বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:০৮ পি.এম
চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের ৩য় ব্যাচের নবীন চিকিৎসকদের বরণ উপলক্ষে এবং রোটেটরি ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির জন্য একটি পরিচিতিমূলক কোর্সের আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১লা অক্টোবর ২০২৬) সকালে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, চাঁদপুরের কনফারেন্স রুমে রেনাটা পিএলসির (জঊঘঅঞঅ চখঈ) সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকদের জন্য একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ২৫০ শয্যা চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম. মাহাবুবুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দ আহমেদ কাজল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডা. হারুন অর রশিদ, সাবেক ড্যাব সভাপতি ডা. জাহাঙ্গীর খান, প্রফেসর ডা. সালেহ আহমেদ, ইন্টার্ন কোঅর্ডিনেটর ডা. নূরে আলম মজুমদার এবং সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. হাসানুর রহমান।
বক্তারা নবীন ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং তাদের পেশাগত জীবনের প্রথম পদক্ষেপে রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীলভাবে সেবা দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র ও পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করা হয়। এ সময় চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন চিকিৎসকবৃন্দ, তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং রেনাটা পিএলসির কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, দেশের জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি জানান, বিএনপি সর্বশক্তি দিয়ে আইন সবার জন্য সমান নিশ্চিত করবে এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে। একইসঙ্গে কিছু রাজনৈতিক দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য হয়। এই সময় তিনি বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি, আইনের শাসন এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি দীর্ঘকাল ধরে আন্দোলন করে আসছে। তিনি বলেন, গত ১৭ বছর ধরে দেশের জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং তাদের কথা বলার সুযোগও ছিল না। মানুষের কষ্ট ও দুর্দশা দূর করার জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের জনগণ সেই স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। এরপর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপিকে দায়িত্ব দেওয়ার পর দলটি সর্বশক্তি দিয়ে নিশ্চিত করবে যে আইন সবার জন্য সমান। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে তারা কাজ করবে। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন করে ধীরে ধীরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান তারা।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বন্ধ মিল-কারখানা চালুর মতো কাজে যদি বিঘ্ন ঘটে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের মানুষই।
বক্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী ‘রাজনৈতিক দল’ ও ‘গুপ্তদল’ শব্দ ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে এমন একটি রাজনৈতিক দলের ১৯৭১ সালের ভূমিকার কথা মানুষ জানে। ওই সময় মা-বোনদের হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বর্তমানে ওই দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘গুপ্তবাহিনীর’ কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ দেখা যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় তিনি তদন্তের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না। তবে তিনি এমন একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে নির্যাতনের পাশাপাশি একজন মানুষের জীবনাবসান হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে ওই ‘গুপ্তদলের’ নেতাদের বিএনপিকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিতে দেখা যাচ্ছে। তাদের উদ্দেশে তিনি নিজের ঘরের দিকে আগে তাকানোর আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, নিজেদের লোকজনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ থাকলে আগে সেটি সামাল দেওয়া উচিত, এরপর অন্যদের বিষয়ে কথা বলা উচিত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি মানুষের জন্য এবং দেশের কল্যাণে রাজনীতি করে। খাল খনন, নদী খনন ও ড্রেজিং, কৃষক কার্ড এবং ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা।
মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পের সুফলের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, খাল ও নদী খননের কাজ সফল হলে এলাকার প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ উপকৃত হবে। প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করা সম্ভব হবে এবং ফসল উৎপাদন প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন বাড়বে।
এর আগে ফেনীর উত্তরাঞ্চলে মুহুরী-কহুয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের আওতায় বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ, নদী ও জলাধার পুনঃখনন, সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ইনলেট নির্মাণের কাজ রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখননের কথা রয়েছে। এছাড়া ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন ও ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এরপর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধনের কর্মসূচি রয়েছে।
বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কর্মসূচিতেও প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নির্ধারিত খাম না থাকার কারণে রোগীদের হাতে এক্স-রে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য পুরনো পত্রিকার কাগজ কেটে খাম তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে। এতে এক্স-রে রিপোর্টের উপর পত্রিকার কালি ও ধুলাবালি লেগে যাওয়ার ফলে রিপোর্ট নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় এক মাস ধরে এক্স-রে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য কোনো খাম নেই। এর মধ্যে অন্তত ২০ দিন ধরে পুরনো পত্রিকার কাগজ কেটে, তাতে পিন দিয়ে খামের মতো তৈরি করে তার ভেতরে এক্স-রে রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে।
রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, এক্স-রে রিপোর্ট সংরক্ষণের জন্য পত্রিকার কাগজ ব্যবহার করা অস্বাস্থ্যকর এবং অপ্রত্যাশিত। পত্রিকার কাগজে থাকা ধুলাবালি ও কালি এক্স-রে রিপোর্টের সঙ্গে লেগে যাওয়ার কারণে রিপোর্টের মানও নষ্ট হচ্ছে।
হাসপাতালে এক্স-রে করাতে আসা আতাউল হোসেন নামের একজন রোগীর স্বজন বলেন, "সরকারি হাসপাতালে এক্স-রে রিপোর্ট পত্রিকার কাগজের তৈরি খামে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। পত্রিকার কাগজ থেকে ধুলাবালি ও কালি রিপোর্টে লেগে সেটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রিপোর্টটি তো আমরা ফ্রি করছি না। তাহলে একটা খাম দিতে অসুবিধা কোথায়।"
রবিউল ইসলাম নামের এক রোগী বলেন, "এক্স-রে করার পর রিপোর্ট নিতে গিয়ে দেখি খামের বদলে পুরাতন ময়লাযুক্ত পত্রিকার কাগজের মধ্যে ফিল্মটি ঢুকিয়ে হাতে ধরিয়ে দিল। সরকারি হাসপাতালে খাম কেনার জন্য কি কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয় না? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কতটা উদাসীন হলে এভাবে রোগীর সেবা দিতে পারে।"
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং) সামিউর রহমান বলেন, "গত প্রায় এক মাস ধরে এক্স-রে রিপোর্ট দেওয়ার খাম শেষ হয়ে গেছে। তারপর থেকে আমি নিজে পত্রিকার কাগজ কেটে খাম তৈরি করে তার মধ্যে ফিল্ম ধরে রোগীদেরকে দিচ্ছি। এভাবে রিপোর্ট দেওয়া বেশ অস্বস্তিকরও বটে।"
তিনি আরও বলেন, "বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে প্রথমে মৌখিক এবং পরবর্তীতে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কর্তৃপক্ষ যদি তারপরও ব্যবস্থা না নেয় তাহলে আমার কি করার আছে।"
সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে রোগীদের গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল রিপোর্ট সংরক্ষণ ও সরবরাহের ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রোগী ও স্বজনরা দ্রুত নির্ধারিত খামের ব্যবস্থা করে এ সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ডাক্তার আমানুল্লাহ আল মামুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার কামরুজ্জামান বলেন, "বাজেট না থাকায় রোগীর এক্স-রে ফিল্ম সরাসরি হাতেও দেওয়া যাবে। পুরাতন পত্রিকায় মুড়িয়ে দিলেও তাতে কোনো অসুবিধা নেই।"
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যতম সদস্য কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, "স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের হাটহাজারী মধ্যম মাদার্শা সার্বজনীন শান্তি নিকেতন বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির নির্বাচন সম্প্রতি বিহার প্রাঙ্গণে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি হিসেবে দীপঙ্কর বড়ুয়া নির্বাচিত হয়েছেন, এবং সাধারণ সম্পাদক পদে বোলন বড়ুয়া নির্বাচিত হয়েছেন।
অর্থ সম্পাদক পদে নিদু বড়ুয়া প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যান্য পদের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ক্যান্সারে আক্রান্ত পিতার চিকিৎসার জন্য অর্থ আত্মসাৎ করে ঘর থেকে বের করে দেওয়া এবং বোনদের সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের উত্তর মাহিনী গ্রামের রুস্তম আলী হাজারীর পুত্র সামছুল আলম, নূরুল আলম, নুরুন্নবী ও খোরশেদের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বোনদের ডাকা সালিশ বৈঠকে গ্রামবাসীর চাপের কারণে পিতা রুস্তম আলী হাজারীকে ঘরে নেওয়া হলেও এক মাস তাদের কাছে থাকার পর বিনাচিকিৎসায় তার মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন রুস্তম আলী হাজারীর কন্যা সুফিয়া ও সাজেদা।
এদিকে, রুস্তম আলী হাজারী ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসার খরচের জন্য জমি বিক্রির বায়না বাবদ পাওয়া টাকা পরিশোধ করতে না পারায়, ওই টাকা গ্রহণের সাক্ষী থাকার অপরাধে কুমিল্লার কারাগারে যেতে হয় সুফিয়া ও সাজেদাকে। বৃহস্পতিবার সকালে ভাইদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন রুস্তম আলী হাজারীর কন্যা সুফিয়া বেগম ও সাজেদা বেগম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুফিয়া বেগমের স্বামী আঙ্গুলখোঁড় গ্রামের আব্দুল হান্নান এবং সাজেদা বেগমের স্বামী তিলিপ গ্রামের সিরাজুল হক।
সংবাদ সম্মেলনে সুফিয়া বেগম ও সাজেদা বেগম বলেন, "আমাদের মা পাঞ্জাবের নেছা ২০২০ সালে মারা যাওয়ার পর আমার পিতাকে জিম্মি করে সামছুল আলম, নূরুল আলম, নুরুন্নবী ও খোরশেদ ২৫ শতক জমির মধ্যে ২২ শতক কবলা করে নিয়ে যায়। পরে বাবা আমাদের ২ বোনকে ২ শতক জমি দিয়ে এক শতক নিজের নামে রাখেন। এরই মধ্যে বাবার প্রস্রাবের রাস্তায় ক্যান্সার সনাক্ত হয়। ক্যান্সার রোগের বিষয় জানার পর থেকে আমার ভাইয়েরা বাবাকে ঘর থেকে বের করে দেয়, পরে আমরা তাকে আমাদের বাড়িতে আশ্রয় দেই। সর্বশেষ আমরা আমাদেরকে দেওয়া দুই শতক সম্পত্তিতে একটি ছোট ঘর করে দিয়ে সেখানে বাবাকে রাখি। পরে বাবার চিকিৎসার জন্য জমিটি স্থানীয় একজনের কাছে বিক্রির বায়না করে ১ লাখ টাকা নিয়ে আমাদের ভাই নুরুন্নবীর কাছে রাখি। কিছুদিন পর নুরুন্নবী ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে দাবি করে এবং পরে বাকি ৫০ হাজারও আত্মসাৎ করে। পরে এ বায়না টাকার জন্য আমরা ২ বোন জেলে পর্যন্ত গিয়েছি। এখন ভাইয়েরা আমাদের জমিটি দখল করার চেষ্টা করছে ও বিভিন্নভাবে আমাদেরকে হয়রানি করছে।"
সুফিয়া বেগমের স্বামী আব্দুল হান্নান ও সাজেদা বেগমের স্বামী সিরাজুল হক বলেন, "আমাদের শ্বশুরের সব সম্পত্তি তারা কবলা করে নিয়ে তাকে ঘর থেকে বের করে দেয় ও চিকিৎসার টাকা গুলোও আত্মসাৎ করে। এখন তারা আমাদের স্ত্রীদের থানা, আদালত-সহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে।" অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে অভিযুক্ত সামছুল আলমকে পাওয়া গেলেও অন্যদের পাওয়া যায়নি। তবে পিতা রুস্তম আলী হাজারীর চিকিৎসার টাকা আত্মসাৎ করে কেন ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে ও বোনদের জমি দখল করার চেষ্টা ও হয়রানির বিষয়ে প্রশ্ন করলে সামছুল আলম উত্তেজিত হয়ে যান ও বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে নাঙ্গলকোট থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিনূর ইসলাম বলেন, "ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ