মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:০৬ পি.এম
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এবং জনতা ব্যাংক পিএলসি-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভাকক্ষে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো জনতা ব্যাংক পিএলসি-এর নিজস্ব পেমেন্ট গেটওয়ে 'JanataPay'-এর মাধ্যমে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সকল প্রকার ফি ও বেতন সহজে আদায় করা।t অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী এবং জনতা ব্যাংক পিএলসি, রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়-এর মহাব্যবস্থাপক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ মফিজুল ইসলাম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির ফলে এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই কিংবা ডিজিটাল মাধ্যমে খুব সহজেই 'JanataPay' পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে তাদের সেমিস্টার ফি, বেতন এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক পাওনা পরিশোধ করতে পারবেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক লেনদেন প্রক্রিয়া আরও অধিক স্বচ্ছ, আধুনিক, গতিশীল এবং ঝামেলামুক্ত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিহারের জামুইয়ে কোচিং থেকে ফেরার সময় দশম শ্রেণির এক নাবালিকা এবং তার সহপাঠীকে আটকে মারধর ও যৌন হেনস্তার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এই ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শিশু যৌন অপরাধ প্রতিরোধ আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেছেন, "এই ধরনের জঘন্য আচরণ করার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি।" তিনি আরও বলেন, নারীদের ওপর অন্যায় নিয়ন্ত্রণকে সংস্কৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করলে দুষ্কৃতিকারীরা নিজেদের আইন মনে করতে শুরু করে। তিনি এটিকে অন্ধ পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার প্রকাশ বলেও উল্লেখ করেন।
ঘটনাটি ঘটে ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জামুইয়ের মাদওয়া পাহাড় এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কোচিং শেষে স্কুটারে করে ওই এলাকায় গিয়েছিল দশম শ্রেণির দুই সহপাঠী। ফেরার পথে একটি যুবকের দল তাদের পথ আটকায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নাবালক ছাত্রটির সঙ্গে মারধর এবং নাবালিকা ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হচ্ছে। ভিডিওতে তাদের মুক্তি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করতেও দেখা যায়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জামুই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং ইতিমধ্যে তিন নাবালককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও বিশ্লেষণ করে আরও কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। ঘটনাটির তদন্তে জামুইয়ের উপবিভাগীয় পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শিশু যৌন অপরাধ প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে। একইসঙ্গে নাবালকদের মুখ ও পরিচয় প্রকাশ করে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৩টি ফেসবুক, ১২টি ইনস্টাগ্রাম এবং ৭টি এক্স অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ভিডিও সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাবালকের পরিচয় প্রকাশ করে ভিডিও ছড়ানো আইনত অপরাধ। ঘটনাটি কেন্দ্র করে বিহারে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
নাবালিকা ও তার সহপাঠীর পরিচয় গোপন রেখেই তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিয়া মির্জার জন্য অভিনেত্রী থেকে প্রযোজক হওয়ার পথ মোটেও সহজ ছিল না। স্বপ্নের ছবি নির্মাণের জন্য তাকে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি নিজের প্রথম কেনা বাড়ি বন্ধক রাখতে হয়েছিল। ২০১৪ সালে নির্মিত নারীপ্রধান ছবি ‘ববি জাসুস’ নিয়ে সম্প্রতি এই কঠিন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি।
২০০১ সালে ‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে তার যাত্রা শুরু হয়। ছবির সাফল্যের পর তিনি অভিনয়ে নিজের স্থান তৈরি করেন। প্রায় এক দশক পর প্রযোজনায় আসার সিদ্ধান্ত নেন দিয়া। ২০১৪ সালে নারীপ্রধান গল্প নিয়ে ‘ববি জাসুস’ নির্মাণের পরিকল্পনা করেন।
ছবির গল্প লেখা হয়ে গিয়েছিল এবং প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিদ্যা বালান রাজি ছিলেন। গোটা টিমও প্রস্তুত ছিল। কিন্তু শুটিং শুরুর আগেই বিনিয়োগকারীরা একে একে সরে দাঁড়ান। ফলে পুরো প্রজেক্ট অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে যায়।
এক সাক্ষাৎকারে দিয়া জানান, নারী প্রযোজক হওয়ার কারণে তাকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। প্রযোজনায় আসার পর তাকে বলা হয়েছিল, অভিনেত্রী হিসেবে আর কাজ পাবেন না। শেষ পর্যন্ত কাজও কমে গিয়েছিল তার হাতে।
সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে দিয়া বলেন, “আমি আমার প্রথম কেনা বাড়িটি বন্ধক রেখেছিলাম। যে গল্পটা বলতে চেয়েছিলাম, সেটি লেখা হয়ে গিয়েছিল। বিদ্যা বালানের মতো অসাধারণ একজন শিল্পী ছবিতে অভিনয় করতে রাজি হয়েছিলেন। গোটা টিমও তৈরি ছিল। কিন্তু হঠাৎ বিনিয়োগকারীরা সরে গেলেন।”
ছবিটি বন্ধ হতে দিতে চাননি দিয়া। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে নিজের বাড়ি বন্ধক রেখে শুরু করেন ‘ববি জাসুস’-এর কাজ। তবে আর্থিক সংকটের মধ্যেও তিনি একটি জায়গায় আপস করেননি, বিদ্যা বালানের পারিশ্রমিক।
দিয়া জানান, তিনি বিদ্যাকে পারিশ্রমিক কমানোর অনুরোধ করেননি। বরং চুক্তি অনুযায়ী পুরো অর্থই পরিশোধ করেছিলেন। তার কথায়, “আমি বিদ্যাকে পারিশ্রমিক কমাতে বলিনি। পুরো টাকা দিয়েছিলাম। মনে হয়, তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারিশ্রমিকটা আমিই দিয়েছিলাম। এটা নিয়ে আমি গর্বিত।”
দিয়ার মতে, একই ধরনের কাজ কোনো পুরুষ অভিনেতা করলে তাকে মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক দেওয়া হতো। তাই নারী অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রেও সমান সম্মান ও পারিশ্রমিক থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
যদিও বক্স অফিসে ‘ববি জাসুস’ প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি, পরে ধীরে ধীরে আর্থিক ক্ষতি সামলে ওঠেন দিয়া। ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি নিজের বাড়ির বন্ধকও ছাড়িয়ে নেন তিনি।
অভিনেত্রীর ভাষায়, “ছবিটি ঠিক যেভাবে বানাতে চেয়েছিলাম, সেই ভাবেই বানিয়েছিলাম। ক্রমশ আমি ব্যাঙ্কের ঋণ শোধ করতে পেরেছি এবং বাড়ির বন্ধকও ছাড়াতে পেরেছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারত নিজস্ব প্রযুক্তিতে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৫০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম বুলেট ট্রেন তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পটি বিদেশি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি উচ্চগতির রেলব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ‘বি৩৫’ নামের এই ট্রেনটি দেশটির নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত হচ্ছে।
২০৩০ সালের মধ্যে দেশীয় বুলেট ট্রেন তৈরি এবং সেগুলোর পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের মুম্বাই-আহমেদাবাদ হাইস্পিড রেল (এমএএইচএসআর) প্রকল্পের ব্যয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা দ্বিগুণ করে দুই লাখ কোটি রুপি করার অনুমোদন দিয়েছে। ২০১৫ সালের প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। প্রকল্পটি কেন্দ্রীয় বাজেট থেকে প্রায় এক লাখ কোটি রুপি বরাদ্দ পাবে।
জাপান ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জানিয়েছে, তারা ধীরে ধীরে ই৫ সিরিজের বুলেট ট্রেনের উৎপাদন বন্ধ করবে। দেশটি ২০৩০ সাল থেকে নতুন ই১০ সিরিজের ট্রেন উৎপাদন শুরু করবে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে সেগুলো যাত্রীসেবায় চালুর পরিকল্পনা করছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে ভারত জাপানের ই১০ ট্রেন ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে।
এছাড়া, ভারত বি২৮ নামের আরেকটি উচ্চগতির ট্রেনও তৈরি করছে। দেশীয় ট্রেন নিয়ন্ত্রণ ও সিগন্যালিং ব্যবস্থা ভারত ট্রেন কন্ট্রোল সিস্টেম (বিটিসিএস) তৈরির কাজও চলছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ট্রেনগুলোর মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং রেল চলাচলের নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মুম্বাই-আহমেদাবাদ হাইস্পিড রেল প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ৫০৮ কিলোমিটার। এই রেলপথ গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং দাদরা ও নগর হাভেলির মধ্য দিয়ে যাবে। এতে মুম্বাই, থানে, ভিরার, বোইসার, ভাপি, বিলিমোরা, সুরাট, ভারুচ, ভাদোদরা, আনন্দ, আহমেদাবাদ ও সাবরমতীসহ মোট ১২টি স্টেশন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি (আইসিএফ) ও ভারত আর্থ মুভার্স লিমিটেড (বিইএমএল) যৌথভাবে নতুন ট্রেন সেটের নকশা ও নির্মাণ করছে। এসব ট্রেন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৮০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাস্তব ব্যবসায়িক পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিজ্ঞতা প্রদানের উদ্দেশ্যে ‘সিমল্যাব’ (SimLab) নামে একটি ডিজিটাল বিজনেস সিমুলেশন প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করেছেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা।
উদ্যোক্তা মো. মাসুদ রানা মন্তব্য করেন, ‘ব্যবস্থাপনা শিক্ষাকে শুধুমাত্র পাঠ্যবই, শ্রেণিকক্ষে লেকচার ও পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের বাস্তবধর্মী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন বিজনেস স্কুলে ব্যবহৃত ব্যবসায়িক পরিস্থিতি অনুকরণের (বিজনেস সিমুলেশন) ধারণাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী করে ‘সিমল্যাব’ তৈরি করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেন ক্লাসে শেখা তত্ত্বগুলো বাস্তব পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করতে পারে এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যতে আরও দক্ষ ব্যবস্থাপক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে—এই লক্ষ্যেই সিমল্যাবের যাত্রা শুরু।’
যেভাবে কাজ করবে ‘সিমল্যাব’
সিমল্যাবে একজন শিক্ষার্থীকে শুধুমাত্র একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে না। বরং তাকে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়ে একের পর এক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। পণ্যটির দাম কত হবে, কতটুকু উৎপাদন করা হবে, কোথায় বিনিয়োগ করা হবে, কীভাবে বাজারে প্রতিযোগিতা করা হবে, কর্মী ও সম্পদ কীভাবে পরিচালনা করা হবে কিংবা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে শিক্ষার্থীকে।
এটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সিদ্ধান্তের ফলাফল শিক্ষার্থীকে দেখতে হবে। একটি সিদ্ধান্ত ব্যবসার আয় বাড়াতে পারে, আবার একই সিদ্ধান্ত ব্যয় বা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে শিক্ষার্থীদের সামনে বাস্তব ব্যবসায়ের মতোই বিভিন্ন সুযোগ, সমস্যা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিস্থিতি তৈরি হবে।
শুধু একটি সিমুলেশন নয়
সিমল্যাবকে একটি মাত্র সিমুলেশন হিসেবে নয়, বরং বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা বিষয়ের জন্য একটি সমন্বিত সিমুলেশন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এতে ব্যবস্থাপনা বিষয়ক একাধিক সিমুলেশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এসব সিমুলেশনের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা, বিপণন, অর্থায়ন, মানবসম্পদ, পরিচালন ব্যবস্থাপনা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও কৌশলগত ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয়কে বাস্তব সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
একক ও দলগতভাবে অংশগ্রহণ
সিমল্যাবে শিক্ষার্থীরা এককভাবে অথবা দলগতভাবে সিমুলেশনে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হবে। দলগতভাবে কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে একটি কোম্পানি বা টিম পরিচালনা করতে পারবে এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে যাবে।
এটি শ্রেণিকক্ষে আলোচনার পাশাপাশি দলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নেতৃত্ব ও সমস্যা সমাধানের অভিজ্ঞতাও তৈরি করবে।
ব্যবস্থাপনা শিক্ষায় নতুন অভিজ্ঞতা
সিমল্যাবের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের শেখার সঙ্গে বাস্তব সিদ্ধান্ত গ্রহণকে যুক্ত করা। এখানে শিক্ষার্থীর সামনে সব সময় একটি ‘সঠিক উত্তর’ থাকবে না। বরং তাকে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং পরে সেই সিদ্ধান্তের ফলাফল থেকে শিখতে হবে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সিমুলেশন তৈরির পরিকল্পনা
সিমল্যাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বাংলাদেশের ব্যবসায়িক বাস্তবতাকে সিমুলেশনের সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত করা। স্থানীয় বাজার, ব্যবসা পরিচালনার চ্যালেঞ্জ, সরবরাহ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ঝুঁকি এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যবসায়িক বাস্তবতাকে সামনে রেখে ভবিষ্যতে আরও সিমুলেশন যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক ধারণার পাশাপাশি নিজ দেশের ব্যবসায়িক বাস্তবতা নিয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাবে।
উদ্যোক্তা জানান, প্ল্যাটফর্মটি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হয়েছে। ভবিষ্যতে সিমুলেশনের সংখ্যা, বিষয়বস্তু ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীরা শুধু ‘ব্যবস্থাপনা কী’—তা শেখার পাশাপাশি ‘একজন ব্যবস্থাপক হলে কী সিদ্ধান্ত নিতাম’—সেটিও অনুশীলনের সুযোগ পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ