তরিকুল ইসলাম, ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০৬:২৪ পি.এম
প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার দায়িত্ব সাধারণত অফিসকেন্দ্রিক বলে ধরা হয়। তবে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ হাসিবুল হাসানের কর্মকাণ্ড সেই প্রচলিত ধারণাকে অনেকটাই ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি মাঠভিত্তিক প্রশাসন, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, এবং জনস্বার্থে ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে ভাণ্ডারিয়ার মানুষের কাছে একটি পরিচিত ও আলোচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।
কর্মঘণ্টা কিংবা সরকারি ছুটির সীমাবদ্ধতায় নিজেকে আবদ্ধ না রেখে তিনি প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছুটে বেড়াচ্ছেন। কখনো পরিচ্ছন্নতা অভিযানে, কখনো অবৈধ দখল উচ্ছেদে, কখনো গভীর রাতে নদীপথে অভিযান পরিচালনায়, আবার কখনো সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। ফলে উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃশ্যমান বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ভাণ্ডারিয়া গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পরিচালনা করছেন। সরকারি ছুটির দিনেও বিভিন্ন সড়ক, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বাজার ও জনসমাগমস্থলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে তাঁর সরাসরি উপস্থিতি স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। শুধু নির্দেশনা দিয়ে নয়, মাঠে থেকে পুরো কার্যক্রম তদারকি করার প্রবণতা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদেরও উদ্বুদ্ধ করছে।
পরিবেশ ও নদী রক্ষার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। গভীর রাতে স্পিডবোটে নদীতে নেমে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকার এবং বাগদা ও গলদা চিংড়ির রেণু পোনা নিধনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে জব্দ করা অবৈধ জাল ধ্বংসের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ রেণু পোনা নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে, যা প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সম্প্রতি ভাণ্ডারিয়া ওভারব্রিজ এলাকার সারারাত চেকপোস্ট পরিচালনা করে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার বাগদা ও গলদা চিংড়ির রেণু পোনা উদ্ধার এবং তা নদীতে অবমুক্ত করার ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। প্রশাসনের এমন উদ্যোগে অবৈধ রেণু পোনা পাচারকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর বার্তা পৌঁছে যায়।
শুধু নদী রক্ষাই নয়, সরকারি সম্পদ উদ্ধারে তাঁর অবস্থানও দৃশ্যমান। ভাণ্ডারিয়া-বরিশাল আঞ্চলিক সড়কের বটতলা এলাকায় সরকারি খাল ও সড়কের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ পাকা দেয়াল ও দোকানঘর উচ্ছেদ করে উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিনের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে নেওয়া এ পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের সক্রিয় অবস্থান স্পষ্ট করে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও ইউএনও মোঃ হাসিবুল হাসানের তৎপরতা লক্ষণীয়। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে শিক্ষার মানোন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি হাসপাতাল ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবার মান পর্যবেক্ষণ, রোগীদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার খোঁজ নেওয়া এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করছেন। সরকারি সেবাগুলো সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও তাঁর নিয়মিত তদারকি স্থানীয়দের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
এছাড়া বাজার তদারকিসহ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, সরকারি জমি উদ্ধার, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও নিয়মিত মাঠে কাজ করছেন তিনি। কোনো অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বাস্তবতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবণতা প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হাসিবুল হাসান বলেন, সরকারি দায়িত্ব শুধু অফিসে বসে পালন করার বিষয় নয়। মানুষের সমস্যা যেখানে, প্রশাসনের উপস্থিতিও সেখানে থাকা প্রয়োজন। ভাণ্ডারিয়ার পরিবেশ রক্ষা, সরকারি সম্পদ সংরক্ষণ, নদী ও মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং জনসেবার মান উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে। আইনের শাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা নিয়েই একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ভাণ্ডারিয়া গড়ে তুলতে চাই।
স্থানীয়দের অনেকের মতে, ভাণ্ডারিয়ায় অতীতেও দক্ষ ও সৎ প্রশাসনিক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একজন ইউএনওকে এত ঘন ঘন মাঠপর্যায়ে সরাসরি উপস্থিত থেকে জনস্বার্থে কাজ করতে খুব কমই দেখা গেছে। তাঁর কর্মকাণ্ডে প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কিছুটা হলেও কমেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
একজন সরকারি কর্মকর্তার মূল্যায়ন হয় তাঁর কাজের স্থায়ী প্রভাবের মাধ্যমে। সেই বিচারে সময়ই চূড়ান্ত উত্তর দেবে। তবে দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই ইউএনও মোঃ হাসিবুল হাসান যেভাবে মাঠে নেমে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন, তাতে ভাণ্ডারিয়ার প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে বলে স্থানীয়দের অভিমত। তাঁদের প্রত্যাশা, এই কর্মধারা অব্যাহত থাকলে সুশাসন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনসেবার ক্ষেত্রে ভাণ্ডারিয়া আরও ইতিবাচক পরিবর্তনের সাক্ষী হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পূর্ব সরফভাটা এলাকায় নদীতে ভাসমান লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে মো. সোলেমান (২০) নামের এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। শনিবার উপজেলার পূর্ব সরফভাটা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ সোলেমান ও তার বড় ভাই আব্দুল হালিম (৩০) পূর্ব সরফভাটা লোকমান মিস্ত্রীর বাড়ির বদিউল আলমের ছেলে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে দুই ভাই একটি ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে কর্ণফুলী নদীতে ভেসে আসা লাকড়ি সংগ্রহ করতে যায়। একপর্যায়ে নদীর তীব্র স্রোতের মুখে তাদের নৌকাটি উল্টে যায় এবং দুজনই পানিতে পড়ে যায়। এই সময় আশপাশে থাকা অন্য লাকড়ি সংগ্রহকারীরা আব্দুল হালিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও সোলেমান প্রবল স্রোতে তলিয়ে যায়।
রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ফায়ার ফাইটার মোহাম্মদ বিজয় মোল্লা জানান, শনিবার সকাল ৯টার দিকে খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। বর্তমানে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস ও আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল যৌথভাবে কর্ণফুলী নদীতে নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল এবং সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের অন্যতম উপায় হলো জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি জুলাই সনদের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের পাশাপাশি শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের যথাযথ পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। শনি বার, ১১ জুলাই, ২০২৬ তারিখে বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক ‘অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকাশনা সিরিজ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথাগুলো বলেন। অনুষ্ঠানের সূচনা পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে হয়। এরপর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকাশনা সিরিজ’-এর উদ্বোধন করা হয়। মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখতে হলে জুলাই সনদের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি শহীদদের আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের বর্তমান দুর্দশার কথা তুলে ধরে তাদের যথাযথ পুনর্বাসন, সম্মান এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন অর্জিত হবে তখনই, যখন জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুলাই শহীদ জাবের ইব্রাহিমের মা ও সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. ইশরাক হোসেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোলার চরফ্যাশনের ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় নকল করতে সক্ষম না হয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে হামলার পাশাপাশি ভাঙচুর চালিয়েছে।
এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষক, গভর্নিংবডির সভাপতি এবং পথচারীসহ মোট ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জ ও কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজে এই হামলার ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১টার সময় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পরীক্ষার্থীরা হল থেকে বের হয়ে কলেজের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে যায়। এরপর তারা মিলে বিক্ষোভ করে কলেজের গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে অধ্যক্ষের কক্ষসহ অন্যান্য কক্ষে ভাঙচুর চালাতে থাকে। পরে পুলিশের আগমনের পর তারা লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু জানিয়েছেন, তার কেন্দ্রে ৯০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮৪ জন নিয়মিত পরীক্ষা দিচ্ছেন। তাদের সবাই চরফ্যাশন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। আজ তাদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির পরীক্ষা ছিল। প্রশ্নটি কমন না পড়ায় পরীক্ষার্থীরা নকল করার চেষ্টা করলে কক্ষ পরিদর্শকরা তাতে বাধা দেন। এটি নিয়ে পরীক্ষার্থীদের অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে দেখা যায়। খবর পেয়ে তিনি কক্ষে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় নিয়ম মেনে অংশগ্রহণ করতে অনুরোধ করেন। তখন তারা কিছুটা শান্ত হলেও সৃজনশীল প্রশ্ন দেওয়ার পর আবারও কক্ষ পরিদর্শকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে শুরু করে। পরীক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এই আশঙ্কা থেকে তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বরিশাল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। এরই মধ্যে থানার পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ আসেন।
দুপুর ১টার সময়ে পরীক্ষা শেষ হলে পরীক্ষার্থীরা কলেজের প্রধান গেটের সামনে উপস্থিত হন। সেখানে তারা সবাই মিলিত হয়ে কলেজের গেট ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। সেটি সফল না হওয়ায় তারা পিছনের গেটে ভেঙে এবং দেয়াল টপকিয়ে কলেজের বিভিন্ন কক্ষে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এক পর্যায়ে তারা পরীক্ষার উত্তরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষকরা তাদের প্রতিহত করতে চেষ্টা করেন। ফলে কলেজের গভর্নিংবডির সভাপতি হুমায়ুন কবির সিকদার সহ ৪-৫ জন শিক্ষক আহত হন।
হামলাকারীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপের কারণে আরও বেশ কয়েকজন পথচারীও আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষকরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তারা দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোন লিখিত অভিযোগ কিংবা মামলা হয়নি। মামলা হলে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান জানান, পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন করতে না দেওয়ার কারণে চরফ্যাশনের ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজে হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কেন্দ্রের সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলকে দেখতে রাজধানীর গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার, ১১ জুলাই, বিকেল ৪টার কিছু সময় পরে তিনি হাসপাতালে পৌঁছান এবং অসুস্থ ডা. পাভেলের শয্যাপাশে কিছুক্ষণের জন্য অবস্থান করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী ডা. পাভেলের চিকিৎসার দায়িত্বে নিয়োজিত চিকিৎসকদের কাছ থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং চলমান চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন। এছাড়া, তিনি তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ