প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে যেসব অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন যে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখনো তার ১০০ ভাগের এক ভাগ তথ্যও উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়নি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পল্টনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান জানান, আসিফ মাহমুদ একসময় তাদের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন এবং গণ-অভ্যুত্থানের সময় তার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজও করেছেন। এ কারণে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের খবর তাকে ব্যক্তিগতভাবে কষ্ট দেয়।
তিনি বলেন, ‘আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে যেসব অভিযোগ শোনা গেছে, তার কিছুটা সত্যতা দুদকের তদন্তে পাওয়া গেছে।
দুদক ১৮৮ জন কর্মকর্তার বদলি ও পদায়নসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে। এ ঘটনায় চার কোটি ২৬ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয়ের অভিযোগও রয়েছে।’
রাশেদ খান দাবি করেন, এসব তথ্য তার নিজের বক্তব্য নয়; দুদক সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়গুলো জানিয়েছে। আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে তার কাছে আরো কিছু তথ্য রয়েছে বলে দাবি করে রাশেদ খান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এ কারণেই তিনি বিভিন্ন বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন।
তিনি দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ একজনকে ২০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন—এমন তথ্যও তিনি পেয়েছেন। আসিফ মাহমুদের তৎকালীন সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ও সমন্বয়ক মোয়াজ্জেমকে নিয়েও বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ও নথি পাওয়ার দাবি করেন রাশেদ খান। তার ভাষ্য, মোয়াজ্জেম একসময় ছাত্র অধিকার পরিষদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে ওই এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসা করার চেষ্টা করেছিলেন।
গণ-অভ্যুত্থানে আসিফ মাহমুদের ভূমিকার প্রশংসা করে রাশেদ খান বলেন, আন্দোলনে তিনি সাহসী ভূমিকা রেখেছেন। তবে ছাত্র উপদেষ্টা হওয়ার পর তার বিতর্কিত ভূমিকার জন্য ধিক্কার জানাতেও হয়।
নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমের ছাত্র উপদেষ্টা হওয়াকে ‘সবচেয়ে বড় ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেন রাশেদ খান। তার মতে, তারা ছাত্র উপদেষ্টা না হয়ে জনগণের প্রতিনিধি হলে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনে মনোযোগ দিলে অনেক বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হতো। তাদের ‘ওয়াচডগ’-এর ভূমিকায় থাকা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা-১০ আসনে নির্বাচন প্রসঙ্গে রাশেদ খান দাবি করেন, পদত্যাগের আগে আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে আসিফ মাহমুদকে ঘিরে বিতর্কের কারণে বিএনপি সাড়া দেয়নি বলে তার দাবি। পরে আসিফ মাহমুদ জামায়াতের হয়ে ঢাকা-১০ আসনে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে জামায়াতের আমির তাকে ওই আসনে মনোনয়ন দেননি।
রাশেদ খান বলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার। বর্তমানে তিনি জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হচ্ছে এমন দাবি উঠলেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
সর্বশেষে তিনি বলেন, আসিফ মাহমুদ যে ধরনের অপরাধ করেছেন বলে তিনি দাবি করছেন, তার ১০০ ভাগের এক ভাগ তথ্যও এখনো দুদক উদ্ঘাটন করতে পারেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন