০৩:১৯ পি.এম
রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর সমাপনী আয়োজনে একটি ছবি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। হাজারো শিশুর ভিড়ে স্কুলড্রেস পরা এক শিশুর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকে বাড়িয়ে দেয়া দু’টি হাত এবং চোখেমুখে উচ্ছ্বসিত হাসি অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে ছুঁয়ে যায়।
সেই কিশোরের নাম তাহসিন আব্দুল্লাহ। কিন্তু ছবির হাসির আড়ালে একটি গভীর বেদনাদায়ক গল্প লুকিয়ে ছিল।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় তাহসিন তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ, বড় বোন তাসনিয়াকে হারিয়েছিল। যদিও তারা একই স্কুলে পড়তো, সেদিন তারা ছিলেন দু’টি আলাদা ভবনে। তখন তাহসিন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল এবং তাসনিয়া ছিল অষ্টম শ্রেনীতে। বিমানটি আছড়ে পড়ে তাদের ভবনে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সফরে যাচ্ছেন আমজনতার মো. তারেক রহমান
বিকট বিস্ফোরণ শুনে ছোট্ট তাহসিন দৌড়ে যায় বড় বোনকে খুঁজতে। সে কারো কাছ থেকে শুনেছিল স্যালাইন ও পানির প্রয়োজন। বড় বোনের জন্য তাহসিন ছোট্ট দুই হাতে স্যালাইন ও পানির বোতল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। তবে সেই অপেক্ষার অবসান হয়নি।
পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, সেই দুর্ঘটনার পর থেকে তাহসিনের জীবন বদলে যায়। এক হিলিং সেশনে সে লিখেছিল, "আমার কষ্ট অনেক। আমি আমার প্রিয় বোনকে হারিয়ে ফেলেছি। সে মারা গেছে। আমি তাকে অনেক অনেক মিস করি, সে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।"
বোনকে হারানোর পর তাহসিনের মুখে আগের মতো প্রাণখোলা হাসি আর দেখা যেত না। কিন্তু ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে যেনো অন্য এক তাহসিনের দেখা মিলল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন মাঠ প্রদক্ষিণ করছিলেন, তখন শিশুটি আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। সেই নির্মল হাসি ও উচ্ছ্বাস ক্যামেরাবন্দি হয়। পরে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অসংখ্য মানুষ তাহসিনের হাসির সঙ্গে নিজেদের অনুভূতি মিলিয়ে নেয়।
কিছুদিন পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছবির সেই হাসিমাখা মুখটির পেছনে থাকা হৃদয়বিদারক গল্প জানতে পারেন। বিষয়টি জানার পর তিনি তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে তাহসিন ও তার পরিবারের খোঁজ খবর নিতে নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন: বিএনপির অফিসে অগ্নিসংযোগ, সাবেক দুই চেয়ারম্যানসহ ১০ জন কারাগারে
এরপর ২৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসে তাহসিন বাবা নাজমুল হকের সাথে উপস্থিত হন। বর্তমানে সে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে এবং তার নার্সারিতে পড়া একটি ছোট বোনও রয়েছে।
সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রী তাহসিনের পড়ালেখার কথা জিজ্ঞেস করেন এবং বড় হয়ে সে কী হতে চায়, তা জানতে চান। তাহসিন জানায়, সে বড় হয়ে একজন সফল ব্যবসায়ী হতে চায় এবং মানুষের উপকারে আসতে চায়। প্রধানমন্ত্রী তাহসিনের এই স্বপ্নের প্রশংসা করেন এবং লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে পরামর্শ দেন।
আলাপচারিতায় তাহসিন জানায়, তার সবচেয়ে প্রিয় খেলা ফুটবল। প্রধানমন্ত্রী তাহসিনকে বিশেষ উপহার হিসেবে নিজের স্বাক্ষর করা একটি ফুটবল দেন।
সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বসিত তাহসিন জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবার দেখা করতে পেরে সে খুব অতি আনন্দিত। এমন সুযোগ পাবে, সেটা সে কল্পনা পর্যন্ত করেনি। সে বন্ধুদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হওয়ার গল্প শোনানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর সমাধান উদ্ভাবনে গবেষণার আহ্বান প্রযুক্তিমন্ত্রীর
তাহসিন জানায়, প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে পরিবারের একজনের মতো কথা বলেছেন। তাই সে অসন্তুষ্ট বা নার্ভাস হয়নি। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের রুম ঘুরে দেখে, সেখানে গাড়ি ও জাহাজের রেপ্লিকা তার কাছে মুগ্ধকর লেগেছে। বাবার মোবাইল ফোনে সে সেলফিও তুলেছে।
মাইলস্টোনের বিমান দুর্ঘটনায় সন্তানের জন্য তাহসিনের বাবার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত সহযোগী অধ্যাপক (অর্থোপেডিক) ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন।
আরও পড়ুন: সংসদের নিম্নকক্ষের মেয়াদ ৪ ও উচ্চকক্ষের ৬ বছর করার প্রস্তাব
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন