মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:১৩ পি.এম
ভারত নিজস্ব প্রযুক্তিতে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৫০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম বুলেট ট্রেন তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পটি বিদেশি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি উচ্চগতির রেলব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ‘বি৩৫’ নামের এই ট্রেনটি দেশটির নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত হচ্ছে।
২০৩০ সালের মধ্যে দেশীয় বুলেট ট্রেন তৈরি এবং সেগুলোর পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের মুম্বাই-আহমেদাবাদ হাইস্পিড রেল (এমএএইচএসআর) প্রকল্পের ব্যয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা দ্বিগুণ করে দুই লাখ কোটি রুপি করার অনুমোদন দিয়েছে। ২০১৫ সালের প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। প্রকল্পটি কেন্দ্রীয় বাজেট থেকে প্রায় এক লাখ কোটি রুপি বরাদ্দ পাবে।
জাপান ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জানিয়েছে, তারা ধীরে ধীরে ই৫ সিরিজের বুলেট ট্রেনের উৎপাদন বন্ধ করবে। দেশটি ২০৩০ সাল থেকে নতুন ই১০ সিরিজের ট্রেন উৎপাদন শুরু করবে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে সেগুলো যাত্রীসেবায় চালুর পরিকল্পনা করছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে ভারত জাপানের ই১০ ট্রেন ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে।
এছাড়া, ভারত বি২৮ নামের আরেকটি উচ্চগতির ট্রেনও তৈরি করছে। দেশীয় ট্রেন নিয়ন্ত্রণ ও সিগন্যালিং ব্যবস্থা ভারত ট্রেন কন্ট্রোল সিস্টেম (বিটিসিএস) তৈরির কাজও চলছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ট্রেনগুলোর মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং রেল চলাচলের নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মুম্বাই-আহমেদাবাদ হাইস্পিড রেল প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ৫০৮ কিলোমিটার। এই রেলপথ গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং দাদরা ও নগর হাভেলির মধ্য দিয়ে যাবে। এতে মুম্বাই, থানে, ভিরার, বোইসার, ভাপি, বিলিমোরা, সুরাট, ভারুচ, ভাদোদরা, আনন্দ, আহমেদাবাদ ও সাবরমতীসহ মোট ১২টি স্টেশন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি (আইসিএফ) ও ভারত আর্থ মুভার্স লিমিটেড (বিইএমএল) যৌথভাবে নতুন ট্রেন সেটের নকশা ও নির্মাণ করছে। এসব ট্রেন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৮০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাস্তব ব্যবসায়িক পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিজ্ঞতা প্রদানের উদ্দেশ্যে ‘সিমল্যাব’ (SimLab) নামে একটি ডিজিটাল বিজনেস সিমুলেশন প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করেছেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা।
উদ্যোক্তা মো. মাসুদ রানা মন্তব্য করেন, ‘ব্যবস্থাপনা শিক্ষাকে শুধুমাত্র পাঠ্যবই, শ্রেণিকক্ষে লেকচার ও পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের বাস্তবধর্মী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন বিজনেস স্কুলে ব্যবহৃত ব্যবসায়িক পরিস্থিতি অনুকরণের (বিজনেস সিমুলেশন) ধারণাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী করে ‘সিমল্যাব’ তৈরি করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেন ক্লাসে শেখা তত্ত্বগুলো বাস্তব পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করতে পারে এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যতে আরও দক্ষ ব্যবস্থাপক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে—এই লক্ষ্যেই সিমল্যাবের যাত্রা শুরু।’
যেভাবে কাজ করবে ‘সিমল্যাব’
সিমল্যাবে একজন শিক্ষার্থীকে শুধুমাত্র একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে না। বরং তাকে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়ে একের পর এক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। পণ্যটির দাম কত হবে, কতটুকু উৎপাদন করা হবে, কোথায় বিনিয়োগ করা হবে, কীভাবে বাজারে প্রতিযোগিতা করা হবে, কর্মী ও সম্পদ কীভাবে পরিচালনা করা হবে কিংবা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে শিক্ষার্থীকে।
এটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সিদ্ধান্তের ফলাফল শিক্ষার্থীকে দেখতে হবে। একটি সিদ্ধান্ত ব্যবসার আয় বাড়াতে পারে, আবার একই সিদ্ধান্ত ব্যয় বা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে শিক্ষার্থীদের সামনে বাস্তব ব্যবসায়ের মতোই বিভিন্ন সুযোগ, সমস্যা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিস্থিতি তৈরি হবে।
শুধু একটি সিমুলেশন নয়
সিমল্যাবকে একটি মাত্র সিমুলেশন হিসেবে নয়, বরং বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা বিষয়ের জন্য একটি সমন্বিত সিমুলেশন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এতে ব্যবস্থাপনা বিষয়ক একাধিক সিমুলেশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এসব সিমুলেশনের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা, বিপণন, অর্থায়ন, মানবসম্পদ, পরিচালন ব্যবস্থাপনা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও কৌশলগত ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয়কে বাস্তব সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
একক ও দলগতভাবে অংশগ্রহণ
সিমল্যাবে শিক্ষার্থীরা এককভাবে অথবা দলগতভাবে সিমুলেশনে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হবে। দলগতভাবে কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে একটি কোম্পানি বা টিম পরিচালনা করতে পারবে এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে যাবে।
এটি শ্রেণিকক্ষে আলোচনার পাশাপাশি দলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নেতৃত্ব ও সমস্যা সমাধানের অভিজ্ঞতাও তৈরি করবে।
ব্যবস্থাপনা শিক্ষায় নতুন অভিজ্ঞতা
সিমল্যাবের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের শেখার সঙ্গে বাস্তব সিদ্ধান্ত গ্রহণকে যুক্ত করা। এখানে শিক্ষার্থীর সামনে সব সময় একটি ‘সঠিক উত্তর’ থাকবে না। বরং তাকে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং পরে সেই সিদ্ধান্তের ফলাফল থেকে শিখতে হবে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সিমুলেশন তৈরির পরিকল্পনা
সিমল্যাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বাংলাদেশের ব্যবসায়িক বাস্তবতাকে সিমুলেশনের সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত করা। স্থানীয় বাজার, ব্যবসা পরিচালনার চ্যালেঞ্জ, সরবরাহ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ঝুঁকি এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যবসায়িক বাস্তবতাকে সামনে রেখে ভবিষ্যতে আরও সিমুলেশন যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক ধারণার পাশাপাশি নিজ দেশের ব্যবসায়িক বাস্তবতা নিয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাবে।
উদ্যোক্তা জানান, প্ল্যাটফর্মটি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হয়েছে। ভবিষ্যতে সিমুলেশনের সংখ্যা, বিষয়বস্তু ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীরা শুধু ‘ব্যবস্থাপনা কী’—তা শেখার পাশাপাশি ‘একজন ব্যবস্থাপক হলে কী সিদ্ধান্ত নিতাম’—সেটিও অনুশীলনের সুযোগ পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানী তেহরান ত্যাগ করার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইরান তার অধিকার ও অবস্থানকে বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে উপস্থাপন করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘকালীন বিরোধ এবং হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান একটি কঠোর বার্তা প্রদান করেন। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি বলেন, "চাপ সৃষ্টি বা গায়ের জোর খাঁটিয়ে কোনো স্বাধীন জাতিকে কখনো দমিয়ে রাখা যায় না।"
এই সফরের সার্বিক বিষয় তদারকি করার জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইতোমধ্যে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন। তিনি সোমবার সেখানে পৌঁছান এবং জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে মূল প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সূত্র: এবিসি নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান মন্তব্য করেছেন যে, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ মানুষের মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও আনন্দের বন্ধনকে পুনরুজ্জীবিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার যোশর বাজারে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বাহ্যিক উন্নয়নের পাশাপাশি তরুণ ও কর্মক্ষম জনগণের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার অপরিহার্য। খেলাধুলার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সুশৃঙ্খল জাতি গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘নৌকাবাইচ গ্রামবাংলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। ছোটবেলায় ঢাকার বুড়িগঙ্গায় নৌকা বাইচ দেখে যে নির্মল আনন্দ উপভোগ করতাম, সময়ের পরিবর্তন ও সামাজিক জটিলতায় সেই আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে গেছে। ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সেই আনন্দ ও পারস্পরিক সম্প্রীতি আবারও ফিরে আসবে।’
আরো পড়ুন
১০০০ টাকার নোট বাতিল চেয়ে আইনি নোটিশ
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, রাজনৈতিক জটিলতা ও প্রতিহিংসা থেকে মুক্ত হয়ে দেশকে একটি সুন্দর, ঐতিহ্যময় ও স্বাভাবিক জীবনধারার দিকে এগিয়ে নিতে হবে। লেখাপড়া, রাজনীতি ও দেশের মানুষের কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশের পুনর্জাগরণে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।
নৌকাবাইচ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিবপুর ও রায়পুরার নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মনজুর এলাহির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন নৌকা বাইচের উদ্বোধন করেন। পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী নৌকাবাইচ পরিদর্শন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আবারও রাতভর পাল্টাপাল্টি দূরপাল্লার হামলা সংঘটিত হয়েছে। রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে আঘাত হেনেছে। এই হামলার ফলে বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন। একই সময়ে, ইউক্রেন রাশিয়ার একটি তেল শোধনাগারে হামলার দাবি করেছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উপস্থিত থাকছেন না।
যুক্তরাষ্ট্র সফরের শুরুতেই জেলেনস্কি মার্কিন সিনেটরদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইউক্রেনের প্রতি দুই দলের সমর্থনের জন্য তিনি সিনেটরদের ধন্যবাদ জানান। রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার একটি বিল পাস করায় তাদের প্রশংসা করেন তিনি। ট্রাম্প এই বিলটিতে স্বাক্ষর করে সেটিকে আইনে পরিণত করেছেন।
জেলেনস্কি মন্তব্য করেন, "নিষেধাজ্ঞাগুলো পুরোপুরি কার্যকর হলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার পথ আরো সহজ হবে।" সিনেটরদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি যুদ্ধের উত্তেজনা কমানোর জন্য তার প্রস্তাবগুলোও তুলে ধরেন।
এছাড়া, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইউক্রেনের আরো মার্কিন তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে কিয়েভ। তিনি ট্রাম্পের কাছে এসব ব্যবস্থা সরবরাহের অনুরোধ জানাবেন।
ইউক্রেনের শস্য ও অন্যান্য কৃষিপণ্য যাতে কৃষ্ণসাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাতে পারে, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থনও চাইছেন জেলেনস্কি। রাশিয়ার হামলার কারণে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ইউক্রেনের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে দেশটির অর্থনীতিতে চাপ বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ জানিয়েছেন, ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামো রক্ষায় ফ্রান্স আরো রাডার সরবরাহ করবে। ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ এবং কৃষ্ণসাগরে হামলা বন্ধে সাময়িক বিরতির সম্ভাবনাও উঠে এসেছে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার সামারা অঞ্চলে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ভিয়াচেস্লাভ ফেদোরিশ্চেভ। তার দাবি, শিল্প স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্য ছিল।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বাহিনী ১৪টি রুশ অঞ্চল ও রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়া উপদ্বীপের আকাশে ২৯৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রুশ হামলায় জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২০০টির বেশি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্দর গানঝা জানান, দনিপ্রো শহরে রুশ হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন অঞ্চলে বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। কিয়েভেও পাঁচজন আহত হওয়ার খবর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরো দাবি করেছে, ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলে ধাতব ও রাসায়নিক শিল্প, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত, সামরিক শিল্প এবং পোর্ট অবকাঠামোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। কিয়েভের একটি ফায়ার পয়েন্ট কারখানা এবং পোলতাভা অঞ্চলের একটি তামাক কারখানাও হামলার লক্ষ্য ছিল বলে মস্কো দাবি করেছে।
সাম্প্রতিক হামলাগুলো দেখাচ্ছে যে, যুদ্ধের সম্মুখসারিতে বড় পরিবর্তন না এলেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে প্রতিদিনই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে, জেলেনস্কি আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জন এবং যুদ্ধের উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ