প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহের ভালুকায় মৃত্যুবরণ করার প্রায় এক বছর পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এই ঘটনার পর ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার বলছে, এটি ‘মৃত্যু নিয়ে তামাশা’ ছাড়া কিছুই নয়।
মামলাটি গতকাল ১৭ অক্টোবর ময়মনসিংহ দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে রেকর্ড করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুসারে, মৃত ব্যক্তি সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এস এম ওমর আলী (৭৩)। তাকে মামলায় ২ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুরে সাবেক পিআইও (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মামলায় তার স্ত্রী হোসনে আরাকে (৫৯) ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আসামি হোসনে আরা দুদকের কাছে তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৫৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া, তার স্বামী এস এম ওমর আলী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিকালীন সময়ে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে স্ত্রীর নামে এই সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন। মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এস এম ওমর আলী (বীরমুক্তিযোদ্ধা) ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। অথচ তার মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর গতকাল (১৭ অক্টোবর) তার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হলো। একজন মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এভাবে মামলা হওয়ায় দুদকের তদন্ত প্রক্রিয়া ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
ওমর আলীর ভাই সাইফুর ইসলাম গণমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মৃত্যু নিয়ে একটা তামাশা করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. বুলু মিয়া জানান, গত ৬ মাস আগে এই মামলার (অনুমোদনের) প্রক্রিয়া চলছিল। তখন আমাদের জানা ছিল না যে অভিযুক্ত ওমর আলী মারা গেছেন।
অভিযোগের তদন্ত বা দীর্ঘ অনুসন্ধানকালে কেন এই তথ্য জানা সম্ভব হলো না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বিষয়টি কিছুটা এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ভাইরে, এটা তো ভুলও হতে পারে। এখন তদন্তের সময় তার নাম (মামলা থেকে) বাদ দেওয়া হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন