বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:২৯ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে বরিশাল মহানগরীর শংকর মঠ পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) বরিশাল মহানগরীর শংকর মঠ পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে বিএমপি কমিশনার সেখানকার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা এবং পূজামণ্ডপের নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
দুর্গাপূজার সময় পূজামণ্ডপে পূজারি, দর্শনার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমাগম ঘটে। এ সময় সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ প্রেক্ষাপটে শংকর মঠ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন বিএমপি কমিশনার।
পরিদর্শনের সময় তিনি পূজামণ্ডপের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।
বিএমপি কমিশনারের এ পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য ছিল শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের জন্য পূজামণ্ডপের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া।
এ সময় বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান, পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
শারদীয় দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।
বরিশাল মহানগরীর শংকর মঠ পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের মাধ্যমে বিএমপি কমিশনার নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের সতর্ক ও পেশাদার থাকার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাকেরগঞ্জে নবনিযুক্ত সহকারী শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও শ্রেণি কার্যক্রম পর্যালোচনা শেষে অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১টায় বাকেরগঞ্জ জেএসইউ মডেল হাই স্কুল হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খান। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলটন চন্দ্র পাল।
সভায় নবনিযুক্ত সহকারী শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, পাঠদান পদ্ধতির উন্নয়ন এবং শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা কার্যক্রম আরও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবিষয়ে আগ্রহ বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক অগ্রগতিতে শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা, শিক্ষক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
নবনিযুক্ত শিক্ষকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে অবহিত করা এবং শ্রেণি কার্যক্রমের মানোন্নয়নে দিকনির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে এ ধরনের আয়োজন প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহালয়ার মাধ্যমে প্রতিটি হিন্দু পল্লীতে শুরু হচ্ছে দুর্গোৎসব। দুর্গোৎসব উপলক্ষে শেরপুরের নকলা উপজেলায় ২০টি মন্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিমাতে তুলির আঁচড় ও মন্ডপ এলাকা সুসজ্জিত করার মাধ্যমে চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি। মন্ডপে মন্ডপে প্রতিমাতে রং করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। প্রতিমা অধিকতর আকর্ষণীয় করতে দিনভর পরিশ্রম করছেন তারা। শাস্ত্রীয় মতে এবার বিভিন্ন বার্তা নিয়ে দুর্গাদেবী ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে আগমন করছেন এবং নৌকায় চড়ে গমন করবেন।
নকলা উপজেলাটি ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এবার উপজেলায় ২০টি মন্ডপ ঘিরে দুর্গোৎসব বা পূজা উদযাপন করা হবে। উপজেলার ৪নং গৌড়দ্বার ইউনিয়ন ও ৭নং টালকী ইউনিয়নে পূজা মন্ডপ স্থাপন করা হয়নি। পৌরসভায় ২টি, ১নং ডিজিটাল গনপদ্দী ইউনিয়নে ৪টি, ২নং নকলা ইউনিয়নে ২টি, ৩নং উরফা ইউনিয়নে ৩টি, ৫নং বানেশ্বরদী ইউনিয়নে ১টি, ৬নং পাঠাকাটা ইউনিয়নে ৩টি, ৮নং চরঅষ্টধর ইউনিয়নে ২টি ও ৯নং চন্দ্রকোনা ইউনিয়নে ৩টি মন্ডপের কাজ প্রায় শেষের পথে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নকলা উপজেলা শাখার সদস্য সচিব আশীষ কুমার সাহা জানান, ১৬ অক্টোবর শুক্রবার শ্রীশ্রী দুর্গাদেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠী বিহিত পূজা প্রশস্তা। সায়ংকালে শ্রীশ্রী দুর্গাদেবীর বোধন আমন্ত্রণ ও অধিবাস অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৭ অক্টোবর শনিবার শ্রীশ্রী শারদীয় দুর্গাদেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তম্যাদি কল্পরাম্ভ ও মহাসপ্তমী বিহিত পূজা প্রশস্তা। দেবীর ঘোটকে আগমন। ফল- ছত্রভঙ্গন্তরঙ্গমে। ১৮ অক্টোবর রবিবার শ্রীশ্রী দুর্গাদেবীর শুক্লা সপ্তমী বিহিত অধিক পূজা প্রশস্তা (অর্ধরাত ব্যাপি)। ১৯ অক্টোবর সোমবার শ্রীশ্রী শারদীয় দুর্গাদেবীর মহাষ্টম্যাদি কল্পারম্ভ, কেবল মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও মহাষ্টমী বিহিত পূজা (সন্ধিপূজা) প্রশস্তা অনুষ্ঠিত হবে। ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার শ্রীশ্রী দুর্গাদেবীর মহানবমী কল্পারম্ভ ও মহানবমী বিহিত পূজা প্রশস্তা এবং দেবীর নবরাত্রিক ব্রত সমাপ্ত হবে। ২১ অক্টোবর বুধবার শ্রীশ্রী শারদীয় দুর্গাদেবীর দশমী বিহিত পূজা ও পূজান্তে দর্পণ বিসর্জন প্রশস্তা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, শাস্ত্রীয় মতে এবার দুর্গা দেবী নৌকায় চড়ে কৈলাশে ফিরে যাবেন। ফল- শস্যবৃদ্ধিস্তথা জলবৃদ্ধি।
উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহবায়ক দেবজিৎ পোদ্দার ঝুমুর আশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘বিচালি ও মাটি দিয়ে দুর্গা দেবীসহ বিভিন্ন প্রতিমা তৈরি করে তার উপরে মনের মাধুরী মিশিয়ে রং করার কাজ চলছে। প্রতিমা তৈরির কারিগররা পরম যত্নে দেবীদুর্গা, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশসহ বিভিন্ন প্রতিমাতে রং করার কাজ করছেন। এবার কারিগররা প্রতিমাকে নতুন আঙ্গিকে তৈরি করার চেষ্টা করেছেন।’ তিনি জানান, পূজা উৎসবকে নির্বিঘ্নে সার্বজনীন উপভোগ্য করে তুলতে উপজেলা প্রশাসন পক্ষ থেকে সব ধর্ম-বর্ণ ও বিভিন্ন পেশা শ্রেণীর লোকজনের সমন্বয়ে প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে। এছাড়া মন্দির ও মন্ডপগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। এরই মধ্যে আইন শৃঙ্খরা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন কাজ শুরু করেদিয়েছেন বলে জানা গেছে।
নকলা কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী কালিমাতা মন্দির পূজা মন্ডপের সভাপতি শ্রী উত্তম কুমার বণিক জানান, দুর্গা প্রতিমা তৈরি করার জন্য অন্যান্য বছরের তুলনায় ভালো মানের কারিগর আনা হয়েছে। এতে খরচ বৃদ্ধি হলেও প্রতিমাকে অধিকতর আকর্ষণীয় করার জন্য নতুন নতুন ডিজাইন যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী কালিমাতা মন্দির পূজা মন্ডপের সাধারণ সম্পাদক শ্রী সুরঞ্জিত কুমার বণিক জানান, পূজা উদযাপনের জন্য পূজা মন্ডপ প্রস্তুতি প্রায় শেষ। প্রতিমা তৈরির মধ্য দিয়েই পূজার সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ, এখন প্রতিমাতে রং করা ও মন্ডপ এলাকায় সাজসজ্জার কাজ চলছে। এবার জাঁকজমকভাবে ও নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপিত হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট নকলা উপজেলা শাখার সভাপতি শ্রী নয়ন চন্দ্র শীল বলেন ‘জাঁকজমকভাবে ও নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের কাছে বেশ কিছু দফা উত্থাপন করেছি। এরমধ্যেমন্ডপ এলাকায় সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং জোরদার করা। স্বেচ্ছাসেব টিম গঠন করে দায়িত্ব বন্টন করে দেওয়া। মন্ডপ এলাকায় কাউকে সন্দেহভাজন মনে হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খরা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট মন্ডপ কমিটির লোকজনকে অবহিত করা। ধর্মীয় শাস্ত্র যথাযথভাবে মেনে চলা এবং সকল প্রকার অশ্লীলতা পরিহার ও মাদক মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। নারী ও শিশু ভক্ত এবং দর্শনার্থীদের জন্য আলাদা যাতায়াত ও বসার ব্যবস্থা করা। সর্বোচ্চ সতকর্তার সহিত শৃঙ্খলা বজায় রেখে প্রসাদ বিতরণ করা। নিজ নিজ বাসা-বাড়ী জনমানবহীন না রেখে নিজেদের সম্পদের নিরাপত্তা নিজেরাই নিশ্চিত করা। নারী দর্শনার্থীরা যেন বহিরাগতদের দ্বারা কোন প্রকার সমস্যার সম্মূখিন না হন সেদিকে নজর রাখা এবং মন্ডপ এলাকায় কেউ যেন অযথা ভিড় না জমান সেদিকে খেয়াল রাখা। বিশেষ করে সন্ধ্যার পরে নারী ভক্ত ও দর্শনার্থীদের অপ্রয়োজনে মন্ডপ এলাকায় ঘুরাঘুরিতে নিরুৎসাহিত করা। অতিরিক্ত শব্দ দূষন থেকে বিরত থাকা। বিশেষ করে মসজিদ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল, ক্লিনিকসহ এমন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উচ্চ শব্দ পরিহার করা। সর্বোপরি আশেপাশের এলাকায় কোন দরিদ্র সনাতনী পরিবার থেকে থাকলে তাদেরকে উপহার স্বরূপ সহায়তা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতেকরে মিলেমিশে দুর্গাপূজাকে উদযাপন করা সহজ হবে এবং দুর্গোৎসব সাফল্যমণ্ডিত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া সপ্তাহের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আয়োজনটি ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাবের উদ্যোগে গত ১২ অক্টোবর শুরু হয়ে ১৩ অক্টোবর শেষ হয়। বিভাগটির শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার আয়োজন করা হয়।
১২ অক্টোবর সোমবার বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান জিমনেসিয়ামে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ও ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস এবং ক্লাবের মডারেটর এক্সিকিউটিভ সহযোগী অধ্যাপক ড. শফি আহমেদ।
অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ক্লাবের অর্থবিষয়ক মডারেটর ও বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা ইসাছমিন। উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিএম খালেদ নোমান, সহকারী অধ্যাপক মাহফুজুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, প্রভাষক মোছাঃ শারমিন আক্তার এবং আশরাফুল আলম।
দুই দিনব্যাপী আয়োজনে ছেলেদের জন্য ইনডোর লং পিচ ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন ও দড়ি টানাটানি এবং মেয়েদের জন্য বল নিক্ষেপ, পিলো পাসিং ও ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়। এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার পাশাপাশি পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বাড়ানোর সুযোগ লাভ করেন। পুরো আয়োজনের সার্বিক পরিচালনায় ছিল যবিপ্রবি ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাব।
অনুষ্ঠানে ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ও ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, "এমন সুন্দর একটি আয়োজনের জন্য তিনি ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাবকে ধন্যবাদ জানান।" এ সময় তিনি বিভিন্ন খেলার নিয়মকানুন ও পরিচালনা নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি প্রতিযোগিতা চলাকালে সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রেখে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠান পরিচালনার আহ্বান জানান।
ক্লাবের নির্বাহী মডারেটর সহযোগী অধ্যাপক ড. শফি আহমেদ বলেন, "খেলাধুলার সময় স্বাভাবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জরুরী।" তিনি সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেন।
ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাবের সহসভাপতি প্রান্ত কর্মকার জানান, ক্লাব গঠনের পর এটিই তাদের প্রথম আয়োজন। আগামী দিনে ক্লাবের পক্ষ থেকে সেমিনারসহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে জুনিয়র শিক্ষার্থীরাও এসব উদ্যোগ এগিয়ে নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্মান ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ