ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ফুলহ্যামকে হারাল চেলসি, দ্রুততম গোলে রেকর্ড পালমারদের


রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ফুলহ্যামকে হারাল চেলসি, দ্রুততম গোলে রেকর্ড পালমারদের

চেলসি ৩-২ গোলের ব্যবধানে ফুলহ্যামকে হারিয়েছে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে। সোমবার রাতে এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। গোল করেছেন জোয়াও পেদ্রো, মর্গান রজার্স ও কোল পালমার।

চেলসি ম্যাচের শুরুতেই চমক সৃষ্টি করে। মাত্র ৩১ সেকেন্ডের মধ্যে পালমারের পাস থেকে বল পেয়ে জোয়াও পেদ্রো গোলরক্ষক বের্ন্ড লেনোর মাথার ওপর দিয়ে বলটি তুলে দেন। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে উদ্বোধনী রাউন্ডে এটি ৩৪ বছরের মধ্যে দ্রুততম গোল।

ঘরের মাঠে পিছিয়ে পড়ার পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় ফুলহ্যাম। ২৪ মিনিটে চেলসি গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজকে কাছের পোস্টে পরাস্ত করে সমতা ফেরান জশ কিং। এতে গ্যালারির সমর্থকদের মধ্যে প্রাণ ফিরে আসে।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ, সন্তুষ্ট রুহুল কবির রিজভী

বিরতির ঠিক আগে আবারও এগিয়ে যায় চেলসি। ৪১ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে এগিয়ে গিয়ে বল কাটব্যাক করেন নতুন সেন্টারব্যাক ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়া। তার পাস থেকে গোল করতে ভুল করেননি ক্লাব রেকর্ড ১১৭ মিলিয়ন পাউন্ডে আসা মর্গান রজার্স।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্যবধান বাড়ায় চেলসি। ৪৯ মিনিটে আক্রমণভাগে বল ধরে রেখে পালমারকে পাস দেন জোয়াও পেদ্রো। এরপর পালমারের নিচু শট লেনোর দুই পায়ের ফাঁক গলে জালে প্রবেশ করে। চোটের কারণে গত মৌসুমে ছন্দ হারানো পালমারের জন্য গোলটি ছিল সেরা ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত।

৫৪ মিনিটে ম্যাচে ফেরার আশা জাগায় ফুলহ্যাম। টিমোথি কাস্তানিয়ের শট ফিরিয়ে দিতে পারলেও বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি সানচেজ। সেই সুযোগে হেডে গোল করেন রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ফুলহ্যামে আসা গনসালো গার্সিয়া। লিগ অভিষেকেই তিনি গোলের দেখা পান।

শেষ দিকে সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগও পেয়েছিল ফুলহ্যাম। ৭৮ মিনিটে গোলরক্ষক সানচেজকে সামনে পেয়ে চিপ করে বল বাড়ান অ্যান্টোনি রবিনসন। তবে তার শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে চেলসি।

আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর ডাক, শাহবাগে গণবিক্ষোভের আয়োজন

চেলসির আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ অবশ্য ম্যাচে নামার সময় শুনেছেন স্বাগতিক সমর্থকদের দুয়ো। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি বদলি হিসেবে মাঠে নামার সময় তাকে লক্ষ্য করে জোরালো দুয়ো দেন ফুলহ্যামের সমর্থকরা।

আলোনসোর জন্য এটি ছিল চেলসির কোচ হিসেবে প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ। ফুলহ্যামের কোচ আলভারো আরবেলোয়াও একই সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগে কোচ হিসেবে অভিষেক করেছেন। দুজনের সম্পর্কও বেশ পুরোনো- লিভারপুল ও স্পেন দলে একসময় সতীর্থ ছিলেন তারা।

গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবেও আলোনসোর জায়গায় অল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করেছিলেন আরবেলোয়া।

আরও পড়ুন: সখীপুরে মাটির নিচ থেকে ১২টি রকেট লঞ্চার উদ্ধার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনা পণ্য ও মার্কিন নীতি: ট্রান্সশিপমেন্টকে ‘প্রতারণা’ বলছে যুক্তরাষ্ট্র, নজরে সিঙ্গাপুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ এম


চীনা পণ্য ও মার্কিন নীতি: ট্রান্সশিপমেন্টকে ‘প্রতারণা’ বলছে যুক্তরাষ্ট্র, নজরে সিঙ্গাপুর

যুক্তরাষ্ট্র ট্রান্সশিপমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে, যা পণ্য আমদানি করে অন্য দেশে পুনরায় রপ্তানির একটি প্রচলিত প্রক্রিয়া। দেশটির অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠান এই ব্যবস্থার সুবিধা নিয়ে পণ্যের প্রকৃত উৎপত্তিস্থল গোপন করে মার্কিন শুল্ক এড়িয়ে যাচ্ছে। এই কারণে সিঙ্গাপুরসহ বেশ কয়েকটি অর্থনীতির ওপর মার্কিন নজরদারি বাড়ছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সশিপমেন্ট কেন্দ্র।

১৩ আগস্ট প্রকাশিত হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘দ্য গ্রেট ট্রান্সশিপমেন্ট স্ক্যাম’। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনা রপ্তানিকারকরা বিভিন্ন তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এড়ানোর চেষ্টা করছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ অবৈধ ট্রান্সশিপমেন্ট শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-নির্ভর ‘ডিটেকটিভ বর্ডার’সহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে।

সিঙ্গাপুরকে চীনের জন্য একটি ‘ছোট ও সুযোগসন্ধানী লক্ষ্য’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। তবে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর পদক্ষেপ সিঙ্গাপুরের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। দেশটি আরও স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং সহজে শনাক্তযোগ্য বাণিজ্যিক হাব হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে।

মে ব্যাংকের ম্যাক্রো রিসার্চ টিমের আঞ্চলিক সহ-প্রধান চুয়া হাক বিনের মতে, কঠোর বাণিজ্যিক বিধি মেনে চলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও নজরদারি ব্যবস্থা দ্রুত এবং বিশ্বাসযোগ্যভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর অন্যান্য বাণিজ্যিক কেন্দ্রের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন দেশের জন্য ভিন্ন ভিন্ন শুল্কহার নির্ধারণের নীতি বিশ্বব্যাপী উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থাকে আরও বৈচিত্র্যময় করার প্রণোদনা সৃষ্টি করেছে। ফলে শুল্ক এড়ানোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হলে কম শুল্কের দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর প্রবণতা বাড়তে পারে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক হিনরিখ ফাউন্ডেশনের বাণিজ্যনীতি বিভাগের প্রধান ডেবোরা এলমস মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর পদক্ষেপ সরবরাহব্যবস্থায় আরও পরিবর্তন আনতে পারে। তাঁর মতে, এতে নতুন নতুন বাণিজ্যপথ তৈরি হবে এবং এর ফলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে নতুন নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

ট্রান্সশিপমেন্ট আসলে কী?

ট্রান্সশিপমেন্ট আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে একটি বহুল ব্যবহৃত প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে পণ্য সরাসরি চূড়ান্ত গন্তব্যে না গিয়ে কোনো একটি বন্দর বা বাণিজ্যিক হাবের মধ্য দিয়ে অন্য জাহাজে স্থানান্তরিত হয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়।

এ ব্যবস্থায় বড় জাহাজে বিপুল পরিমাণ পণ্য দীর্ঘ আন্তর্জাতিক রুটে পরিবহন করা হয় এবং ছোট জাহাজ ব্যবহার করা হয় আঞ্চলিক রুটে। এতে জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয় কমে, অপেক্ষাকৃত ছোট বন্দরগুলোও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয় এবং পরিবহন সেবার পরিধি বাড়ে।

তবে চীন থেকে পণ্য আমদানি করার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের কারণে কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান তৃতীয় দেশের ট্রান্সশিপমেন্ট হাব ব্যবহার করে পণ্যের প্রকৃত উৎপত্তিস্থল আড়াল করার চেষ্টা করতে পারে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে যাওয়া অধিকাংশ পণ্যই অবৈধ নয়।

সিঙ্গাপুর এ ক্ষেত্রে একটি বড় উদাহরণ। কয়েক শত বছর ধরে দেশটি আমদানি, সংরক্ষণ এবং পুনরায় রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির বন্দরে রেকর্ড ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৬০ হাজার ২০ ফুট সমতুল্য ইউনিট (টিইইউ) কনটেইনার হ্যান্ডেল করা হয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় যা ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। সরবরাহব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাবে, এর প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ কনটেইনার সাধারণত অন্য গন্তব্যে ট্রান্সশিপ বা পুনরায় রপ্তানি করা হয়। এসব গন্তব্যের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশ, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ রয়েছে।

সিঙ্গাপুর প্রতি মাসে তাদের অভ্যন্তরীণ রপ্তানি ও পুনরায় রপ্তানির তথ্য প্রকাশ করে। সিঙ্গাপুরের উৎপত্তির পণ্য, দেশটিতে উৎপাদিত বা প্রক্রিয়াজাত পণ্য এবং আমদানি করা উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি বা সংযোজিত পণ্যকে অভ্যন্তরীণ রপ্তানির আওতায় ধরা হয়।

অন্যদিকে, এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, পুনরায় রপ্তানি হলো এমন পণ্য যা আমদানির পর কোনো ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই আবার বিদেশে পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর কাস্টমসের সংজ্ঞায়, দেশের বাইরে থেকে এসে দেশের বাইরে চূড়ান্ত গন্তব্যে যাওয়ার পথে সিঙ্গাপুরের মধ্য দিয়ে যাওয়া পণ্য ট্রান্সশিপমেন্টের আওতায় পড়ে।

সিঙ্গাপুরের পুনরায় রপ্তানি করা পণ্যের বড় অংশই যন্ত্রপাতি ও পরিবহন সরঞ্জাম। এর মধ্যে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট, সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, রাসায়নিক ও রাসায়নিক পণ্য, খনিজ জ্বালানি ও তেল এবং বিভিন্ন উৎপাদিত পণ্য রয়েছে।

এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের নিয়ম অনুযায়ী, শুধু পণ্য নতুন করে প্যাকেট করা, বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করা, বাছাই, শ্রেণিবিন্যাস বা চিহ্নিত করার মতো কাজকে পণ্যের ‘রূপান্তর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। অভ্যন্তরীণ রপ্তানি ও পুনরায় রপ্তানির এই পার্থক্য শুল্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

তৃতীয় দেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূমিকা

অর্থনীতিবিদ ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ভারসাম্য পরিবর্তনের জন্য শুল্ককে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার নীতি সমস্যাটিকে পুরোপুরি সমাধান করতে পারবে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির পেছনে দেশটির নিজস্ব সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও রাজস্ব-নীতিরও বড় ভূমিকা রয়েছে।

ডেবোরা এলমসের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র যতটা সঞ্চয় করে তার চেয়ে বেশি ব্যয় করে; ফলে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করার প্রয়োজন তৈরি হয়। তাই বাণিজ্য ও শুল্কনীতিতে পরিবর্তন এলেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে চীনের ওপর শুল্ক আরোপের পর যুক্তরাষ্ট্রে চীনা রপ্তানি কমেছে। তবে একই সময়ে বিশ্বের প্রায় সব অর্থনীতির সঙ্গেই চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের ওপরে উঠে রেকর্ড করেছে।

এই সময় যুক্তরাষ্ট্রে অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি বেড়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনে এসব দেশের কিছু অংশকে চীনের কথিত ‘শ্যাডো ট্রান্সশিপমেন্ট নেটওয়ার্ক’-এর সঙ্গে যুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রতিবেদনে চীন থেকে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে একই পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে শুল্কের পার্থক্যকেই এর অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গড় শুল্ক প্রায় ৫০ শতাংশের কাছাকাছি। ফলে কম শুল্কের তৃতীয় দেশের মাধ্যমে একই পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা তৈরি হয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই দৃষ্টিভঙ্গির ফলে তৃতীয় দেশ থেকে বাড়তে থাকা সব রপ্তানিকেই সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন।

২০১৮ সালের পর ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো চীন প্লাস ওয়ান কৌশল অনুসরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই কৌশলের আওতায় চীনের পাশাপাশি অন্তত আরও একটি দেশে উৎপাদন বা সরবরাহের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়।

পরবর্তীতে এই কৌশল আরও বিস্তৃত হয়ে ‘চীন প্লাস এন’ ধারণায় রূপ নেয়, যেখানে ‘এন’ দিয়ে একাধিক বিকল্প উৎপাদন বা সরবরাহকেন্দ্রকে বোঝানো হয়। এর ফলে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সরবরাহব্যবস্থা আরও জটিল হয়েছে এবং আন্তঃদেশীয় ট্রান্সশিপমেন্টও বেড়েছে।

২০২৬ সালের প্রথমার্ধে সিঙ্গাপুরের শীর্ষ তিনটি অ-তেল পুনঃরপ্তানি গন্তব্য ছিল তাইওয়ান, থাইল্যান্ড ও হংকং। যুক্তরাষ্ট্র দেশটির অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও পুনঃরপ্তানির ক্ষেত্রে শীর্ষ তিনে আর নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চপ্রযুক্তির কম্পিউটার ও নেটওয়ার্কিং পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা বৈচিত্র্যময় করার অংশ হিসেবে লেনোভো, অ্যাপল, ডেল ও এইচপির মতো প্রতিষ্ঠান চীন থেকে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে উৎপাদন ও চূড়ান্ত সংযোজনের কিছু কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়ায় এই পরিবর্তন ঘটেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আমদানির পরিমাণ ছিল ৪৫৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে এ জোটের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৩২৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।

অবৈধ ট্রান্সশিপমেন্ট বন্ধ করা কতটা কঠিন?

হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে, শুল্ক ফাঁকি দিতে ব্যবহৃত সম্ভাব্য ট্রান্সশিপমেন্টের বার্ষিক মূল্য ৪০ বিলিয়ন থেকে ৩০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্ক রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ শিপিং এজেন্টদের জমা দেওয়া নথির সত্যতা যাচাই করতে সরবরাহব্যবস্থা নিরীক্ষা, কার্গো ম্যানিফেস্ট পর্যালোচনা ও আকস্মিক পরিদর্শনসহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে। তবে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক কনটেইনার বন্দরে আসা-যাওয়া করায় প্রতিটি চালান পরীক্ষা করা বাস্তবে কঠিন।

নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি হঠাৎ বেড়ে গেলে, বিশেষ করে নতুন শুল্ক আরোপের পর, তদন্তকারীরা সেসব অস্বাভাবিকতা খতিয়ে দেখেন। এর মাধ্যমে বড় ধরনের অবৈধ লেনদেন শনাক্ত করা সম্ভব হলেও তদন্ত শেষ করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়।

এর একটি উদাহরণ ২০২৪ সালের ঘটনা। চীনা সৌর প্যানেলের ওপর আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক এড়ানোর অভিযোগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিনটি দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও জরিমানা আদায়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগকে দুই বছরেরও বেশি সময় লেগেছিল।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে ট্রাম্পের জারি করা একটি নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, শুল্ক এড়াতে ট্রান্সশিপমেন্ট করা হয়েছে বলে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) মনে করলে সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৪০ শতাংশ অ্যাড ভ্যালোরেম শুল্ক আরোপ করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এই অতিরিক্ত ৪০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হয়নি।

এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ‘ট্রেড ফ্রড টাস্ক ফোর্স’ গঠন করা হয়। শুল্ক ফাঁকি, অবৈধ আমদানি, কাস্টমস জালিয়াতি ও জোরপূর্বক শ্রমসংক্রান্ত লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই এর লক্ষ্য।

তবে এখন পর্যন্ত এই টাস্ক ফোর্স দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা আদায় করেছে, যা হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির তুলনায় অনেক কম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে শুল্কের হার বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠলে বাণিজ্যিক নজরদারি কতটা বাড়বে, সেটিই এখন একমাত্র প্রশ্ন নয়। বরং ডেটা অ্যানালিটিকস, সরবরাহব্যবস্থার দৃশ্যমানতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার ওপর কর্তৃপক্ষের বাড়তে থাকা নির্ভরতার সঙ্গে ব্যবসাগুলো কত দ্রুত নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সূত্র :

দ্য স্ট্রেইটস টাইমস

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘হ্যারি পটার’ সিরিজে গিলডেরয় লকহার্ট চরিত্রে কিট হারিংটন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৭ এম


‘হ্যারি পটার’ সিরিজে গিলডেরয় লকহার্ট চরিত্রে কিট হারিংটন

এইচবিওর বহুল আলোচিত ‘হ্যারি পটার’ টিভি সিরিজে যুক্ত হয়েছেন ব্রিটিশ অভিনেতা কিট হারিংটন, যিনি ‘গেম অব থ্রোনস’ সিরিজের জন্য পরিচিত। সিরিজটির দ্বিতীয় সিজনে তাকে হগওয়ার্টস স্কুলের আত্মপ্রেমী শিক্ষক ও লেখক গিলডেরয় লকহার্ট চরিত্রে দেখা যাবে। সম্প্রতি এইচবিওর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে

প্রাথমিকভাবে গিলডেরয় লকহার্ট চরিত্রের জন্য চুক্তিবদ্ধ ছিলেন অভিনেতা নিকোলাস হোল্ট। তবে শুটিংয়ের সময়সূচি নিয়ে জটিলতার কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর কিট হারিংটন তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।

‘গেম অব থ্রোনস’-এ জন স্নো চরিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করা কিট হারিংটনের জন্য এটি হবে এইচবিওর সঙ্গে তৃতীয় কাজ। এর আগে তিনি এইচবিওর জনপ্রিয় অর্থনৈতিক-ড্রামা সিরিজ ‘ইনডাস্ট্রি’তেও অভিনয় করেছেন।

হারিংটনের ‘হ্যারি পটার’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। গত বছর প্রকাশিত অডিবলের ‘হ্যারি পটার: দ্য ফুল-কাস্ট অডিও এডিশন’-এ তিনি গিলডেরয় লকহার্ট চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছিলেন।

জে কে রাওলিংয়ের বিখ্যাত বই ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফার্স স্টোন’ অবলম্বনে নির্মিত সিরিজটির প্রথম সিজন এ বছরের বড়দিনে এইচবিও ম্যাক্সে মুক্তি পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সিরিজের দ্বিতীয় সিজন তৈরি হবে দ্বিতীয় বই ‘দ্য চেম্বার অব সিক্রেটস’ অবলম্বনে। এর শুটিং এ শরতে শুরু হওয়ার কথা।

নতুন এই ধারাবাহিকে হ্যারি পটার চরিত্রে উদীয়মান অভিনেতা ডমিনিক ম্যাকলাফলিনকে দেখা যাবে। তার দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু রন উইজলি ও হারমায়োনি গ্রেঞ্জার চরিত্রে অভিনয় করবেন অ্যালাস্টেয়ার স্টাউট ও অ্যারাবেলা স্ট্যান্টন।

এ ছাড়া হগওয়ার্টসের প্রধান শিক্ষক আলবাস ডাম্বলডোর চরিত্রে অস্কার মনোনীত অভিনেতা জন লিথগো থাকছেন। রুবিউস হ্যাগ্রিড চরিত্রে অভিনয় করছেন নিক ফ্রস্ট।

এইচবিও জানিয়েছে, জে কে রাওলিংয়ের মূল সাতটি বই অবলম্বনে আগামী ১০ বছরে মোট সাতটি সিজনে সিরিজটি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে একরামুল হক হত্যা: ট্রাইব্যুনালে হাজির সাবেক এমপি বদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৮ এম


কক্সবাজারে একরামুল হক হত্যা: ট্রাইব্যুনালে হাজির সাবেক এমপি বদি

টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার বিষয়টি নিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট) সকালে বদিকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করা হয়।

কক্সবাজারের টেকনাফে একরামুল হক বন্দুক যুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষ গত রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে কথিত ‘বন্দুক যুদ্ধে’ একরামুল হক নিহত হন। তিনি টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘রাস্তায় বেরোতে না পারেন, আমি সে ব্যবস্থা করব’, মমতাকে শুভেন্দুর হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৯ এম


‘রাস্তায় বেরোতে না পারেন, আমি সে ব্যবস্থা করব’, মমতাকে শুভেন্দুর হুমকি

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের ফলে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মমতার উদ্দেশ্যে শুভেন্দুর ‘রাস্তায় বেরোতে পারবেন না’ মন্তব্যটি প্রকাশ্যে হুমকি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে তৃণমূল নেত্রীর কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।

সোমবার, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও অনেক নারী এই প্রকল্পের প্রতিশ্রুত অর্থ পাচ্ছেন না। বিভিন্ন এলাকায় এ নিয়ে বিক্ষোভ ও হয়রানির অভিযোগও উঠেছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী মমতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ফেসবুকেই থাকুন, আপনাকে আর রাস্তায় বেরোতে হবে না। রাস্তায় যাতে বেরোতে না পারেন, সে ব্যবস্থাও আমি করব।’

শুভেন্দুর এই বক্তব্যের কিছু ঘণ্টা পর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মমতা দীর্ঘ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, একজন মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে একজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধান বিরোধী দলের নেত্রীর চলাফেরার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার কথা বলতে পারেন, সেটিই এখন প্রশ্ন।

মমতা আরও প্রশ্ন তোলেন, এমন বক্তব্য কি গৃহবন্দি করা, ভয় দেখানো নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইঙ্গিত? তিনি বলেন, সংবিধানসম্মত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একজন নাগরিক কোথায় ও কীভাবে চলাফেরা করবেন, তা নির্ধারণের অধিকার কোনো রাজনৈতিক নেতার নেই।

তবে দুই নেতার এই বাগযুদ্ধের সূত্রপাত অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে। মমতার সময়কার লক্ষ্মীর ভান্ডারের পরিবর্তে বিজেপি সরকার অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করেছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে নারীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে।

মমতার অভিযোগ, অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাছাই করা হচ্ছে এবং যোগ্য অনেক নারী সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর পাল্টা জবাবে শুভেন্দু বলেন, তার সরকার সুবিধাভোগী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করে না।

শুভেন্দুর দাবি, এখন পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনায় ১ কোটি ৪৫ লাখের বেশি মানুষের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ১৯ লাখ ২০ হাজার মুসলিম নারী রয়েছেন বলেও তিনি জানান। তার বক্তব্য, যারা যোগ্য, তাদের হিন্দু-মুসলমান কিংবা বিজেপি-তৃণমূল হিসেবে দেখা হচ্ছে না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতির অভিযোগও তোলেন শুভেন্দু। তিনি দাবি করেন, অতীতে রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে মতুয়া, নমশূদ্র, রাজবংশী, আদিবাসী ও পাহাড়ি নারীদের প্রসঙ্গও তিনি তুলে ধরেন।

অন্যদিকে, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সরকারের কাছে বিপুলসংখ্যক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানান শুভেন্দু। তার দাবি, অভিযোগের বড় অংশে যোগ্য না হয়েও পরিচিত ব্যক্তিরা প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি জানান।

অন্নপূর্ণা যোজনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া রাজনৈতিক বিতর্ক এখন দুই শিবিরের তীব্র বাগযুদ্ধে রূপ নিয়েছে। এর মধ্যেই সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া শুভেন্দুর মন্তব্য পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

সূত্র :

আনন্দবাজার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%