০৬:৪৯ পি.এম
পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার দুবরাজপুর থানায় চুরির সন্দেহে ৩৫ বছর বয়সী মুসলিম যুবক বরজাহান শাহকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনার ফলে নিহতের পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে বরজাহানকে চরম শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে এবং তাঁকে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, পুলিশের দাবি—চুরির সন্দেহে উত্তেজিত জনতা বরজাহানকে গণধোলাই দিয়েছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য তদন্ত চলছে।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুবরাজপুর থানার অন্তর্গত জশপুর এলাকায়। পচিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা বরজাহান শাহ পার্শ্ববর্তী একটি এলাকায় গেলে চুরির সন্দেহে তাঁকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
পরিবারের অভিযোগ, থানায় নিয়ে যাওয়ার পর বরজাহানের ওপর নির্মম অত্যাচার চালানো হয়। এর ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে তাঁকে দুবরাজপুর মনসায়ায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী আজমিরা বিবি অভিযোগ করে বলেন, "আমার চোখের সামনেই স্বামী মারা গেছেন। তাঁর মুখ ও নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিল। কিন্তু পুলিশ চিকিৎসা না করিয়ে বিষয়টিকে 'নাটক' বলে উড়িয়ে দিয়েছে।"
নিহতের ছেলে ইসমাইল শাহ এবং এক প্রত্যক্ষদর্শী শেখ জাহাঙ্গীর জানান, থানার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে। জাহাঙ্গীর বলেন, তিনি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বরজাহানকে থানার ভেতরে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছেন।
স্থানীয়দের বিক্ষোভ ও থানায় অভিযোগ
আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুবরাজপুর থানার সামনে জড়ো হয়ে বিচার দাবি করেন। হাসপাতাল থেকে মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় উত্তেজিত গ্রামবাসী গাড়ি আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। নিহতের শ্বশুর মোবারক খান চুরির সন্দেহে বরজাহানকে মারধরের অভিযোগে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে দুবরাজপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রশাসন। বোলপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিষেক রায় জানান, "চোর সন্দেহে জনতা তাঁকে মারধর করেছিল। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে আনে।"
তিনি আরও জানান, বরজাহানের বিরুদ্ধে আগে মাতলামি ও ছোটখাটো অপরাধের কিছু অভিযোগ ছিল। তবে তিনি কেন ওই বাড়িতে ঢুকেছিলেন এবং কীভাবে তাঁর মৃত্যু হলো—সব দিক বিবেচনা করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ডিজেল রপ্তানি বাড়াতে চায় ভারত, শোধনাগারগুলো সক্ষমতা বাড়াচ্ছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন