বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:১০ পি.এম
তেলেগু সুপারস্টার মহেশ বাবুর ছেলে গৌতম ঘট্টামনেনির একটি চলচ্চিত্রের রেটিং নিয়ে বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা ও তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। কন্নড় তারকা যশের নতুন মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘টক্সিক’কে জনপ্রিয় সিনেমা রিভিউ প্ল্যাটফর্ম ‘লেটারবক্সড’-এ ২০ বছর বয়সী এই তারকা সন্তান মাত্র ০.৫ (আধা) স্টার দিয়েছেন।
গীতু মোহনদাস পরিচালিত এই সিনেমাটি নিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে গৌতমের দেওয়া এই সর্বনিম্ন রেটিং নেটিজেন ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ছবি রিভিউ করার জন্য গৌতমের লেটারবক্সডে অ্যাকাউন্ট ও কার্যক্রম সিনেপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। দেখা গেছে, তরুণ বয়সে তিনি বিভিন্ন ভাষা ও ঘরানার প্রায় ৪০০টিরও বেশি চলচ্চিত্র দেখে সেগুলোর রেটিং দিয়েছেন। তেলেগু বিনোদনজগতের সঙ্গে সরাসরি পারিবারিক যোগাযোগ থাকলেও গৌতমের নিজস্ব রুচি এবং স্বাধীন মতামত তার প্রোফাইলে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। যশ অভিনীত ‘টক্সিক’ মুক্তির আগে থেকেই দর্শকদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। তবে মুক্তির পর থেকেই এর গল্প ও নির্মাণের ধরন নিয়ে দর্শকরা দ্বিখণ্ডিত হয়ে পড়েন।
গৌতমের কাছ থেকে যশের ‘টক্সিক’ সিনেমাটি একমাত্র নয়, বিজয় দেবরাকোন্ডা অভিনীত ‘লাইগার’ ছবিটিকেও তিনি একইভাবে মাত্র ০.৫ স্টার দিয়েছিলেন। এতে স্পষ্ট হয় যে ‘টক্সিক’ ছবিটিকে কম রেটিং দেওয়া কোনো হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়, বরং নিজের কঠোর ব্যক্তিগত রুচির ভিত্তিতে তিনি এই মূল্যায়ন করেছেন।
মহেশ বাবুর সিনেমার ক্ষেত্রেও গৌতম পেশাদার ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছেন। তিনি মহেশ বাবুর ব্লকবাস্টার হিট ‘পোকিরি’ এবং ‘১: নেনোক্কাদিনে’ সিনেমা দুটিকে পূর্ণ ৫ স্টার রেটিং দিয়েছেন। তবে বাবার সব ছবি তার মন জয় করতে পারেনি। ‘নিজাম’ এবং ‘বংশী’ ছবি দুটিকে তিনি দিয়েছেন মাত্র ২ স্টার, আর মহেশ বাবুর ‘ব্রহ্মোৎসবম’ ছবিটি পেয়েছে তার থেকে সর্বনিম্ন ১ স্টার রেটিং।
গৌতমের পছন্দের পরিধি কেবল তেলেগু সিনেমার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বেশ কিছু কালজয়ী ছবিকে ৫ স্টার দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘শোলে’, ‘প্রজেক্ট হেইল ম্যারি’, ‘নাইভস আউট’, ‘জার্সি’ এবং এস এস রাজামৌলির ‘বাহুবলী ২’। এছাড়া ‘পেল্লি চুপুলু’ এবং ‘সীতা রামম’ ছবিগুলিকে তিনি ৪.৫ স্টার দিয়েছেন। সমসাময়িক ও সাম্প্রতিক মুক্তির মধ্যে আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’ ছবিটিকে তিনি ৪ নম্বর এবং এর সিক্যুয়েল ‘ধুরন্ধর ২’ (ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ)-কে ৩ নম্বর রেটিং দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গীতু মোহনদাস পরিচালিত অ্যাকশন-ড্রামা ‘টক্সিক’ সিনেমাটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন যশ। ছবিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা গেছে কিয়ারা আদভানি, নয়নতারা, হুমা কুরেশি এবং তারা সুতারিয়ার মতো জনপ্রিয় তারকাদের। ব্যাপক প্রচারণা ও বড় বাজেটের এই চলচ্চিত্রটি চলতি বছরের ২৬ আগস্ট বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক বাংলাদেশের যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। উভয়পক্ষ দেশের সড়ক, রেল এবং নৌপরিবহন খাতের উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আল জাসেরের (H.E. Dr. Mohammad Al Jasser) নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা করে।
বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, চলমান প্রকল্প, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, "দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে উন্নত, নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলাকে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।" সড়ক, রেল ও নৌপথের সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। জনগণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ, যানজট নিরসন, পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামোর আধুনিক ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়ন, অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সড়কমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং এটি পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক অবকাঠামো প্রকল্পে ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।
ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আল জাসের বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ও অবকাঠামো খাতের অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, "বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।" তিনি বলেন, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে উন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে থাকতে চায়। সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন খাতের সমন্বিত ও টেকসই উন্নয়নে সহযোগিতার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে দক্ষ পরিবহনব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোতে সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক ইতিবাচকভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
বৈঠকে উভয়পক্ষ বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে একমত পোষণ করে। বৈঠকের ফলাফল নিয়ে উভয়পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে এবং বাংলাদেশ ও ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকের উন্নয়ন অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে।
এ সময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় সংসদের ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এই স্থায়ী কমিটিটি গঠন করা হয় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী পক্ষ থেকে কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। পরবর্তীতে উক্ত প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
প্রস্তাব উত্থাপনকালে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, “সংসদ নেতার অনুমতিক্রমে তার পক্ষে আমি মো. নূরুল ইসলাম (১১০, বরগুনা-২), বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, প্রস্তাব করছি যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধির ২৪৬, ২৪৭ ও ২৪৮ বিধি অনুসারে উক্ত বিধিসমূহে বর্ণিত কমিটির নিয়োগ, কমিটির গঠন, কমিটির কাজ ও কমিটির দায়িত্ব পালনের জন্য নিম্নলিখিত সংসদ-সদস্যগণের সমন্বয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ‘ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি’ গঠন করা হোক।”
নাসের রহমান ছাড়াও ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন—ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন, সরদার সরফ উদ্দিন আহমেদ, শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, এরশাদুল্লাহ, সুলতানা আহমেদ, মাহবুবুর রহমান বেলাল ও মাহমুদুল্লাহ।
জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলো মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং সংসদের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই কমিটির মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, ভূমি ব্যবস্থাপনা, ভূমিসংক্রান্ত নীতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সংসদীয় নজরদারি ও পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে যেসব অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন যে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখনো তার ১০০ ভাগের এক ভাগ তথ্যও উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়নি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পল্টনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান জানান, আসিফ মাহমুদ একসময় তাদের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন এবং গণ-অভ্যুত্থানের সময় তার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজও করেছেন। এ কারণে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের খবর তাকে ব্যক্তিগতভাবে কষ্ট দেয়।
তিনি বলেন, ‘আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে যেসব অভিযোগ শোনা গেছে, তার কিছুটা সত্যতা দুদকের তদন্তে পাওয়া গেছে।
দুদক ১৮৮ জন কর্মকর্তার বদলি ও পদায়নসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে। এ ঘটনায় চার কোটি ২৬ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয়ের অভিযোগও রয়েছে।’
রাশেদ খান দাবি করেন, এসব তথ্য তার নিজের বক্তব্য নয়; দুদক সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়গুলো জানিয়েছে। আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে তার কাছে আরো কিছু তথ্য রয়েছে বলে দাবি করে রাশেদ খান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এ কারণেই তিনি বিভিন্ন বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন।
তিনি দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ একজনকে ২০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন—এমন তথ্যও তিনি পেয়েছেন। আসিফ মাহমুদের তৎকালীন সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ও সমন্বয়ক মোয়াজ্জেমকে নিয়েও বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ও নথি পাওয়ার দাবি করেন রাশেদ খান। তার ভাষ্য, মোয়াজ্জেম একসময় ছাত্র অধিকার পরিষদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে ওই এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসা করার চেষ্টা করেছিলেন।
গণ-অভ্যুত্থানে আসিফ মাহমুদের ভূমিকার প্রশংসা করে রাশেদ খান বলেন, আন্দোলনে তিনি সাহসী ভূমিকা রেখেছেন। তবে ছাত্র উপদেষ্টা হওয়ার পর তার বিতর্কিত ভূমিকার জন্য ধিক্কার জানাতেও হয়।
নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমের ছাত্র উপদেষ্টা হওয়াকে ‘সবচেয়ে বড় ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেন রাশেদ খান। তার মতে, তারা ছাত্র উপদেষ্টা না হয়ে জনগণের প্রতিনিধি হলে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনে মনোযোগ দিলে অনেক বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হতো। তাদের ‘ওয়াচডগ’-এর ভূমিকায় থাকা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা-১০ আসনে নির্বাচন প্রসঙ্গে রাশেদ খান দাবি করেন, পদত্যাগের আগে আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে আসিফ মাহমুদকে ঘিরে বিতর্কের কারণে বিএনপি সাড়া দেয়নি বলে তার দাবি। পরে আসিফ মাহমুদ জামায়াতের হয়ে ঢাকা-১০ আসনে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে জামায়াতের আমির তাকে ওই আসনে মনোনয়ন দেননি।
রাশেদ খান বলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার। বর্তমানে তিনি জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হচ্ছে এমন দাবি উঠলেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
সর্বশেষে তিনি বলেন, আসিফ মাহমুদ যে ধরনের অপরাধ করেছেন বলে তিনি দাবি করছেন, তার ১০০ ভাগের এক ভাগ তথ্যও এখনো দুদক উদ্ঘাটন করতে পারেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার মিচেল লি মন্তব্য করেছেন যে, আন্তর্জাতিক কার্বন বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য একটি বড় সুযোগ রয়েছে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কার্বন বাণিজ্যের পাশাপাশি পানি ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় সিঙ্গাপুর হাইকমিশনে ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্টিস ফাউন্ডেশনের (সিএজেএফ) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে জলবায়ু কার্যক্রম ও ন্যায়বিচার, কার্বন বাণিজ্য, নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু প্রযুক্তি, টেকসই নগরায়ণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
হাইকমিশনার মিচেল লি বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কার্বন বাণিজ্য বাংলাদেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।"
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ যদি নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগায়, তবে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুবিধাও অর্জন করতে সক্ষম হবে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
সিঙ্গাপুরের উল্লম্ব কৃষি এবং সীমিত ভূমিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হাইকমিশনার বলেন, পানি ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি দক্ষতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই নগর উন্নয়নে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে কার্যকর হতে পারে। সীমিত ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যেও প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়েছে বলেও তিনি জানান।
সিএজেএফের চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মামুন বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তন এখন শুধু পরিবেশগত সংকট নয়; এটি অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, পানি, স্বাস্থ্য, নগরায়ণ এবং মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।" তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন একসঙ্গে কাজে লাগানোর প্রয়োজন রয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশে কার্বন প্রকল্পের সম্ভাবনা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে সবজি, সামুদ্রিক খাদ্যসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য রপ্তানির সুযোগ এবং সিঙ্গাপুরের আধুনিক খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি থেকে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
ভবিষ্যতে জলবায়ু, পরিবেশ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা, নগর ব্যবস্থাপনা এবং কার্বন বাণিজ্যে দুই দেশের বেসরকারি ও নাগরিক পর্যায়ের অংশীদারত্ব বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ