ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাগুরায় ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি গ্রেপ্তার


মাগুরায় ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

মাগুরা জেলা পুলিশের ডিবি টিম ১৪৭ পিস ইয়াবাসহ একজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মো. আমিরুল ইসলাম, বয়স ৫২ বছর। তিনি মাগুরা সদরের পারনান্দুয়ালী গ্রামের মৃত গোলাম কিবরিয়ার পুত্র।

মাগুরা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, মাগুরা সদর থানাধীন ৩নং কছুন্দী ইউনিয়নের দুর্গাপুর এলাকায় অবস্থানরত আব্দুর রউফ শিকদারের একটি খামারের মাঝখানের আমগাছের নিচে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয় এবং সেখানে মো. আমিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ১৪৭ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: টেকনাফে বিজিবির পৃথক অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধার

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

“ফেসবুক মন্তব্যের জেরে শিবির কর্মীকে মারধরের অভিযোগ, ইসলামী আন্দোলনের ৪ কর্মী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:০৬ পি.এম


“ফেসবুক মন্তব্যের জেরে শিবির কর্মীকে মারধরের অভিযোগ, ইসলামী আন্দোলনের ৪ কর্মী আটক

 

রংপুরের হারাগাছ এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।

এ অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত চারজনকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন নাঈমুর রহমান নাঈম, সিরাজুল ইসলাম, রমজান আলী ও শরীফ মিজান। তাদের বিরুদ্ধে শিবির কর্মী মো. আহসান হাবিব (২১) হারাগাছ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, কয়েক মাস আগে অনুষ্ঠিত একটি চরমোনাই মাহফিলে জিকিরের সময় অংশগ্রহণকারীদের আচরণ সম্পর্কে ফেসবুকে করা একটি মন্তব্যকেই কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। সেই বিরোধের ফলস্বরূপ রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় হারাগাছ থানার টসার বাজার এলাকা সংলগ্ন বাঁধের জায়গায় উক্ত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী আহসান হাবিব তার অভিযোগে বলেন, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসে কথাবার্তা বলার নামে। কিন্তু সেখানে গিয়ে পূর্ব থেকে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাওয়ার নাম করে গালিগালাজ ও হুমকি দিতে শুরু করে। তিনি প্রতিবাদ জানানোর পর সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়।

আহসানের অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করে। এ ছাড়া ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে নাঈমুর রহমান নাঈম, সিরাজুল ইসলাম, রমজান আলী, শরীফ মিজান, নিফাত বাবু ও আনোয়ার হোসেনের নাম। পাশাপাশি আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, ঘটনার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী কয়েকজনকে ঘটনাস্থলে আটক করে রাখেন। পরে হারাগাছ থানা পুলিশ খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে চারজনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

স্থানীয় ইসলামী আন্দোলনের এক দায়িত্বশীল নেতা এ বিষয়ে বলেন, “সংশ্লিষ্টদের আগে থেকেই কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়াতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা উপেক্ষা করে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”

হারাগাছ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অশোক চৌহান বলেন, “ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন চারজনকে আটক করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনার কারণে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপার্থক্য ও মন্তব্যের কারণে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, অনলাইন মতবিরোধের কারণে বাস্তব জীবনে সহিংসতার ঘটনা সমাজে অসহিষ্ণুতা বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুনে আরও চার কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:০৬ পি.এম


জুনে আরও চার কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার

চলতি জুন মাসে সরকার মোট চারটি কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করতে যাচ্ছে। এর ফলে মোট গ্যাসের পরিমাণ হবে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ এমএমবিটিইউ।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক এ কে এম মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, 'গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে স্পট মার্কেট ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় ১ কোটি ৬০ লাখ এমএমবিটিইউ গ্যাসবাহী পাঁচটি এলএনজি কার্গো ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে।'

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, জুন মাসের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকার মোট নয়টি কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে গতকাল ১৫ জুন পর্যন্ত পাঁচটি কার্গো দেশে পৌঁছেছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের জন্য ক্রয়কৃত নয়টি কার্গো এলএনজির মধ্যে পাঁচটি স্পট মার্কেট এবং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি চারটি কার্গো স্পট মার্কেট থেকে আমদানি করা হবে।

এর আগে, গত মে মাসে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তি এবং স্পট মার্কেটের মাধ্যমে মোট ১১টি এলএনজি কার্গো আমদানি করেছে, যার পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ এমএমবিটিইউ।

মিজানুর রহমান আরও বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ নিয়মিত এলএনজি আমদানি করছে সব উৎস থেকে, যা দীর্ঘমেয়াদি, স্বল্পমেয়াদি চুক্তি এবং স্পট মার্কেট অন্তর্ভুক্ত।

তিনি জানিয়েছেন, গড়ে প্রতিটি এলএনজি কার্গোত প্রায় ৩২ লাখ এমএমবিটিইউ গ্যাস থাকে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, কাতারভিত্তিক কাতার এনার্জি এবং ওমান সরকারের জ্বালানি ও পণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করে থাকে।

এছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ওকিউ ট্রেডিং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায়ও বাংলাদেশকে এলএনজি সরবরাহ করছে।

উল্লেখ্য, প্রতি মাসে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সরকার স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি কার্গো সংগ্রহ করে থাকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিস্তায় ব্যাপক ভাঙনের ফলে বিলিন হচ্ছে ফসলি জমি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:০৮ পি.এম


তিস্তায় ব্যাপক ভাঙনের ফলে বিলিন হচ্ছে ফসলি জমি

১৬ জুন, ২০২৬, বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভাঙনে শতাধিক বসতভিটা, তিন শতাধিক একর ফসলি জমিসহ রাস্তাঘাট বিলিন হয়ে গেছে তিস্তার গর্ভে। ভাঙনের মুখে পড়েছে দুই শতাধিক বসতভিটা, শত শত একর ফসলি জমি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়টি এখন ভাঙনের মুখে। বিশেষ করে কাপাসিয়া, হরিপুর, বেলকা, চন্ডিপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে ভাঙন চরম আকার ধারন করেছে।

স্থানীয় এমপি মো. মাজেদুর রহমান ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সাথে কথা বলেছেন। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নেই কোন মাথা ব্যাথা। নাকাওয়াস্তে কয়েকটি স্থানে ভাঙন রোধে ফেলা হচ্ছে জিত ব্যাগ।

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন কখন বসতভিটা নদীগর্ভে বিলিন হবে তা নিয়ে দিশেহারা চরের মানুষ। তিনি বলেন, সারা বছর কমবেশি নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। সরকারি ভাবে নদী ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হলেও তা দিয়ে ভাঙন রোধ সম্ভাব হচ্ছে না। স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধ করার দাবি চরবাসির।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে প্রতিবছর গড়ে ৫০০ বসতভিটা, ৬০০ হেক্টর ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও প্রতিষ্ঠান তিস্তায় বিলিন হয়ে যাচ্ছে। সে মোতাবেক গত ৫ বছরে আড়াই বসতভিটা, তিন হাজার হেক্টর ফসলি জমি, ৫০ কিলোমিটার রাস্তাঘাট, ৩০টি ধর্মীয় ও ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে ভাঙন কবলিত পরিবারের জন্য ত্রান বিতরণ করা ছাড়া আর কিছুই করা হয়নি।

হরিপুর ইউনিয়নের লখিয়ারপাড় গ্রামের মো. জরিফ মিয়া বলেন চরের প্রতিটি মানুষের বসতভিটা কমপক্ষে ৫ হতে ৮ বার ভাঙনের শিকার হয়েছে। গত ১০ বছর ধরে সারা বছর নদী ভাঙন চলমান রয়েছে। বর্তমানে উপজেলার বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নামকাওয়াস্তে সরকারি ভাবে ভাঙন রোধে জিও টিউব ও জিও ব্যাগ ফেলা হলেও ভাঙন রক্ষা হচ্ছে না।

নাজিমাবাদ বিএল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন উজানের পলি জমে নদী ভরে গিয়ে তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। সেই কারনে তিস্তা অসংখ্য শাখা নদীতে রুপ দিয়েছে। সে কারনে সময় এবং অসময়ে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধ করতে না পারলে চরের মানুষের কষ্ট কোন দিন দুর হবে না।

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মঞ্জু মিয়া বলেন, পানি কমলে উজানে আর পানি বাড়লে ভাটিতে ভাঙন দেখা দেয়। বর্তমানে ভাটিতে এবং উজানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধে দীর্ঘদিন হতে বিভিন্ন সংগ্রাম পরিষদ, এনজিও সংস্থা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি কাজ করলেও আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি চরবাসি। নদী ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর কষ্টের সীমা নেই। তার ইউনিয়নের সবগুলো ওয়ার্ড নদীর চরে। চরের একটি পরিবার বছরে ৪ হতে ৫ বার নদী ভাঙনের কবলে পরে থাকেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে তেমন কোন সাহায্য সহযোগিতা করা হয় না। ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা জরুরী হয়ে পরেছে।

কাপাসিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বিএনপির সাবেক উপজেলা সভাপতি মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, নদী খনন, ড্রেজিং, সংরক্ষণ, মেরামত এবং শাসন ছাড়া তিস্তার ভাঙন রোধ করা সম্ভাব নয়। নদী খনন ও ড্রেজিং করে নদীর গতিপথ একমুখি করলে নদী ভাঙন কমে যাবে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিও টিউব ও জিও ব্যাগ এখন কোন কাজে আসছে না। চরের মানুষের হা-হাকার দুর করতে হলে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ করতে হবে। এ ব্যাপারে তিনি সরকারের ওপর মহলের নিকট জোর দাবি জানান। তা না হলে এই উপজেলার মানচিত্র পরিবর্তন হয়ে যাবে।

তিস্তার চরাঞ্চল এখন কৃষিতে একটি সম্ভাবনাময় জোন। ধান, গম, ভূট্টা, বাদাম, কুমড়া, তরমুজ, আলু, মরিচ, পিয়াজসহ নানাবিধ ফসল চাষাবাদের জন্য উপযোগী হয়ে উঠেছে তিস্তার বালু চর। কিন্তু প্রতিবছরের ভাঙন চরের কৃষকদের স্বপ্ন নষ্ট করে দিচ্ছে বলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মো. কাইয়ুম চৌধুরী। প্রতিবছর ভাঙনে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। স্থায়ীভাবে বাঙন রোধের ব্যবস্থা করলে চরের কৃষকরা দারুনভাবে সাবলম্বী হয়ে উঠবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান বলেন উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের উপর দিয়ে তিস্তা নদী প্রবাহিত। প্রতিবছর নদী ভাঙনে প্রায় ৪০০ বসতভিটা এবং ৩০০ হেক্টর জমি, রাস্তাঘাট, প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলিন হয়ে থাকে। ভাঙনের বিষয়ে সবসময় তথ্য পাঠানো হয়ে থাকে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, স্থায়ী ভাবে ভাঙন রোধ সরকারের ওপর মহলের সিদ্ধানের ব্যাপার। এখানে তাদের করার কিছুই নাই। নদীভাঙন দেখা দিলে জিও টিউব, জিও ব্যাগ ফেলা এবং সরকারের ওপর মহলে তথ্য প্রদান ছাড়া আর কোন কাজ নেই তাদের। নদী খনন, ড্রেজিং , শাসন এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা ছাড়া তিস্তার ভাঙন রোধ সম্ভাব নয়।

স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান বলেন, বেশ কয়েকটি চরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি পরিদর্শন করে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছেন। আপাতত পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ হতে জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনের অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে চট্টগ্রামে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:০৮ পি.এম


চীনের অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে চট্টগ্রামে

চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলায় চাইনিজ ইকোনোমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) নামে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট এবং ল্যান্ড লিজ অ্যাগ্রিমেন্ট অনুমোদন ও স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তাবটি অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে কমিটির পরবর্তী সভায় প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যে সম্ভাবনাময় সব এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০’-এর ধারা ১৭ অনুযায়ী অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো উন্নয়ন ও পরিচালনার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার-২০২৬ অনুযায়ী এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক রোডম্যাপ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) জিডিপির ০.৪৫ শতাংশ থেকে ২.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে রপ্তানিমুখী শিল্পায়নের উদ্দেশ্যে বেজা কাজ করে যাচ্ছে।

আগামী পাঁচ বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর জিটুজি (গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট) ভিত্তিতে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে চাইনিজ ইকোনোমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) স্থাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বেজা এবং চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ২০১৪ সালের ৯ জুন একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

অর্থনৈতিক অঞ্চলটি প্রতিষ্ঠার জন্য চীন সরকার কর্তৃক মনোনীত ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (সিএইচইসি) ও বেজার মধ্যে ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর ‘অ্যাগ্রিড টার্মস অব কো-অপারেশন অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট’ এবং ২০১৭ সালের ১৫ জুন ‘শেয়ারহোল্ডার্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এরপর অনিবার্য কারণে ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট ও ল্যান্ড লিজ অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করা সম্ভব হয়নি। ফলে সিএইচইসির মাধ্যমে অর্থনৈতিক অঞ্চলটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

তবে পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার মুতাবেক ডেভেলপার পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ১৬ জুলাই বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাস চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে (সিআরবিসি) সিইআইজেডের নতুন ডেভেলপার হিসেবে মনোনয়ন দেয়।

পরে ২০২২ সালের ১১ আগস্ট বেজা ও সিআরবিসির মধ্যে নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সিআরবিসিকে ডেভেলপার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পর ধারাবাহিক কারিগরি ও নীতিগত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২১ জুন বেজা ও সিআরবিসির মধ্যে ‘অ্যাগ্রিড টার্মস অব কো-অপারেশন অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট’ স্বাক্ষরিত হয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা শেষে ২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদনক্রমে শেয়ারহোল্ডার্স অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়।

গত ২০২৫ সালের ১ মে বাংলাদেশস্থ চীনা দূতাবাস থেকে জানানো হয়, সিআরবিসির শতভাগ মালিকানাধীন দুবাইভিত্তিক বিইজিএসিএইচ ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট এফজেডসিও হলো সিআরবিসির সম্পূর্ণ মালিকানাধীন একটি সহায়ক প্রতিষ্ঠান। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনের অধীনে দুবাইয়ে নিবন্ধিত এবং সিইআইজেডের জন্য মনোনীত ইনভেস্টমেন্ট ভেহিকেল হিসেবে চীনা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও অনুমোদন পেয়েছে।

এছাড়া সিআরবিসির পক্ষে বিইজিএসিএইচ ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট এফজেডসিওকে ইমপ্লিমেন্টিং ডেভেলপার হিসেবে সিইআইজেড স্থাপনের কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য ওই চিঠিতে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বেজা, সিআরবিসি এবং বিইজিএসিএইচের মধ্যে ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য, শেয়ারহোল্ডার্স অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী সিইআইজেড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি স্পেশাল পারপাস কোম্পানি (এসপিসি) গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার প্রস্তাবিত নাম ‘বাংলাদেশ সিইআইজেড লিমিটেড’ নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই কোম্পানির শেয়ার কাঠামো অনুযায়ী বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ৩০ শতাংশ এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি) ৭০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করবে।

এসপিসিতে বেজার ৩০ শতাংশ শেয়ার মূলত প্রকল্প এলাকায় অধিগ্রহণকৃত ভূমির ৫০ বছরের লিজমূল্যকে বেজার মূলধন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। অপরদিকে শেয়ারহোল্ডার্স অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী সিআরবিসির ৭০ শতাংশ শেয়ারের বিপরীতে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান সিআরবিসি পর্যায়ক্রমে কোম্পানিতে নগদ মূলধন বিনিয়োগ করবে। এই অর্থ সিইআইজেডের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, প্রশাসনিক ব্যয় এবং অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।

বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস (অ্যাপয়েন্টমেন্ট অব ডেভেলপার) রুলস, ২০২০-এর বিধি ১৯ অনুযায়ী এসপিসি নিবন্ধিত হওয়ার পর ওই কোম্পানিকে জোন উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য বেজার সঙ্গে ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট এবং ল্যান্ড লিজ অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করতে হবে। চুক্তির শর্তানুযায়ী জোনটি উন্নয়ন ও পরিচালনা করা হবে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০১৫) অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ও অন্য কোনো দেশের সরকারের মধ্যে অংশীদারিত্ব বা উদ্যোগে অথবা এক বা একাধিক সরকারি সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের পারস্পরিক সহযোগিতা বা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ ও একটি ডেভেলপার নিয়োগের বিধান রয়েছে।

প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন এবং এ বিষয়ে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিইজিএসিএইচকে নিয়োগের লক্ষ্য নিয়ে সিআরবিসির সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহায়ক প্রতিষ্ঠানটির কারিগরি ও আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। মূল্যায়নে প্রতিষ্ঠানটিকে ডেভেলপার হিসেবে গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াকরণ কমিটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উপস্থাপন করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%