০৭:২৪ এম
ত্বক শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং এটি শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে কিছু স্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেয়, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যাভ্যাসের কারণে এই পরিবর্তনগুলো আরও দ্রুত ঘটতে পারে।
বিশেষ করে কিছু খাবার এবং পানীয় ত্বকের কোলাজেনকে নষ্ট করে, প্রদাহকে বাড়িয়ে দেয় এবং স্থিতিস্থাপকতা কমিয়ে ফেলে। এর ফলে অল্প বয়সেই ত্বকে বলিরেখা, শুষ্কতা এবং ক্লান্ত ভাব দেখা দিতে পারে। চলুন, এমন কিছু খাবার সম্পর্কে জানি যেগুলো ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।
অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত শর্করা: মিষ্টিজাতীয় খাবার, কেক, পেস্ট্রি, সাদা পাউরুটি বা পরিশোধিত আটা দিয়ে তৈরি খাবার বেশি খেলে শরীরে ‘গ্লাইকেশন’ প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। এতে চিনি ও প্রোটিনের বিক্রিয়ায় ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হয় যে গুলো ত্বকের কোলাজেন এবং ইলাস্টিনের ক্ষতি করে। ফলে ত্বক তার স্বাভাবিক দৃঢ়তা হারাতে শুরু করে এবং দ্রুত বয়সের ছাপ ফুটে ওঠে। বিশেষজ্ঞরা কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনি মেশানো চা, লেমোনেড এবং সিরাপযুক্ত কফি পানীয় কম খাওয়ার পরামর্শ দেন, কারণ এগুলোতে পুষ্টিগুণ কম থাকা সত্ত্বেও ক্ষতিকর প্রভাব বেশি।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
প্রক্রিয়াজাত ও ভাজাপোড়া খাবার: চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, সসেজ, হটডগ এবং অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত বা তেলে ভাজা খাবার শরীরে প্রদাহ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। এসব খাবারে সাধারণত প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি থাকে, যা ত্বকের পুনর্গঠন ও কোলাজেন উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য। নিয়মিত এ ধরনের খাবার খেলে ত্বক দ্রুত নিস্তেজ ও শুষ্ক হয়ে যায়।
অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে বা অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনের কারণে ত্বকের দ্রুত বার্ধক্য ঘটে। যারা নিয়মিত বেশি পরিমাণে অ্যালকোহল পান করেন, তাদের মধ্যে চোখের নিচে ফোলাভাব, ত্বক ঢিলে হয়ে যাওয়া এবং মুখে বয়সের ছাপ স্পষ্ট হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তাই ত্বক ও স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় অ্যালকোহল গ্রহণ সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার: অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ শুধুমাত্র রক্তচাপ বাড়ায় না, বরং ত্বকেরও ক্ষতি করে। এটি শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ায় যা কোষের ক্ষতি ঘটায়; ফলে ত্বকে দ্রুত বয়সের ছাপ দেখা দিতে পারে। পাউরুটি, চিজ, প্রক্রিয়াজাত মাংস, পিজ্জা এবং বার্গারের মতো খাবারে সাধারণত লবণের পরিমাণ বেশি থাকে।
ট্রান্স ফ্যাটসমৃদ্ধ খাদ্য: ‘পার্শিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল’যুক্ত খাবারে ট্রান্স ফ্যাট থাকতে পারে, যা হৃদ্রোগের ঝুঁকির পাশাপাশি ত্বকের কোলাজেনকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। কুকিজ, কেক, ডোনাট, চিপস, ফ্রোজেন পিজ্জা এবং কিছু প্রক্রিয়াজাত মাংসে এ ধরনের চর্বি মেলে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
ত্বক সতেজ রাখতে কী খাবেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে। চিনি ছাড়া গ্রিন টি ত্বকের আর্দ্রতা ও স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে সাহায্য করে। অলিভ অয়েল, সামুদ্রিক মাছ ও ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার ত্বককে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। বাদামে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহবিরোধী উপাদান ত্বকের কোষের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। স্ট্রবেরি, ব্লুবেরিসহ বিভিন্ন বেরিজাতীয় ফলে থাকা ভিটামিন সি ও পলিফেনল কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করে।
ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখার কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নেই। তবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন এনে এবং ক্ষতিকর খাবার কমিয়ে দীর্ঘদিন ত্বককে উজ্জ্বল, সতেজ এবং সুস্থ রাখা সম্ভব।
সূত্র: হেলথ
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন