০৮:৪০ পি.এম
বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পের উদ্ভাবন, গবেষণা এবং উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দেশে প্রথমবারের মতো ‘টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’ আয়োজন করা হচ্ছে। এই এক্সপো আগামী ১২ থেকে ১৪ নভেম্বর ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত হবে।
রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সোমবার (১২ অক্টোবর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বক্তারা উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পকে উদ্ভাবন, উচ্চমূল্যের পণ্য এবং উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিতে হবে। উৎপাদন ব্যয় কমানো, জ্বালানি ও পানির সাশ্রয় এবং পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করতে গবেষণা ও নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য।
আরও পড়ুন: স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা কমলো
আইটিইটি বাংলাদেশের মহাসচিব ও টিআইই স্টিয়ারিং বোর্ডের সদস্য প্রকৌশলী এ এস এম হাফিজুর রহমান নিক্সন বলেন, "বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পের পণ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং ‘ব্র্যান্ড ফ্রম বাংলাদেশ’ স্লোগানকে শক্তিশালী করাই এ আয়োজনের লক্ষ্য।" এক্সপোতে প্রায় ৫০টি কারখানা ও শতাধিক উদ্ভাবনী অংশীদার তাদের পণ্য, প্রযুক্তি ও গবেষণা তুলে ধরবেন।
আইটিইটি বাংলাদেশের সভাপতি প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন বলেন, "দেশের টেক্সটাইলশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে উদ্ভাবনের বিকল্প নেই।" তিনি উল্লেখ করেন, উৎপাদন ব্যয় কমানো, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি এক্সপোতে শিল্পসংশ্লিষ্টদের ব্যাপক অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
বিজিবিএর প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল হামিদ বলেন, "বিশ্ববাজারে উচ্চমানের ও বৈচিত্র্যময় পোশাকের চাহিদা বাড়ছে।" তিনি উল্লেখ করেন, আমদানিনির্ভর কাঁচামাল ও বাড়তি জ্বালানি ব্যয় দেশের পোশাকশিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাট ও তুলার মিশ্রণসহ নতুন উপকরণ নিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবন বাড়ানো গেলে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
আয়োজকদের তথ্যমতে, এক্সপোতে ডাইং ও প্রিন্টিং, টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়াল, গার্মেন্ট অটোমেশন এবং গ্রিন ও সাসটেইনেবল প্রযুক্তি নিয়ে চারটি থিম জোন থাকবে। পাশাপাশি ছয়টি টেকনিক্যাল সেমিনার ও একটি প্লেনারি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকেরা আশা করছেন, এক্সপোতে প্রায় পাঁচ হাজার দর্শনার্থী, ১০০টি ব্র্যান্ড ও ক্রেতা এবং ৩০টির বেশি দেশ থেকে ২০০ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অংশ নেবেন।
আরও পড়ুন: চলতি অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ল
এক্সপোর অংশ হিসেবে আটটি বিভাগে ‘টেক্সটাইল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান করা হবে। এই পুরস্কারের মাধ্যমে উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, পণ্য উন্নয়ন ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় অবদান রাখা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএর পরিচালক ইমরান কাদের তুর্জো, আইটিইটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী সুমায়েল মুহাম্মদ মল্লিক এবং টিআইইর চেয়ারম্যান ও টিটিআইএইচের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ইহসানুল করিম কায়সার।
এক্সপোর আয়োজক টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জ (টিআইই)। সহ-আয়োজক টেক্সটাইল ইনোভেশন সেন্টার (টিআইসি), সহযোগী ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি) এবং অংশীদার বিকেএমই ও বিজিবিএ। আয়োজনটি বাস্তবায়ন করছে টেক্সটাইল টুডে ইনোভেশন হাব (টিটিআইএইচ)।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন