১১:৩০ এম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রামপুরহাটের সাবেক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার নির্দেশিতভাবে জানিয়েছে যে, তার মরদেহের সঙ্গে একটি ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া গেছে।
আশিসের লেখিত নোটে তিনি উল্লেখ করেছেন, তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। রাজনীতিতে আসার জন্য তার আক্ষেপ প্রকাশ পাওয়ার পাশাপাশি তিনি পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যতে রাজনীতিতে না জড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
এর আগে রবিবার সকালে রামপুরহাটের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ায় নিজের বাড়ির পাশের দলীয় কার্যালয় থেকে আশিসের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা
নোটে বিন্যাসের কারণে চিঠিটি সত্যিই আশিসের লেখা কিনা, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী তা অর্থাৎ কীভাবে তার মৃত্যু ঘটেছে—এসব বিষয় তদন্ত করছে পুলিশ।
চিঠিতে আশিস জানায়, তিনি কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সংযুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদে সাধারণ সম্পাদক থাকার সময়েও তিনি কোনো দুর্নীতি করেননি। রাজনৈতিক মতবিরোধকে তিনি কখনো শত্রুতায় রূপান্তরিত করেননি বলেও দাবি করেছেন।
চিঠির মধ্যে আশিসের বক্তব্য তাঁর দলের বিভিন্ন অন্যায় মেনে নিতে পারেননি, তবে কখনো প্রতিবাদ করার সুযোগও পাননি। তিনি জানান, সারাজীবনে কোনো কাজের বিনিময়ে এক পয়সাও নেননি।
তাঁরাপীঠ রামপুরহাট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা টিআরডিএ নিয়েও চিঠিতে তাঁর অবস্থান প্ৰকাশ করেছেন আশিস। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সেখানে সাধারণ সভায় ছাড়া তার কোনো দায়িত্ব ছিল না। তিনি টেন্ডার কমিটির সদস্য ছিলেন না এবং চেক অনুমোদনের ক্ষমতাও তার ছিল না।
আরও পড়ুন: ধর্মীয় উৎসব শিশুদের নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দেয়: ডেপুটি স্পিকার
প্ল্যান পাস বা ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ দেওয়ার ক্ষেত্রেও তার কোনো ভূমিকা ছিল না বলেও অন্যথায় দাবি করেছেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেছেন যে, তিনি যেন অপমান বা হেয় করার উদ্দেশ্যে নানা কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে। এ কারণেই মনে হয়েছে তার রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। তাই তিনি রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে, যাতে তারা নিজেদের পেশা এবং কাজের মধ্যেই বেশি মনোযোগী হন।
আশিস চিঠিতে শিক্ষকের কাজের কথাও সংশ্লিষ্ট করেছেন। তিনি জানান, জীবনের প্রায় পুরো সময় শিক্ষকতা করেছেন এবং কখনো ক্লাস ফাঁকি দেননি। বিশেষ ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থীকে বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন এবং তাদের কাছ থেকে প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
চিঠির শেষ প্রান্তে পরিবারের সদস্যদের নাম উল্লেখ করে তাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আশিস। তবে রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা নাম উল্লেখ করেননি। কাউকে সরাসরি দায়ী করেননি তিনি। চিঠিতে প্রশাসনকে তিনি বলেন, তার মৃত্যুতে কেউ দায়ী নয়।
আরও পড়ুন: তালা ভেঙে বাসায় ঢুকে ৮ লাখ টাকা, ২ ভরি সোনা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি: ডেমরায় চাঞ্চল্য
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ২০০১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা রামপুরহাটের বিধায়ক ছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায়ও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তিনি রাজ্যের সাবেক স্কুলশিক্ষামন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রী ছিলেন। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন