ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পূর্বধলায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ


পূর্বধলায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে নারীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার খালিশাউড় ইউনিয়নের বনপাড়া গ্রামে কল্পনা নামে এক নারী ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় নারীদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এক ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে বলেন, তাকে গর্ভবতী কার্ড দেওয়ার কথা বলে ৫ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া কল্পনা নামে ওই নারী বড় পরিবারের জন্য মাসে ৫ হাজার টাকা এবং ছোট পরিবারের জন্য মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা দেওয়ার কথা বলছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা এখনো ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কাজ শুরু করিনি। বিষয়টি তদন্ত করে ওই নারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি নিয়মে সবাইকে জানানো হবে। এ ধরনের প্রতারণার ফাঁদে না পড়তে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে অভিযুক্ত কল্পনার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে বনপাড়ার এক ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গতকালও এক নারী ফ্যামিলি কার্ডের জন্য টাকা চাইতে এলাকায় এসেছিলেন। তাকে ধরতে গেলে ওই নারী দৌড়ে পালিয়ে যান।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত ও প্রকৃত তথ্য জনগণের কাছে স্পষ্ট করা হোক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামিন না পেয়ে আরেক মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক মেজর সাদিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪৮ পি.এম


জামিন না পেয়ে আরেক মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক মেজর সাদিক

এবার সাবেক মেজর মো. সাদিকুল হককে খিলক্ষেত থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ অগাস্ট) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন।

এটি প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তারেকুর রহমান এতথ্য জানান।

সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর সাদিককে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর সামরিক আদালতে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর পর ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আরেকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ২৯ জুন শেষে তিনি ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান।

কিন্তু গত ৭ অগাস্ট তাকে রাজধানীর ভাটারা থানাধীন এলাকায় একটি ব্যক্তিগত গাড়ি পোড়ানোর মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন ভাটারা থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁদ আলী। সেই আবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং ‘দেশকে অস্থিতিশীল করতে’ ওই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তদন্তে এ ঘটনায় সাদিকের ‘প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে’ বলে উল্লেখ করা হয়।

ওই আবেদনের শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী এইচ এম আল-আমিন আদালতে বলেন, ‘ঘটনার সময় আসামি কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থেকে তিনি কীভাবে গাড়ি পোড়ান?’

কারাগারে থাকা অবস্থায় কীভাবে সাদিক মামলার ঘটনায় জড়িত হলেন, সে বিষয়ে আদালত ভাটারা থানার ওসি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা দিতে বলে। পরে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দেন। সেই ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে ঢাকার ম্যাট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম মেজর সাদিককে ওই মামলায় গ্রেপ্তার না দেখানোর আদেশ দেন।

এর ভিত্তিতে সাদিকের আইনজীবী এইচ এম আল-আমিন তখন বলেন, ‘আর কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় তার মুক্তিতে বাধা নেই।’

কিন্তু এর পরপরই খিলক্ষেত থানার নতুন মামলায় সাদিককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানান ওই থানার এসআই মো. শাহজালাল। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন আজ মঙ্গলবার রাখেন।

এদিন শুনানিকালে মেজর সাদিককে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার বিবরণে বলা হচ্ছে, গত বছরের ১৭ মে দুপুর ২টার দিকে খিলক্ষেত বাজারসংলগ্ন এলাকায় ‘নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সময়’ সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।

এই মামলায় আরো বলা হয়েছে, ‘তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করায় তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ভাবমূর্তি, সুনাম ক্ষুণ্ন করা ও ঢাকা সেনানিবাসের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার জন্য ‘সহযোদ্ধা’ নামক সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়।’

এ ঘটনায় ঢাকা সেনানিবাসের সদর দপ্তর লজিস্টিকস এরিয়ার আজিজুল ইসলাম পরদিন খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২টি এমকিউ-৯বি সিগার্ডিয়ান ড্রোন ভাড়া নিচ্ছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪৯ পি.এম


২টি এমকিউ-৯বি সিগার্ডিয়ান ড্রোন ভাড়া নিচ্ছে ভারত

ভারতীয় নৌবাহিনীর বহরে দুটি এমকিউ-৯বি সিগার্ডিয়ান ড্রোন যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এই দুটি চালকবিহীন বিমান ভাড়ায় নেওয়া হয়েছে ৩০ মাসের জন্য। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, এই ড্রোনগুলো ভারতীয় নৌবাহিনীর দীর্ঘপাল্লার নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেনারেল অ্যাটমিকসের সঙ্গে চুক্তি করে ভারত। সোমবার নয়াদিল্লিতে চুক্তিটি সাইন করা হয়েছে। এর মূল্য প্রায় ১ হাজার ৯৪৩ কোটি রুপি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন দুটি ড্রোন নিয়মিত নজরদারি ও অনুসন্ধানে ব্যবহার করা হবে ভারতীয় নৌবাহিনীর সামুদ্রিক এলাকায়।

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতায় এভাবে বৃদ্ধি ঘটবে।

এমকিউ-৯বি সিগার্ডিয়ান হচ্ছে একটি চালকবিহীন বিমান ব্যবস্থা। এটি দীর্ঘ সময়ে এবং উচ্চতায় উড়তে সক্ষম। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি, অনুসন্ধানের পাশাপাশি নির্ভুল হামলার জন্যও এই ড্রোন ব্যবহৃত হতে পারে।

ড্রোনটিতে রয়েছে উন্নত সেন্সর ও নানা আধুনিক প্রযুক্তি। এটি একটানা ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় আকাশে থাকতে পারে এবং ৪০ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় উড়তে পারে। দীর্ঘক্ষণ আকাশে থাকার কারণে এটি সমুদ্র ও স্থলভাগের বিস্তৃত এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে সমর্থ। সামুদ্রিক টহল ও অনুসন্ধানের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও এতে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধের সক্ষমতা।

ভারত এরই মধ্যে জেনারেল অ্যাটমিকসের কাছ থেকে ৩১টি এমকিউ-৯বি ড্রোন কেনার জন্য প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করেছে। এই চুক্তি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় হলেও এটি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ভারতীয় নৌবাহিনী পাবে ১৫টি এমকিউ-৯বি সিগার্ডিয়ান ড্রোন। ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী পাবে আটটি করে ড্রোন। সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর জন্য নির্ধারিত ড্রোনগুলোর স্থলভাগে হামলার ও নজরদারির সংস্করণকে স্কাইগার্ডিয়ান বলা হয়ে থাকে। এ ছাড়া জেনারেল অ্যাটমিকসের সাথে ভারত আরো একটি চুক্তি করেছে। এতে দেশের মধ্যে এই চালকবিহীন বিমান ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত এবং বড় ধরনের সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সেবা প্রদান করা হবে।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, নতুন দুটি ড্রোন ভাড়ায় নেওয়ার ফলে ভারতীয় নৌবাহিনীর সামুদ্রিক এলাকায় নজরদারির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। মন্ত্রণালয়ের মতে, এই ড্রোনের মাধ্যমে সমুদ্রের বিশাল এলাকায় নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও অনুসন্ধান সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। ফলে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের গতিবিধি এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাওয়া যাবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, এসব তথ্যের উপর ভিত্তি করে পরিস্থিতির পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং যখন প্রয়োজন হবে তখন দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনবিআরকে ভয় নয়, আস্থার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৫৪ পি.এম


এনবিআরকে ভয় নয়, আস্থার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) জনগণের কাছে আরো নির্ভরযোগ্য এবং আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা জনবান্ধব হওয়া প্রয়োজন, যা দুর্নীতি এবং হয়রানিমুক্ত হবে।

করদাতারা যেন এনবিআরকে ভয় না করেন, বরং তাদের বিশ্বাস করতে পারেন, এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথাগুলো বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, পৃষ্ঠপোষকতা, কারো প্রতি বিরূপ মনোভাব অথবা রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতা কারণে অতীতে এনবিআর প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এখন ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এনবিআরের পুনরুজ্জীবনের সময় এসেছে।

তিনি আরো বলেন, দেশের জনগণ বর্তমানে এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায়। বিশেষ করে করদাতারা চাচ্ছেন যে, এনবিআর তাদের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক। দক্ষ এবং টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এর মাধ্যমে এই জনআস্থা অর্জন করা সম্ভব।

করদাতাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব এনবিআরের কর্মকর্তাদের নিতে হবে।

বর্তমান সরকার এনবিআর তথা রাজস্ব ব্যবস্থাকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে চায় বলে জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তন, নতুন ব্যবসায়িক মডেল এবং পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক করব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল ইকোনমি, ই-কমার্স, ট্রান্সফার প্রাইসিং, আন্তর্জাতিক করব্যবস্থা, ট্রেড ফাইন্যান্স, আর্থিক অপরাধ, মানি লন্ডারিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজস্ব কর্মকর্তাদের সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকা এখন অত্যন্ত প্রয়োজন।

দেশের কর-জিডিপি অনুপাত এবং করভিত্তির সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সক্ষমতার তুলনায় ট্যাক্স-জিডিপির হার এখনো অনেক কম।

করভিত্তিও তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ। অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনো অনানুষ্ঠানিক। সীমিতসংখ্যক নিয়মিত করদাতার ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। একই সঙ্গে করদাতা এবং রাজস্ব প্রশাসনের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক যেমন তারা আরো শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি বলেন, আধুনিক কর প্রশাসনের লক্ষ্য হলো শুধু বেশি কর আদায় করা নয়, বরং বেশি সংখ্যক মানুষকে স্বেচ্ছায় কর প্রদানে উৎসাহিত করা। যারা নিয়মিত কর দেন, রাষ্ট্রকে তাদের সম্মান করতে হবে। তেমনি যারা ইচ্ছাকৃতভাবে কর পরিহার করছেন, তাদেরও যথাযথভাবে কর প্রদানে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

কর ব্যবস্থাপনা সহজ এবং হয়রানিমুক্ত করার উপর গুরুত্ব রেখে তিনি বলেন, কর আদায়ের পদ্ধতি এভাবে তৈরি করতে হবে যেন মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। একই করদাতার ওপর বারবার করের বোঝা বাড়ানো রাজস্ব বৃদ্ধি করার একটি টেকসই পদ্ধতি নয়। বরং কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের যথাযথ নিয়মে করের আওতায় আনতে হবে।

এ জন্য তিনি ডিজিটাল এবং ডাটাভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে ডাটাভিত্তিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার কোনও বিকল্প নেই।

ভ্যাট ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আধুনিক অর্থনীতিতে ভ্যাট একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎস হিসেবে আছে। কিন্তু এর সফলতা কার্যকর বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করে। ভ্যাট প্রশাসনের জটিলতার কারণে যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, কাস্টমস, ভ্যাট অথবা আয়কর আদায় শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ বা এনফোর্সমেন্টের বিষয়ের না। রাজস্ব ব্যবস্থাপনার প্রতি করদাতাদের আস্থা এবং বিশ্বাস তৈরি করা গেলে রাজস্ব আহরণ অনেক সহজ হবে। তাই দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এনবিআরকে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে, যেটিকে মানুষ ভয় করবে না, বরং বিশ্বাস করবে।

প্রধানমন্ত্রী এনবিআরের কর্মকর্তাদের বলেন, ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিষ্ঠান এবং দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তোলা। প্রত্যেক মানুষের অবদানকে সম্মানসহ দেখতে চায় সরকার।

এনবিআরের অভ্যন্তরে অতীতে ঘটে যাওয়া একটি ‘দুঃখজনক ঘটনা’ এর প্রসঙ্গ তুলে উল্লেখ করেন, সমস্যা আছে এবং সমস্যা থাকবেই। আলোচনা করে ধীরেধীরে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে। সরকারের দায়িত্বে থাকা সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে নিরাপদ এবং স্বস্তির পরিবেশে দেশ গঠনে কাজ করতে পারেন, সরকার সে বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে।

তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরকার অগ্রাধিকার দেবে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা পরিহারের চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে এবং যাতে সকলেই স্বস্তিতে কাজ করতে পারেন সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

রাজস্ব আহরণে সাম্প্রতিক ইতিবাচক প্রবণতার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত রাজস্ব আহরণের পরিমাণ ইতিবাচক ছিল। এটি প্রমাণ করে, এনবিআরের কর্মকর্তারা পারেন এবং তারা এমন আরো ভালো করতে পারবেন।

তিনি বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সবার দেশপ্রেম এবং আন্তরিকতা প্রয়োজন। সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে একটি শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

আরো সমৃদ্ধ, বিনিয়োগবান্ধব এবং ব্যবসাবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এর সফলতা কামনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢামেকে সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দির মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৫৬ পি.এম


ঢামেকে সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দির মৃত্যু

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি কবির সর্দার (৬০) মারা গেছেন। তিনি গোপালগঞ্জের মোকসেদপুর উপজেলার মোজাফফর সর্দারের ছেলে।

সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত ১২ আগস্ট তিনি অসুস্থ অবস্থায় কারারক্ষীদের মাধ্যমে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হাসপাতালে ভর্তি হন।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কবির সর্দার হৃদরোগ ও টিবি রোগে ভুগছিলেন। প্রথমে হৃদরোগের চিকিৎসার পর তাকে টিবি রোগের চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মোকসেদপুর থানার একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি ছিলেন কবির সর্দার। ইতোমধ্যেই তিনি ২২ বছর বন্দি অবস্থায় কাটিয়েছেন।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক। তিনি জানিয়েছেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%