ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কেন পাকিস্তান যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট?


কেন পাকিস্তান যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট?

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট পাকিস্তানে তার প্রথম সফরকালে রাজধানী ইসলামাবাদে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। 

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মঙ্গলবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন। এই সফরকে শুধু কৃতজ্ঞতা জানানোর আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ইরানের নতুন অবস্থান জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর এটি পেজেশকিয়ানের প্রথম বিদেশ সফর। এর আগে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই বৈঠকে চূড়ান্ত সমঝোতার লক্ষ্যে ৬০ দিনের একটি রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে বলে জানানো হয়।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রেক্ষিতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আহ্বান ইরানি আইনপ্রণেতার

সফরের সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ পেজেশকিয়ান এমন এক সময় ইসলামাবাদ যাচ্ছেন, যখন তার নেতৃত্বাধীন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই চুক্তি নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, যেমনটি দেখা গিয়েছিল ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সময়ও।

২০১৫ সালের ঐতিহাসিক জেসিপিওএ (জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন) চুক্তিতে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হয়েছিল। বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ২০১৮ সালে ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যান।

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক ও জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রেজা খানজাদেহ বলেন, “সমঝোতা স্বাক্ষরের পরপরই পেজেশকিয়ানের ইসলামাবাদ সফর ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তিনি এই ভঙ্গুর চুক্তিকে দেশের অভ্যন্তরে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে, আঞ্চলিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে চান।”

তিনি আরও বলেন, “এই সফরের প্রয়োজন পেজেশকিয়ানের পাকিস্তানের চেয়ে বেশি।”

আরও পড়ুন: সামান্তা শারমিনের পদাবনতি: পুনর্গঠিত এনসিপিতে কার স্থান কোথায়?

ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

সফরে পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে বৈঠক করবেন।

এছাড়া পাকিস্তানের সিনেট চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি, জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও ইরানি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন: ইউরোপের তিন দেশ থেকে ফেরত পাঠানো হলো ৩৫ বাংলাদেশি

সংকটের মধ্য দিয়ে ঘনিষ্ঠ হয়েছে সম্পর্ক

পেজেশকিয়ানের জন্য এটি পাকিস্তানে দ্বিতীয় সফর। ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েল ১২ দিনের যুদ্ধের পরও তিনি প্রথম বিদেশ সফরের জন্য পাকিস্তানকেই বেছে নিয়েছিলেন। তখন তিনি প্রথমে লাহোর এবং পরে ইসলামাবাদ সফর করেছিলেন।

ওই সফরে দুই দেশের মধ্যে ১২টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হয়। একই সঙ্গে বার্ষিক বাণিজ্য প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ’র ইসলামাবাদ ব্যুরো প্রধান আফজাল রেজা বলেন, “পেজেশকিয়ান পাকিস্তানকে বেছে নিয়েছেন দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সামরিক বাহিনী এবং জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে। বিশেষ করে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানাতেই এই সফর।”

আরও পড়ুন: ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমুদ্রসৈকত বন্ধ

তবে দুই দেশের সম্পর্ক সবসময় এতটা মসৃণ ছিল না। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইরান পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল।

তেহরানের দাবি ছিল, তারা সশস্ত্র সংগঠন জইশ আল-আদলের ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা করেছে।

এর জবাবে পাকিস্তানও ইরানের সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানে হামলা চালায়। কয়েক দশকের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে এটিকে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হয়।

তবে দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ইরানের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান ইসলামাবাদ সফর করে উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ নেন এবং পরে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়।

আরও পড়ুন: সীমান্ত আলোচনা শুরু করতে উত্তর কোরিয়াকে প্রস্তাব দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া

এর কয়েক মাস পর ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রায়িসি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হন। পরবর্তী নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতায় আসেন পেজেশকিয়ান।

মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা

মার্কিন-ইসরায়েল হামলা শুরুর পর থেকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও পেজেশকিয়ানের মধ্যে অন্তত সাতবার ফোনালাপ হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এসব আলোচনার কয়েকটি প্রায় এক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও অন্তত দুইবার তেহরান সফর করেছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও একাধিকবার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সফর করেন।

আরও পড়ুন: গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সে ভারতকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ চমক দেখাল

এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতার ফল হিসেবে ১৮ জুন ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেন।

সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক কমিটি গঠন, পারমাণবিক ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পৃথক কর্মপরিকল্পনা, হরমুজ প্রণালী নিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং লেবানন বিষয়ে সংঘাত এড়ানোর প্রক্রিয়া।

বিশ্লেষক খানজাদেহ বলেন, “বার্গেনস্টক প্রযুক্তিগত আলোচনা আয়োজন করছে, কিন্তু ইসলামাবাদ রাজনৈতিক আস্থা তৈরির জায়গা তৈরি করছে।”

তার মতে, প্রযুক্তিগত আলোচনায় নিয়ম, সময়সূচি ও যাচাই পদ্ধতি নির্ধারণ করা যায়, কিন্তু রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য প্রয়োজন আস্থা ও নেতৃত্বের সমর্থন।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারই ইরানের বড় লক্ষ্য

ইরানের বিষয়ে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত আসিফ দুররানি বলেন, পেজেশকিয়ানের সফর নিয়ে তিনি আশাবাদী, তবে সতর্কও রয়েছেন।

তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ থেকে দূরে থাকতে ইরান প্রস্তুত এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধীনে কাজ করতে পারে। তবে ইরানের মূল লক্ষ্য হলো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

দুররানি বলেন, “ইতোমধ্যে ৬০ দিনের জন্য ইরানকে বিশ্ববাজারে তেল রফতানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটি বড় ধরনের স্বস্তি।”

লেবানন ইস্যুতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে, ইসরায়েল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা মেনে চলে।

পেজেশকিয়ানের জন্য অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বার্তাও

বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের ইসলামাবাদ সফর পাকিস্তানের কূটনৈতিক গুরুত্বও বাড়াবে। ইরান প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে শুধু বার্তাবাহক নয়, বরং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। সেইসাথে সফরটি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ।

খানজাদেহ বলেন, “এই সফরের মাধ্যমে পেজেশকিয়ান দেখাতে চাইছেন যে, কূটনীতি আত্মসমর্পণ নয়। ইরান তার সার্বভৌম অবস্থান থেকে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের চাপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে নয়।” সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আদব মানুষকে সম্মানিত করে পক্ষান্তরে আদবহীনতা মানুষের মর্যাদা নষ্ট করে -ছারছীনার পীর ছাহেব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ পি.এম


আদব মানুষকে সম্মানিত করে পক্ষান্তরে আদবহীনতা মানুষের মর্যাদা নষ্ট করে -ছারছীনার পীর ছাহেব

আমীরে হিযবুল্লাহ ছারছীনা দরবার শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা. জি. আ.) বলেছেন- ইসলামে আদবের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। একজন মানুষের ঈমান, আমল ও চরিত্রের সৌন্দর্য প্রকাশ পায় তার আদব-আখলাকের মাধ্যমে। মানুষকে মানুষের মাঝে সম্মানিত করে তার সম্পদ নয়, তার বংশ নয়, বরং তার আদব ও চরিত্র। আদব এমন একটি গুণ, যা একজন মানুষকে সমাজে মর্যাদাবান করে তোলে। “আদব ছাড়া ইলম হলো ফলহীন বৃক্ষের মতো”। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা.) ছিলেন আদব ও উত্তম চরিত্রের সর্বোত্তম নমুনা। তাঁর জীবন আমাদের জন্য আদবের সর্বোত্তম শিক্ষা।

পীর ছাহেব কেবলা আরও বলেন- আদবের প্রথম ধাপ হলো আল্লাহর সাথে আদব। এরপর পিতা-মাতার সাথে আদব। আজ অনেক সন্তান পিতা-মাতার কথা শুনতে চায় না। শিক্ষকদের সাথে আদব, আলেমদের সাথে আদব, প্রতিবেশীদের সাথে আদব বর্তমান যুগে আমরা অনেকেই শিক্ষিত হচ্ছি, কিন্তু আদব শিখছি না। ফলে সমাজে অশান্তি, পারিবারিক কলহ এবং পারস্পরিক বিদ্বেষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আমাদের উচিত কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিজেদের চরিত্র গঠন করা। মনে রাখতে হবে, আদব মানুষকে সম্মানিত করে পক্ষান্তরে আদবহীনতা মানুষের মর্যাদা নষ্ট করে।

২২ জুন সোমবার বাদ মাগরীব ছারছীনা দরবার শরীফ জামে মসজিদে হযরত পীর ছাহেব কেবলা পবিত্র হজ্বব্রত পালন শেষে দেশে এসে ছারছীনা দারুস্সুন্নাত জামেয়ায়ে ইসলামিয়া, ছারছীনা দারুসসুন্নাত জামেয়ায়ে নেছারিয়া দীনিয়া ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় অধ্যায়নরত ছাত্রদের উদ্দেশ্যে নসীহত করতে গিয়ে একথা বলেন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন- ছারছীনা দারুস্সুন্নাত জামেয়ায়ে ইসলামিয়া, ছারছীনা দারুসসুন্নাত জামেয়ায়ে নেছারিয়া দীনিয়া ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার আসাতিজায়ে কেরামগণ।

 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসির প্রেমে আর্জেন্টিনা সমর্থক পূর্ণিমা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ পি.এম


মেসির প্রেমে আর্জেন্টিনা সমর্থক পূর্ণিমা

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় মেতে উঠেছেন বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক। সেই আবহে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের শোবিজ তারকারাও।

প্রিয় দলকে সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়েছেন অনেকেই। তাদের মধ্যে আছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা, যিনি বরাবরই আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

আর্জেন্টিনার দারুণ জয়ের পর নিজের ফেসবুক পেজে আকাশি-সাদা জার্সি পরা দুটি ছবি শেয়ার করেন পূর্ণিমা। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘মেসির প্রতি ভালোবাসা আমাকে আর্জেন্টিনার সমর্থক বানিয়েছে, আর আর্জেন্টিনাই আমাকে চিরদিনের জন্য ভালোবাসায় আটকে রেখেছে।’

অভিনেত্রীর এই পোস্টটি মুহূর্তেই ভক্তদের নজর কাড়ে। পোস্টটিতে প্রায় দুই লাখের কাছাকাছি রিঅ্যাকশন, প্রায় ছয় হাজারের কাছাকাছি মন্তব্য এবং শেয়ার হয়েছে সাত শতাধিকেরও বেশি।

জানা গেছে, পূর্ণিমার স্বামী আশফাকুর রহমানও আর্জেন্টিনার সমর্থক। সোমবার রাতে ঢাকার শাহীনবাগের একটি রেস্টুরেন্টে স্বামী ও ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে বসে আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচ উপভোগ করেন তিনি।

আর্জেন্টিনার প্রতি নিজের ভালোবাসার গল্পও তুলে ধরে পূর্ণিমা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে আর্জেন্টিনার ফুটবল খেলা দেখি। তবে আর্জেন্টিনার প্রতি প্রেম বলি, ভালোবাসা বলি—এটা বাড়িয়েছেন মেসি। অভিষেক থেকে মেসি তাঁর খেলায় মুগ্ধ করেছেন। গতকালের খেলাও দারুণ উপভোগ করেছি। মেসি কী অসাধারণ দুটি গোল করেছেন। মেসির কারণে দলটার প্রতিও আমার ভালোবাসা দিনকে দিন বেড়েছে।’

পূর্ণিমার বক্তব্যে স্পষ্ট, তাঁর আর্জেন্টিনা-প্রেমের শুরুটা হয়েছিল লিওনেল মেসিকে ঘিরে। সময়ের সঙ্গে সেই ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো দলের প্রতি। বলা দরকার, সোমবার রাতে টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বের শেষ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। দলের হয়ে জোড়া গোল করেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। দলের এই জয়ের পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন পূর্ণিমা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোপালগঞ্জে জাতীয় ফল মেলা শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ পি.এম


গোপালগঞ্জে জাতীয় ফল মেলা শুরু

ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ ও পুষ্টির গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে গোপালগঞ্জে এক তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান।

অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বলেন, ‘দেশ সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে, আর এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের কৃষি খাতও সমৃদ্ধ হচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ফল মেলার গুরুত্ব অপরিসীম।’ তিনি আরও জানান, ‘দেশীয় ফলের উৎপাদন ও বিপণন বাড়াতে আগামীতে এই মেলা আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় কথা বলা হবে এবং যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মো. হাবিবউল্লাহ (এসপি) ফলের অপরিসীম পুষ্টিগুণের উপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ‘সুস্থ ও সবল জীবনের জন্য আমাদের প্রতিনিয়ত ফল খেতে হবে।’ কিন্তু তিনি উল্লেখ করেন, দৈনিক পুষ্টির চাহিদার তুলনায় জনসাধারণের মধ্যে দেশীয় ফল খাওয়ার প্রবণতা কম। একই সঙ্গে তিনি বিদেশি ফলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় ফল বেশি বেশি খাওয়ার আহ্বান জানান।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজা আক্তার, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শিকদার শহীদুল ইসলাম লেলিনসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

‘করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’ এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত মেলায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৃষক, উদ্যোক্তা ও ফল চাষিরা অংশগ্রহণ করছেন। উল্লেখ্য, মেলা চলবে আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মন্ত্রীদের সংসদ অধিবেশনের তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কাজ নেই: স্পিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ পি.এম


মন্ত্রীদের সংসদ অধিবেশনের তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কাজ নেই: স্পিকার

জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলাকালীন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি সংসদের কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জবাবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় কোনো কাজ সংসদ অধিবেশনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। সংসদ অধিবেশনই সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করে।’

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত রাখার জন্য স্পিকার শুরু থেকেই সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, যখন কোনো মন্ত্রণালয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা দায়িত্বশীল representantes সংসদ কক্ষে উপস্থিত থাকেন না।

সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। সেসব বিষয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সরাসরি শোনা প্রয়োজন। বিশেষ করে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা যদি নিয়মিত উপস্থিত না থাকেন, তাহলে সংসদীয় আলোচনার কার্যকারিতা কমে যায়।

বিরোধীদলীয় নেতা সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, অধিবেশন চলাকালে কখনো কখনো কয়েকজন সদস্যকে ছোট ছোট দলে আলাদা আলোচনা করতে দেখা যায়। এতে সংসদের মর্যাদা ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুসরণ করতেও অন্য সদস্যদের অসুবিধা হয়।

তিনি আরো বলেন, একদিকে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে, অন্যদিকে কয়েকজন মিলিত হয়ে আলাদা বৈঠকের মতো পরিবেশ তৈরি করছেন। এটি সংসদের শৃঙ্খলা ও ডিসেন্সির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর জবাবে বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজেট অধিবেশন চলাকালীন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংসদ সদস্যরা বক্তব্য রাখেন এবং স্বাস্থ্য, আইন-শৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকারসহ নানা খাত নিয়ে আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের উপস্থিত থেকে বক্তব্য শোনা প্রয়োজন। আমি আবারও তাগিদ দিচ্ছি, কোনো রাষ্ট্রীয় কাজ সংসদ অধিবেশনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। সব রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের মধ্যে সংসদ অধিবেশনই সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করে। মন্ত্রীদের উচিত, যথাসময়ে সংসদে উপস্থিত থাকা এবং তাদের মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা। যথাসম্ভব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণেরও চেষ্টা করা উচিত।’

স্পিকার সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলার প্রসঙ্গে বলেন, তিনি মাঝে মাঝে ছোট ছোট গ্রুপে আলোচনা এবং আসন ছেড়ে অন্যত্র কথা বলতে দেখেন। এমনকি কয়েকবার ‘ফ্লোর ক্রসিং’-এর ঘটনাও তার নজরে এসেছে। সংসদের ভেতরে গ্রুপভিত্তিক আলোচনা পরিহার করুন। যতটা সম্ভব নিজ নিজ আসনে বসে কার্যক্রমে অংশ নিন এবং আলোচনাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনুন। সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। পয়েন্ট অব অর্ডার নিষ্পত্তির পর স্পিকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু করেন। প্রথমে বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আইনুল হক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%