ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও লজ্জাহীনতার অভিযোগ তুললেন জো বাইডেন


ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও লজ্জাহীনতার অভিযোগ তুললেন জো বাইডেন

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ডনাল্ড ট্রাম্পকে অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত বলে কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর প্রথম রাজনৈতিক ভাষণে ট্রাম্পকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেন। বাইডেনের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের পদকে ব্যক্তিগত সম্পদ বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। মেরিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরব হন। তিনি ট্রাম্পকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে অভিযোগ তোলেন যে, প্রেসিডেন্টের পদকে ট্রাম্প ব্যক্তিগত সম্পদ বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

হোয়াইট হাউসে এমন প্রকাশ্য দুর্নীতির নজির যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আগে দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ করেন বাইডেন। তিনি বলেন,

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

“এই প্রশাসন অযোগ্য এবং চরম দুর্নীতিগ্রস্ত। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো প্রশাসনে এমন নজিরবিহীন, প্রকাশ্যে দুর্নীতি কখনো দেখা যায়নি। হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প কোটি কোটি ডলার কামিয়েছেন, যা আমার কাছে সত্যিই হতবাক করার মতো। তার কোনো লজ্জা নেই। এটি দেশের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

বাইডেন হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙে বলরুম নির্মাণ, কেনেডি সেন্টারে ট্রাম্পের নিজের নাম যুক্ত করা এবং রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কারসহ বিভিন্ন প্রকল্পকে আত্মপ্রচার বলেও তুলে ধরেন।

ট্রাম্পকে ‘ব্যর্থ ও আত্মমুগ্ধ নেতা’ আখ্যা দিয়ে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলেন, এসব প্রকল্প বর্তমান প্রশাসনের অদক্ষতা ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির প্রতিফলন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে প্রেসিডেন্টের পদ ব্যবহার করে ট্রাম্প বিপুল অর্থ আয় করেছেন বলেও অভিযোগ করে বাইডেন।

বাইডেন বলেন,

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

“ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের পূর্ব অংশ ভেঙে নিজের জন্য বলরুম বানাতে চেয়েছিলেন, কেনেডি সেন্টারের ভবনে নিজের নাম খোদাই করতে চেয়েছিলেন, এমনকি নিজের সম্মানে তোরণ তৈরি করতে চেয়েছিলেন। তিনি একজন ব্যর্থ মানুষ।”

ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে বাইডেন দাবি করেন, ক্যাপিটল হামলায় জড়িতদের তিনি সরকারি অর্থে ক্ষতিপূরণ দেয়ার পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, “যারা ৬ জানুয়ারির হামলায় অংশ নিয়েছিল, তারা ক্ষতিপূরণের নয়, বরং দীর্ঘ কারাদণ্ডের যোগ্য।” সাবেক প্রেসিডেন্টের আরও অভিযোগ, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছেন এবং মিত্রদের বদলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর এটি বাইডেনের প্রথম বড় রাজনৈতিক ভাষণ। ট্রাম্পকে এক হাত নিলেও বাইডেন নিজেই ২০২৪ সালের নির্বাচনে দেরিতে সরে দাঁড়ানোর, ছেলে হান্টার বাইডেনকে ক্ষমা করার মতো নানা কারণে নিজ দলের ভেতরে এখনও চাপের মুখে আছেন। সেসব পাশ কাটিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও সক্রিয় রাজনৈতিক অবস্থান নেয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতীয় ভিসা আবেদনের স্লট বরাদ্দে নতুন সিদ্ধান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৯ পি.এম


ভারতীয় ভিসা আবেদনের স্লট বরাদ্দে নতুন সিদ্ধান্ত

ভারতীয় ভিসা আবেদনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক)।

এই নতুন ব্যবস্থা বুধবার থেকে কার্যকর হবে।

নতুন সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে, আবেদনকারীরা তাদের পছন্দসই সময় (টাইম স্লট) নির্বাচন করার সুযোগ পাবেন না। বরং, আবেদন জমা দেওয়ার সময়ে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে খালি থাকা একটি সময় তাদের জন্য বরাদ্দ করবে।

আইভ্যাক জানিয়েছে, ১ জুলাই তারিখ থেকে বাংলাদেশের সকল ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) সব ধরনের ভিসার ক্ষেত্রে টাইম-স্লটভিত্তিক আবেদন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা কার্যকর করছে।

প্রতিটি আইভ্যাকের দৈনিক আবেদন গ্রহণের সক্ষমতার ভিত্তিতে সিস্টেম ক্রমবর্ধমানভাবে আবেদনকারীদের জন্য সময় নির্ধারণ করবে।

এজন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের সময়ে আবেদনকারীদের আলাদাভাবে টাইম স্লট নির্বাচন করতে হবে না।

ভিসা আবেদন নির্বিঘ্নে ও সময়মতো জমা দেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিতকরণে উল্লেখিত নির্ধারিত সময়ের অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক আইভ্যাকে হাজির থাকার পরামর্শ দিয়েছে আইভ্যাক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে এসে ধর্মান্তরিত হয়ে প্রেমিকাকে বিয়ে করলেন চীনা যুবক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৯ পি.এম


বাংলাদেশে এসে ধর্মান্তরিত হয়ে প্রেমিকাকে বিয়ে করলেন চীনা যুবক

ভিন্ন ভাষা এবং ভিন্ন দেশের হাজারো মাইল দূরত্ব পেরিয়ে প্রেমের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসেন চীনা নাগরিক লি বিং। যশোরের এক তরুণীকে তিনি বিয়ে করেছেন। নবদম্পতি জানিয়েছেন, তাদের বিয়ের আগে লি বিং স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

যশোর সদর উপজেলার বাউলিয়া গ্রামের মন্টু মোল্লার কন্যা তরুণী তন্দ্রা খাতুন যশোর সদর উপজেলা তথ্যকেন্দ্রে কাজ করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চীনা জামাইকে এক নজর দেখার জন্য তন্দ্রাদের বাড়িতে প্রতিদিনই কৌতূহলী মানুষ ভিড় করছেন।

তন্দ্রা খাতুন জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হ্যালোটক-এর মাধ্যমে লি বিংয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে উইচ্যাটের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ করার ফলে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় আট মাস একত্রথেকে সম্পর্ক স্থাপন করার পর দুই পরিবারের সম্মতিতে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি আরও বলেন, ‘লি বিং গত ১৮ জুন বাংলাদেশে আসেন। পরদিন সন্ধ্যায় আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি আগে কোনো ধর্ম অনুসরণ করেননি। বর্তমানে তিনি আমাদের বাড়িতে আছেন। ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আমি তার সঙ্গে চীনে চলে যাব।’

লি বিং বলেন, তিনি চীনের বেইজিং শহরের বাসিন্দা এবং একটি স্মার্ট লক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।

বাংলাদেশে এসে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলেন, ‘আমার বউ খুব ভালো, বাংলাদেশের পরিবেশ উষ্ণ এবং আমার বউয়ের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন সকলেই দয়ালু। এখানে আমার কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। আমি তোমাদের দেশটাকে খুব পছন্দ করছি, বিয়ের পর আমার অনুভূতি অসাধারণ।’

তন্দ্রার মা শিউলি বেগম বলেন, ‘মোবাইল ফোনে তাদের পরিচয়ের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ছেলেটি মেয়েকে বিয়ে করার জন্য চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছে। বিয়ের আগে সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে এবং আমরা পরিবারের সম্মতি দিয়েই তাদের বিয়ের আয়োজন করেছি।’

প্রতিবেশী কুলসুম বেগম জানিয়েছেন, ‘আমাদের এলাকায় আগে কখনো বিদেশি, বিশেষ করে চীনের কোনো ছেলে এসে বিয়ে করেছে এমন ঘটনা আমি দেখিনি বা শুনিনি। তাই বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও অনেকে চীনা জামাইকে দেখতে আসছেন।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাজা পর্যাপ্ত নয়, অবশ্যই আপিল করবো: চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১০ পি.এম


সাজা পর্যাপ্ত নয়, অবশ্যই আপিল করবো: চিফ প্রসিকিউটর

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৪ দলের শরিক জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণার পর তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, সাজা অপ্রতুল। তাই এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে অবশ্যই আপিল করা হবে।

এর আগে ২২ জুন রায়ের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ৩০ জুন দিন নির্ধারণ করে। আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। ২৫ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়।

৩৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রের সঙ্গে রয়েছে এক হাজার ৬৭৯ পৃষ্ঠার নথিপত্র। এ ছাড়া তিনটি অডিও ও ছয়টি ভিডিও ডকুমেন্টও সংযুক্ত রয়েছে। এ মামলায় একমাত্র আসামি হিসাবে রয়েছে হাসানুল হক ইনু।

আটটি অভিযোগে আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি, ১৪ দলীয় জোট সরকারের অংশীদার জাসদের সভাপতি হিসেবে তার ঊর্ধ্বতন অবস্থান থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশনা, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা এবং কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলন দমনের নির্দেশনার পর ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিদেশি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে অভিযোগে বলা হয়েছে, হাসানুল হক ইনু ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই একটি বিদেশি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে আন্দোলন দমন এবং আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি দেন।

১৪ দলের সভায় উপস্থিত থেকে উসকানি দেয়ার সময় আন্দোলন চলাকালে ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ও হাসানুল হক ইনুর উপস্থিতিতে ১৪ দলীয় জোটের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে কঠোর থেকে কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে দেশব্যাপী সেনা মোতায়েন ও কারফিউ জারির মাধ্যমে आंदोलनরত নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে দেশব্যাপী সেনা মোতায়েন করে আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং তা কার্যকর করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে হাসানুল হক ইনু নির্দেশনা, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা করেছেন।

কুষ্টিয়ার এসপিকে ফোন করে আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে নিজ জেলা কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তালিকা প্রণয়ন ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সাথে পূর্বের নির্যাতনকে অনুমোদন করেন। এই নির্দেশনার পর কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের সদস্য এবং ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র ক্যাডাররা ৫ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালায়।

এতে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন। রাইসুল হকসহ অসংখ্য নিরীহ-নিরস্ত্র আন্দোলনকারী আহত হন এবং অনেককে আটক করে নির্যাতন করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে যে, হাসানুল হক ইনু সার্বক্ষণিক শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র (লেথাল উইপন) ব্যবহার, আন্দোলনকারীদের ঘেরাও, হেলিকপ্টার ব্যবহার করে গুলি চালানো, বোমা হামলা, আটক ও নির্যাতনের ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা এবং উসকানি প্রদান করেন।

২০ জুলাই দুপুরে আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার, আন্দোলনকারীদের ঘেরাও করে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে হামলা এবং গুলি চালানোর মতো পদক্ষেপে শেখ হাসিনার গৃহীত সিদ্ধান্তকে তিনি অনুমোদন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ২৭ জুলাই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তিনি আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী, জঙ্গি ও সাম্প্রদায়ক আখ্যা দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। একইসঙ্গে সরকারের জারি করা কারফিউ এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৯ জুলাই শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত ছিলেন হাসানুল হক ইনু। সেখানে তিনি আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক আখ্যা দিয়ে আন্দোলন দমন এবং আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব বাস্তবায়নে নির্দেশনা, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র ক্যাডারদের পরিচালিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনকে বৈধতা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছে।

হাসানুল হক ইনু সার্বক্ষণিক শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আন্দোলন দমন করতে কারফিউ বহাল রাখা, দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার, এবং নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, আটক ও নির্যাতনের ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, উসকানি ও নির্দেশনা প্রদান করেন।

৪ আগস্ট আন্দোলন দমনে কারফিউ জারি ও গুলি চালানোর মতো পদক্ষেপে শেখ হাসিনার গৃহীত সিদ্ধান্তকে অনুমোদন করেন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য টেলিফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র, সহায়তা ও সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিজ দলের নেতাকর্মীদেরও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন বলে জানানো হয়েছে।

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ঘোষিত ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে ছাত্রদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কুষ্টিয়া জেলার সর্বস্তরের জনগণের পাশাপাশি নিরীহ-নিরস্ত্র শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ রাস্তায় নেমে আসেন।

সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়ার হাজারো নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতা হাসপাতাল মোড়ে জড়ো হয়ে সেখান থেকে চৌড়হাস হয়ে মজমপুরের দিকে শান্তিপূর্ণভাবে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুগত অধস্তন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাহবুবউল আলম হানিফ, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনা ও নির্দেশের প্রেক্ষিতে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আসগর আলী ও কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আতাউর রহমান আতার নির্দেশে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসী পুলিশ ছত্রছায়ায় (কোনও কোনও ক্ষেত্রে পুলিশের সঙ্গে একত্রে) নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর শহরের বিভিন্ন স্থানে গুলি চালাতে থাকে।

এ গুলিবর্ষণের ফলে দুপুর দেড়টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে বক চত্বরে আশরাফুল ইসলাম, বার্মিজ গলিতে সুরুজ আলী বাবু, হরিপুরগামী রাস্তার আড়ংয়ের সামনে শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, তুলাপট্টির গলিতে ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং ফায়ার সার্ভিসের বিপরীত দিকে সড়কে চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তরুণদের নেতৃত্বেই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব: ঢাবি উপ-উপাচার্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১৪ পি.এম


তরুণদের নেতৃত্বেই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব: ঢাবি উপ-উপাচার্য

মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, সাম্য এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি আলোকিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।

তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় নয়; এটি ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে চর্চা ও বাস্তবায়নের বিষয়।’

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড ডেমোক্রেসি ল্যাবে আয়োজিত ‘Human Rights: From Theory to Practice’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড ডেমোক্রেসি ল্যাব এবং ডেনিশ ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান রাইটস (Danish Institute for Human Rights) ঐক্যবদ্ধভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও অ্যাপ্লাইড ডেমোক্রেসি ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘মানুষ রাজনৈতিক ও সামাজিক সত্তা। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের যে দায়বদ্ধতা রয়েছে, তার ভিত্তি হলো মানবিকতা, ন্যায়বোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা।’

তিনি আরও বলেন, সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বৃদ্ধি পায়। এই কারণে তিনি ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।

উপ-উপাচার্য তরুণদের ভূমিকার বিষয়ে বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন এবং মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন, অধিকারভিত্তিক সংগ্রাম এবং সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাই মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা স্মরণ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মতো ভবিষ্যতেও মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্ব দেবে।

শিক্ষার্থীদের বই পড়া এবং জ্ঞানচর্চার ওপর তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘প্রতিটি বই মানুষের চিন্তার নতুন দুয়ার উন্মোচন করে। জ্ঞান মানুষকে আলোকিত করে এবং একটি সহিংসতামুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সহায়তা করে।’

তিনি কর্মশালায় অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগের পাশাপাশি তা অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম বলেন, ‘মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতন নাগরিক গড়ে তুলতে এবং তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশে অ্যাপ্লাইড ডেমোক্রেসি ল্যাব ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মানবাধিকারকে তত্ত্বের গণ্ডি থেকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’

দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা মানবাধিকার, নাগরিক দায়বদ্ধতা, সামাজিক ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মানবিক নেতৃত্ব বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে উপ-উপাচার্য অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%