বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:০৫ পি.এম
চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে, বিশ্ববাজারে তেলের অস্বাভাবিক দাম কমানোর লক্ষ্যে এবং নিজেদের সংকট মোকাবেলার জন্য জরুরি মজুদ থেকে ডিজেল বাজারে ছাড়ার জন্য জার্মানি ও ফ্রান্সের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন হুমকি দিয়েছে যে, যদি এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত ডিজেল ইউরোপে রপ্তানি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
ওয়াশিংটনের আলোচনার সঙ্গে জড়িত তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষিতে অভ্যন্তরীণ বাজারে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানো জ্বালানির দাম কমানোর চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ইউরোপকে জরুরি মজুদ থেকে অন্তত ১২ কোটি ব্যারেল ডিজেল বাজারে ছাড়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রুশ জ্বালানির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও চীনের ডিজেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ইউরোপ বর্তমানে জ্বালানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোকে নতুন দ্বিধায় ফেলেছে।
এদিকে, উদ্ভূত জ্বালানি সংকট এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে জরুরি আলোচনা শুরু করেছে ইউরোপ। ইউরোপীয় কমিশন, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ড বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে একটি ফোনালাপে অংশগ্রহণ করেছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ইমানুয়েল ম্যাখোঁর বরাতে জানিয়েছে, জ্বালানির বৈশ্বিক প্রাপ্যতা এবং দাম নিয়ন্ত্রণে জি-৭ জোটের নেতাদের নিয়ে একটি জরুরি ভিডিও সম্মেলন আহ্বান করবেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সব সেনা সদস্যদের উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে সেনাবাহিনী প্রধানের নিয়মিত দরবার।
দরবারে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সকলকে তাদের কর্তব্য পালনের সময় পেশাগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা এবং দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সেনাসদর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দরবারে সেনা প্রধান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সার্বিক অগ্রযাত্রায় সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বমুখী দাম এবং শক্তিশালী এল নিনোর সম্মিলিত প্রভাবে আগামী কয়েক মাসে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের খাদ্যসংকটের মুখে পড়তে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক সংঘাতগুলো ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা বিশ্বের অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো এ সংকটে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জয়শঙ্কর বলেন, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বৈশ্বিক দক্ষিণের অর্থনীতিতে ‘ধ্বংসাত্মক প্রভাব’ ফেলেছে। একই সময়ে জ্বালানি, খাদ্য, সার ও অর্থ—সব ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানিসংকটের সঙ্গে খাদ্য ও সারের সংকট যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে ওঠে। যুদ্ধের সময় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বাজারে অর্থ সরিয়ে নেওয়ায় বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলো আর্থিক চাপেও পড়ে।
জয়শঙ্করের এই সতর্কবার্তার মধ্যেই চলতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ বাড়ার পথে রয়েছে, যা জুলাইয়ের পর সবচেয়ে বড় মাসিক বৃদ্ধি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না, বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এদিকে, সৌদি আরবের তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন চলতি মাসের শুরুতে ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রিয়াদ এই হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে। তবে পরে পাইপলাইনটি প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হয়েছে।
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা ও দেশটির ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপে ডিজেলের বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে, রাশিয়া ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্মিলিত ডিজেল রপ্তানি গত বছরের তুলনায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমেছে।
খাদ্যনিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি বাড়ছে। জয়শঙ্কর বলেন, আজ আমরা এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি খাদ্যশস্য রপ্তানিকারক দেশ নিজেদের পণ্য বাইরে পাঠাতে পারছে না। বিশেষ করে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে শস্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্বের অন্যতম প্রধান গম ও অন্যান্য শস্য সরবরাহকারী অঞ্চল থেকে খাদ্যশস্যের জোগান কমে যেতে পারে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর অঞ্চলটির শস্য রপ্তানি বারবার ব্যাহত হয়েছে।
সারের সরবরাহ নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সার উৎপাদনকারী কয়েকটি দেশ মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় অবস্থিত। চলমান সংঘাতের কারণে এসব অঞ্চলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হলে কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এছাড়া, শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। প্রশান্ত মহাসাগরের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতার সঙ্গে সম্পর্কিত এই প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা বিশ্বজুড়ে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। জয়শঙ্করের ভাষায়, এবারের ‘সুপার এল নিনো’র সঙ্গে মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়ন যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণেও এবারের এল নিনোর কারণে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যুর আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোতে ক্ষতির মাত্রা তুলনামূলক বেশি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জয়শঙ্কর বলেন, কোনো দেশের সিদ্ধান্ত শুধু তার নিজের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না; বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সরবরাহব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়ে। তাই নীতিনির্ধারকদের অন্য দেশগুলোর ওপর নিজেদের সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য পরিণতিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
উন্নয়নশীল দেশগুলো কিভাবে এই মন্দা ও সংকট কাটিয়ে উঠবে, তা নিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ‘কিছু দেশের পক্ষে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। তাই আমাদের মতো যারা কৌশলগতভাবে স্বায়ত্তশাসিত, তারা চাই আরও অনেক দেশ স্বনির্ভর হয়ে উঠুক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের ৩য় ব্যাচের নবীন চিকিৎসকদের বরণ উপলক্ষে এবং রোটেটরি ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির জন্য একটি পরিচিতিমূলক কোর্সের আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১লা অক্টোবর ২০২৬) সকালে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, চাঁদপুরের কনফারেন্স রুমে রেনাটা পিএলসির (জঊঘঅঞঅ চখঈ) সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকদের জন্য একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ২৫০ শয্যা চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম. মাহাবুবুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দ আহমেদ কাজল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডা. হারুন অর রশিদ, সাবেক ড্যাব সভাপতি ডা. জাহাঙ্গীর খান, প্রফেসর ডা. সালেহ আহমেদ, ইন্টার্ন কোঅর্ডিনেটর ডা. নূরে আলম মজুমদার এবং সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. হাসানুর রহমান।
বক্তারা নবীন ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং তাদের পেশাগত জীবনের প্রথম পদক্ষেপে রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীলভাবে সেবা দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র ও পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করা হয়। এ সময় চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন চিকিৎসকবৃন্দ, তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং রেনাটা পিএলসির কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, দেশের জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি জানান, বিএনপি সর্বশক্তি দিয়ে আইন সবার জন্য সমান নিশ্চিত করবে এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে। একইসঙ্গে কিছু রাজনৈতিক দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য হয়। এই সময় তিনি বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি, আইনের শাসন এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি দীর্ঘকাল ধরে আন্দোলন করে আসছে। তিনি বলেন, গত ১৭ বছর ধরে দেশের জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং তাদের কথা বলার সুযোগও ছিল না। মানুষের কষ্ট ও দুর্দশা দূর করার জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের জনগণ সেই স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। এরপর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপিকে দায়িত্ব দেওয়ার পর দলটি সর্বশক্তি দিয়ে নিশ্চিত করবে যে আইন সবার জন্য সমান। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে তারা কাজ করবে। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন করে ধীরে ধীরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান তারা।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বন্ধ মিল-কারখানা চালুর মতো কাজে যদি বিঘ্ন ঘটে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের মানুষই।
বক্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী ‘রাজনৈতিক দল’ ও ‘গুপ্তদল’ শব্দ ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে এমন একটি রাজনৈতিক দলের ১৯৭১ সালের ভূমিকার কথা মানুষ জানে। ওই সময় মা-বোনদের হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বর্তমানে ওই দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘গুপ্তবাহিনীর’ কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ দেখা যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় তিনি তদন্তের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না। তবে তিনি এমন একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে নির্যাতনের পাশাপাশি একজন মানুষের জীবনাবসান হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে ওই ‘গুপ্তদলের’ নেতাদের বিএনপিকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিতে দেখা যাচ্ছে। তাদের উদ্দেশে তিনি নিজের ঘরের দিকে আগে তাকানোর আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, নিজেদের লোকজনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ থাকলে আগে সেটি সামাল দেওয়া উচিত, এরপর অন্যদের বিষয়ে কথা বলা উচিত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি মানুষের জন্য এবং দেশের কল্যাণে রাজনীতি করে। খাল খনন, নদী খনন ও ড্রেজিং, কৃষক কার্ড এবং ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা।
মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পের সুফলের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, খাল ও নদী খননের কাজ সফল হলে এলাকার প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ উপকৃত হবে। প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করা সম্ভব হবে এবং ফসল উৎপাদন প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন বাড়বে।
এর আগে ফেনীর উত্তরাঞ্চলে মুহুরী-কহুয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের আওতায় বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ, নদী ও জলাধার পুনঃখনন, সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ইনলেট নির্মাণের কাজ রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখননের কথা রয়েছে। এছাড়া ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন ও ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এরপর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধনের কর্মসূচি রয়েছে।
বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কর্মসূচিতেও প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ