বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:১০ পি.এম
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনো আলাপ হয়নি। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ফেরত নেওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন।
আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে প্রত্যাবাসন।
তিনি বলেন, যদি সেটা হয়, তাহলে আমরা অবশ্যই সাধুবাদ জানাব এবং তা অত্যন্ত ভালো সুসংবাদ হবে। তবে আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি, কিন্তু এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য আমার জানা নেই।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
মিয়ানামারে আটক জেলেদের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা অবশ্যই উদ্যোগ নিয়েছি, কিছুদিন আগে আমাদের বিজিবি প্রধানের সঙ্গে মিটিং করেছি। আমরা পররাষ্ট্র সচিবসহ মিটিং করেছি যে, সেখানে তারা আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ করে যেসব জেলে আটক রয়েছে তারা বিভিন্ন পর্যায়ে আছেন। কিছু জেলে ধরা পড়ে, আবার কিছু বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছেন, তাদেরকে ফেরত আনার কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
তিনি বলেন, প্রসেসটা একটু কমপ্লিকেটেড। সংখ্যাটা খুব বেশি নয়, মোটামুটি সীমিত। আমরা ২৭ জনকে এখন পর্যন্ত আইডেন্টিফায়েড করতে পেরেছি।
তারা সেখানে জেলে ছিল, জেল খেটেছে এবং তাদেরকে ফিরিয়ে আনতে পারব। সেই প্রক্রিয়া_ALREADY পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করছে।
তিনি আরো বলেন, আরাকান আর্মির কাছে আটক থাকা বিষয়টি খুবই কমপ্লিকেটেড। কারণ তারা সহজেই আমাদের সঙ্গে এনগেজ হতে চান না। সেই পরিস্থিতিতে আমাদের বিজিবি এবং অন্যান্য সংগঠন যারা সীমান্তে আছেন, তারা এর ওপর কাজ করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সরকারি শিল্পকারখানাগুলো চালুর প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের মধ্যেই শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আজ একই দিন, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশের সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয় যেখানে প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়। বৈঠকের লক্ষ্য ছিল বন্ধ সরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা, বেসরকারিকরণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং এসব কারখানা চালু করতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক সম্পর্কিত তথ্য দেন তাঁর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।
উপ প্রেস সচিব জানান, বৈঠকটির উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সরকারি শিল্পকারখানাগুলো দ্রুত চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে কার্যক্রমে গতি আনা এবং এই শিল্পকারখানাগুলোর বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে দ্রুত উৎপাদন কার্যক্রম চালুর স্বীকারোক্তি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬ সালের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ প্রদান করেছেন।
বৈঠকে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।
বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘কালো ধোঁয়া আর নয়, হেঁটেই করব দূরত্ব জয়’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে পরিবেশ সচেতনতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ ফাহিম মুনতাসির। তিনি টানা ২০ দিনে দেশের সর্বদক্ষিণ টেকনাফ থেকে সর্বউত্তর তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রায় এক হাজার কিলোমিটার পথ হেঁটে গেছেন।
পদযাত্রা শেষ করে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে তিনি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে পৌঁছান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মো. মফিজ মিয়া ও মাহমুদা আক্তার চৌধুরী দম্পতির বড় ছেলে ফাহিম মুনতাসির (২৬)। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে বর্তমানে শিক্ষকতা করছেন। পাশাপাশি, সামাজিক সংগঠন ‘সোনালী সকাল’-এর সভাপতির কাজ করছেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।
পদযাত্রা শেষে মোবাইল ফোনে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ফাহিম বলেন, 'আমার লক্ষ্য শুধু গন্তব্যে পৌঁছানো ছিল না। পথে পথে মানুষের সঙ্গে পরিবেশ, প্রকৃতি ও সুস্থ জীবনযাপন নিয়ে কথা বলেছি। মানুষ আমাকে আন্তরিকভাবে উৎসাহ দিয়েছেন। এই বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরে আমি আনন্দিত।'
তিনি আরো বলেন, 'পরিবেশ ধ্বংসের নানা চিত্র তার চোখে পড়েছে। বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণী হত্যা, বিশেষ করে হাতির দাঁতের জন্য হাতি নিধন এবং লোকালয়ে উঠে আসা সাপ নির্বিচারে হত্যার বিষয়গুলো আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।'
গত ১০ জুলাই টেকনাফের শাপলা জিরো পয়েন্ট থেকে পদযাত্রা শুরু করেন ফাহিম। শুরুতে আরও দুই সহযাত্রী তার সঙ্গে ছিল; তবে ফেনীতে গিয়ে তারা যাত্রা শেষ করেন। এরপর একাই বাকি পথ অতিক্রম করেন তিনি। যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থানে বীজ বপন ও বৃক্ষরোপণ করে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তাও ছড়িয়ে দেন।
নিজের এ উদ্যোগ সম্পর্কে ফাহিম বলেন, 'এই পদযাত্রা কোনো রেকর্ড গড়ার জন্য নয়। এটি সুস্থ জীবন, হাঁটার অভ্যাস এবং পরিবেশ রক্ষার একটি ছোট্ট আহ্বান। আমরা যত কম হাঁটছি, ততই অসুস্থতা বাড়ছে। অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার বাড়াচ্ছে বায়ুদূষণ ও জলবায়ু সংকট। তাই অল্প দূরত্বে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং প্রয়োজন হলে গণপরিবহণ ব্যবহার করা উচিত।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি চাই মানুষ আমাকে নয়, আমার বার্তাটিকে মনে রাখুক। হাঁটা সুস্থ জীবনের ভিত্তি, আর পরিবেশ রক্ষা আমাদের সবার দায়িত্ব।'
তরুণদের উদ্দেশে ফাহিম বলেন, 'পরিবেশ রক্ষার কাজ বড় কোনো উদ্যোগের অপেক্ষা করে না। প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্ত—যেমন হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা, গাছ লাগানো এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমানোর মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।' পুরো যাত্রাপথে বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের বাড়িতে রাতযাপন করে তিনি এ অভিযান সম্পন্ন করেন।
পরিবেশ, সুস্থ জীবনযাপন এবং হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলার বার্তা নিয়ে ফাহিম মুনতাসিরের এই দীর্ঘ পদযাত্রা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকের মতে, এটি শুধু একটি পদযাত্রা নয়, বরং পরিবেশবান্ধব জীবনধারার প্রতি সমাজকে উদ্বুদ্ধ করার এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাব কমবেশি ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও। এর মধ্যে জর্ডান অন্যতম দেশ হিসেবে বিদ্যমান। গত কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকবার দেশটির মার্কিন ঘাঁটিতে বোমা হামলা সংঘটিত হয়েছে। এসব ঘটনায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক থাকলেও চলতি চ্যাম্পিয়নশিপে খেলতে যেতে হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ এফসিকে।
বাংলাদেশ ফুটবল লিগের চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্সআপ দল ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে নতুনভাবে অভিষেক হচ্ছে ফর্টিস এফসি এবং বাংলাদেশ পুলিশ এফসির। উভয় দলকেই খেলতে হবে প্লে-অফের কঠিন লড়াইয়ে অংশ নিতে।
ফর্টিস এফসির প্রতিপক্ষ কিরগিজস্তানের মুরাস ইউনাইটেড এফসি। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ফর্টিস এফসির পরিচিত মাঠ বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ পুলিশ এফসিকে পাড়ি দিতে হবে সুদূর জর্ডানে। সেখানে সিরিয়ার আল-ইত্তিহাদ আহলি অব আলেপ্পোর বিপক্ষে খেলতে হবে তাদের। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আম্মানের কিং আব্দুল্লাহ স্টেডিয়ামে। উভয় প্লে-অফ ম্যাচই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১১ আগস্ট।
জর্ডানে যুদ্ধাবস্থা এবং নিরাপত্তার পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ পুলিশ এফসি আগেই এএফসিকে বিকল্প ভেন্যুর প্রস্তাব দিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল। কিন্তু এএফসি তাতে কর্ণপাত করেনি। ফলে বাধ্য হয়েই তাদের জর্ডানে গিয়ে খেলতে হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ এফসির ম্যানেজার আহসান উদ্দিন সামি জানান, আমরা এএফসির কাছে পূর্বেই চিঠি দিয়ে আমাদের উদ্বেগের বিষয়ে জানানোর চেষ্টা করেছি। প্রয়োজনে ভেন্যু বদলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে তারা পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছে। এর ফলস্বরূপ, আমাদের সেখানেই এএফসির ম্যাচে অংশগ্রহণ করতে হবে।
পুলিশ এফসির কোচ আরিফুজ্জামানও মন্তব্য করে বলেন, জর্ডানে খেলা নিয়ে কিছুটা আতঙ্ক তো রয়েছে। তবে আমরা সবাই খেলার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। তাছাড়া আমাদের হাতে বিকল্প কিছু নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কমান্ডারের সঙ্গে বিরোধের কারণে দখলদার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর (আইডিএফ) গিভাতি ব্রিগেডের তজাবার ব্যাটালিয়নের কয়েক ডজন সেনা ঘাঁটি ত্যাগ করে চলে গেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এসদে তেইমান সামরিক ঘাঁটিতে এই ঘটনাটি ঘটে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরায়েল’-এর একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা গেছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই সেনারা ঘাঁটি থেকে বেরিয়ে যায়। তবে যাওয়ার সময় তারা নিজেদের ব্যবহৃত অস্ত্র ঘাঁটিতে রেখে গেছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ব্যাটালিয়নের কমান্ডার ইউনিটের টাঙানো কয়েকটি সাজসজ্জাসংক্রান্ত সাইনবোর্ড খুলে তা ধ্বংস করার একটি নির্দেশ দেন। এর জেরে সেনাসদস্যদের সঙ্গে তার তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়।
আইডিএফের দাবী, ওই সাইনবোর্ডগুলোতে এমন কিছু বিষয় ছিল, যা ইউনিটের নতুন সদস্যদের অসম্মান বা অপমানজনকভাবে উপস্থাপন করত। তবে প্রতিবাদী সেনাদের দাবী, সাইনবোর্ডগুলো তাদের ব্যাটালিয়নের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ঘটনার বিষয়টি সম্পর্কে এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডারগণ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। সেনাবাহিনীর মূল মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলার সঙ্গে এ ধরনের আচরণ মানানসই নয়, এমনটিও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমে জ্যেষ্ঠ ও জুনিয়র সেনাদের মধ্যে বৈষম্যমূলক আচরণ বা অসন্তোষের কারণে একযোগে ঘাঁটি ত্যাগের ঘটনা নতুন নয়। অতীতে বিভিন্ন পদাতিক ইউনিটে এধরনের বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ