বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৫২ পি.এম
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে গত কয়েক দিনে ১০ হাজারেরও বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী হামলা চালিয়েছে।
জেরুজালেম প্রশাসন বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে এ তথ্য প্রদান করেছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত শনিবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব সুক্কোট শুরু হওয়ার পর থেকে এসব বসতি স্থাপনকারী আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে।
গত কয়েক দিনে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক বসতি স্থাপনকারী আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করে। বুধবারও ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতিতে মুসলমানদের এই পবিত্র স্থানে প্রবেশ করে বিপুলসংখ্যক বসতি স্থাপনকারী।
এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন জানায়, গত তিন মাসে স্থানীয় বাসিন্দাদের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইসরায়েল ৮০টিরও বেশি আদেশ জারি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুইজারল্যান্ডের হিমবাহ ভয়াবহ হারে বরফ হারাচ্ছে, যা রেকর্ড তাপমাত্রা ও কম তুষারপাতের কারণে ঘটছে। ২০২৬ সালের মধ্যে, দেশটির হিমবাহগুলো মোট বরফের ৫ শতাংশেরও বেশি হারিয়েছে। গত পাঁচ বছরে, দেশটির হিমবাহগুলোর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বরফ গলে গেছে।
এই তথ্যটি রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
সুইস গ্লেসিয়ার মনিটরিং নেটওয়ার্ক (গ্ল্যামোস) এবং সুইস একাডেমি অব সায়েন্সেসের ক্রায়োস্ফিয়ার পর্যবেক্ষণ কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চলতি বছরে হিমবাহ গলার হার অত্যন্ত বেশি ছিল। শীতকালে পর্যাপ্ত তুষারপাতের অভাব এবং গ্রীষ্মে রেকর্ড তাপমাত্রার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
গ্ল্যামোসের পরিচালক ম্যাথিয়াস হুস মন্তব্য করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বরফ গলার ঘটনা চরম মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, "হিমবাহগুলো যেভাবে দ্রুত গলে যাচ্ছে, তা ভবিষ্যতে ইউরোপের বরফাঞ্চলগুলোর টিকে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।"
সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় হিমবাহ আলেচ হিমবাহ এ বছর তার ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বরফ হারিয়েছে। অন্যদিকে, গ্লেসিয়ার দ্য সঁফ্লেরোঁর গড় পুরুত্ব চার মিটারেরও বেশি কমে গেছে। হুস জানান, "কয়েক বছর আগেও এমন মাত্রার বরফ গলা অকল্পনীয় ছিল।"
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো থেকে প্রায় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন লিটার পানি বরফ গলে বের হয়েছে। এই পরিমাণ দেশটির পরিবারগুলোর এক বছরের মোট পানীয় জলের ব্যবহারের চার গুণেরও বেশি।
হিমবাহের বরফ গলে যাওয়ার ফলে গ্রীষ্মকালে পানির ঘাটতি কিছুটা কমে। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, হিমবাহের আকার ক্রমেই ছোট হয়ে যাওয়ার কারণে ভবিষ্যতে এই সুবিধাও কমে আসবে।
২০২২ সালে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো আরও ভয়াবহ মাত্রায় বরফ হারিয়েছিল। সে বছর উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা ধুলোর স্তর তুষারের ওপর জমে বরফ গলার গতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চরম বরফ গলার ঘটনা ঘন ঘন ঘটছে।
গবেষকদের মতে, হিমবাহ দ্রুত সংকুচিত হওয়ার প্রভাব শুধুমাত্র পাহাড়ি অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘমেয়াদে পানি সরবরাহসহ বিভিন্ন পরিবেশগত ব্যবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর সাপাহার এলাকায় এক মাদরাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগে মো. মোহাম্মদ আলী (২৮) নামের এক মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে মাদরাসার একটি শ্রেণিকক্ষে ওই ছাত্রী একা অবস্থান করছিল। এই সুযোগে অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী সেখানে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালান। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষক পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে সাপাহার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী এর আগেও বিভিন্ন সময়ে মাদরাসার ছাত্রীদের শ্রেণিকক্ষের দরজা বন্ধ রাখতে বলাসহ বিভিন্ন ধরনের অশোভন আচরণ করতেন। পুলিশ জানিয়েছে, এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
এ বিষয়ে সাপাহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সার্বিক বিষয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সময় বাংলাদেশ থেকে প্রেসার, ডায়াবেটিসসহ নিয়মিত ব্যবহারের ওষুধ নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইংরেজিতে প্রেসক্রিপশন বা ডাক্তারের চিঠি রাখার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)।
ওষুধকে মূল প্যাকেটে রাখা এবং প্রবেশের সময় কাস্টমস কর্মকর্তাকে জানানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে, শুধুমাত্র প্রেসক্রিপশন থাকলেই সব ধরনের ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার অনুমতি নেই। নিউইয়র্কের জেএফকেসহ যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো প্রবেশপথে ওষুধ বহনের জন্য সংশ্লিষ্ট ফেডারেল নিয়ম প্রযোজ্য।
সিবিপির নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব ওষুধ সঙ্গে আছে, সেগুলো নিজের চিকিৎসার জন্য কেন প্রয়োজন, তা বোঝাতে ইংরেজিতে বৈধ প্রেসক্রিপশন বা ডাক্তারের চিঠি রাখা উচিত। যদি ওষুধ মূল প্যাকেটে না থাকে, তাহলে প্রেসক্রিপশনের কপি অথবা রোগ ও চিকিৎসার প্রয়োজন ব্যাখ্যা করা ডাক্তারের চিঠি সঙ্গে রাখতে হবে।
প্রেসক্রিপশনে রোগীর নাম, ওষুধের জেনেরিক নাম, ডোজ এবং ব্যবহারের নির্দেশনা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা থাকলে ওষুধ শনাক্ত করা সহজ হয়। মূল কাগজের পাশাপাশি ফটোকপি রাখা এবং ফোনে ডিজিটাল কপি সংরক্ষণ করা বাড়তি প্রস্তুতির জন্য সহায়ক হতে পারে।
ওষুধকে মূল লেবেলযুক্ত প্যাকেট বা বোতলে রাখার পরামর্শ দিয়েছে সিবিপি। সম্ভব হলে প্যাকেটে ডাক্তারের ব্যবহারের নির্দেশনাও থাকতে হবে। এতে কাস্টমস পরীক্ষার সময় ওষুধ ও প্রেসক্রিপশনের তথ্য মিলিয়ে দেখা সহজ হয়।
পরিমাণের ক্ষেত্রে সাধারণ নির্দেশনা হলো, নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ নেওয়া এবং সাধারণভাবে ৯০ দিনের সরবরাহের বেশি সঙ্গে না রাখা। তবে, এই নির্দেশনাকে সব যাত্রীর জন্য সব ধরনের ওষুধ নেওয়ার অনুমতি হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, এফডিএ জানিয়েছে, সাময়িকভাবে আমেরিকায় আসা বিদেশি নাগরিকেরা ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য ৯০ দিনের ওষুধ আনতে পারেন। এ নির্দেশনায় বিদেশি নাগরিক বলতে আমেরিকার নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা নন, এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে। ফলে আমেরিকান নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারীদের একই সুবিধা প্রযোজ্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
এফডিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশে অনুমোদিত কোনো ওষুধ আমেরিকায় অনুমোদিত না হলে সেটি আমদানিতে বিধিনিষেধ থাকতে পারে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কিছু ক্ষেত্রে ছাড় বিবেচনা করা হলেও তা শর্তসাপেক্ষ। বাংলাদেশে ওষুধটি সহজে পাওয়া যায় কিংবা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন রয়েছে, এই কারণেই আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি নিশ্চিত হয় না।
বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন নিয়ন্ত্রিত উপাদানযুক্ত ওষুধের ক্ষেত্রে। কিছু ঘুমের, ব্যথার বা অন্য চিকিৎসার ওষুধ এই শ্রেণিতে পড়তে পারে। এসব ওষুধের ক্ষেত্রে ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ডিইএর নিয়মও মানতে হয়। তাই ভ্রমণের আগে ওষুধের জেনেরিক নাম ও উপাদান অনুযায়ী প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন থাকার পরিকল্পনা থাকলে সঙ্গে আনা ওষুধ শেষ হওয়ার আগেই স্থানীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত। প্রাইমারি কেয়ার ডাক্তারের কাছে আগের প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসার কাগজপত্র নিয়ে গেলে চলমান চিকিৎসা মূল্যায়নে সহায়তা হবে। স্থানীয় ফার্মেসি থেকে পরবর্তী ওষুধ পাওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই চিকিৎসক ও ফার্মেসির সঙ্গে নিশ্চিত করা উচিত।
ভ্রমণের প্রস্তুতিতে সবচেয়ে জরুরি হলো ওষুধের পরিচয় স্পষ্ট রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নেওয়া এবং কাস্টমস কর্মকর্তাকে ওষুধের কথা জানানো। নিজের নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বাসিন্দার অবস্থান এবং ওষুধের ধরন অনুযায়ী এফডিএ, সিবিপি ও প্রয়োজনে ডিইএর নির্দেশনা মিলিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বামী-সন্তানহীন তিন বোন। বয়সের ভার, অসুস্থতা ও প্রতিবন্ধিতার কারণে অন্যের সহায়তা ছাড়া তাঁদের চলাফেরাও কঠিন। জরাজীর্ণ একটি ঘরে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন কাটছিল তাঁদের। তিন বোনের অসহায়ত্ব নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে নাগেশ্বরী উপজেলা প্রশাসন।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের দেবীপুর পণ্ডিতপাড়া গ্রামের মৃত তোফাজ্জল হোসেনের তিন মেয়ে মন্তনী বেওয়া (৭৯), বোছ বেগম (৭৫) ও তুলি বেগম (৫৫)। তাঁদের মধ্যে মন্তনী বেওয়ার কোমরের হাড় ভাঙা, বোছ বেগম শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং তুলি বেগম বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী।
গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে ‘তিন বোনের নেই আপনজন, ভাঙা ঘরে অসহায় জীবন’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর বিষয়টি নাগেশ্বরী উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিন বোনের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের শুকনা খাবার ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রীজীব কুন্ডু ও সংবাদকর্মী মিজানুর।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে তিন বোন একে অপরকে অবলম্বন করে জীবন কাটাচ্ছেন। তাঁদের নিয়মিত কোনো আয়ের উৎস নেই। জরাজীর্ণ ঘরে বসবাসের পাশাপাশি খাবার ও চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতেও তাঁদের চরম কষ্ট হয়।
এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আলাউদ্দিন জানিয়েছিলেন, তিন বোনের জন্য প্রাথমিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে তাঁদের ঘরের জন্য টিনসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, তিন বোনের জন্য নিয়মিত খাদ্য ও চিকিৎসাসহ বসবাসের উপযোগী একটি নিরাপদ ঘরের ব্যবস্থা করা জরুরি। তাঁরা এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনসহ সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ