০৯:২০ পি.এম
পারস্য উপসাগরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইল (বস্তু) আঘাত হেনেছে। এ নিয়ে আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেছে জাহাজ নজরদারি সংস্থা ইউকে মেরিটাইমস ট্রেড অপারেশন্স।
আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের নিরাপত্তা তথ্য সমন্বয়কারী সংস্থাটি জানায়, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে নিয়মিত চলাচলের সময় ঘটনাটি ঘটে। গত ২৪ ঘণ্টায় তেলবাহী ট্যাংকারে আঘাতের দ্বিতীয় ঘটনা এটা। এর আগে আজ মঙ্গলবার ভোরে একটি গ্যাস বহনকারী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে।
ইউকেএমটিওর প্রাথমিক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আঘাতে ট্যাংকারটির মূল কাঠামোর একটি নির্দিষ্ট অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, জাহাজের মূল তেল সংরক্ষণ কাঠামো অক্ষত রয়েছে এবং কোথাও ভেঙে যায়নি।
আরও পড়ুন: সাত দশক পর আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সভাপতি হলেন পাকিস্তানের আহাদ খান চিমা
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ঘটনায় জাহাজের কোনো নাবিক হতাহত হননি। পাশাপাশি আশপাশের সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়া বা রাসায়নিক দূষণের মতো কোনো তাৎক্ষণিক পরিবেশগত ক্ষতিরও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রজেক্টাইলটি কোথা থেকে এসেছে বা ঠিক কী ধরনের ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটে অতীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ঘটনাটি সেই প্রেক্ষাপটে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইউকেএমটিও জানিয়েছে, তাদের প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ঘটনাটির তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগর এলাকায় চলাচলকারী আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাডার নজরদারি জোরদার করা এবং সন্দেহজনক কোনো নৌযান বা অস্বাভাবিক গতিবিধি দেখা গেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।
এর আগে আজ মঙ্গলবার ভোরে হরমুজ প্রণালীর ওমান উপকূলে চলাচল করার সময় একটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর বিষয়টি জানায় ইউকেএমটিও। সংস্থাটি আরও জানায়, প্রণালীতে ওমানের লিমার কাছে ট্যাংকারটিতে হামলা হয়। ট্যাংকারটি যখন প্রণালি থেকে বেরিয়ে দক্ষিণে ওমান উপসাগরের দিকে যাচ্ছিল, তখন এর বাঁ পাশে আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্রটি।
আরও পড়ুন: জাতীয় সংসদের এলডি হলে শুরু হলো বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬ সম্মেলন
সংস্থাটি জানিয়েছে, হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত করছে। ইরানি টেলিভিশন জানায়, 'সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায়' প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী ট্যাংকারটি হামলার শিকার হয়। তবে তেহরান সরাসরি হামলার দায় স্বীকার করেনি।
দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে অ্যাক্সিওस দাবি করে, ইরানের সেনাবাহিনী প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। একজন কর্মকর্তা জানান, আরও একটি জাহাজে হামলা হয়েছে এবং উভয় জাহাজেরই উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে; তবে কেউ হতাহত হয়নি।
তবে বিষয়টি ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছের তেহরানভিত্তিক বিশ্লেষক হোসেইন রোইভারান। তিনি আল-জাজিরাকে বলেন, ইরানি বাহিনী যেখানে মাইন অপসারণ অভিযান চালাচ্ছিল, ট্যাংকারটি সেই এলাকায় ঢুকে পড়ায় এটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে।
রোইভারান আরও বলেন, 'ওমানের কাছাকাছি এলাকা সম্ভবত মাইনে পূর্ণ। এমনও হতে পারে, জাহাজগুলো এমন দিকে যাচ্ছিল যেখানে ইরানি দলগুলো মাইন অপসারণ করছিল, আর জাহাজের চলাচল সেই দলগুলোর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।'
আরও পড়ুন: তারেক রহমানের পরিকল্পনায় বিএনপির নেতৃত্বে গণ-অভ্যুত্থান: নুরুল আমিন
তেহরান বারবার বলে আসছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কেবল তাদের অনুমোদিত পথই নিরাপদ। ওমান উপকূলঘেঁষা বিকল্প পথ ব্যবহারকারী অন্যান্য জাহাজেও হামলার সন্দেহভাজন হিসেবে দেশটির নাম উঠে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন