ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তায় আপস করবে না পাকিস্তান: সেনাবাহিনী


পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তায় আপস করবে না পাকিস্তান: সেনাবাহিনী

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব এবং পবিত্র মসজিদগুলোর নিরাপত্তার প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং পবিত্র দুই মসজিদের নিরাপত্তা এমন বিষয়, যা নিয়ে কোনো আপস করা সম্ভব নয়।’

ইন্ডিপেন্ডেন্ট আরাবিয়া-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, ‘সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা, নিরাপত্তা এবং সর্বোপরি হারামাইন শরিফাইনের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কোনো আলোচনা সাপেক্ষ বিষয় নয়; পাকিস্তানের কাছে এটি একটি অবিসংবাদিত বিষয়। সুতরাং, আমরা যখন এ কথা বলছি, তখন এটি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও দেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন: ডা. জুবাইদা রহমান টোকিওতে হাসপাতাল ও জাদুঘর পরিদর্শন

সৌদি আরবের ওপর হুতিদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের ডিজি আইএসপিআর এসব মন্তব্য করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরবের ওপর হামলার জবাব ‘মক্কা চুক্তির’ অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেওয়া হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তান ‘সৌদি আরবকে প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তা দিচ্ছে এবং সব ধরনের উপায় কাজে লাগাতে প্রস্তুত রয়েছে।’

ইয়েমেন সরকারকে সরাসরি সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানিয়েছেন, ইসলামাবাদ কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পেয়েছে কি না তা তিনি জানেন না, তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, পাকিস্তান তাদের কাছে আসা যেকোনো অনুরোধ ‘বিবেচনা করবে এবং সে বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে।’

সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে বায়ুদূষণে মানুষের গড় আয়ু কমছে ৪ বছর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন, নিরাপত্তার দাবিতে সাংবাদিকদের আওয়াজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৩ পি.এম


গাজীপুরে সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন, নিরাপত্তার দাবিতে সাংবাদিকদের আওয়াজ

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার এবং গাজীপুরের শ্রীপুরে সাংবাদিক এস এম জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় শ্রীপুর থানা রোডে শ্রীপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের উদ্যোগে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত প্রায় অর্ধশত সাংবাদিক। তারা সাংবাদিক হত্যার বিচার, জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক আমাদের সময়ের শ্রীপুর প্রতিনিধি ও শ্রীপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ। সঞ্চালনা করেন দৈনিক আজকের পত্রিকার শ্রীপুর প্রতিনিধি রাতুল মন্ডল।

এ সময় বক্তব্য রাখেন দৈনিক নয়া দিগন্তের শ্রীপুর প্রতিনিধি অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, শ্রীপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী আকতার হোসেন, শ্রীপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান, গাজীপুর সাংবাদিক পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ মোজাহিদ, আশরাফুল ইসলাম সরকার, মুনসুরুল ইসলাম এবং হাসান হাবিব প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করা শুধুমাত্র ব্যক্তির জীবনের ওপর আঘাত নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের জানার অধিকারের জন্যও বিপজ্জনক একটি বার্তা। সাংবাদিক হত্যা এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির ঘটনার বিচার না হলে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম করার জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষা কোনো বিশেষ পেশাজীবী গোষ্ঠীর স্বার্থের বিষয় নয়; বরং এটি গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত।

মানববন্ধন শেষে সাংবাদিকরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি শ্রীপুর পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় থানা রোডে এসে শেষ হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ। তার হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিরোধে হস্তক্ষেপের জেরে সাংবাদিক এস এম জহিরুল ইসলামকে (৩২) প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে প্রতিপক্ষের দ্বারা। জহিরুল ইসলামের দাবি, মামলায় বর্ণিত ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই এবং তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরফান আলী জানান, জমিসংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় আদালতে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্যুৎ বিলের টাকাও উঠছে না, বন্ধ হচ্ছে গাজীপুরের ‘উল্কা’ সিনেমা হল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৩ পি.এম


বিদ্যুৎ বিলের টাকাও উঠছে না, বন্ধ হচ্ছে গাজীপুরের ‘উল্কা’ সিনেমা হল

মানসম্মত সিনেমার অভাব, প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যর্থতা এবং ক্রমাগত লোকসানের চাপের কারণে দেশের সিঙ্গেল স্ক্রিন সিনেমা হলগুলো একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এবার গাজীপুর চৌরাস্তার পরিচিত প্রেক্ষাগৃহ ‘উল্কা’ এই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। আগামী নভেম্বর মাস থেকে হলটির কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।

এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উল্কা সিনেমা হলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিক উদ্দিন। তিনি মন্তব্য করেন, “বর্তমানে হলটি ধুঁকে ধুঁকে চলছে। ক্রমাগত লোকসান হচ্ছে। এখনকার সিনেমা চালিয়ে বিদ্যুৎ বিলের টাকাও উঠছে না।”

তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দর্শকসংখ্যা এতটাই কম যে, হাতেগোনা কয়েকজন দর্শক নিয়ে শো চালানো সম্ভব হলেও খরচ তোলা যাচ্ছে না। কর্মীদের বেতন দেওয়ার পাশাপাশি দৈনিক ও মাসিক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোও প্রত্যাশিত দর্শক টানতে পারছে না। সব মিলিয়ে আর্থিক ক্ষতি সামাল দিতে না পেরে হলটি বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

হলটির দুরবস্থার কারণ ব্যাখ্যা করে রফিক উদ্দিন বলেন, ভালো গল্পের সিনেমা এবং পরিচিত নায়ক-নায়িকা থাকলে দর্শক হলে আসেন। কিন্তু শুধুমাত্র দুই ঈদে সিনেমা চালিয়ে একটি হল টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তার মতে, শাকিব খানের নতুন সিনেমা মুক্তি পেলে দর্শকের ভালো সাড়া পাওয়া যায়। ঈদের বাইরেও তার দুটি সিনেমা মুক্তি পেলে হলগুলো কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেত।

তিনি আরো বলেন, “ভালো সিনেমা যেহেতু নাই, নভেম্বর থেকে আমরা হলটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। লোকসান তো আছেই, তার মধ্যে আবার ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল। সবকিছু মিলিয়ে সহনশীল পর্যায়ে নেই। আর কত লোকসান দেব? তাই বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

বর্তমানে উল্কা সিনেমা হলে চলছে কামরুজ্জামান পরিচালিত ‘স্নেহের বন্ধন’। গত শুক্রবার ১৪টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে জয় চৌধুরী ও মৌ খান অভিনীত সিনেমাটি। মুক্তির আগে রাজধানীতে ছাদখোলা বাসে প্রচারণা চালিয়ে আলোচনায় আসার চেষ্টা করেছিল ছবিটি। তবে মুক্তির পর দেশের সিঙ্গেল স্ক্রিন ও মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমাটির দর্শক উপস্থিতি নিয়ে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে।

শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল সিনেমা হল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে একের পর এক প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। মাত্র দেড় বছর আগে জেলায় হাতেগোনা চারটি সিনেমা হল চালু ছিল, যার মধ্যে অন্যতম ছিল উল্কা। এবার সেটিও বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ মানুষের স্বল্প খরচে বিনোদনের সুযোগ আরও কমে যাবে।

উল্কা বন্ধ হয়ে গেলে গাজীপুরে চালু থাকবে বর্ষা ও ঝুমুর সিনেমা হল। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই দুটি প্রেক্ষাগৃহও বর্তমানে আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে। ফলে জেলার অবশিষ্ট সিনেমা হলগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিরিরবন্দরে দুই শিশুসহ গৃহবধূ হত্যা, শ্বশুর-শাশুড়ি আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


চিরিরবন্দরে দুই শিশুসহ গৃহবধূ হত্যা, শ্বশুর-শাশুড়ি আটক

চিরিরবন্দরে দুই শিশুসন্তানসহ স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় পুলিশ ঘাতক স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আটক করে লাশ উদ্ধার করেছে।

ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সোমবার দুপরে দিমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় রোববার রাত ১২টায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ মৃত গৃহবধূর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে হেফাজতে নিয়েছে। শিশু দুটিকে হত্যা করার আলামত মিললেও গৃহবধূ নিজে আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, শিশু দুটিকে কে হত্যা করেছে—এ রহস্য রোববার দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় মৃত গৃহবধূর বাবা খাইরুল ইসলাম সোমবার দুপুর ১২টায় বাদী হয়ে চিরিরবন্দর থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামল করেন।

চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি গত ১৮ অক্টোবর রোববার দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যার ঠিক পূর্বমুহূর্তে কোনো এক সময় উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের জুগির ডাঙ্গা মাঠের পূর্ব পাশে মোস্তফাপুর বালুপাড়ায় ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টিসহ শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আব্দুল হালিম, থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুন নবী, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন, জেলা সিআইডির পুলিশ সুপার, পরিদর্শক, সিআইডির ক্রাইমসিন বিশেষজ্ঞগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন।

সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, মোস্তফাপুর বালুপাড়ার মাহতাব উদ্দিনের ছেলে শাকিল হোসেনের (২৬) সঙ্গে পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী এলাকার খাইরুল ইসলামের মেয়ে স্বর্ণা বেগমের (২০) সঙ্গে সাড়ে তিন বছর আগে প্রেমের সূত্র ধরে বিয়ে হয়। ওই দম্পতির এক ছেলে সাফায়াত হোসেন (২) ও এক মেয়ে রাইফা জুরাইনা (৯ মাস) নামে দুটি শিশুসন্তানের লাশ ঘরের বিছানায় পড়ে ছিল এবং স্ত্রীর লাশ ঘরের মেঝেতে শোয়ানো ছিল।

স্বামী মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকা, মাদক সেবন করা নিয়ে মাঝেমধ্যে স্বামী-স্ত্রীর বাগ্বিতণ্ডাসহ টুকটাক ঝগড়া-বিবাদ থাকত। সংসারের অভাব-অনটনের কারণে স্বামী শাকিল অটো চালাতেন। অনেক রাতে বাড়িতে ফিরতেন।

স্বামী শাকিল হোসেন জানান, দুপুরের পর অটো নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় স্ত্রী বাবার বাড়ি যাওয়ার জন্য টাকার আবদার করলে তিনি পরের দিন যাওয়ার কথা জানান। স্ত্রী খুব জেদি হওয়ায় তাকে কিছু না বলে অটো নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। সন্ধ্য়ায় বাড়ি ফিরে অনেক ডাকাডাকি করে ঘরের দরজা না খোলায় দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে আবছা আলোয় স্ত্রীকে ঝুলন্ত ও সন্তান দুটোকে মরে পড়ে থাকতে দেখেন।

মৃত গৃহবধূর শ্বশুর মাহাতাব উদ্দিন জানান, ‘অন্যের বাড়িতে মজুরের কাজ শেষে সন্ধ্যার পরপরই বাড়িতে ফিরি। ভাত খাওয়ার সময় ছেলের বউ, নাতি-নাতনি কারো কোনো সাড়া না পাওয়ায় অনেক ডাকাডাকি করি। দরজা না খোলায় বাড়ির মধ্যে বরাবর টিনের বেড়া ভেঙে ছেলের ঘরের দরজা খুলে বউমার লাশ নামিয়ে আনি। চিৎকার-চেঁচামেচিতে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে এবং আমার স্ত্রী নাতি-নাতনি দুটোকে কোলে নিয়ে কান্না শুরু করে।’

মৃত গৃহবধূর মা আনজু আরা বলেন, তার জামাই শাকিল তাদের ফোনে জানান, তাদের মেয়ে সন্তানগুলোকে মেরে নিজে আত্মহত্যা করেছেন। সংবাদ পেয়ে দ্রুত জামাইয়ের বাড়িতে আসি। তবে তিন মাস আগে মেয়ে জানিয়েছিলেন, জামাই নেশা করেন।

মৃত গৃহবধূর বড় ভাই ও শাকিলের ভগ্নিপতি শাহানুর সজীব বলেন, ‘আমি বিয়ের পর থেকে ছয় বছর এই বাড়িতে পাশাপাশি লাগোয়া ঘরে থাকতাম। বর্তমানে ঢাকায় থাকলেও ছুটিতে এসে গত ১৭ অক্টোবর শনিবার এই বাড়িতেই ছিলাম। বোন আত্মহত্যা করেছে নাকি স্বামী মেরে ফেলেছে, ঘটনাটি বুঝতে পারছি না।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুর আমিন শাহ বলেন, তাদের পারিবারিক কলহ ছিল না। কেউ কোনো দিন অভিযোগ দেয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, বোঝা যাচ্ছে না। প্রশাসন এসেছে, তারা তদন্ত করছে। ঘরের দেয়ালে কিছু লেখা ছিল, লেখাগুলি কে লিখেছে, জানা যাচ্ছে না। তবে লেখা ছিল—‘আজ থেকে এ গল্প শেষ। আমি অভাগি মা। আমার সন্তানদের নিজে মারছি। সন্তানদের পুলিশের কাছে দিয়েন না। লাশ পলাশবাড়িতে মাটি দেন। শাকিল যেন না ছোয়, বাবা-মা সরি।’ ‘আই লাভ ইউ’ চিহ্ন ছিল।

ঘটনাস্থলে জেলা পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা বলেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য বা মোটিভ উদ্ধার করতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ শুরু করেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এটি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। আমরা আলামত সংগ্রহ করেছি, সুরতহাল করেছি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গৃহবধূর স্বামী শাকিল হোসেন (২৬), শ্বশুর মাহাতাব উদ্দিন (৫০) ও শাশুড়ি রহমত আলা তারা বিবিকে (৪২) হেফাজতে নিয়েছি। লাশগুলোর ময়নাতদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা যাবে।’

থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুন নবী বলেন, ‘সংবাদ পাওয়ামাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই।

এলাকাবাসী ক্রাইম স্পটে অনেক ভিড় করে ছিল। দ্রুত এলাকাটি ফাঁকা করে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে সিআইডির ক্রাইম বিশেষজ্ঞ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর লাশগুলো উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় গৃহবধূর বাবা সোমবার দুপুরে বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার দায়ের করলে মামলাটি রুজু করা হয়েছে। রাতে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় স্বামী শাকিল নিজেই সন্তানসহ স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে অধিকতর তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এপিবিএনের অভিযানে ৮ কোটি টাকার সোনা, ৮৬২ মোবাইল ও ৬ শিশু উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৫ পি.এম


এপিবিএনের অভিযানে ৮ কোটি টাকার সোনা, ৮৬২ মোবাইল ও ৬ শিশু উদ্ধার

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে গত সেপ্টেম্বর মাসে ৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বেশি মূল্যের সোনা, ৮৬২টি হারানো মোবাইল ফোন এবং নিখোঁজ ছয় শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও, মাদক, অস্ত্র, চোরাই মালামাল ও প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ উদ্ধারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে অনেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে এপিবিএন সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) নুরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সেপ্টেম্বরে এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে ৪ দশমিক ৩৪৪ কেজি সোনার বার ও অলংকার উদ্ধার হয়েছে। এসব সোনার আনুমানিক মূল্য ৮ কোটি ৫৩ লাখ ১৬ হাজার ১৭৫ টাকা। এ ঘটনায় ২২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এপিবিএনের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমের মাধ্যমে ৮৬২টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি হ্যাক হওয়া তিনটি ফেসবুক আইডি, দুটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট, তিনটি ই-মেইল অ্যাকাউন্ট ও একটি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টও উদ্ধার করা হয়েছে। বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ২ লাখ ২২ হাজার ২৮০ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।

নিখোঁজ শিশু ও ভুক্তভোগী উদ্ধার

নুরুল ইসলাম আরও জানান, সেপ্টেম্বর মাসে এপিবিএনের অভিযানে নিখোঁজ ছয় শিশুসহ ২২ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উদ্ধার অস্ত্র, বিপুল মাদক

অস্ত্রবিরোধী অভিযানে একটি ওয়ান শুটার গান, এক রাউন্ড গুলি ও দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৩ হাজার ৪৬৮টি ইয়াবা বড়ি, ৬ কেজি ৫৮ গ্রাম গাঁজা, ১৭ দশমিক ২৫ লিটার মদ, ৬৭৩ কার্টন সিগারেট ও মাদক বিক্রির ৫ হাজার ৩৯০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উদ্ধার চোরাই ও অবৈধ মালামাল

এপিবিএনের অভিযানে নিষিদ্ধ সামুদ্রিক কাঁকড়া ৪৪০ কেজি, তামার তার সাড়ে ৮ কেজি, প্রসাধনসামগ্রী ১ হাজার ৬২ কেজি, ৭৫০ ফুট কারেন্ট জাল, তিনটি মোটরসাইকেল, ২৭৭টি শাড়ি ও থ্রি-পিস, ৩০৯ কেজি খাদ্যদ্রব্য, ২৬২ কেজি কাপড় এবং ২ কেজি ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া ১০ কেজি নকল গয়না, তিনটি এলইডি মনিটরসহ জিপিএস ট্র্যাকার, ফ্যান ও সোলার প্যানেলের ব্যাটারি এবং চোরাই মালামাল বিক্রির ৫ হাজার ২৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে আরও ৩২ হাজার ৫৬০ টাকা বাংলাদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে।

জরিমানা ও গ্রেপ্তার

অতিরিক্ত ডিআইজি জানান, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ৪১৮টি মামলার বিপরীতে ১২ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিএসটিআই, কাস্টমস ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের মাধ্যমে ৪২ লাখ ৬৭ হাজার ৩৯৯ টাকা জরিমানা আদায় ও সাজা দেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত কার্যক্রমে ৫২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৩৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিভিন্ন অভিযানে ৩৪ জন পরোয়ানাভুক্ত আসামি, ১৪ জন এজাহারনামীয় আসামি ও চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চুরি, মারামারি, সড়ক দুর্ঘটনা, অপহরণ, ধর্ষণ, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দস্যুতার বিভিন্ন ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তারের তথ্যও এপিবিএন জানিয়েছে।

পলায়নকালে এফডিএমএন সদস্যদের আটকের ঘটনাতেও অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার, একটি মামলা এবং ২২ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়েছে। জুয়া খেলার সরঞ্জামের পাশাপাশি ১ হাজার ৮৬০ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও অভিযান

রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ২২টি যানবাহন আটক করে শাহপরীর হাইওয়ে থানায় পাঠানো হয়েছে। ক্যাম্প এলাকা থেকে ৫৫ হাজার ৮৮০ টাকা, ৩০টি ইট ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সেপ্টেম্বর মাসে ৮, ১৪ ও ১৬ এপিবিএনের মাধ্যমে মোট ৪৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নুরুল ইসলাম বলেন, এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিট অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা ও তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ দমন ও নাগরিক সেবা সহজ করতে ভবিষ্যতেও প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%