সরকার: এস এম জোলানী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ পি.এম


নারীর মর্যাদা বাড়াতে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে সরকার: এস এম জোলানী

নারীর মর্যাদা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগ হিসেবে পরিবারের নারী সদস্যদের নামে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হচ্ছে, এমনটি জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জোলানী।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদের হলরুমে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের জন্য মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

এস এম জোলানী উল্লেখ করেন, সমাজে নারীরা অনেক সময় অবহেলার শিকার হন। এর পেছনে একটি বড় কারণ হলো, অনেক ক্ষেত্রে তারা সরাসরি উপার্জনের সঙ্গে যুক্ত নন। নারীদের অর্থনৈতিক মর্যাদা ও পরিবারের মধ্যে সম্মান বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে তাদের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে একটি ফ্যাসিবাদী সরকার দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি ধ্বংস করেছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। এর ফলে দেশের অর্থনীতি বর্তমানে ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য আরো বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যেই দেশ পরিচালনা করছে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো থাকলে একসঙ্গে সব পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সরকারের দক্ষতার কারণে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ দিদারুল আলম। এ সময় বক্তব্য রাখেন টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রকাশ চক্রবর্তী, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির হোসেন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিহাদুল ইসলাম বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক গোপাল সরকার এবং যুবদলের সদস্যসচিব আমিনুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালনকারী ১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও একজন সুপারভাইজারের মধ্যে ডিজিটাল ট্যাব বিতরণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ককরোচ পার্টির শীর্ষ নেতাদের কোথায় নিয়ে গেছে পুলিশ, যা জানা গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০০ পি.এম


ককরোচ পার্টির শীর্ষ নেতাদের কোথায় নিয়ে গেছে পুলিশ, যা জানা গেল

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শীর্ষ তিন নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগে আটক হন। আটকের পর পুলিশের কাছে তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা নিয়ে চলছে জল্পনা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) মুম্বাই থেকে তাদের বহনকারী বিমান দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিমান থেকেই তাদের আটক করা হয়। খবর এনডিটিভির।

উড়োজাহাজের ভেতরে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নারী পুলিশ সদস্যরা ৩০ বছর বয়সি দীপকে এবং অন্য দুই নেতাকে আটক করছেন। এ সময় পুলিশের উদ্দেশে দীপ বলেন, “আমি এখানে গ্রেফতার হতেই এসেছি। আমাকে গ্রেফতার করুন। আমি আপনাদের ভয় পাই না।”

এক পুলিশ সদস্যের জবাবে বলেন, “এটি গ্রেফতার নয়। স্যার, দয়া করে সহযোগিতা করুন।”

এরপর দীপকে বলেন, “আমার ব্যাগটি নিতে দিন।”

এনডিটিভিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, সিজেপির তিন নেতাকে পৃথক স্থানে নিয়ে গেছে পুলিশ। অভিজিৎ দীপকে গুরগাঁওয়ের একটি আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে দিল্লির আলাদা দুটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এর আগে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে গুরগাঁওয়ের নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ।

ভোট চুরির অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ কর্মসূচি হওয়ার কথা রয়েছে।

নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশন বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করেছে বিজেপি সরকার।

গতকাল শুক্রবার আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছিলেন, তিনি ও তার পরিবার সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, দিল্লি পুলিশ অন্তত ৬০০ জনকে আটক করেছে। বিক্ষোভ ঘিরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।

শনিবার সকাল ৬টা থেকেই দিল্লির বিভিন্ন রাস্তায় কঠোর ট্রাফিক বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যান চলাচলের পথ পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ব্যারিকেড ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশ মোতায়েন করে গাড়ি পরীক্ষা এবং জনসাধারণের চলাচলে নজর রাখা হচ্ছে।

এ ছাড়া মেট্রো পরিষেবায় বিধিনিষেধ, একাধিক ট্রেন বাতিল এবং রাজধানীর কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও কার্যকর রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিক্ষোভ শুরুর আগেই হার মেনেছেন মোদি : অভিজিৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০১ পি.এম


বিক্ষোভ শুরুর আগেই হার মেনেছেন মোদি : অভিজিৎ

দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করার উদ্দেশ্যে শনিবার নয়াদিল্লির দিকে রওনা হন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন শুরু হওয়ার পূর্বেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন’ বলে মনে হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে দীপ দিল্লির পরিস্থিতি এবং সমর্থকদের ওপর দমন-পীড়নের সমালোচনা করেন।

মুম্বাই বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দীপ বলেন, দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং ট্রেন বাতিলের ঘটনাগুলি সরকারের ভয়ের চিহ্ন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘এসব ঘটনা শক্তির পরিচয় নয় বরং এমন এক নেতার লক্ষণ, যিনি নিজের দেশের মানুষকেই ভয় পান।’

পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘আমাদের বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন।’ দীপ আরও বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো এবং রাজধানীতে চলাচলে বাধা দেওয়া শক্তির পরিচয় নয়। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বোঝা যায়, প্রধানমন্ত্রী নিজের দেশের মানুষকে ভয় পান।’

তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিক্ষোভে যোগ দিতে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে আসার পর সেখান থেকেই তাকে আটক করা হয়েছে। সকাল ১০টা ১৯ মিনিট নাগাদ দিল্লি বিমানবন্দরে তাদের বিমান অবতরণ করে।

পুলিশ যখন উড়োজাহাজে প্রবেশ করে, তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে সরাসরি সম্প্রচারে (লাইভ) যান অভিজিৎ দীপক। তার পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, উড়োজাহাজের ভেতর থেকেই দীপকে এবং সিজেপির আরো দুই সদস্য, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করছে পুলিশ সদস্যরা।

দিল্লি পুলিশের ধারণা, যন্তর মন্তরে প্রায় ৭ হাজার মানুষ বিক্ষোভে যোগ দিতে পারেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের শান্ত থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পূর্বে দিল্লিতে ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। এদিকে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় অনলাইনে কিছু তথ্য সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছে।

সিজেপির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সকাল ১০টার মধ্যে দিল্লিতে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চলাকালে ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং ভোটার নিবন্ধনের ফরম ৬-এ পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিজেপি।

এদিকে সিজেপির সমর্থকরা যাতে বিভিন্ন রাজ্য থেকে দিল্লিতে এসে জড়ো না হন, সে জন্য রাজ্যগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নিরাপত্তার কারণে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। পাশাপাশি, নয়াদিল্লি এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে মানুষকে বিধিনিষেধ মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গিলের মন্তব্যের জবাবে হোপের পাটকেল, ২৫০ রানে জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১১ পি.এম


গিলের মন্তব্যের জবাবে হোপের পাটকেল, ২৫০ রানে জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের

অসাধ্য সাধন করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অধিনায়ক শাই হোপ নেতৃত্ব দিয়েছেন এই অসাধ্য সাধনে। টি-টোয়েন্টিতে ২৫০ রান চেজ করা সহজ কাজ নয়।

কিন্তু এমন কঠিন লক্ষ্য তাড়া করেও হোপ ছিলেন শান্ত। এ সময় তার বিস্মিত হওয়ার কথা ছিল। তবে তার শান্ত থাকার পেছনে একটি কারণ রয়েছে। যা ইট মারলে পাটকেলের মতো। এই পাটকেলটি তিনি মেরেছেন শুবমান গিলের উদ্দেশে।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ৪০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ভারত জয় পেয়েছিল। সেদিন ৩৯ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের বড় জয় অর্জন করে ভারত। অধিনায়ক গিল ২২৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে জয়ে নেতৃত্ব দেন। গুয়াহাটিতে জয় পাওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে গিল লিখেছিলেন, ‘৪০৬? শান্ত থাকুন।’ যেন বোঝাতে চেয়েছেন, এটি কোনো লক্ষ্য নয়।

সেই খোঁচার জবাব এবার দিলেন হোপ। টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৬ উইকেটের জয় পেয়েছে। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক হোপ। তিনি খেলেছেন ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংস।

জয়ের পর সামাজিক মাধ্যমে হোপ লিখেছেন, ‘২৫০? শান্ত থাকুন।’ তিনিও বোঝালেন, ক্যারিবিয়ানদের জন্য এটি একটি লক্ষ্য নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%