ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গালিবাফকে নিয়ে লেখায় কট্টরপন্থি এমপির ১০ মাসের কারাদণ্ড, ইরানে রাজনৈতিক বিভাজন


গালিবাফকে নিয়ে লেখায় কট্টরপন্থি এমপির ১০ মাসের কারাদণ্ড, ইরানে রাজনৈতিক বিভাজন

ইরানের ক্ষমতাসীন দলের কট্টরপন্থী আইন প্রণেতা হামিদ রাসাইকে ১০ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তিনি দেশের বর্তমান সংসদে দায়িত্ব পালনকালে কারাগারে যাওয়া প্রথম ক্ষমতাসীন এমপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। রাসাইয়ের কারাদণ্ডের ঘটনায় সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের গালিবফ ও প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেন মোহসেনি-এজেইয়ের বিরুদ্ধে অতি-রক্ষণশীলদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের কারণে রাসাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ওই প্রতিবেদনে গালিবফের বিরুদ্ধে সংসদীয় নথি বিকৃত করার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। পরে একটি বিশেষ ধর্মীয় আদালত রাসাইকে ১০ মাসের কারাদণ্ড দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে দেশটিতে যখন তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে, তখন রাসাইয়ের কারাদণ্ড ক্ষমতাসীন রক্ষণশীলদের মধ্যে বিভাজনকে আরো স্পষ্ট করেছে। রাসাই ইরানের অতি-রক্ষণশীল রাজনীতির একজন পরিচিত মুখ। তার কারাদণ্ড নিয়ে অতি-রক্ষণশীলদের একাংশ গালিবফ ও মোহসেনি-এজেইয়ের ভূমিকার সমালোচনা করছেন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জনসভার আগে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ

তবে রাসাইয়ের বিরুদ্ধে মামলার বিস্তারিত কারণ এবং আদালতের রায় সম্পর্কে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাই এসব দাবিকে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৩ সালে তেহরান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন হামিদ রাসাই। এর আগে তিনি কট্টরপন্থী সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘৯ দে’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ‘গালিবফের সংসদীয় নথিতে কারসাজি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে রাসাইকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ওই প্রতিবেদনের জন্য তার বিরুদ্ধে অন্যদের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে রাসাই সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই গালিবফ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। রাসাই একজন ধর্মগুরু হওয়ায় তার মামলার বিচার করা হয় ধর্মগুরুদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ আদালতে।

বাস্তববাদী বনাম কট্টরপন্থী

আইআরএএম সেন্টার ফর ইরান স্টাডিজের (আইসিআইএস) গবেষক রহিম ফারজাম মন্তব্য করেছেন, পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের রক্ষণশীল শিবিরের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে ক্রমেই দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখছে। এক পক্ষকে তিনি আলোচনার পক্ষে থাকা বাস্তববাদী এবং অন্য পক্ষকে আলোচনার বিরোধী কট্টরপন্থী হিসেবে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪টি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের সম্ভাবনা

তার মতে, এই দুই পক্ষ ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কৌশল ও নীতির দিকনির্দেশনা নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এই ধারণা এখন শুধু গণমাধ্যমেই নয়, ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও আলোচনা হচ্ছে। কিছু মার্কিন কর্মকর্তা ও রাজনীতিক মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা থেমে যাওয়ার মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো নয়।

অভ্যন্তরীণ অচলাবস্থা

শিক্ষাবিদ রহিম ফারজাম বলেন, ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ মনে করছেন, ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে মতবিরোধ ও অচলাবস্থাও দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনা থেমে যাওয়ার একটি কারণ।

তিনি বলেন, ‘কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার দায় যদি প্রতিপক্ষের অভ্যন্তরীণ সমস্যার ওপর দেওয়া যায়, তাহলে দেশের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই ব্যর্থতার রাজনৈতিক চাপ কিছুটা কমানো যায়।’ ফারজাম আরো বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য ইরানের শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজনের বিষয়টি কূটনৈতিক অগ্রগতি না হওয়ার একটি সহজ ব্যাখ্যা হিসেবে কাজ করছে।

আরও পড়ুন: জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর চেয়ে আরও এগিয়ে গাডি আইজেনকট

এর ফলে ওয়াশিংটন একদিকে নিজেকে আলোচনার জন্য প্রস্তুত বলে তুলে ধরতে পারে, অন্যদিকে আলোচনায় অচলাবস্থার দায় ইরানের বিভক্ত ও অসংগঠিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থার ওপর দিতে পারে।

ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব

তবে আইসিআইএসের জন্য লেখা এক প্রতিবেদনে ফারজাম বলেন, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা সম্প্রতি ঐক্য, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় এবং জাতীয় ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইরানের নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগ—তিনটি বিভাগই নিজেদের মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্যের একটি চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও একই বার্তা দিয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সব মিলিয়ে এসব বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ইরানের নেতৃত্ব নিজেদের মধ্যে বিভক্ত, এমন ধারণার বিরোধিতা করার জন্য একটি পরিকল্পিত চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে এসব বক্তব্য দেখায় যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো কোনো নিয়ন্ত্রণহীন অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে নেওয়া হচ্ছে না।’

আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কারা, জানা যাচ্ছে

কট্টরপন্থীদের সমালোচনা ও বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি

রাসাইকে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় পায়দারি পার্টি এবং সাবেক পারমাণবিক আলোচক সাঈদ জলিলির ঘনিষ্ঠ কট্টরপন্থী রাজনীতিক ও গণমাধ্যমগুলো তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। রাসাইয়ের সমর্থকেরা গালিবফের বিরুদ্ধে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করার অভিযোগ করেছেন। তারা আরো অভিযোগ করেছেন, দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের চেয়ে গালিবফ ব্যক্তিগত বিরোধকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

কোমের আইনপ্রণেতা মোহাম্মদ-মানান রাইসি গালিবফসহ অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। দুই বছর আগে কোম শহরে সাঈদ জলিলির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রাইসি।

রাইসি লিখেছেন, ‘আমার মনে হয়, এমন পরিস্থিতিতে মানুষ আপনাকে কোনো মসজিদ, সমাবেশ, জনসমাগম বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যেতে দেবে না। সেখানে আপনি সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে পারেন।’

আরও পড়ুন: হন্ডুরাসে চীনা ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি শুরু

রাজা নিউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং পায়দারি পার্টির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি মেসাম নিলি বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে অবিচার ও রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, পায়দারি পার্টির ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম ও রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে একটি ‘অভ্যুত্থান’ চালানোর চেষ্টা হচ্ছে।

কট্টরপন্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী মোহসেন মাগসুদি প্রশ্ন তুলেছেন, ঐক্য বজায় রাখতে এবং লাখ লাখ ভোটারের প্রতিনিধিত্ব করা একজন এমপিকে ১০ মাসের জন্য দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া ঠেকাতে তিন বছর আগের একটি সংবাদ প্রতিবেদন নিয়ে করা অভিযোগ কেন প্রত্যাহার করা হলো না।

সাম্প্রতিক কয়েকটি সরকারপন্থী রাতের সমাবেশেও এই সমালোচনা দেখা গেছে। তাবনাক ওয়েবসাইট প্রকাশিত একটি ভিডিওতে কট্টরপন্থীদের রাসাইয়ের সমর্থনে এবং গালিবফের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায়। তাবনাক তাদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা বলেছে, অল্পসংখ্যক মানুষ এসব সমাবেশকে নিজেদের দলীয় স্বার্থ পূরণের জন্য ব্যবহার করছে।

আসল প্রশ্ন

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে ধস নামানো চীনা প্রতিষ্ঠান ডিপসিককে নিষিদ্ধ করলো

ফারজাম বলেন, ‘আসল প্রশ্ন হলো, ইরানের মধ্যে মতবিরোধ আছে কি না, তা নয়। বরং প্রশ্ন হলো, এসব মতবিরোধ কি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের অবস্থানকে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে?’

আঙ্কারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়া ফারজাম বলেন, ‘এ বিষয়ে বাইরের অনেক পর্যবেক্ষক যে ধারণা করছেন, তার পক্ষে প্রমাণ খুব বেশি শক্তিশালী নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘তাই এই বিষয়টিকে শুধু আলোচনার পক্ষে ও বিপক্ষে থাকা দুই পক্ষের লড়াই হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং এটিকে এমন একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা ভালো, যেখানে একই রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরে বিভিন্ন মতাদর্শ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থাকা মতবিরোধ সামলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’

বিশৃঙ্খলা আর বিভাজন এক নয়

ফারজাম বলেন, ইরানের নেতৃত্বকে একই সময়ে নানা ধরনের চাপ সামলাতে হচ্ছে। একদিকে তাদের কৌশলগতভাবে নমনীয় থাকতে হচ্ছে, অন্যদিকে আত্মসমর্পণের মতো কোনো বার্তা এড়াতে হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিরোধ ব্যবস্থা ধরে রাখা, অতিরিক্ত উত্তেজনা ঠেকানো এবং পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের আদর্শের প্রতিও অনুগত থাকতে হচ্ছে।

ফারজামের মতে, এটি একটি কঠিন ‘ভারসাম্য রক্ষার কাজ’। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় মতবিরোধ থাকতেই পারে এবং বাইরে থেকে কখনো কখনো পরিস্থিতিকে বিশৃঙ্খল মনে হতে পারে। তবে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধকে প্রতিষ্ঠানের ভেঙে পড়ার সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়। সহজ কথায়, বিশৃঙ্খলা আর বিভাজন এক বিষয় নয়।

ফারজাম বর্তমানে তুরস্কের এসকিশেহির ওসমানগাজি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে পিএইচডি করছেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ইরানের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সম্পর্ক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিনভর ২২ জন অনশনে, রাতে ২০ জনকে নিয়োগপত্র প্রদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১৮ পি.এম


দিনভর ২২ জন অনশনে, রাতে ২০ জনকে নিয়োগপত্র প্রদান

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের দাবিতে দিনভর অনশনের পর ২০ জন প্রার্থী নিয়োগপত্র পেয়েছেন। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ১২টার পর তাদের নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। তবে অনশনে থাকা দুজন এখনও নিয়োগপত্র পাননি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সূত্রে জানা যায়, শূন্য পদে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলে ময়মনসিংহ জেলায় ২৫৯ জন প্রার্থী চূড়ান্ত নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ১৮ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। অন্য ২৪১ জনের মধ্যে ২১৯ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। ২২ জনের নিয়োগ স্থগিত ছিল। তারা গতকাল দিনভর ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অনশন করেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা পাওয়ার পর দিবাগত রাত ১২টার পর নিয়োগপত্র জারি করা হয়। বাকি দুজনের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। কেন তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই বলতে পারবে।

ফুলপুর উপজেলার মহদীপুর গ্রামের কাজী অনিক ২০ জনের একজন। সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশ পাওয়ার সময় তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরে নকশাকার পদেও নিয়োগ পেয়েছিলেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেবেন—এই আশায় সেখানে যোগ দেননি। পরে প্রাথমিকের নিয়োগ না হওয়ায় গতকাল অনশনে বসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা অনশন করায় রাত একটার পর ওয়েবসাইটে নিয়োগপত্র জারি করা হয়। আমরা ২২ জন বঞ্চিত থাকলেও ২০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। দুজন বাদ পড়েছে। আজ যোগদান করব। অবশেষে নিয়োগ পাওয়ায় ভালো লাগছে।’

নিয়োগপত্র না পাওয়া দুজনের একজন গফরগাঁও উপজেলার লংগাইর গ্রামের জাহিদ হাসান। তিনি বলেন, ‘২০ জন নিয়োগপত্র পেলেও আমি কেন পাইনি, জানি না। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী নেতা ছিলাম না, কোনো ফৌজদারি মামলাও নেই। গতকাল দিনভর শিক্ষা অফিসে জানার চেষ্টা করেছিলাম কী কারণে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কিছুই জানায়নি।’

অন্যজন ধোবাউড়া সদরের মাশরুর হাসান। উপজেলা মেধাতালিকায় তিনি ২২তম হয়েছিলেন। মাশরুর জানান, তার উপজেলায় তিনিই একমাত্র নিয়োগবঞ্চিত হয়েছেন। কেন তাঁকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, তা তিনি জানেন না।

প্রসঙ্গত, ময়মনসিংহে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগবঞ্চিত ২২ জন প্রার্থী আমরণ অনশনে বসেন। গতকাল বুধবার বিকেলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ময়মনসিংহে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগবঞ্চিত ২২ জন প্রার্থী আমরণ অনশনে বসেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তৃতীয় বারের মতো ইবি প্রক্টরের দায়িত্বে অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৪ পি.এম


তৃতীয় বারের মতো ইবি প্রক্টরের দায়িত্বে অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রক্টর হিসেবে তৃতীয়বারের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান। কর্তৃপক্ষ জানায়, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিয়োগ কার্যকর থাকবে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমানের স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অধ্যাপক ড. মো. শাহীনুজ্জামানের প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনের মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর (২০২৬) তারিখে শেষ হবে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান তাকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি বিধি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

এটি অধ্যাপক ড. মো. শাহীনুজ্জামানের জন্য তৃতীয়বারের মতো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ঘটনা। তিনি প্রথমবার ২০২৪ সালের অক্টোবরে এই পদে নিয়োগ পান এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালের অক্টোবরে দ্বিতীয়বারের মতো নিয়োগ লাভ করেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, "আমি আমার ডিউটি পালন করে যাচ্ছিলাম। রাতে চিঠি ইস্যু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমার ওপর আস্থা রাখায় কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি বিশ্ববিদ্যালয়কে আগলে রাখতে। বরাবরই সবার সহযোগিতা কামনা করছি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেস্ট পরীক্ষায় ৮০০ নম্বর পেলেই ফরম ফিলাপের টাকা দেবেন সভাপতি লিটন তালুকদার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রিপোর্ট- শাহ্ জালাল সরদার, কালকিনি,মাদারীপুর

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৪ পি.এম


টেস্ট পরীক্ষায় ৮০০ নম্বর পেলেই ফরম ফিলাপের টাকা দেবেন সভাপতি লিটন তালুকদার

 

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সমিতির হাট আবা খালেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের টেস্ট পরীক্ষায় ৮০০ নম্বর পেলে ফরম ফিলাপের টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নবনির্বাচিত এডহক কমিটির সভাপতি কামরুল হাসান লিটন তালুকদার।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সভাপতি কামরুল হাসান লিটন তালুকদার বলেন, “২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা টেস্ট পরীক্ষায় ৮০০ নম্বর পাবে, তাদের ফরম ফিলাপের টাকা আমি দেব।” শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ বাড়ানো এবং মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমিয়ে লেখাপড়ায় মনোযোগী করতেই এমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ সময় তিনি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা যাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেন।
পরিচিতি সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বাদল বিশ্বাস, বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব বাদল তালুকদার, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও সাবেক সভাপতি আব্দুল করিম খান, সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ, জসিম উদ্দিন হাওলাদার ও নুর মোহাম্মদ সরদার।

এছাড়াও উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি বিএম রেজাউল, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাঞ্চন হাওলাদার, জালাল সরদার,সামচু বিশ্বাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলা ও ভালো ফলাফলের জন্য মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ত্রীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করে গিনেস রেকর্ড গড়লেন মার্ক হার্বস্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৫ পি.এম


স্ত্রীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করে গিনেস রেকর্ড গড়লেন মার্ক হার্বস্ট

ক্যানসার রোগে আক্রান্ত হয়ে স্ত্রীকে হারানোর পর সেই শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে বিশ্বজয়ের অভিযানে নেমেছেন ৬৯ বছর বয়সী কানাডিয়ান সাইক্লিস্ট মার্ক হার্বস্ট। তিনি সাইকেলে ৩০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে স্ত্রীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং প্রবীণদের অনুপ্রাণিত করার উদ্দেশ্যে এই অভিযান পরিচালনা করেছেন।

মার্ক এই অনন্য অর্জনের মাধ্যমে সাইকেলে পৃথিবী চক্কর দেওয়া সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস খেতাব অর্জন করেছেন। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল নিউজিল্যান্ডের ৬৬ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার বেনেটের।

শুধু রেকর্ড গড়াই নয়, এই অভিযানের মাধ্যমে ক্যানসার গবেষণার জন্যও তহবিল সংগ্রহ করেছেন মার্ক। কানাডার প্রিন্সেস মার্গারেট ক্যানসার ফাউন্ডেশনের জন্য তিনি প্রায় ৬৮ হাজার কানাডিয়ান ডলার সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন।

স্ত্রী জ্যাকিকে নিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষকে মার্ক বলেন, “জ্যাকি আমার সবকিছু ছিল, আমার আত্মার সঙ্গী এবং আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু।” দীর্ঘ সাত বছর ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর ২০২১ সালে ৫৫ বছর বয়সে মারা যান জ্যাকি।

২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে নিজের যাত্রা শুরু করেন মার্ক। মাত্র ৩২৪ দিন সাইকেল চালিয়ে একই বছরের ২৭ নভেম্বর তিনি ব্যাংককের সেই শুরুর স্থানেই ফিরে আসেন। এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তাকে মোট ২৫টি দেশ অতিক্রম করতে হয়েছে। যাত্রাপথে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের পাশাপাশি স্ত্রী জ্যাকির চিতার ছাইও সঙ্গে রেখেছিলেন তিনি। জ্যাকি বেঁচে থাকাকালীন যেসব জায়গায় যেতে চেয়েছিলেন, পথের বিভিন্ন স্থানে সেই ছাই ছড়িয়ে দেন মার্ক।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সড়ক পাড়ি দেওয়ার সময় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়েছেন মার্ক। মালয়েশিয়ায় পুলিশ তাকে এসকর্ট প্রদান করেছে, আবার পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় এক নারী তাকে নিজের ক্যাফেতে রাত কাটানোর সুযোগ করে দিয়েছেন। এ ছাড়া বহু সাধারণ মানুষ তার জন্য নিজেদের ঘরের দরজা খুলে দিয়েছেন এবং খাবার দিয়েছেন—যা তার এই কঠিন যাত্রাকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%