মো: রনি শিকদার স্টাফ রিপোর্টার:
১১:৫০ পি.এম
*জামিনে মুক্ত হওয়ার পর জেলগেট থেকে আসামিকে ধরে নিয়ে নতুন মামলায় জড়ানোর মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে।
*ঝালকাঠীতে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ‘শোন অ্যারেস্ট’ বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ।
*দীর্ঘদিন কারাভোগের পর মুক্তির মুহূর্তে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবির অভিযোগ।
* ‘শোন অ্যারেস্ট’-এর আতঙ্কে ঝালকাঠী জেলাজুড়ে উদ্বেগ বিরাজ করছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
মো: রনি শিকদার স্টাফ রিপোর্টার:
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার বাসিন্দা ও সাংবাদিক রাজিব তালুকদারকে ঘিরে একের পর এক মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’ (ঝযড়হি অৎৎবংঃ), আদালতের একাধিক আবেদন খারিজ হওয়ার পরও কারামুক্তি না পাওয়া এবং জেলগেট থেকে পুনরায় আটকের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের নথি, আইনজীবীদের বক্তব্য, পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের একটি মামলায় গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে মামলা নং-০৪, তারিখ ০৮/০২/২০২৬, জিআর নং-১৬/২০২৬ (কাঠালিয়া) দায়ের করা হয়। উক্ত মামলায় গ্রেপ্তারের পর তিনি মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের মিস কেস নং-১৬৮৪৯/২০২৬ (টেন্টেটিভ নং-১৭৩১৩/২০২৬)-এর মাধ্যমে ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে এক বছরের জামিন লাভ করেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তিনি জামিনে মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতা, বিস্ফোরক ও নাশকতা-সংক্রান্ত মামলায় ধারাবাহিকভাবে ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
২৭ এপ্রিল ২০২৬: কাঠালিয়া থানার মামলা নং-০৩, তারিখ ৫ নভেম্বর ২০২৪, বিস্ফোরক উপাদানবলী আইন, ১৯০৮ (সংশোধনী-২০০২)-এর ৩/৩(ক)/৪ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৪২৭/৩৭৯/৫০৬(২) ধারায় দায়ের করা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হারান চন্দ্র পাল রাজিব তালুকদারকে শোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট কাঠালিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুর ও সহিংসতার ঘটনায় তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে ৩ মে ২০২৬ তারিখে শুনানিকালে মামলার বাদী মো. শিপন শিকদার আদালতকে জানান, তিনি রাজিব তালুকদারকে ব্যক্তিগতভাবে চিনলেও ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত নন। একই সঙ্গে তিনি আসামির বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি নেই বলেও আদালতকে অবহিত করেন।
বাদীর বক্তব্য ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত মত দেন যে, গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করার মতো পর্যাপ্ত উপাদান উপস্থাপিত হয়নি। ফলে আবেদনটি নামঞ্জুর করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে জারি করা প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার করা হয়।
গত ২ মে ২০২৬: ঝালকাঠী সদর থানার জিআর নং-২১৫/২০২৪ মামলায়, যা ২০২২ সালের ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগে দায়ের করা হয়েছিল, সেখানে পুনরায় রাজিব তালুকদারকে শোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিএনপির নেতাকর্মীদের মিছিলে অতর্কিত হামলায় তিনি অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু ৬ মে ২০২৬ তারিখে ঝালকাঠীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেন। আদালত তার আদেশে উল্লেখ করেন, কেস ডায়েরিতে আসামির সম্পৃক্ততার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে থাকলেও কেন এত দেরিতে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। পুলিশ ও আইনজীবীদের বক্তব্য এবং মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত মত দেন যে, গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করার মতো পর্যাপ্ত উপাদান উপস্থাপিত হয়নি। ফলে আবেদনটি নামঞ্জুর করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে জারি করা প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার করা হয়।
তিন মাসের বেশি কারাভোগের পরও মুক্তি মেলেনি: পরিবার, সহকর্মী সাংবাদিক ও আইনজীবীদের দাবি:
শোন অ্যারেস্ট’ বাণিজ্যের অভিযোগ, রাজিব তালুকদারও কি সেই চক্রের শিকার? সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ‘শোন অ্যারেস্ট’কে কেন্দ্র করে কথিত বাণিজ্যের অভিযোগ নতুন নয়। গত ৩ মে ২০২৬ তারিখে জাতীয় দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতায় “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলা: শোন অ্যারেস্ট ঘিরে ঘাটে ঘাটে বাণিজ্য” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বিভিন্ন মামলায় শোন অ্যারেস্টকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের একাংশের দাবি, সাংবাদিক রাজিব তালুকদারের ঘটনাও একই ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, আদালতে একাধিকবার শোন অ্যারেস্টের আবেদন খারিজ হওয়ার পরও ধারাবাহিকভাবে নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. জাকির হোসেন বলেন, “যে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সাইবার-সংক্রান্ত মামলায় রাজিব তালুকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সেই মামলায় গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি কারাগারে থাকলেও ওই সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কিন্তু হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভের পরপরই ধারাবাহিকভাবে একাধিক রাজনৈতিক মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে একজন পেশাদার সাংবাদিককে পর্যাপ্ত ভিত্তি ছাড়া ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক মামলায় জড়ানো এবং জামিন পাওয়ার পরও মুক্তি না পাওয়া মানবাধিকার, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্ন উত্থাপন করে। বিষয়টি আদালতেই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে এবং আমরা আইনের মাধ্যমেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।” অপরদিকে ঝালকাঠীতে রাজিব তালুকদারের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনাকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মল্লিক মো. নাসির উদ্দিন কবির বলেন, “রাজিব তালুকদারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর আইনগত ভিত্তি ও যৌক্তিকতা আদালতে যাচাই হবে। তবে আমাদের দৃষ্টিতে, তিনি একটি পারিবারিক ও সাইবার-সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পরও পরবর্তীতে একাধিক রাজনৈতিক মামলায় জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন পেশাদার সাংবাদিককে দীর্ঘ সময় কারাগারে রাখা এবং ধারাবাহিকভাবে নতুন মামলায় সম্পৃক্ত করার বিষয়টি আমরা আদালতের নজরে এনেছি।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকের ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের আশ্রয় লাভ এবং ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, আদালত মামলার নথিপত্র, তথ্য-প্রমাণ এবং আইনি যুক্তি পর্যালোচনা করে ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত দেবেন। বিচার বিভাগের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।” আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজিব তালুকদারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো, আদালতের পর্যবেক্ষণ, শোন অ্যারেস্টের আবেদন খারিজ হওয়ার ঘটনা এবং জেলগেট থেকে পুনরায় আটকের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে এবং এ বিষয়ে জনমনে সৃষ্ট প্রশ্নেরও উত্তর মিলবে।
তাদের অভিযোগ, মুক্তির সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ৭ মে ২০২৬ তারিখে সকাল প্রায় ১১টার দিকে ঝালকাঠী জেলগেট থেকে বের হওয়ার সময় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা তাকে পুনরায় আটক করেন। পরে তাকে ঝালকাঠী থানার মামলা নং-০১, তারিখ ০১/০৯/২০২৪, বিস্ফোরক উপাদানবলী আইন, ১৯০৮ (সংশোধনী-২০০২) - এর ৩(ক) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১৪৩/ ৩৪১/ ৪৪৮/ ৩২৩/ ৩২৪/ ৩২৫/ ৩০৭/ ৩৭৯/ ৪২৭/ ৪৩৬/ ৫০৬/ ৩৪ ধারায় দায়ের করা জিআর নং-২০৫/২০২৪ (ঝালকাঠী) রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
জুলাই আন্দোলনের আহত যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় সাংবাদিক মো: রাজিব তালুকদার: সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক রাজিব তালুকদার জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে আহতদের তালিকাভুক্ত একজন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাংলাদেশ সচিবালয় ক্লিনিকে তার চধঃরবহঃ ওউ: ০০১ হিসেবে নিবন্ধন রয়েছে। ৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখের নথি অনুযায়ী তিনি একজন সরকারি ক্যাটাগরির আহত রোগী।
এছাড়া জুলাই-আগস্ট ২০২৪ গণঅভ্যুত্থানে ঝালকাঠী জেলার ৫৫ জন চূড়ান্ত তালিকাভুক্ত ব্যক্তির মধ্যে তিনি ৭ নম্বর ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর-৮২০৪০০০৮৩; ঠিকানা-আওরাবুনিয়া, কাঠালিয়া, ঝালকাঠী; পেশা-সাংবাদিক। সরকারি গেজেট অনুযায়ী, ৪ মার্চ ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে তিনি ‘গ’ শ্রেণির (আহত) তালিকাভুক্ত। গেজেট নং-৩১, মেডিকেল কেস আইডি নং-২৫৪৫০-এ তার নাম মো. রাজিব তালুকদার, পিতা-মো. মজিদ তালুকদার মধু হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। তিনি দৈনিক সরজমিন বার্তা, এশিয়ান টেলিভিশন, দৈনিক স্বাধীন সংবাদ ও তালাশ বিডিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেন। পাশাপাশি তিনি কাঠালিয়া প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পুলিশের বিরুদ্ধে রিটের জের?
অভিযোগ রয়েছে, কাঠালিয়া থানার সাবেক ওসি ও বর্তমান ঝালকাঠী কোর্ট ইন্সপেক্টর পুলক চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে পেশাগত দায়িত্ব পালনে হয়রানি ও গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে রাজিব তালুকদার ২৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং-২২৯২/২০২৪ দায়ের করেন। এ বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি কে. এস. কামরুল কাদের এবং বিচারপতি খিজির হায়াত একটি রুল জারি করেন বলে জানা যায়। এছাড়া ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে তালাশ বিডিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কাঠালিয়ার এক সাবেক ওসির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এরপর থেকেই তিনি পুলিশের ‘চক্ষুশূল’ হয়ে ওঠেন বলে দাবি করা হয়েছে। পরিবার ও সহকর্মীদের অভিযোগ, এসব ঘটনার জেরে তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে একাধিক মামলায় আসামি করা হয়েছে।
সাংবাদিক নেতাদের দাবি: সাংবাদিক নেতাদের অভিযোগ, পুলিশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পর ঝালকাঠী পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক মামলা ও শোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে রাজিব তালুকদারকে পাঁচ মাসের বেশি সময় কারাগারে রাখা হয়েছে। তারা তার মুক্তি এবং কথিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, কাঠালিয়া থানার কিছু পুলিশ সদস্য অনানুষ্ঠানিকভাবে বলেছেন, “রাজিব তালুকদারকে মামলা দিয়ে ভেতরে না রাখলে তিনি বের হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন এবং আমাদের হয়রানি করবেন।”
পুলিশ সুপারের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন: অভিযোগ অনুযায়ী, ৭ মে ২০২৬ তারিখে জেলগেট থেকে পুনরায় গ্রেপ্তারের পর জাতীয় দৈনিক সরজমিন বার্তার নির্বাহী সম্পাদক মো. মাছুমবিল্লাহ বিষয়টি জানতে চাইলে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, “রাজিব তালুকদার একজন চাঁদাবাজ ও নারীলোভী ভুয়া সাংবাদিক।”
একই ধরনের মন্তব্য জাতীয় দৈনিক স্বাধীন সংবাদের সম্পাদক ও প্রকাশক আনোয়ার হোসেন আকাশকেও তিনি করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, রাজিব তালুকদারকে যদি চাঁদাবাজি বা নারী-সংক্রান্ত অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়ে থাকে, তাহলে তাকে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো কেন?
এ বিষয়ে বিভিন্ন সাংবাদিক প্রশ্ন তুললেও পুলিশ সুপার কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্পাদকদের বক্তব্য: জাতীয় দৈনিক সরজমিন বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক মো. বেল্লাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “রাজিব তালুকদার আমার পত্রিকার সাংবাদিক। তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। তাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে রাখা হয়েছে। আমি তার মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাই।” অন্যান্য কয়েকটি গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারাও একই ধরনের দাবি জানিয়েছেন।
মানবাধিকার প্রশ্ন: অভিযোগ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের কারণেই তাকে পরিকল্পিতভাবে একাধিক মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাদের দাবি, অতীতে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট দায়ের করায় তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মামলার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে হাইকোর্টের এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলায় সুনির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ থাকলে আইন অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার দেখানো যেতে পারে। তবে পর্যাপ্ত ভিত্তি ছাড়া ধারাবাহিকভাবে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে একজন ব্যক্তিকে কারাগারে আটকে রাখা হলে তা ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ৩১ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, ৩২ অনুচ্ছেদে ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার এবং ৩৫ অনুচ্ছেদে ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আদালতের আদেশ যথাসময়ে বাস্তবায়ন এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরে ধর্ষণের অভিযোগে আল-আমিন ছৈয়াল নামের একজন যুবদল নেতা দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় যুবদলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই বহিষ্কারের সম্পর্কিত একটি চিঠি পোস্ট করা হয়েছে।
বহিষ্কারের চিঠিতে জেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল আলিম হুমায়ুন ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রশিদুল হাসান লিংকন স্বাক্ষর করেছেন। বহিষ্কৃত যুবদল নেতা আল-আমিন সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য এবং একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি ওই এলাকার উত্তর চররমনী গ্রামের আবু ছৈয়ালের সন্তান।
মামলা সূত্র অনুযায়ী, আল-আমিনের বিরুদ্ধে একটি প্রবাসীর স্ত্রীকে ছুরি ঠেকিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনা ঘটে ২৮ মে রাতে। শনিবার (৩০ মে) রাতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে আল-আমিনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে জানতে আল-আমিনকে একাধিকবার ফোন দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রশিদুল হাসান লিংকন জানিয়েছেন, দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে আল-আমিনকে দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি বলেন, "বহিষ্কৃতের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না।" অন্য নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে তাদের আল-আমিনের সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক রাখতে হবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের বড় সমস্যা হচ্ছে আলোর স্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ওভার নষ্ট হওয়া। এই সমস্যার সমাধান খুঁজতেই এবার ঐতিহাসিক এক নিয়মের অনুমোদন দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
ভারতের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত আইসিসির বোর্ড সভায় প্রধান নির্বাহীদের কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আইসিসির নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে টেস্ট ম্যাচ চলাকালীন দিনের আলোতেও যদি আলোকস্বল্পতা দেখা দেয়, তবে দুই দলের সম্মতি সাপেক্ষে গোলাপি বল ব্যবহার করে খেলা চালিয়ে যাওয়া যাবে।
টেস্ট ক্রিকেটে আলোকস্বল্পতার কারণে যেন মূল্যবান সময় নষ্ট না হয়, সেই জন্য গভীর গবেষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। ফ্লাডলাইট, আলো পরিমাপন উন্নত ব্যবস্থা, সেন্সর এবং অন্যান্য আধুনিক আলোকসজ্জা প্রযুক্তি নিয়ে আইসিসি এবং মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) যৌথভাবে অর্থায়ন করবে।
আইসিসি তাদের ক্রিকেটীয় নিয়মে আরও একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। এখন থেকে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নির্ধারিত ড্রিংকস বিরতির সময় প্রধান কোচ কিংবা দলের মনোনীত স্টাফরা মাঠের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন এবং খেলোয়াড়দের কৌশলগত পরামর্শ দিতে পারবেন। এতদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কেবল দ্বাদশ ব্যক্তি পানি নিয়ে মাঠে যাওয়ার সময় চিরকুট বা বার্তা নিয়ে যেতে পারতেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগের স্ট্র্যাটেজিক টাইম-আউটের আদলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই নিয়ম চালু করা হচ্ছে।
টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই ইনিংসের মধ্যবর্তী বিরতির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ মিনিট। এছাড়া এমসিসির নেওয়া সর্বশেষ সিদ্ধান্তগুলি, যেমন দিনের শেষ ওভারে কেউ আউট হলে খেলা সেখানেই না থামিয়ে ওই ওভার শেষ করা, বানি হপ ক্যাচ এগুলো কার্যকর করা হবে।
অন্যদিকে, ব্যাটাররা যখন ক্রিজে পজিশন পরিবর্তন করেন বা নড়াচড়া করেন, তখন আম্পায়ারদের নিখুঁতভাবে ওয়াইড ডাকার সুবিধার্থে গাইড লাইনের ব্যবহারকে স্থায়ী রূপ দিয়েছে আইসিসি। বিশেষত, লেগ সাইডে বোলারদের কিছুটা ছাড় দিতে ২০২৫ সাল থেকে এই ট্রায়াল শুরু হয়েছিল।
নারী ক্রিকেট সম্পর্কেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে আইসিসির সর্বশেষ বোর্ড সভায়। ২০২৭ সালের নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজন জুন-জুলাই থেকে এগিয়ে এখন ওই বছরের ১৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এছাড়া, ২০২৮ সালের নারী বিশ্বকাপের দলের সংখ্যা ১০টি থেকে বাড়িয়ে ১২টি করা হচ্ছে। র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৮ দল এবং স্বাগতিক দেশ সরাসরি বিশ্বকাপ খেলবে। যদি স্বাগতিক দেশ আগেই কোয়ালিফাই করে ফেলে, তাহলে র্যাঙ্কিংয়ের পরের শীর্ষ দলগুলো বিশ্বকাপে জায়গা পাবে। বাকি দুটি দল আসবে ১০ দলের বাছাইপর্ব খেলে।
বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং নির্বাচন ইস্যুতে প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে আইসিসি। এই প্রতিনিধিরা হলেন ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার ড. মোহাম্মদ মোসাজে এবং জিম্বাবুয়ের তেবাঙ্গা মুকুলআনি।
তারা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলবেন। এছাড়া শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে যাবেন আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা ও দেবজিৎ সাইকিয়া।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান বিস্তার ও আধিপত্য নিয়ে আইসিসি বোর্ড সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমান ক্রিকেট কাঠামোর মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচির (এফটিপি) সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোকে কীভাবে আরও সুশৃঙ্খলভাবে সমন্বয় করা যায়, তা মূল্যায়নের জন্য আহমেদাবাদের সভায় একটি বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, আগামী আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বৈশ্বিক বাছাইপর্বের রূপরেখাও এই সভায় চূড়ান্ত করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ সরকার আরও এক বছর বৃদ্ধি করেছে।
আজ সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা স্থগিত রেখে পিডিবির চেয়ারম্যান পদে মো. রেজাউল করিমের চুক্তিভিত্তিক আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে।
সরকারের জারি করা আদেশ অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদে যোগদানের তারিখ থেকে তাঁর এই নিয়োগ কার্যকর হবে এবং তিনি আগামী এক বছর দায়িত্ব পালন করবেন।
নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলি পৃথক চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে খুলনা জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর কে ডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব (ভারপ্রাপ্ত) ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. আবু জাফর।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করতে হলে দেশপ্রেম, সততা ও ত্যাগের মানসিকতা থাকতে হবে। দেশ, জনগণ ও দলের প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত নেতাকর্মীরাই ছাত্রদল থেকে গড়ে উঠে বিএনপির রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন। বর্তমান শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দেবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
বক্তারা আরও জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তারা শিক্ষাঙ্গণে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তিনি দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিলেন। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থেকেও তিনি সততা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর আদর্শ, সাহসিকতা ও সততা অনুসরণ করে দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সদস্য কে এম আশরাফুল আলম নান্নু, দাকোপ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব আব্দুল মান্নান খান, চালনা পৌরসভার সাবেক আহ্বায়ক শেখ মোজাফফার হোসেন, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাকসুদ আলম, ইমতিয়াজ আলী সুজন, কাজী রিয়াজুল ইসলাম বাবু, মোস্তাক আহমেদসহ জেলা ছাত্রদল ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ