বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:২৩ পি.এম
ঢাকা, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ : যেকোনো দেশের মূল পরিচিতি সাধারণত তার জাতীয় দলের মাধ্যমে তৈরি হয়, কিন্তু সেই জাতীয় দলের ভিত্তি গড়ে তোলার জন্য যুব দল বা একাডেমি দল অপরিহার্য। বিশ্বের অন্যতম বড় ক্লাবগুলো তাদের একাডেমিকে শক্তিশালী করে মূল দলের জন্য এবং পরবর্তীতে জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় তৈরির একটি পথ তৈরি করে। ফ্রান্সও এই প্রক্রিয়ার বাইরে নয়। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ফরাশি শীর্ষ ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি) ক্রমাগত উন্নতির শিখরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। ক্লাবটির দীর্ঘদিনের লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়, যা তাদের উন্নতির প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে।
পিএসজির মূল দলের সাথে একাডেমির দূরত্ব এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কমে এসেছে। ক্লাবটির ‘এসপোয়ার’ দল এবং ইয়ুথ লিগের কারণে এই অগ্রগতি সম্ভব হচ্ছে। ইয়ুথ লিগ এখন আর কেবল একটি প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
পিএসজির এই উদ্যোগের সুফল তরুণ খেলোয়াড়দের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে। প্রকল্পটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন পিএসজি একাডেমির ক্রীড়া পরিচালক ইয়োহান কাবায়ে। পিএসজির কাছে ইয়ুথ লিগ কেবল একটি ট্রফি নয়, যদিও ক্লাবটির অন্যতম লক্ষ্য প্রথমবারের মতো এই শিরোপা জেতা। তাদের পরিকল্পনা আরও বিস্তৃত এবং প্রতিটি ম্যাচ তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশের আরেকটি ধাপ হিসেবে কাজ করছে। ম্যাচের পর ম্যাচ তাদের পেশাদার ফুটবলের ক্রীড়াগত, কৌশলগত ও মানসিক চাহিদার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তবে প্রতিটি প্রতিযোগিতার মতো ইয়ুথ লিগেও পিএসজির উচ্চাকাঙ্খা রয়েছে যতদূর সম্ভব এগিয়ে যাওয়ার। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফএফ) র্যাঙ্কিংয়ে ফ্রান্সের সেরা পুরুষ একাডেমির স্বীকৃতি পায় ক্লাবটি। পিএসজি ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে ফরাসি অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০২৬ সালে তারা ফরাসি অনূর্ধ্ব-১৭ শিরোপা ও কুপ গামবারদেলা জয়ের পাশাপাশি উয়েফা ইয়ুথ লিগের শেষ চারে জায়গা করে নেয়।
এছাড়া, এসব সাফল্যের পেছনে রয়েছে আরও একটি বড় লক্ষ্য, তা হলো এমন খেলোয়াড় তৈরি করা, যারা একসময় মূল দলে জায়গা করে নিতে পারবেন। ইয়ুথ লিগ এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতিমঞ্চ হিসেবে কাজ করছে। এই প্রতিযোগিতার গতি, তীব্রতা ও পরিবেশ অনেকটা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কাছাকাছি।
তাহলে ইয়ুথ লিগ কি খেলোয়াড় গড়ে তোলার মাধ্যম, নাকি জেতার মতো একটি ট্রফি? কাবায়ে এ দুটির মধ্যে একটিকে বেছে নিতে রাজি নন। তিনি বলেন, “নিশ্চিতভাবেই এটি খেলোয়াড়দের বিকাশের একটি মাধ্যম। এই প্রতিযোগিতায় আমাদের খেলোয়াড়েরা বিভিন্ন প্রতিপক্ষ, খেলার ধরন ও পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। এতে তাদের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা এবং উচ্চ চাহিদার মধ্যে নিজেদের সাড়া দেওয়ার সামর্থ্য মূল্যায়নের সুযোগ পাই আমরা।
“তবে এটি একটি প্রতিযোগিতাও। আর পিএসজির হয়ে খেললে জয়ের লক্ষ্য থাকতেই হবে। ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চাপ সামলানো এবং গুরুত্বপূর্ণ জয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কাজগুলো করতে পারাও একেকটি দক্ষতা। এটিও শেখার প্রক্রিয়ার অংশ। প্রতিযোগিতাটি আমাদের উচ্চাকাঙ্খার জায়গা, আর এটি জয়ের চেষ্টা করতে গিয়ে যে পথ পাড়ি দিতে হয়, সেটিও খেলোয়াড়দের বিকাশের মাধ্যম। এক ম্যাচ থেকে আরেক ম্যাচে আমাদের দল সব সময় এক রকম থাকে না, আর এভাবেই নতুন খেলোয়াড় উঠে আসে।”
গত মৌসুমের পরিসংখ্যান এই উদ্যোগের কার্যকারিতা তুলে ধরে। পিএসজির একাডেমি থেকে উঠে আসা ১০ জন খেলোয়াড় গত মৌসুমে মূল দলের হয়ে অন্তত একটি ম্যাচ খেলেছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের মূল দলে অভিষেক হয়েছে। তাদের সবার মধ্যে একটি মিল রয়েছে, তারা ইয়ুথ লিগে খেলেছেন। ওই প্রতিযোগিতায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে উঠেছিল পিএসজি।
ঘরোয়া প্রতিযোগিতার বাইরেও ইয়ুথ লিগ কী ধরনের অভিজ্ঞতা দেয়, তা ব্যাখ্যা করে কাবায়ে বলেন, “ধারাবাহিকতার প্রশ্নে ঘরোয়া লিগ এখনো অপরিহার্য, কারণ সেখানে প্রতি সপ্তাহান্তে খেলতে হয়। ইয়ুথ লিগ খেলোয়াড়দের জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি অভিজ্ঞতা। সেখানে আমরা এমন দলগুলোর মুখোমুখি হই, যাদের কাজের ধরন আলাদা, যাদের মানদন্ড ভিন্ন এবং যাদের ফুটবল সংস্কৃতিও অন্য রকম। ফলে আমাদের দ্রুত মানিয়ে নিতে হয়।
“ঘরোয়া লিগের তুলনায় এই প্রতিযোগিতা খেলোয়াড়দের চাপের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বেশি শেখায়। কীভাবে তারা নিজেদের আধিপত্যের সময় এবং কঠিন পরিস্থিতি সামলায়, কীভাবে কখনো কখনো প্রতিকূল পরিবেশেও কার্যকর থাকে এসবই তারা শেখে। এই পর্যায়ে একটি ভুলের চড়া মূল্য দিতে হতে পারে।
“ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও রয়েছে দলটির। যেমন আজ আমরা ইংল্যান্ডে যাচ্ছি এবং ম্যাচের আগের দিন রওনা হচ্ছি। উয়েফার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতাও হয়। পাশাপাশি আবেগের বিষয়টিও রয়েছে, যা সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে কী প্রয়োজন, তা শেখার অংশ।”
ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতাতেও এই উদ্যোগের সুফল দেখা যাচ্ছে। একাডেমি থেকে উঠে আসা চার খেলোয়াড় ওয়ারেন জায়ার-এমেরি, সেনি মায়ুলু, কোয়েন্তা এনজানতু ও ইব্রাহিম এমবায়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলেছেন। ২০১৮-১৯ মৌসুমের পর থেকে পিএসজির একাডেমি-স্নাতকদের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। তরুণ খেলোয়াড়দের মূল দলে উঠে আসার ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
কাবায়ে বলেন, “ইয়ুথ লিগের ম্যাচ যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচের সমতুল্য নয়, তা নিশ্চিত। তবে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলের কাছাকাছি যেতে যে মৌলিক আচরণ ও দক্ষতা প্রয়োজন, সেগুলো নিয়ে কাজ করার সুযোগ দেয় এই প্রতিযোগিতা। আমাদের খেলোয়াড়েরা নিজেদের উন্নয়নের ধারাবাহিক পথের অংশ হিসেবে প্রতি বছর ইয়ুথ লিগে খেলতে পারে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
পিএসজির এই কাঠামোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এসপোয়ার দল। ক্লাবের নিজস্ব উদ্যোগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দলটি গঠন করা হয়। বর্তমানে এটি একাডেমির কেন্দ্রীয় দল হিসেবে কাজ করছে। তরুণ খেলোয়াড়দের পেশাদার ফুটবলে প্রবেশের পথ তৈরি করাই এর প্রধান ভূমিকা।
অনূর্ধ্ব-১৬ থেকে অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায় পর্যন্ত খেলোয়াড়দের উপযুক্ত পরিবেশ ও পর্যাপ্ত খেলার সুযোগ দিয়ে লুইস এনরিকের মূল দলের সঙ্গে একাডেমির সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করছে এই দল।
কাবায়ে ব্যাখ্যা করেন, “দলটি ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে গঠন করা হলেও এর পেছনের চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছিল আরও আগে। আমরা দুটি সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিলাম। প্রথমটি ছিল পেশাদার ফুটবলে উত্তরণের বিষয়টি। অনূর্ধ্ব-১৯ দল ও মূল দলের মধ্যে বেশ বড় একটি ব্যবধান ছিল।
“কিছু খেলোয়াড়ের উন্নতির জন্য আরও সময় ও বেশি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে, কেউ কেউ পরবর্তী ধাপে ওঠার জন্য বেশি প্রস্তুত ছিল এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলের আরও কাছাকাছি যেতে পারত। তাই যাদের প্রয়োজন, তাদের জন্য মাঝখানে আরেকটি ধাপ তৈরির চিন্তা আসে।
“দ্বিতীয় সমস্যাটি ছিল খেলার সুযোগ। এই তৃতীয় দলটি একাডেমির সব খেলোয়াড়কে মাঠে নামার সুযোগ দেয়। আগে যখন আমাদের কেবল অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দল ছিল, তখন অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ের খেলোয়াড়েরা খুব কমই খেলার সুযোগ পেত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা অনেক বেশি খেলার সুযোগ পাচ্ছে।”
পুরো ব্যবস্থাটি গড়ে তোলা হয়েছে ধারাবাহিকতার ওপর ভিত্তি করে। অনূর্ধ্ব-১৯ ও এসপোয়ার দলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রয়েছে। দুই দলের কোচ জ্যঁ-ফ্রাঁসোয়া ভলিয়েজ ও থমাস লেসালেস নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন।
এর লক্ষ্য হলো, প্রতিটি খেলোয়াড়ের অগ্রগতি দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা এবং এক বয়সভিত্তিক দল থেকে অন্য দলে যাওয়ার সময় যেন কাজের ধারাবাহিকতা ব্যাহত না হয় কিংবা কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করা।
পিএসজির ক্যাম্পাসে গত দুই মৌসুমে মূল দলের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিযান তরুণ খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণার বড় উৎস হয়ে উঠেছে। ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ক্লাবকে খেলতে দেখা তাদের প্রতিদিনের পরিশ্রমকে অর্থবহ করে তুলেছে। মূল দলে খেলার লক্ষ্য এখন তাদের কাছে বাস্তব ও স্পষ্ট। তারা নিজেদের সেই পর্যায়ে কল্পনা করতে পারে এবং সেখানে পৌঁছাতে কতটা নিষ্ঠা ও পরিশ্রম প্রয়োজন, তা বুঝতে পারে।
এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে একটি অভিন্ন পরিকল্পনা। ক্লাব সভাপতি নাসের আল-খেলাইফি, ক্রীড়া উপদেষ্টা লুইস কাম্পোস, প্রধান কোচ লুইস এনরিকে এবং কাবায়ে- সবাই এই পরিকল্পনায় যুক্ত।
কাবায়ের মতে, এ ক্ষেত্রে ক্যাম্পাসই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “বর্তমানে ক্যাম্পাসই আমাদের সবচেয়ে বড় সুবিধা। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এটিকে ফিরিয়ে আনতে হবে। সভাপতির দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে এই কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার ফলে আমরা একে অপরের কাছাকাছি থাকতে পারছি এবং অভিন্ন ক্রীড়া পরিকল্পনা তৈরি করতে পারছি। একাডেমিতে কী হচ্ছে, তা নিয়ে লুইস কাম্পোস ও আমার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রকল্পটির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
দুজন প্রতিদিনই কথা বলেন। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও খেলোয়াড়দের নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠকও করেন তাঁরা।
কাবায়ের ভূমিকা অনেকটা প্রতিভা খুঁজে বের করা পর্যবেক্ষকের মতো। তিনি বলেন, “যেসব খেলোয়াড়কে পর্যবেক্ষণ করা এবং বিশেষ নজরে রাখা প্রয়োজন, তাদের সম্পর্কে জানানো আমার দায়িত্ব। কোনো খেলোয়াড় মাঝেমধ্যে মূল দলের দরজায় কড়া নাড়তে এবং নিজের সামর্থ্য দেখাতে পারবে কি না, তা বোঝার চেষ্টা করি আমি।”
এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পর্দার আড়ালেও বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হয়। ভিডিও বিশ্লেষক, তথ্য বিশ্লেষক, পুষ্টিবিদ, ফিটনেস কোচ ও চিকিৎসক দল- সবাই খেলোয়াড়দের উন্নয়নে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগান।
পিএসজির মূল দল ও যুবদলের মধ্যে সম্পর্ক এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। সবকিছুর মূলে একটাই লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ যেকোন বড় আয়োজনে পিএসজির সর্বোচ্চ সাফল্য, যাতে খেলোয়াড়রাই মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে, যা ভারী বৃষ্টির কারণে ঘটেছে। সড়ক, বাড়িঘর এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পানিতে ডুবে গেছে। বিভিন্ন স্থানে সড়ক ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে এবং যানবাহন আটকে পড়েছে। বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১৪ বছর বয়সি এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ শহরজুড়ে উদ্ধারকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক যানবাহন মোতায়েন করেছে।
আল-জাজিরার যাচাই করা নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ইস্তাম্বুলের ফাতিহ জেলার বালাত এলাকায় একটি গাড়ির পার্কিংয়ের প্রবেশপথে জমে থাকা পানির মধ্যে হাঁটছিল কিশোরটি। হঠাৎ সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ভারী বৃষ্টির মধ্যে পানিতে পা দেওয়ার পর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু ঘটে।
ইস্তাম্বুলের গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, কিশোরটিকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। উদ্ধারকর্মীদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইস্তাম্বুলের গভর্নর দাভুত গুল। তিনি বেসমেন্ট এবং নিচতলার ফ্ল্যাটে বসবাসকারীদের রাতের বেলায় ভবনের ওপরের তলায় থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে খাল, ছোট নদীর তীর, আন্ডারপাস এবং বন্যাপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছেন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার শহরজুড়ে ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। মোটরসাইকেল চলাচলও নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবন্ধী সরকারি কর্মচারী এবং ছোট শিশুর মায়েদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাত ৯টা থেকে মোটরসাইকেল চলাচলের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার ও বৃহস্পতিবার দেশের কয়েকটি প্রদেশে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে। প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের শহর ইস্তাম্বুলে প্রায় ৮ হাজার উদ্ধারকর্মী এবং ২ হাজার যানবাহন ও নির্মাণযন্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ।
আড়াই হাজারের বেশি জরুরি খবর
তুরস্কের আবহাওয়া বিভাগের সতর্কবার্তার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ইস্তাম্বুলে বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও আন্ডারপাস পানিতে ডুবে যায়। এসেনইউর্ট ও সুলতানগাজিসহ কয়েকটি এলাকায় যানবাহন আটকে পড়ে। বাড়িঘর, দোকানপাট এবং বেসমেন্টেও পানি ঢুকে পড়ে।
ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, আবহাওয়াজনিত ঘটনায় জরুরি সেবাকেন্দ্রে আড়াই হাজারের বেশি খবর আসে। কর্তৃপক্ষ ১ হাজার ২৭৭টি বন্যার ঘটনা এবং ১৫টি ভূমিধসের তথ্য নথিভুক্ত করেছে। বন্যার পানিতে ৪৭ জন আটকা পড়েন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮০০টির বেশি বাড়ি, ২৮০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ৭৬টি যানবাহন।
তুরস্ক টুডে জানিয়েছে, শহরের আইয়ুপসুলতান ও গাজিওসমানপাশা জেলায় সড়কের কিছু অংশ ধসে পড়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এসেনইউর্ট এলাকায় বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া এক নারীকে উদ্ধার করেন পথচারীরা।
বন্যার পানি দুটি হাসপাতালে পৌঁছেছে। হাচিওসমান মেট্রো স্টেশনের ছাদ থেকেও পানি ঢুকে পড়ে। সুলতানগাজি এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে থাকা অবস্থায় বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের ঠেকনাদেয়াল ধসে পড়ে। তবে কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি।
ইস্তাম্বুলের এশীয় অংশের বেইকোজ জেলার ওমেরলি এলাকায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ডেইলি সাবাহর তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ১৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। ভারপ্রাপ্ত ইস্তাম্বুল মেয়র নুরি আসলান জানিয়েছেন, শহরের কয়েকটি এলাকায় ১২ ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় কর্মব্যস্ত সময়ে শহরের যানজটের মাত্রা প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছায়। তবে বিমান চলাচল স্বাভাবিক ছিল বলে জানিয়েছে ডেইলি সাবাহ।
[[KEEP_2]
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী একটি দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা সড়ক সেতু সম্প্রতি চালু করা হয়েছে। সেতুটি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতির লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে বলে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
বিবিসি সূত্রে জানা যায়, চীন উত্তর কোরিয়ার প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে পরিচিত। যদিও উত্তর কোরিয়ার ওপর পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির কারণে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তবুও চীন দেশটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তার উৎস হিসেবে কাজ করছে।
নতুন ইয়ালু নদীর সেতুটি চীনের দানদং শহর থেকে উত্তর কোরিয়ার সিনুইজু পর্যন্ত বিস্তৃত। সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ কিলোমিটার এবং এটি দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহনের প্রধান স্থলপথ হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০১৪ সালে সেতুটি চালুর পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু পরে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে যায়। বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে উত্তর কোরিয়া সেতুর সঙ্গে যুক্ত সড়ক ও শুল্কসুবিধা নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেয়। নতুন সেতুটি পুরোনো চীন-উত্তর কোরিয়া মৈত্রী সেতুর বিকল্প হিসেবে নির্মিত হয়েছে, যা ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সালের মধ্যে নির্মিত হয়। তখন অঞ্চলটি জাপানের দখলে ছিল।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বুধবার বলেন, নতুন সেতুটি দুই দেশের যোগাযোগের জন্য একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো’। তিনি উল্লেখ করেন, এটি দুই দেশের বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগকে আরও সহজ করবে।
গত বছর চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২৭০ কোটি ডলার। এই পরিমাণ মহামারির আগে পর্যায়ের বাণিজ্যের পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেয়। উত্তর কোরিয়ায় চীনের পণ্য রপ্তানি এই বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তবে নতুন সেতু চালু হওয়ার পরেও সীমান্ত দিয়ে বাণিজ্য দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা এখনো কার্যকর রয়েছে। হানকুক ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজের চীনবিষয়ক অধ্যাপক কাং জুন-ইয়ং বিবিসিকে বলেন, পিয়ংইয়ং চীন থেকে হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানির বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। এতে উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজারে চীনের প্রভাব বাড়তে পারে। কাং জুন-ইয়ং আরও বলেন, চীনও এসব উদ্বেগ সম্পর্কে জানে, তাই দুই দেশের বাণিজ্য ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।
চীন ও উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিনের মিত্র। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, যা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে চীনের নেই। দুই দেশের সম্পর্ক বোঝাতে প্রায়ই ‘ঠোঁট ও দাঁতের মতো ঘনিষ্ঠ’ কথাটি ব্যবহার করা হয়। চীনের সাবেক নেতা মাও সে তুং প্রথম এই মন্তব্য করেছিলেন। তবে দীর্ঘদিনের এই মিত্রতার মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন ছিল।
২০১০-এর দশকের বেশিরভাগ সময় দুই দেশের সম্পর্ক শীতল ছিল। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে চীনের উদ্বেগ বাড়ছিল। ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন পারমাণবিক পরীক্ষা চালান এবং নিষিদ্ধ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও বাড়ান। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বৃদ্ধি পায় এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে চীনের অবস্থানে পরিবর্তন দেখা গেছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক এডওয়ার্ড হাওয়েল বিবিসিকে বলেন, এক দশক আগে চীন প্রকাশ্যে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সমালোচনা করত এবং পিয়ংইয়ংকে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের আহ্বান জানাত। কিন্তু এখন চীন এ বিষয়ে খুব কম কথা বলে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ায় চীনের অবস্থানেও পরিবর্তন এসেছে। ধারণা করা হয়, ইউক্রেনে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার অন্তত ২ হাজার ৩০০ সেনা নিহত হয়েছেন। এর বিনিময়ে রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে তেল সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করছে। ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার দেওয়া অস্ত্র ও সেনাদের বিনিময়ে রাশিয়া ১০০ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল পাঠিয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
গত মাসে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে প্রথম সড়ক সেতু চালু হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০০টি যানবাহন এবং ২ হাজারের বেশি মানুষ চলাচল করতে পারবেন। এই পরিস্থিতিতে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিজের প্রভাব ধরে রাখতে চীনও দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
মহামারির কারণে ছয় বছর বন্ধ থাকার পর গত মার্চে বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল আবার শুরু করে এয়ার চায়না। একই মাসে দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলও চালু হয়। চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং চলতি বছরের জুনে রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়া যান এবং সেখানে তিনি দেশটির নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের ইহা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লেইফ-এরিক ইজলি বলেন, নতুন ইয়ালু নদীর সেতু চালু হওয়া দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, এটি দেখায়, জুনে শি চিনপিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফর শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা ছিল না।
তবে সেতুটি চালু করতে দীর্ঘ বিলম্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, মহামারির সময় উত্তর কোরিয়া নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে রাখা এবং দেশের অভ্যন্তরে আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ডে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের কারণে দুই দেশের যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। এসব ঘটনা দেখায়, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা চীনের জন্য কতটা কঠিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খান দীর্ঘদিন গোপনে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করার পর এবার প্রকাশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটিতে একটি অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। তার অ্যাকাউন্টের নাম ‘সাইফ আলী খান পতৌদি’ এবং বর্তমানে সেখানে একটি পোস্ট রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি শুধুমাত্র স্ত্রী কারিনা কাপুর খানের প্রোফাইলকেই অনুসরণ করছেন।
সাইফ তার ইনস্টাগ্রামে প্রথম পোস্টে দুটি ছবি শেয়ার করেছেন। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘পতৌদি লাইব্রেরি… প্রচ্ছদ দেখে বইয়ের বিচার করছি।’ ছবিগুলোর মধ্যে একটি ছবিতে তাকে বই পড়তে দেখা যাচ্ছে। বই পড়া সাইফের শখগুলোর মধ্যে একটি।
সাইফের ইনস্টাগ্রামে যোগ দেওয়ার খবরটি ভক্তদের জন্য একটি চমক হিসেবে এসেছে। কারণ, দুই বছর আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন যে, ইনস্টাগ্রাম অ্যাপ থাকা সত্ত্বেও এটি ব্যবহার করতে তার ভালো লাগে না। তিনি এমনকি একটি গোপন অ্যাকাউন্ট থাকার কথাও স্বীকার করেছিলেন।
হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে সাইফ জানিয়েছিলেন, মাঝে মাঝে তিনি ইনস্টাগ্রাম ব্রাউজ করেন। তবে কিছুক্ষণ ব্যবহারের পর অ্যাপটি মুছে ফেলার চিন্তা করলেও শেষ পর্যন্ত তা করেন না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার-প্রচারণা থেকে দূরে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন সাইফ। তিনি নিজের ছবি বা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে নিয়মিত পোস্ট দিতে চান না এবং অন্যের পণ্য প্রচারের অনুরোধ পাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়তে চান না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় না থাকার কারণে তিনি নিজের মতো করে শান্তিতে থাকতে পারেন বলেও জানিয়েছেন।
তবে ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ্যে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করেননি সাইফ। আগের সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ছবি তুলতে এবং বিভিন্ন মুহূর্ত ক্যামেরায় ধরে রাখতে তিনি ভালোবাসেন। সেসব ছবি ও মুহূর্ত অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার বিষয়টিও তার ভালো লাগতে পারে।
সাইফ আলী খান ও কারিনা কাপুর খানের দুই ছেলে রয়েছে—তৈমুর ও জেহ। কাজের ক্ষেত্রে কারিনাকে সর্বশেষ ‘দায়রা’ এবং সাইফকে ‘হাইওয়ান’ সিনেমায় দেখা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
র্যাগিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ৭ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি শিক্ষার্থীকে দুই বছরের জন্য এবং ছয় শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এ সিদ্ধান্তটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭তম রিজেন্ট বোর্ডে গৃহীত হয়েছে বলে জানা যায়।
সভার একাধিক সদস্যের সূত্রে জানা গেছে, ২১ জুলাই ফার্মেসি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগ দেওয়ার সময় মুশফিকুর রহমান তুহিন নামের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পরের দিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। ৭৭তম রিজেন্ট বোর্ডে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে সভার ৭৭.২০ নম্বর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোট ৯ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার ও অর্থদণ্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সাত কর্মদিবসের মধ্যে পিতা-মাতাসহ কর্তৃপক্ষের কাছে মুচলেকা জমা দেওয়ার সিদ্ধান্তও ওই সভায় গৃহীত হয়েছে।
রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফার্মেসি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মো. নাজমুস সাকিবকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের জাহিদ হোসেন সরকার এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মিসকাত জাহান মুসফিক, ইউনুস হোসেন হিরাত, সাইদুর রহমান সিফাত ও সানোয়ার হোসেন তানিম এবং পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ইসতিয়াক আহমেদ ইফতিকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ফার্মেসি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তামান্না তাজমিম তন্নীকে ১০ হাজার টাকা এবং সোহানুর রহমান সিফাতকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে, বাংলা ক্লিনিক এলাকার একটি মেসে নবীন শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে র্যাগ দেয় সিনিয়র শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে মানসিক চাপের কারণে মুশফিকুর রহমান তুহিন নামের নবীন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত ৮টার দিকে তাঁকে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং রাত ১১টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ