০৬:৩১ পি.এম
ভোলার চরফ্যাশনের ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় নকল করতে সক্ষম না হয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে হামলার পাশাপাশি ভাঙচুর চালিয়েছে।
এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষক, গভর্নিংবডির সভাপতি এবং পথচারীসহ মোট ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জ ও কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজে এই হামলার ঘটনাটি ঘটে।
আরও পড়ুন: দুর্গাপূজাকে ঘিরে কুয়াকাটায় লাখো পর্যটকের সম্ভাবনা, ৮০ শতাংশ হোটেল বুকিং
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১টার সময় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পরীক্ষার্থীরা হল থেকে বের হয়ে কলেজের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে যায়। এরপর তারা মিলে বিক্ষোভ করে কলেজের গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে অধ্যক্ষের কক্ষসহ অন্যান্য কক্ষে ভাঙচুর চালাতে থাকে। পরে পুলিশের আগমনের পর তারা লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু জানিয়েছেন, তার কেন্দ্রে ৯০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮৪ জন নিয়মিত পরীক্ষা দিচ্ছেন। তাদের সবাই চরফ্যাশন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। আজ তাদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির পরীক্ষা ছিল। প্রশ্নটি কমন না পড়ায় পরীক্ষার্থীরা নকল করার চেষ্টা করলে কক্ষ পরিদর্শকরা তাতে বাধা দেন। এটি নিয়ে পরীক্ষার্থীদের অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে দেখা যায়। খবর পেয়ে তিনি কক্ষে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় নিয়ম মেনে অংশগ্রহণ করতে অনুরোধ করেন। তখন তারা কিছুটা শান্ত হলেও সৃজনশীল প্রশ্ন দেওয়ার পর আবারও কক্ষ পরিদর্শকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে শুরু করে। পরীক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এই আশঙ্কা থেকে তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বরিশাল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। এরই মধ্যে থানার পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ আসেন।
দুপুর ১টার সময়ে পরীক্ষা শেষ হলে পরীক্ষার্থীরা কলেজের প্রধান গেটের সামনে উপস্থিত হন। সেখানে তারা সবাই মিলিত হয়ে কলেজের গেট ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। সেটি সফল না হওয়ায় তারা পিছনের গেটে ভেঙে এবং দেয়াল টপকিয়ে কলেজের বিভিন্ন কক্ষে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এক পর্যায়ে তারা পরীক্ষার উত্তরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষকরা তাদের প্রতিহত করতে চেষ্টা করেন। ফলে কলেজের গভর্নিংবডির সভাপতি হুমায়ুন কবির সিকদার সহ ৪-৫ জন শিক্ষক আহত হন।
হামলাকারীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপের কারণে আরও বেশ কয়েকজন পথচারীও আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষকরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: বিএনপি মতাদর্শীকে সরিয়ে আওয়ামী মতাদর্শীকে সংযুক্ত
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তারা দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোন লিখিত অভিযোগ কিংবা মামলা হয়নি। মামলা হলে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান জানান, পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন করতে না দেওয়ার কারণে চরফ্যাশনের ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজে হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কেন্দ্রের সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন