১০:১৪ এম
ওয়ানইং ‘হিদার’ ঝাং চীনের হয়ে নিবন্ধন না করেই এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিলেন। একই সময়ে তিনি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের ছেলে ও তার পরিবারের ওপর নজরদারি পরিচালনা করছিলেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এফবিআই তাকে গ্রেফতার করেছে।
৪ অক্টোবর রবিবার ৩৪ বছর বয়সী ওয়ানইংকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ইরভাইনের বাসিন্দা। সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে তার প্রাথমিক শুনানির আয়োজন করা হবে।
মার্কিন ফেডারেল অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে ঝাং সিয়াটলে গিয়ে তাইওয়ান সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের ওপর নজরদারি চালান। অভিযোগ করা হয়েছে, চীনা কর্মকর্তাদের নির্দেশে তিনি ওই ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তোলার কাজ করেছিলেন।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
এফবিআই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, নজরদারির লক্ষ্য ছিলেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের ছেলে এবং তার পরিবার।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঝাং এবং ‘ইন্ডিভিজুয়াল-১’ নামে পরিচিত অপর এক ব্যক্তি লাস ভেগাস থেকে সিয়াটলে যান। সেখানে তারা ওই পরিবারের বাড়ির বাইরে একটি ভাড়া করা কালো এসইউভিতে অপেক্ষা করছিলেন।
প্রতিবেশীর নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে তাদের অবস্থান ধরা পড়ে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে পৌঁছালে দুজন গাড়ির ভেতর থেকে মোবাইল ফোন বের করে তাদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ওই পরিবারের অবস্থান, বাড়ি ও গাড়ির ছবি চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হতে পারে। ভবিষ্যতে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতিতে এসব তথ্য ব্যবহার করে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা করা হতে পারে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?
ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের প্রথম সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি বিল এসাইলি বলেন, ঝাং একজন সহযোগীর সঙ্গে সমন্বয় করে ওই সফর করেছিলেন এবং নজরদারি এড়াতে বিশেষ কৌশল ব্যবহার করেছিলেন। বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করার বিষয়টি তিনি মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেলকে জানাননি, যা যুক্তরাষ্ট্রের আইনে ফেডারেল অপরাধ।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মুখপাত্র কারেন কুও ঘটনাটির নিন্দা করে একে ‘ট্রান্সন্যাশনাল রিপ্রেশন’ বা সীমান্ত পেরিয়ে দমন-পীড়নের উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে দ্বীপটি দখলের কথাও বলে আসছে। অন্যদিকে, তাইওয়ান একটি স্বশাসিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পরিচালনা করে। তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে দীর্ঘদিন ধরে বেইজিংয়ের তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছেন।
আরও পড়ুন: ডিজেল রপ্তানি বাড়াতে চায় ভারত, শোধনাগারগুলো সক্ষমতা বাড়াচ্ছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন