বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:২৫ পি.এম
চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী একটি দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা সড়ক সেতু সম্প্রতি চালু করা হয়েছে। সেতুটি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতির লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে বলে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
বিবিসি সূত্রে জানা যায়, চীন উত্তর কোরিয়ার প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে পরিচিত। যদিও উত্তর কোরিয়ার ওপর পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির কারণে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তবুও চীন দেশটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তার উৎস হিসেবে কাজ করছে।
নতুন ইয়ালু নদীর সেতুটি চীনের দানদং শহর থেকে উত্তর কোরিয়ার সিনুইজু পর্যন্ত বিস্তৃত। সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ কিলোমিটার এবং এটি দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহনের প্রধান স্থলপথ হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০১৪ সালে সেতুটি চালুর পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু পরে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে যায়। বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে উত্তর কোরিয়া সেতুর সঙ্গে যুক্ত সড়ক ও শুল্কসুবিধা নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেয়। নতুন সেতুটি পুরোনো চীন-উত্তর কোরিয়া মৈত্রী সেতুর বিকল্প হিসেবে নির্মিত হয়েছে, যা ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সালের মধ্যে নির্মিত হয়। তখন অঞ্চলটি জাপানের দখলে ছিল।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বুধবার বলেন, নতুন সেতুটি দুই দেশের যোগাযোগের জন্য একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো’। তিনি উল্লেখ করেন, এটি দুই দেশের বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগকে আরও সহজ করবে।
গত বছর চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২৭০ কোটি ডলার। এই পরিমাণ মহামারির আগে পর্যায়ের বাণিজ্যের পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেয়। উত্তর কোরিয়ায় চীনের পণ্য রপ্তানি এই বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তবে নতুন সেতু চালু হওয়ার পরেও সীমান্ত দিয়ে বাণিজ্য দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা এখনো কার্যকর রয়েছে। হানকুক ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজের চীনবিষয়ক অধ্যাপক কাং জুন-ইয়ং বিবিসিকে বলেন, পিয়ংইয়ং চীন থেকে হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানির বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। এতে উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজারে চীনের প্রভাব বাড়তে পারে। কাং জুন-ইয়ং আরও বলেন, চীনও এসব উদ্বেগ সম্পর্কে জানে, তাই দুই দেশের বাণিজ্য ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।
চীন ও উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিনের মিত্র। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, যা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে চীনের নেই। দুই দেশের সম্পর্ক বোঝাতে প্রায়ই ‘ঠোঁট ও দাঁতের মতো ঘনিষ্ঠ’ কথাটি ব্যবহার করা হয়। চীনের সাবেক নেতা মাও সে তুং প্রথম এই মন্তব্য করেছিলেন। তবে দীর্ঘদিনের এই মিত্রতার মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন ছিল।
২০১০-এর দশকের বেশিরভাগ সময় দুই দেশের সম্পর্ক শীতল ছিল। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে চীনের উদ্বেগ বাড়ছিল। ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন পারমাণবিক পরীক্ষা চালান এবং নিষিদ্ধ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও বাড়ান। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বৃদ্ধি পায় এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে চীনের অবস্থানে পরিবর্তন দেখা গেছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক এডওয়ার্ড হাওয়েল বিবিসিকে বলেন, এক দশক আগে চীন প্রকাশ্যে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সমালোচনা করত এবং পিয়ংইয়ংকে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের আহ্বান জানাত। কিন্তু এখন চীন এ বিষয়ে খুব কম কথা বলে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ায় চীনের অবস্থানেও পরিবর্তন এসেছে। ধারণা করা হয়, ইউক্রেনে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার অন্তত ২ হাজার ৩০০ সেনা নিহত হয়েছেন। এর বিনিময়ে রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে তেল সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করছে। ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার দেওয়া অস্ত্র ও সেনাদের বিনিময়ে রাশিয়া ১০০ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল পাঠিয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
গত মাসে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে প্রথম সড়ক সেতু চালু হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০০টি যানবাহন এবং ২ হাজারের বেশি মানুষ চলাচল করতে পারবেন। এই পরিস্থিতিতে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিজের প্রভাব ধরে রাখতে চীনও দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
মহামারির কারণে ছয় বছর বন্ধ থাকার পর গত মার্চে বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল আবার শুরু করে এয়ার চায়না। একই মাসে দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলও চালু হয়। চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং চলতি বছরের জুনে রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়া যান এবং সেখানে তিনি দেশটির নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের ইহা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লেইফ-এরিক ইজলি বলেন, নতুন ইয়ালু নদীর সেতু চালু হওয়া দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, এটি দেখায়, জুনে শি চিনপিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফর শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা ছিল না।
তবে সেতুটি চালু করতে দীর্ঘ বিলম্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, মহামারির সময় উত্তর কোরিয়া নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে রাখা এবং দেশের অভ্যন্তরে আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ডে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের কারণে দুই দেশের যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। এসব ঘটনা দেখায়, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা চীনের জন্য কতটা কঠিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খান দীর্ঘদিন গোপনে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করার পর এবার প্রকাশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটিতে একটি অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। তার অ্যাকাউন্টের নাম ‘সাইফ আলী খান পতৌদি’ এবং বর্তমানে সেখানে একটি পোস্ট রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি শুধুমাত্র স্ত্রী কারিনা কাপুর খানের প্রোফাইলকেই অনুসরণ করছেন।
সাইফ তার ইনস্টাগ্রামে প্রথম পোস্টে দুটি ছবি শেয়ার করেছেন। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘পতৌদি লাইব্রেরি… প্রচ্ছদ দেখে বইয়ের বিচার করছি।’ ছবিগুলোর মধ্যে একটি ছবিতে তাকে বই পড়তে দেখা যাচ্ছে। বই পড়া সাইফের শখগুলোর মধ্যে একটি।
সাইফের ইনস্টাগ্রামে যোগ দেওয়ার খবরটি ভক্তদের জন্য একটি চমক হিসেবে এসেছে। কারণ, দুই বছর আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন যে, ইনস্টাগ্রাম অ্যাপ থাকা সত্ত্বেও এটি ব্যবহার করতে তার ভালো লাগে না। তিনি এমনকি একটি গোপন অ্যাকাউন্ট থাকার কথাও স্বীকার করেছিলেন।
হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে সাইফ জানিয়েছিলেন, মাঝে মাঝে তিনি ইনস্টাগ্রাম ব্রাউজ করেন। তবে কিছুক্ষণ ব্যবহারের পর অ্যাপটি মুছে ফেলার চিন্তা করলেও শেষ পর্যন্ত তা করেন না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার-প্রচারণা থেকে দূরে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন সাইফ। তিনি নিজের ছবি বা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে নিয়মিত পোস্ট দিতে চান না এবং অন্যের পণ্য প্রচারের অনুরোধ পাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়তে চান না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় না থাকার কারণে তিনি নিজের মতো করে শান্তিতে থাকতে পারেন বলেও জানিয়েছেন।
তবে ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ্যে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করেননি সাইফ। আগের সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ছবি তুলতে এবং বিভিন্ন মুহূর্ত ক্যামেরায় ধরে রাখতে তিনি ভালোবাসেন। সেসব ছবি ও মুহূর্ত অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার বিষয়টিও তার ভালো লাগতে পারে।
সাইফ আলী খান ও কারিনা কাপুর খানের দুই ছেলে রয়েছে—তৈমুর ও জেহ। কাজের ক্ষেত্রে কারিনাকে সর্বশেষ ‘দায়রা’ এবং সাইফকে ‘হাইওয়ান’ সিনেমায় দেখা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
র্যাগিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ৭ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি শিক্ষার্থীকে দুই বছরের জন্য এবং ছয় শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এ সিদ্ধান্তটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭তম রিজেন্ট বোর্ডে গৃহীত হয়েছে বলে জানা যায়।
সভার একাধিক সদস্যের সূত্রে জানা গেছে, ২১ জুলাই ফার্মেসি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগ দেওয়ার সময় মুশফিকুর রহমান তুহিন নামের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পরের দিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। ৭৭তম রিজেন্ট বোর্ডে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে সভার ৭৭.২০ নম্বর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোট ৯ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার ও অর্থদণ্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সাত কর্মদিবসের মধ্যে পিতা-মাতাসহ কর্তৃপক্ষের কাছে মুচলেকা জমা দেওয়ার সিদ্ধান্তও ওই সভায় গৃহীত হয়েছে।
রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফার্মেসি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মো. নাজমুস সাকিবকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের জাহিদ হোসেন সরকার এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মিসকাত জাহান মুসফিক, ইউনুস হোসেন হিরাত, সাইদুর রহমান সিফাত ও সানোয়ার হোসেন তানিম এবং পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ইসতিয়াক আহমেদ ইফতিকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ফার্মেসি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তামান্না তাজমিম তন্নীকে ১০ হাজার টাকা এবং সোহানুর রহমান সিফাতকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে, বাংলা ক্লিনিক এলাকার একটি মেসে নবীন শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে র্যাগ দেয় সিনিয়র শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে মানসিক চাপের কারণে মুশফিকুর রহমান তুহিন নামের নবীন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত ৮টার দিকে তাঁকে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং রাত ১১টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারত ও মিয়ানমার তাদের সমুদ্র এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম শুরু করার পর বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে ছিল। তবে বর্তমানে সরকার সমুদ্রের অফশোর এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম শুরু করেছে, এমনটি জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের মেরিটাইম ও অফশোর শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘৮ম বিমক্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
শেখ রবিউল আলম উল্লেখ করেন, ‘সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পর ভারত ও মিয়ানমার তাদের অফশোর এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন শুরু করেছে। বাংলাদেশ কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও বর্তমান সরকার অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে। সমুদ্রের বিশাল সম্পদ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমুদ্রের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে গিয়ে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করা যাবে না। নিয়মতান্ত্রিকভাবে ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পদ আহরণ করতে হবে। তা না হলে একপর্যায়ে এসব সম্পদ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশ জলরাশি। যেসব দেশ এ জলরাশিকে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পেরেছে, তাদের জন্য তা সম্পদে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশও সমুদ্র, নদী ও জলসম্পদে সমৃদ্ধ। কিন্তু এসব সম্পদের সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।’
নৌপরিবহনমন্ত্রী আরও জানান, ‘বাংলাদেশে প্রাকৃতিকভাবে প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথ এবং প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকত রয়েছে। এসব সম্পদের যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে অর্থনীতিতে এর বড় অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।’
তিনি বন্দর অবকাঠামোর উন্নয়নের বিষয়টিও তুলে ধরেন এবং বলেন, ‘চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাতারবাড়ীতে আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা নিয়ে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ চলছে। ২০৩০ সালে এটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে। পায়রা সমুদ্রবন্দরকেও আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
জ্বালানি রূপান্তর প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সবুজ জ্বালানিতে রূপান্তরের বিষয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে। তবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও ন্যায্যতার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। নতুন প্রযুক্তির দিকে যেতে হবে, তবে তা রাতারাতি সম্ভব নয়।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তার জন্য সারা দেশে ২ লাখ ১২ হাজার ১১৮ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, এমনটি জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
তিনি উল্লেখ করেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত পূজামণ্ডপে আটজন এবং সাধারণ পূজামণ্ডপে ছয়জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলার জন্য স্ট্রাইকিং পেট্রোল প্রস্তুত থাকবে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
মহাপরিচালক জানান, এবারের দুর্গাপূজায় সারা দেশে ৩৩ হাজার ১৬৫টি পূজামণ্ডপের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ৯১৪টি পূজামণ্ডপকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, এবং এসব মণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পূজামণ্ডপে মোতায়েন করা সদস্যদের পাশাপাশি ১০৪টি স্ট্রাইকিং পেট্রোল দায়িত্ব পালন করবে। পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে সমন্বয় রক্ষা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যাতে সুযোগসন্ধানীরা ছোট কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে। স্ট্রাইকিং পেট্রোল সর্বদা প্রস্তুত থাকবে এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় গত বছরের মতো এবারও ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করা হবে বলে জানান আনসার মহাপরিচালক। তিনি বলেন, অ্যাপটিতে ৬৬ হাজার সদস্য নিবন্ধিত থাকবেন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত তথ্য পাওয়া যাবে এবং পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করা সম্ভব হবে।
মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার সফল প্রয়োগ করা হয়েছিল। এবারও অ্যাপটিকে সমন্বয়ের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগানো হবে।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের কার্যক্রম তদারকির জন্য বাহিনীর নিজস্ব মনিটরিং ব্যবস্থা রয়েছে। কোথাও কোনো অনিয়ম বা অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দুর্গাপূজায় দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের ভাতা তুলনামূলক কম উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, দায়িত্ব পালনের জন্য একজন সদস্য দৈনিক প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা ভাতা পান। তবে সদস্যদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর জন্য ইতিপূর্বে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, দায়িত্ব পালনের সময় সদস্যদের গভীর রাত পর্যন্ত মণ্ডপে অবস্থান করতে হয়; তাই তাদের প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও পাওয়া গেছে।
মহাপরিচালক বলেন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সংস্কারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো সদস্যদের মধ্যে সেবাধর্মী মানসিকতা গড়ে তোলা। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তারা যেন সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, সে বিষয়ে তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চাইলে আনসার মহাপরিচালক বলেন, ‘সদস্য সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও তাদের যথাযথভাবে দায়িত্বে উপস্থিত রাখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে লজিস্টিক সহায়তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পূজামণ্ডপগুলোতে দায়িত্ব পালনের সময় সদস্যদের খাবারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো পরিস্থিতিতে গণজমায়েত বা বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সদস্যদের ধৈর্য ধরে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। কোনো কারণে তাদের ওপর আক্রমণ হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গুজব প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা সমন্বয়ের বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, ‘পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সার্বিক সমন্বয় রয়েছে। জেলা পর্যায়ে ব্রিফিং ও বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সভা সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ