মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৩৭ পি.এম
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রামের পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি অফিসে অভিযান চালিয়ে সাবরেজিস্ট্রারসহ তিনজনকে হাতেনাতে আটক করেছে। এ সময় ২ লাখ টাকা ঘুষের অর্থ জব্দ করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম এবং অফিসের উমেদার রূপন দাশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুদকের জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১-এর একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করে। এ বিষয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজীর আহমেদ তথ্য প্রদান করেন।
সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের একজন আইনজীবী তার মক্কেলের দুটি অংশীদারি চুক্তিপত্র রেজিস্ট্রির জন্য পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দাখিল করেন। দলিল দুটিতে কোনো ত্রুটি না থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া আটকে ঘুষ দাবি করেন। আইনজীবী নিরুপায় হয়ে দুদকের হটলাইন ১০৬-এ অভিযোগ করেন। পরে তিনি দুদকের জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১-এ লিখিত আবেদনও করেন।
দুদক কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর কমিশনের অনুমোদন নিয়ে মঙ্গলবার ট্র্যাপ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় ২ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণকালে সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম এবং উমেদার রূপন দাশকে হাতেনাতে আটক করা হয়। আটক তিনজনের বিরুদ্ধে দুদকের জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১-এ মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দখলীকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপের দুই দেশ, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডস।
আয়ারল্যান্ড, স্লোভেনিয়া ও স্পেনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় এই দুটি দেশের কঠোর সিদ্ধান্তটি এসেছে।
এই সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার আলোকে গৃহীত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে "অবৈধ" হিসেবে চিহ্নিত করে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, দখলীকৃত ভূমিতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন এবং সেনা ফাঁড়ি নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি।
বিশ্বজুড়ে দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে এক ডজনেরও বেশি দেশ ইসরায়েলি অবৈধ বসতির পণ্য আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
এই নতুন পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সম্প্রতি ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের রাজধানী ভোপালে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় বিজেপি বিধায়ক রামেশ্বর শর্মা কথিত ‘লাভ জিহাদ’ (হিন্দু নারীদের ধর্মান্তরিত করার কাল্পনিক অভিযোগ) এর অজুহাতে মন্তব্য করেছেন যে, মুসলিম যুবকদের একা একা গরবা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা উচিত নয়। তিনি বলেন, যদি তারা আসতেই চান, তবে নিজেদের পরিবারের বোন ও মেয়েদেরও সঙ্গে নিয়ে আসা উচিত। তিনি আরও যোগ করেছেন, "আমাদের ছেলেরাও প্রস্তুত রয়েছে।"
বিধায়কের এই মন্তব্যের পর সভাস্থলে উপস্থিত তার সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়ে। বিজেপি বিধায়কের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর ভারতের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এবং এআইএমআইএম এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে চরম ধর্মীয় মেরুকরণ সৃষ্টির অপচেষ্টা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি কুরুচিকর আক্রমণ বলে অভিহিত করেছে।
রাজনৈতিক প্রতিবাদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ ও নেটিজেনরা বিধায়কের এই বক্তব্যকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তাদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে নারীদের সম্মানকে কার্যত সামাজিক প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার এক কুরুচিকর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা চরম লিঙ্গবৈষম্যমূলক ও অবমাননাকর।
ভোপাল সেন্ট্রালের কংগ্রেস বিধায়ক আরিফ মাসুদ অত্যন্ত কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "রামেশ্বর শর্মার এই মন্তব্য অত্যন্ত নোংরা ও জঘন্য। আমি কেবল এটুকুই বলব—নিজের স্বভাব শুধরে নিন। মুখ থেকে এমন নোংরা কথা উগড়ানো বন্ধ করুন। প্রথমত, সাধারণ মুসলমানেরা গরবা অনুষ্ঠানে যায় না, গরবার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। যে ধরণের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা চরম আপত্তিকর।"
অন্যদিকে, এআইএমআইএম-এর মধ্যপ্রদেশ সভাপতি মহসিন আলী খান তীব্র আক্রমণ চালিয়ে বিধায়ককে দেশের সংবিধান পড়ার পরামর্শ দেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, "এই ধরণের উসকানিমূলক বক্তব্য দেশ ভাগ করার চক্রান্ত। রামেশ্বর শর্মা যদি মুসলমানদের নিজেদের বোন ও মেয়েদের গরবায় আনার কথা বলেন, তবে বিজেপির নিজস্ব মুসলিম নেতারা—যেমন শাহনেওয়াজ হোসেন বা সৈয়দ জাফর ইসলামরা কি তাদের নিজেদের বোন-মেয়েদের গরবা অনুষ্ঠানে নিয়ে যাবেন?"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর সাহেববাজার স্বর্ণপট্টির কারূশ্রী জুয়েলার্সে চুরির ঘটনায় আরও ৫ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ নিয়ে উদ্ধার হয়েছে ৩১ ভরি ৭ আনা স্বর্ণ, ৬২ ভরি রুপা ও চোরাই স্বর্ণ-রুপা বিক্রির ২৫ লাখ টাকা। ঘটনায় চুরিতে জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজন এবং চোরাই মাল কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন, নগর পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার (সদর), মোঃ গাজিউর রহমান।
তিনি জানান, গত ১৯ জুন ভোরে কারূশ্রী জুয়েলার্সে চুরির ঘটনা ঘটে। মামলার এজাহার অনুযায়ী ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল দোকানের সামনে জটলা তৈরি করে এবং পরে পাশের দেয়াল কেটে ভেতরে ঢোকে। তারা সিন্দুক থেকে প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ২০০ ভরি রুপা, তিন বক্স নাকফুল ও ২০ লাখ টাকা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় দোকান মালিক তুর্য সরকার বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা করেন।
তদন্তে ডিবি, সাইবার ইউনিট ও সিসি ক্যামেরা ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করে। গত ৮ সেপ্টেম্বর খুলনার লবণচড়া এলাকা থেকে রুস্তম আলী শেখ (৬৪) গ্রেফতারের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে, ৯ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার স্বর্ণ ব্যবসায়ী রবিউল হাসানের দোকান থেকে ২৬ ভরি ৭ আনা স্বর্ণ, ৬২ ভরি রুপা ও ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁতীবাজার থেকে আরও ৫ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার চারজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি মালামাল উদ্ধার ও অন্যদের শনাক্তে অভিযান চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি মোঃ রাহাদুর রহমান নয়নকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে এসআরবি-৫।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মামলা রুজুর পর ২১ সেপ্টেম্বর দিনগত রাত ২টার দিকে নগরীর রাজপাড়া থানার নিমতলা ঘোষমাহাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
মঙ্গলবার বিকালে এসআরবি-৫, সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
এসআরবি জানায়, ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ২১ সেপ্টেম্বর রাজপাড়া থানায় নয়নসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীর সঙ্গে নয়নের আগে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ে ও বিচ্ছেদের পর এফিডেভিট করার কথা বলে গত ১৫ জুলাই তাঁকে বিলসিমলা এলাকার একটি বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ১৯ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীকে দাশপুকুর মুজিবরের মোড়ের একটি ভাড়া বাসায় ডেকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানোর পর অসুস্থ করা হয়। চিকিৎসা শেষে ২০ সেপ্টেম্বর তাঁকে আবার ওই বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১)/৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ২২৩ ও ৩২৮ ধারায় মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে গ্রেফতার নয়নকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে রাজপাড়া থানা পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ