০৭:০৭ পি.এম
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ডনাল্ড ট্রাম্পকে অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত বলে কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর প্রথম রাজনৈতিক ভাষণে ট্রাম্পকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেন। বাইডেনের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের পদকে ব্যক্তিগত সম্পদ বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। মেরিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরব হন। তিনি ট্রাম্পকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে অভিযোগ তোলেন যে, প্রেসিডেন্টের পদকে ট্রাম্প ব্যক্তিগত সম্পদ বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
হোয়াইট হাউসে এমন প্রকাশ্য দুর্নীতির নজির যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আগে দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ করেন বাইডেন। তিনি বলেন,
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
“এই প্রশাসন অযোগ্য এবং চরম দুর্নীতিগ্রস্ত। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো প্রশাসনে এমন নজিরবিহীন, প্রকাশ্যে দুর্নীতি কখনো দেখা যায়নি। হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প কোটি কোটি ডলার কামিয়েছেন, যা আমার কাছে সত্যিই হতবাক করার মতো। তার কোনো লজ্জা নেই। এটি দেশের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।”
বাইডেন হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙে বলরুম নির্মাণ, কেনেডি সেন্টারে ট্রাম্পের নিজের নাম যুক্ত করা এবং রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কারসহ বিভিন্ন প্রকল্পকে আত্মপ্রচার বলেও তুলে ধরেন।
ট্রাম্পকে ‘ব্যর্থ ও আত্মমুগ্ধ নেতা’ আখ্যা দিয়ে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলেন, এসব প্রকল্প বর্তমান প্রশাসনের অদক্ষতা ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির প্রতিফলন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে প্রেসিডেন্টের পদ ব্যবহার করে ট্রাম্প বিপুল অর্থ আয় করেছেন বলেও অভিযোগ করে বাইডেন।
বাইডেন বলেন,
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
“ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের পূর্ব অংশ ভেঙে নিজের জন্য বলরুম বানাতে চেয়েছিলেন, কেনেডি সেন্টারের ভবনে নিজের নাম খোদাই করতে চেয়েছিলেন, এমনকি নিজের সম্মানে তোরণ তৈরি করতে চেয়েছিলেন। তিনি একজন ব্যর্থ মানুষ।”
ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে বাইডেন দাবি করেন, ক্যাপিটল হামলায় জড়িতদের তিনি সরকারি অর্থে ক্ষতিপূরণ দেয়ার পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, “যারা ৬ জানুয়ারির হামলায় অংশ নিয়েছিল, তারা ক্ষতিপূরণের নয়, বরং দীর্ঘ কারাদণ্ডের যোগ্য।” সাবেক প্রেসিডেন্টের আরও অভিযোগ, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছেন এবং মিত্রদের বদলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর এটি বাইডেনের প্রথম বড় রাজনৈতিক ভাষণ। ট্রাম্পকে এক হাত নিলেও বাইডেন নিজেই ২০২৪ সালের নির্বাচনে দেরিতে সরে দাঁড়ানোর, ছেলে হান্টার বাইডেনকে ক্ষমা করার মতো নানা কারণে নিজ দলের ভেতরে এখনও চাপের মুখে আছেন। সেসব পাশ কাটিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও সক্রিয় রাজনৈতিক অবস্থান নেয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন