০৪:৫২ পি.এম
চীনের দ্রুত সম্প্রসারিত নৌবাহিনী এবং পাকিস্তানের বহরে চীনের তৈরি অত্যাধুনিক আক্রমণাত্মক ডুবোজাহাজ যুক্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে,
ভারত আগামী এক দশকের মধ্যে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ২০০-তে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়েছে।
এ পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে ভারত মহাসাগরকে ঘিরে নয়াদিল্লির কৌশলগত উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রেক্ষিতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আহ্বান ইরানি আইনপ্রণেতার
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলতি মাসে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত স্টেলথ ফ্রিগেট আইএনএস মহেন্দ্রগিরি এবং ডুবোজাহাজ শিকারি যুদ্ধজাহাজ আইএনএস মালভান। ভারত এগুলোকে দেশের সক্ষমতায় নৌবহর সম্প্রসারণ এবং বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমানোর সক্ষমতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে।
আইএনএস মহেন্দ্রগিরির নকশা করেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরো। আর মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স প্রায় ৭৫ শতাংশ দেশীয় উপকরণ ব্যবহার করে জাহাজটি নির্মাণ করেছে। প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত শিল্পে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের নীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মহেন্দ্রগিরি নীলগিরি শ্রেণির ষষ্ঠ যুদ্ধজাহাজ। একই শ্রেণির সপ্তম জাহাজ বিন্ধ্যাগিরি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নৌবহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ‘প্রজেক্ট-১৭ ব্রাভো’ কর্মসূচির আওতায় আরও সাত থেকে আটটি পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীর বহরে প্রায় ১৫০টি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে আনুমানিক ১৩৫টি ফ্রিগেট, ডেস্ট্রয়ার ও ডুবোজাহাজের মতো সম্মুখসারির যুদ্ধজাহাজ। এ ছাড়া আরও প্রায় ৫০টি জাহাজ নির্মাণাধীন রয়েছে।
আরও পড়ুন: সামান্তা শারমিনের পদাবনতি: পুনর্গঠিত এনসিপিতে কার স্থান কোথায়?
ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক রিয়ার অ্যাডমিরাল এবং প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সঞ্জয় মিশ্রের মতে, বহরের বড় অংশ দেশীয়ভাবে নির্মিত হওয়ায় ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০ যুদ্ধজাহাজের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তার ভাষায়, প্রয়োজনীয় উদ্দীপনা ও বিনিয়োগ অব্যাহত থাকলে ভারত এই লক্ষ্যমাত্রাও অতিক্রম করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান কৌশলগত বাস্তবতায় ভারতের অন্তত দুটি উচ্চগতিসম্পন্ন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ নৌবহর সব সময় প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। তবে এ সক্ষমতা নিশ্চিত করতে যুদ্ধজাহাজের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সহায়ক জাহাজও প্রয়োজন হবে।
লক্ষ্য পূরণে নৌবাহিনী নতুন জাহাজ অন্তর্ভুক্তির গতি বাড়িয়েছে। বর্তমানে প্রায় প্রতি ছয় সপ্তাহে একটি করে নতুন যুদ্ধজাহাজ বহরে যুক্ত করা হচ্ছে। শুধুমাত্র গত দেড় মাসেই দেশের প্রযুক্তি ও উপকরণে নির্মিত পাঁচটি জাহাজ নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
ভারতের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো ২০৪৭ সালের মধ্যে যন্ত্রাংশ উৎপাদনসহ জাহাজ নির্মাণ খাতে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করা।
আরও পড়ুন: ইউরোপের তিন দেশ থেকে ফেরত পাঠানো হলো ৩৫ বাংলাদেশি
তবে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে কিছু বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বিশেষায়িত ইস্পাতসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের জন্য ভারত এখনও আমদানিনির্ভর। পাশাপাশি দুর্বল অভ্যন্তরীণ সরবরাহব্যবস্থা এবং পুরোনো জাহাজ নির্মাণ অবকাঠামোও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন