রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৪০ পি.এম
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আগামী ছয় মাসের জন্য গঠন করা হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ১১ সদস্যের আংশিক কমিটি।
শনিবার রাতে গোপালগঞ্জ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক বাঁধন মিয়া, সদস্য সচিব ফেরদৌস আমিনা এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল মোল্লা শুভ এই কমিটির অনুমোদন প্রদান করেন।
এই কমিটিতে শাহিদ আলমকে আহ্বায়ক হিসেবে এবং সোহেল সরদারকে সদস্য সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক বাঁধন মিয়া জানান, "আগামী ছয় মাসের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির টুঙ্গিপাড়া উপজেলা শাখার আংশিক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, শুধুমাত্র টুঙ্গিপাড়া নয়, জাতীয় নাগরিক পার্টিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গোপালগঞ্জের অন্যান্য চারটি উপজেলাতেও কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে জলমহালের নিয়ন্ত্রণ এবং মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ তাওকিরের হাতে চাইনিজ কুড়াল থাকা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওটি রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের আখড়া বাজার এলাকায় বিলমাকসা জলমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম শাহিনের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষের সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদের ছেলে ও উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ তাওকির ঘটনাস্থলে চাইনিজ কুড়াল হাতে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সৈয়দ তাওকির কুড়াল হাতে থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তিনি বলেছেন, "সংঘর্ষ থামানোর জন্য অন্য একজনের হাত থেকে কুড়ালটি কেড়ে নিয়েছিলাম। কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে আমি কুড়ালটি হাতে নিইনি।"
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওশাদ জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি এখনো জানেন না। বিষয়টি জানার পর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জলমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় সৈয়দ তাওকিরের বাবা ও অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদকে শোকজ করেছে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী নগরীতে অনলাইন জুয়া ও পৃথক অভিযানে ২৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে অনলাইন জুয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজন, মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় ১০ জন এবং বিভিন্ন মামলায় আরও ১৩ জন রয়েছেন। অভিযানে হেরোইন, ইয়াবা, গাঁজা, ফেয়ারডিল সিরাপ, চোলাইমদ, অনলাইন জুয়ায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।
রবিবার দুপুরে নগর পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার (সদর) মোঃ গাজিউর রহমান এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, শনিবার রাতে বোয়ালিয়ার হাদির মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাজু (৩৭) ও সানাউল্লাহ (৩০)কে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ও ৯৮০ টাকা জব্দ করা হয়। ফোন দুটিতে মোট ১৩টি অনলাইন জুয়া ও বেটিং অ্যাপ পাওয়া যায়।
একই দিন মতিহার থানার চরশ্যামপুর এলাকায় অভিযানে ডিটল (৪৮), শাহজামাল (৫৪) ও মাইনুলকে (৪৭) গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে এবং এক পলাতক ব্যক্তির ফেলে যাওয়া ৩৮ গ্রাম গাঁজা ও ১ হাজার ৪৬৫ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে হাদির মোড় এলাকায় গাঁজা সেবনের অভিযোগে হালিম আলী (৪০) ও শহিদুল ইসলামকে (৩৮) গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে কাশিয়াডাঙ্গা থেকে দুই নারীকে হেরোইন ও ইয়াবাসহ, কাটাখালী থেকে একজনকে ফেয়ারডিল সিরাপসহ, চন্দ্রিমা থেকে একজনকে গাঁজা, চোলাইমদ ও নগদ টাকাসহ এবং কাশিয়াডাঙ্গা থেকে আরও একজনকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক মামলা হয়েছে। এ ছাড়া মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও ডিবি পুলিশের অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত দুইজন, মাদক মামলায় সাতজন ও অন্যান্য মামলায় চারজনসহ আরও ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে পৃথক অভিযানে ২৫ জন গ্রেফতার করা হয়েছেন।
রবিবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।#
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৭ বছরের শিশু মাহিদা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া তার চাচা জাহিদুল ইসলামের (২০) পক্ষে কোনো আইনি সহায়তা প্রদান না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি।
রোববার দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বাবুল এ বিষয়ে কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "ইতোপূর্বেও এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার আসামির পাশে আইনজীবীরা দাঁড়াননি। শিশু মাহিদাকে ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস ঘটনার আসামির পক্ষে দাঁড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমাদের কোনো আইনজীবী আসামি জাহিদুল ইসলামের পক্ষে দাঁড়িয়ে তাকে আইনি সহায়তা দেবেন না। বরং মাহিদার ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সব আইনজীবী কাজ করবেন।"
এর আগে নিহত শিশু মাহিদার মা মনিরা আক্তারসহ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসী জেলা আইনজীবী সমিতিতে গিয়ে ঘাতক জাহিদুলের পক্ষে মামলা পরিচালনা না করার জন্য লিখিত অনুরোধ জানান। পরে মাহিদার স্বজন ও বিক্ষোভকারীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালত চত্বরের বিভিন্ন স্থানে আসামি জাহিদুলের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন।
এদিকে, মাহিদাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেফতার জাহিদুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ৫ম আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে জাহিদুল স্বীকার করেন, তিনি মাহিদাকে ধর্ষণের পর বালিশচাপা দিয়ে ও গলা টিপে হত্যা করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের পরিদর্শক মো. হাবিবুল্লাহ সরকার জানান, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি শেষে জাহিদুল ইসলামকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করেছেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে জাহিদুল মাহিদাকে পানি খাওয়ানোর কথা বলে একটি বসতঘরে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে মাহিদার মা মনিরা বেগম মেয়ের খোঁজ না পেয়ে সন্দেহবশত জাহিদুলের ঘরে প্রবেশ করে মেয়েকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে মাহিদাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন জাহিদুলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) থেকে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পুনরায় চালু করার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সেবা দিয়ে আসা এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কোনো অবস্থাতেই ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভাঙচুরের শিকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
আমিনুল হক বলেন, "আগামীকাল থেকেই আমরা কেন্দ্রটির সংস্কারের কাজ শুরু করব। চলমান স্বাস্থ্যসেবা যাতে একদিনের জন্যও ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমি নিজেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব সংস্কারের ব্যবস্থা নেব।"
ভাঙচুরের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "এত বড় ধ্বংসযজ্ঞ দেখে আমি অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি। একটি সুন্দর সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে রাতের অন্ধকারে বুলডোজার এনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে গুঁড়িয়ে দেওয়া কখনোই কাম্য নয়। আমরা এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই প্রশ্রয় দিই না।" তিনি জানান, এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে। শাহ আলী থানার ওসিকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ক্লোজ করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "একটি রাজনৈতিক মহল বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে। বাস্তবে কারা এই ঘটনার পেছনে রয়েছে এবং কারা কী উদ্দেশ্যে এই দখলদারির ভূমিকা নিয়েছে, আমরা তা খতিয়ে দেখছি। যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।"
তিনি আরও বলেন, "যাদের কোনো আইনি দাবি থাকলে তারা আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা উত্থাপন করতে পারেন। রাতের অন্ধকারে বুলডোজার দিয়ে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে ফেলার অধিকার কারও নেই। এটি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের জায়গা এবং এ বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছি।" আমিনুল হক আরও বলেন, "প্রায় পাঁচ দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটি এলাকার শিশু, প্রসূতি মা ও দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। আমরা চাই না এই এলাকার মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হোক। শিশুদের টিকাদানসহ সব ধরনের সেবা দ্রুত স্বাভাবিক করা হবে এবং সেবাগ্রহীতাদের কোনো ভোগান্তি হতে দেওয়া হবে না।"
সরকার বা দল এ ঘটনায় বিব্রত কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "শাহ আলী থানার ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লোজ করা হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নামও এসেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। যদি কারও সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত দুই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তিনি আরও জানান, "এখন পর্যন্ত যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা আমাদের দলের কেউ নয় এবং দলের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তবে ভবিষ্যতে তদন্তে যদি কোনো দলীয় ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা শতভাগ স্বচ্ছ তদন্ত চাই এবং পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ