ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে বিকল্প উৎস ব্যবহারের পরিকল্পনা : এ্যানি


ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে বিকল্প উৎস ব্যবহারের পরিকল্পনা : এ্যানি

পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সরকার বিকল্প উৎসের পানি ব্যবহারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য খায়রুল কবির খোকন (নরসিংদী-১)-এর তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, পানি সংকটাপন্ন এলাকা চিহ্নিতকরণ, অ্যাকুইফার ম্যাপিং এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির পরিমাণ, গুণগত মান ও নিরাপদ উত্তোলনসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ওপর নির্ভরশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

আরও পড়ুন: গোদাগাড়ী মডেল থানার পুলিশ গরু চুরির অভিযোগে উজ্জল নামে চোরকে গ্রেপ্তার করেছে

মন্ত্রী আরও জানান, অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণে পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ায় জাতীয় পানি সম্পদ পরিষদের নির্বাহী কমিটি (ইসিএনডব্লিউআরসি) বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩-এর ধারা ১৭ ও ১৯ অনুযায়ী গত ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে গেজেটের মাধ্যমে বরেন্দ্র অঞ্চলের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও রাজশাহী জেলার ২৫টি উপজেলার ২১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৫৩টি ইউনিয়নকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৪৭টি অতি উচ্চ, ৪০টি উচ্চ এবং ৬৬টি মধ্যম পানি সংকটাপন্ন এলাকা রয়েছে।

এছাড়া মন্ত্রী বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাবার পানি ছাড়া নতুন নলকূপ স্থাপন ও ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন বন্ধ রাখা, বিদ্যমান নলকূপের মাধ্যমে শুধু খাবার পানি সরবরাহ, ফসলের বহুমুখীকরণের মাধ্যমে দুই বছরের মধ্যে সেচে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা এবং প্রাকৃতিক জলাশয় জনগণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখাসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, সরকার বাস্তবায়নাধীন এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং দেশের পানি সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেলিটক বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই : তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২৫ পি.এম


টেলিটক বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই : তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

তিনি মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁও আইসিটি টাওয়ার এলাকায় সেন্টার ফর টেকনোলজি জার্নালিজমের (সিটিজে) সদস্য এবং গণমাধ্যমের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠান টেলিটক কিনতে বা অংশীদার হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে, কিন্তু সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে বিক্রি না করে আধুনিকায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতামূলক অপারেটর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

ফকির মাহবুব আনাম উল্লেখ করেছেন, অনেক প্রতিষ্ঠান টেলিটক কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে, তবে আমরা বিক্রি করব না। বরং আমরা টেলিটককে আপগ্রেড করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।

মন্ত্রী মতবিনিময় সভায় নগদের ভবিষ্যৎ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। নগদ বিক্রির বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, নগদ নিয়ে বর্তমানে মামলা রয়েছে। মামলার নিষ্পত্তির পর সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

নগদ থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ হওয়ার অভিযোগের তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘একবার মানুষের পকেটের টাকা চলে গেলে তা উদ্ধার করা খুবই কঠিন।’

বিশেষ করে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, টেলিটককে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় রেখেই একটি আধুনিক, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক মোবাইল অপারেটরে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, নগদের ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আদালতে চলমান মামলার নিষ্পত্তির পরই নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চামড়া খাত থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয়ের লক্ষ্য : মুক্তাদির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২৬ পি.এম


চামড়া খাত থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয়ের লক্ষ্য : মুক্তাদির

বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত কাঁচা চামড়া থেকে তৈরি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বছরে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের বিরোধীদলীয় সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ তার চামড়াশিল্পের সম্ভাবনার মাত্র ০ দশমিক ২৬ শতাংশ কাজে লাগাতে পারছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করা গেলে উৎপাদন ও রপ্তানি ১২ থেকে ১৪ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর আগে বিদেশি ক্রেতাদের কমপ্লায়েন্স বা পরিবেশগত ও মান-সংক্রান্ত শর্ত কঠোর না থাকায় দেশের নন-কমপ্লায়েন্ট ট্যানারিগুলোও কাঁচা চামড়া রপ্তানি করতে পারত। কিন্তু বর্তমানে কমপ্লায়েন্স একটি প্রধান শর্তে পরিণত হওয়ায় কাঁচা চামড়া রপ্তানি মারাত্মক সংকটে পড়েছে।’

মন্ত্রী আরো যোগ করেন, ‘সাভার চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) দক্ষ পেশাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমবর্ধমান কমপ্লায়েন্স মানদণ্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা বাংলাদেশের চামড়াশিল্পের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের কাজ এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি, কারণ সেখানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত অবকাঠামো এখনো কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।’

মুক্তাদির বলেন, ‘এসব মানদণ্ড পূরণে সরকার সিইটিপিকে পুরোপুরি কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে।’ তিনি জানান, ২৫ হাজার ঘনফুট পানি পরিশোধনের সক্ষমতা নিয়ে সিইটিপি স্থাপন করা হলেও বর্তমানে এটি ১৪ হাজার ঘনফুটের বেশি পানি পরিশোধন করতে সক্ষম নয়।

মন্ত্রী বলেছেন, রপ্তানি আয়ের দিক থেকে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত হলেও এলডব্লিউজি সনদের অভাবে সাভার চামড়া শিল্পনগরীর কারখানাগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর কাছে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করতে পারছে না।

তিনি জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রধান আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর কাছে চামড়া রপ্তানির জন্য এলডব্লিউজি সনদ একটি বাধ্যতামূলক শর্ত। এই নিরীক্ষায় পরিবেশগত মান প্রতিপালন, রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা এবং পণ্যের উৎস শনাক্তযোগ্যতা মূল্যায়ন করা হয়। ফলে প্রিমিয়াম বাজারে প্রবেশের জন্য এ সনদ অর্জন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের চামড়া রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী। ২০০৯-১০ অর্থবছরে চামড়া রপ্তানি থেকে আয় ছিল ২২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যা পাঁচ বছর পর বেড়ে ৪০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। কিন্তু এরপর থেকে রপ্তানি দ্রুত কমতে শুরু করে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা নেমে আসে ১৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আরো কমে দাঁড়ায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ডলারে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে চামড়া রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৯ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিউবানদের ভাতে মারতে চায় যুক্তরাষ্ট্র!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২৭ পি.এম


কিউবানদের ভাতে মারতে চায় যুক্তরাষ্ট্র!

সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র কিউবার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ মূলত আদর্শিক। কিন্তু সেই আদর্শিক লড়াইয়ে জিততে যুক্তরাষ্ট্র এখন কিউবার অর্থনীতিকে গলা টিপে মেরে ফেলতে চায়। কেবল সরকার নয়, কিউবার এক কোটি ৮ লাখ সাধারণ মানুষও যেন এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ। অর্থনীতিকে ধ্বংস করে কিউবার জনগণকে ভাতে মারতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

ষাটের দশক থেকেই যুক্তরাষ্ট্র নানা অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞায় কিউবাকে কাবু করতে মরিয়া। বৃহৎ এই প্রতিবেশীর সাথে লড়াই করেই টিকে আছে কিউবা। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন এখন কিউবাকে বাগে আনতে অবরোধ যুদ্ধে নেমেছে।

যেকোনও অর্থনীতির চালিকাশক্তি হলো জ্বালানি। যুক্তরাষ্ট্র এবার জ্বালানি সরবরাহ থেকে কিউবাকে বিচ্ছিন্ন করার কৌশল নিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধের পর থেকে দেশটির বিদ্যুত ও জ্বালানি খাতে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।

কিউবার অর্থনীতির প্রধান খাত হলো পর্যটন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাত্মক অবরোধের কারণে সেই পর্যটন খাতে রীতিমত ধস নেমেছে। সাদা বালুর সৈকত থেকে শুরু করে স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক দুর্গ, সবই আছে; তবে নেই পর্যটকদের ভিড়। একসময়ের ব্যস্ত পর্যটন কেন্দ্রগুলো এখন ভূতুড়ে শহরে পরিণত হয়ে গেছে, ফাঁকা পড়ে আছে হোটেল রুমগুলো।

কিউবায় পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় গন্তব্য হলো রাজধানীর পুরোনো হাভানা এলাকা। ষোড়শ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত পুরোনো হাভানাকে স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের অন্যতম সেরা সংরক্ষিত নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পুরোনো হাভানার একটি ঐতিহাসিক চত্বরের কাছে প্রায় ৩০ বছর ধরে গিটার বাজিয়ে পর্যটকদের ঐতিহ্যবাহী কিউবান গান শোনাচ্ছিলেন এক ব্যক্তি। এটি ছিল তার পেশা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিল্পী বললেন, “কোনও পর্যটক নেই। হয়তো তারা ঘরেই আছেন। আধ ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা পর পর এক দু’জন আসেন।”

কিউবান সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে মাত্র ৩ লাখ ৬০ হাজার পর্যটক দ্বীপটি পরিদর্শন করেছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৮ শতাংশ কম। অথচ প্রতিবেশী ডোমিনিকান রিপাবলিকে একই সময়ে এর চেয়ে ১০ গুণেরও বেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। সঙ্কট যেভাবে ঘনীভূত হচ্ছে, তাতে কিউবায় পর্যটকের সংখ্যা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক পর্যটন প্রতিষ্ঠান তাদের আগাম বুকিং বাতিল করছে। হাভানায় রিফুয়েলিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় বহু বিমান সংস্থা তাদের সমস্ত ফ্লাইট বাতিল করে দিয়েছে।

কোভিডের সময় বিশ্বের অনেক দেশের মতো কিউবারও পর্যটন খাত অচল হয়ে পড়েছিল। এরপর সরকার নানা বিনিয়োগ করলেও মার্কিন অবরোধের মুখে পর্যটন খাত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। বরং দিন দিন অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। মানুষ ভয়ে কিউবায় যেতে চাইছেন না। যেখানে দিনে ২০/২২ ঘণ্টা লোডশেডিং থাকে সেখানে মানুষ বেড়াতে যাবে কোন দুঃখে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘কিউবানিয়া ট্রাভেলস’-এর পরিচালক লুসি ডেভিস বলেন, “এমন এক ভয়াবহ সঙ্কটে থাকা দেশে কে ভ্রমণ করতে চাইবে? মানুষ তাদের ছুটিতে স্বস্তিতে থাকতে চায়। এই মুহূর্তে কিউবার মতো কোনও স্থানে যাওয়া এক ধরণের ডার্ক ট্যুরিজম হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”

নানামुखী অবরোধ ও অর্থনৈতিক সঙ্কটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশটির সাধারণ মানুষের ওপর। গিটার বাজিয়ে গান গাওয়া সেই শিল্পীর মতো সাধারণ মানুষের পেটে টান পড়েছে। কিউবায় একটি মানবিক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে।

লুসি ডেভিস জানান, সঙ্কটে থাকা মানুষদের খাবারের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছে তার প্রতিষ্ঠান। তবে সঙ্কটের ভয়াবহতায় এই ছোট উদ্যোগ তেমন কাজে আসবে না।

লুসি ডেভিস বলেন, “আমি ক্রমাগত শুনছিলাম যে, মানুষ খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে। আমরা সবাইকে সাহায্য করতে পারব না। আমরা যা করছি তা সাগরে এক ফোটা শিশিরের মত। আমাদের চেষ্টা মাত্র এটুকুই।”

অথচ অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে পর্যটন খাতকেই ভরসা মনে করেছিল কিউবান সরকার। নতুন নতুন হোটেল তৈরিতে বিপুল ব্যয়ও করা হয়েছিল। সেই দামী হোটেলগুলো এখন ফাঁকা পড়ে আছে। হোটেল অবকাঠামোয় বিনিয়োগ কিউবার অর্থনীতির পতনকে আরও ত্বরান্বিত করছে। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল জুনে প্রথমবারের মতো বলেছিলেন, কিউবার নাগরিকরা, এমনকি প্রবাসী কিউবানরাও চাইলে সরকারের পক্ষে হোটেলগুলো পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারেন। তবে সে ডাকে কোনও সাড়া মেলেনি। একদিকে পর্যটক নেই, অন্যদিকে দামী হোটেল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল পুঁজি, সুপ্রতিষ্ঠিত সাপ্লাই-চেইন অথবা প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান কিউবার ভেতরে বা বাইরের বেসরকারি খাতের নেই।

তাহলে যে পর্যটন খাত ছিল কিউবার সম্ভাবনার প্রতীক, সেটাই এখন তাদের ধ্বংসপ্রায় অর্থনীতির চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেন বারবার টানাপোড়েনের মুখে পড়ে ট্রাম্প ও ন্যাটোর সম্পর্ক?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২৯ পি.এম


কেন বারবার টানাপোড়েনের মুখে পড়ে ট্রাম্প ও ন্যাটোর সম্পর্ক?

তুরস্কে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এমন একটি সময়ে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘকাল ধরেই ন্যাটো নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান বিতর্কিত বিষয় হয়ে উঠেছে। তিনি একদিকে যেমন জোটটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটো থেকে প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছেন, অন্যদিকে আবার দাবি করেছেন যে, তার চাপের কারণে ইউরোপীয় দেশগুলো প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। ৭৭ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ন্যাটো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত হয়। কয়েক দশকের সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামো ঘনিষ্ঠভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। তবে ট্রাম্প বরাবরই অভিযোগ করে আসছেন যে, ইউরোপের নিরাপত্তার প্রধান ব্যয় বহন করছে যুক্তরাষ্ট্র, অথচ ন্যাটোর অন্যান্য সদস্য দেশ সে তুলনায় যথেষ্ট দায়িত্ব পালন করছে না। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত ট্রাম্প ও ন্যাটোর সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর আগে ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্র কিংবা ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক পরামর্শ করেননি। পরবর্তীতে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ন্যাটোর মিত্ররা অভিযানে অংশ নেয়নি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা দেয়নি। এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে মতবিরোধ আরও গভীর হয়। যদিও ইউরোপীয় দেশগুলো দাবি করে, যুদ্ধ শুরু করার আগে তাদের সঙ্গে কোনও ধরনের সমন্বয়ই করা হয়নি। ন্যাটো নিয়ে সমালোচনা করলেও ট্রাম্প প্রায়ই দাবি করেন যে, তার কঠোর অবস্থানের কারণে জোটভুক্ত দেশগুলো প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। তিনি একাধিকবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ন্যাটোর সবচেয়ে বড় আর্থিক ও সামরিক বোঝা বহন করেছে। তাই সদস্য দেশগুলোরও নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও বেশি নেওয়া উচিত। তবে সমালোচনার পাশাপাশি ট্রাম্প সময়ে সময়ে ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতিও নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যা জোটের প্রতি তার অবস্থানকে অনেক ক্ষেত্রেই দ্বৈত বার্তা হিসেবে দেখা হয়। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন বিতর্কও ট্রাম্প-ন্যাটো সম্পর্কের আরেকটি বড় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ন্যাটোর সদস্য ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার দাবি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ‘তারা পছন্দ করুক বা না করুক’, যুক্তরাষ্ট্র সেটি অধিগ্রহণ করবে। ট্রাম্পের এই বক্তব্যে ন্যাটো সদস্য দেশগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয় এবং জোটের অভ্যন্তরীণ ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তীতে ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহারের বক্তব্য থেকে কিছুটা সরে এলেও, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিরোধিতা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে কূটনৈতিক দূরত্ব আরও বেড়ে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ইউরোপীয় নেতাদের অন্যতম লক্ষ্য হবে ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করা এবং জোটের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি অটুট রাখা। তবে ইরান যুদ্ধ, ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যয় এবং গ্রিনল্যান্ড ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চলমান মতবিরোধের কারণে ট্রাম্প ও ন্যাটোর সম্পর্ক এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে। ফলে এবারের সম্মেলনে ট্রাম্পের বক্তব্য ও অবস্থানের দিকেই সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের। সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%