১১:০২ এম
নেপালের সঙ্গে চীনের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ রাসুয়া কেরুং ভয়াবহ বন্যায় কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ২৬ আগস্ট ভোতেকোশি করিডরে ভয়াবহ বন্যার কারণে রাসুয়াগাধি সীমান্ত চৌকি ও চীন নেপাল মৈত্রী সেতু ধ্বংস হয়েছে। এর ফলে, দেশটির প্রধান স্থলবাণিজ্যপথের মাধ্যমে চীনের সঙ্গে পণ্য পরিবহন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।
কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বন্যায় নেপালে ৭৮৮ জন নিহত এবং ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছে। একই সঙ্গে, রাসুয়াগাধি সীমান্ত এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
রাসুয়া কেরুং পথটি ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে চালু হওয়ার পর, বিশেষ করে ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর, নেপালের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হয়ে উঠেছিল। চীন থেকে পোশাক, ইলেকট্রনিকস, গাড়ি, যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য এই পথ দিয়ে কাঠমান্ডুতে পৌঁছাত।
আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কার যুদ্ধবিধবা ও নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে নারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা
বর্তমান বিপর্যয় নেপালের প্রধান উৎসব দশাইন ও তিহারের আগে ব্যবসায়ীদের নতুন দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে চীনের সঙ্গে নেপালের বাণিজ্য সাধারণত ব্যস্ত সময় থাকে। স্বাভাবিক অবস্থায়, প্রতিদিন রাসুয়াগাধি সীমান্ত দিয়ে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি পণ্যবাহী যান চলাচল করত।
নেপাল সরকার বিকল্প হিসেবে তাতোপানি ও কোরালা সীমান্তপথ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। তবে, তাতোপানি পথও বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। কেরুং থেকে তাতোপানি দিয়ে পণ্য পাঠাতে হলে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হবে।
অন্যদিকে, কোরালা সীমান্তে পর্যাপ্ত শুল্ক অবকাঠামো নেই এবং ভারী যান চলাচলের সক্ষমতা সীমিত। শীতকালে সেখানে তীব্র তুষারপাতের কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
গত অর্থবছরে নেপাল চীন থেকে ৪২৫ দশমিক ২৪ বিলিয়ন রুপির পণ্য আমদানি করেছে। একই সময়ে, চীনে নেপালের রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন রুপিতে। ফলে, দুই দেশের বাণিজ্যপথে এই বিপর্যয় নেপালের সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: দিল্লির বায়ুদূষণ মোকাবেলায় নতুন কড়াকড়ি কার্যকর
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন