০৭:২৬ পি.এম
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পল্লীবিদুৎ সমিতির কলাপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম শেখ আব্দুর রহমান'র কার্যকলাপের কারণে অফিসের কর্মচারী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ঘন্টায় ঘন্টায় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। ভৌতিক বিলসহ অতিরিক্ত বিলের অভিযোগও রয়েছে।
এছাড়া, সরকারি নিয়মানুযায়ী সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত অফিস চলার কথা থাকলেও, ডিজিএমের স্বেচ্ছাচারীতায় তা রাত ১০ টা পর্যন্ত চলছে। এতে অফিসের বিভিন্ন স্তরের কর্মচারীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত অফিসের চলার কারণে মহিলা কর্মচারীদের বিশেষ বেকাদায় পড়তে হচ্ছে। এদিকে, কর্মচারীসহ ভুক্তভোগী গ্রাহকরা যেকোন সময়ে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পথে নামতে পারে। এমন গুঞ্জন পুরো উপজেলায় ছড়িয়েছে।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, নতুন ডিজিএম শেখ আব্দুর রহমান কলাপাড়া জোনাল অফিসে যোগদানের পূর্বে বরগুনা সদর অফিসে ডিজিএম হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ হয়ে ওই অফিসের কর্মচারীরা বিদ্রোহ করেছে এমন তথ্যও এসেছে। কর্মচারীরা অতিরিক্ত অতিষ্ঠ হয়ে তাকে মারধর পর্যন্ত করেছিলো বলে জানা যায়। কলাপাড়া জোনাল অফিসে যোগদান করার পরেও তার পূর্ববর্তী কার্যকলাপ অব্যাহত রেখেছে। এখানেও যেকোন সময়ে বড় ধরনের বিদ্রোহ হতে পারে বলে অফিসের একাধিক কর্মচারীরা জানিয়েছেন। তবে চাকরির ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলছেন না।
আরও পড়ুন: জগদল পশ্চিমের হাওরে কৃষিজমির বেহাল অবস্থা, পানি দিয়েও ফাটল ধরছে জমিতে দুশ্চিন্তায় কৃষক
শুক্রবার সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পটুয়াখালী পল্লী বিদুৎ সমিতি'র কলাপাড়া জোনাল অফিসের নতুন ডিজিএম শেখ আব্দুর রহমান চলতি বছরের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে যোগদান করেছেন। এরপর থেকেই গ্রাহকরা বিভিন্নভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অন্যান্য সময়ের তুলনায় গত জুন মাসে লোডশেডিংয়ের কারণে উপজেলাবাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। চলতি মাসের পুরো সময় জুড়ে এক ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ না করলেও, অফিসে বসেই তৈরি হচ্ছে ভৌতিক বিল। অতিরিক্ত বিলের বোঝা টানতে গিয়ে একাধিক গ্রাহক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। যদি শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান না হয়, তবে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে রাজপথে।
এছাড়া সরকারি নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো অফিস পরিচালনা করায় কর্মচারীদের মধ্যে বিরাজ করছে নিরব ক্ষোভ। বিকেল ৪ টা পর্যন্ত অফিস চলার কথা থাকলেও খামখেয়ালিভাবে রাত ১০ টা পর্যন্ত অফিসের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বাধ্য করছে সকল কর্মচারীদের। এর ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মহিলা কর্মচারীরা ব্যাপক বেকাদায় পড়ে যাচ্ছেন। অধিক রাত পর্যন্ত অফিস খোলা থাকার কারণে অনিয়মের কাজ চলছে কিনা, এমন প্রশ্নও উঠছে জনমনে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলাপাড়া পল্লী বিদুৎ অফিসের একাধিক কর্মচারী জানান, তারা দীর্ঘ বছর ধরে এই অফিসে চাকরি করছেন। এরআগে যে সকল ডিজিএম অফিসে দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা কেউই এত রাত পর্যন্ত অফিস চালাননি। জুন ক্লোজিংয়ের পূর্বেও বহুবার এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তবে বর্তমান ডিজিএম স্বেচ্ছাচারীভাবে অফিস পরিচালনা করে যাচ্ছেন। তারা অতিশীঘ্র এই ডিজিএম'র বদলী চান। অন্যথা তারা যেকোন সময় বিক্ষোভ করতে পারে বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন।
মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের গ্রাহক সোনিয়া আক্তার জানান, নতুন ঘরের কাজ করায় তিনি পরিবার সহ দেবরের বাসায় ছিলেন। তাই গত মে মাসে তার মিটারটি সম্পূর্ণ বন্ধ ছিলো। অথচ তার নামে পল্লী বিদুৎ অফিস ভৌতিক বিল করেছে। পরে অফিসে যোগাযোগ করলে তার সমস্যার সমাধান হয়। কিন্তু এই গ্রাহকের প্রশ্ন হলো, ভৌতিক বিলের সমাধানের জন্য অফিসে যাতায়ত করতে যে খরচ হয়েছে সেই টাকাগুলো কি অফিস কর্তৃপক্ষ দিবে? এধরণের হয়রানি থেকে রেহাই পেতে চান এই গ্রাহকসহ সকল ভুক্তভোগীরা। অপর এক ভুক্তভোগী টিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর সোবহান বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, তার দোকানে আগে ৫-৬’শ টাকা বিদ্যুৎ বিল আসতো। কিন্তু এখন তা প্রায় দুই আড়াই হাজার টাকা হয়ে গেছে। অফিসে অভিযোগ করলেও তাকে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। তিনি অতিরিক্ত বিলের হয়রানি থেকে পরিত্রাণ চেয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন।
আরও পড়ুন: বরিশাল তরুণ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের নতুন কমিটি, সভাপতি ওমর ফারুক (সাব্বির খান), সম্পাদক আল-আমিন গাজী
এ বিষয়ে পল্লীবিদুৎ সমিতি কলাপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম শেখ আব্দুর রহমান বলেন, পল্লীবিদুৎ অফিসের লোকবল কম থাকায় ছোটো খাটো ভুলত্রুটি হয়ে থাকে। তবে, অভিযোগ পেলে তা সমাধান করা হয়। অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে তিনি বলেন, গত মাসে ঈদ মৌসুম হওয়ার কারণে সকলেই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ করেছে, তাই বিল বেশি হয়েছে। এছাড়া, জুন ক্লোজিংয়ের কারণে কর্মচারীরা তাদের ইচ্ছেতেই অধিক রাত পর্যন্ত অফিসে কাজ করছেন। তবে, অধিক রাত পর্যন্ত অফিস খোলা রাখা সরকারি নিয়মের পরিপন্থী বলেও তিনি স্বীকার করেন।
পটুয়াখালী পল্লীবিদুৎ সমিতির জিএম আবুল কাশেম বলেন, অতিরিক্ত কিংবা ভৌতিক বিলের বিষয়ে তিনি খতিয়ে দেখবেন। এছাড়া, অধিক রাত পর্যন্ত অফিস খোলা রাখার নিয়ম নেই। যদি কারো হাতের কাজ বকেয়া থাকে তবে তা পরের দিন সম্পন্ন হবে। এসব বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
