০৩:২৭ পি.এম
যুক্তরাজ্যে ঝড় অস্টেনের তাণ্ডবের ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রবল বাতাসের কারণে গাছ উপড়ে পড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। ইংল্যান্ডের ব্রাইটনে ঐতিহাসিক ওয়েস্ট পিয়ারের একটি অংশ ঝড়ের আঘাতে ধসে পড়েছে। অস্টেনের প্রভাব কাটতে না কাটতেই, উত্তর আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং উত্তর ইংল্যান্ডের কিছু এলাকায় নতুন ঝড় বোয়েলোর আশঙ্কায় আবহাওয়াগত সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিস এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর শুক্রবার ঝড় অস্টেনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয় কর্নওয়াল, ডেভন এবং দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের উপকূলীয় অঞ্চলে।
মেট অফিসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ঝড়ের সময় আইলস অব স্কিলির সেন্ট মেরিজ বিমানবন্দরে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৬ মাইল বা প্রায় ১২২ কিলোমিটার বেগে দমকা বাতাস রেকর্ড করা হয়। ডরসেটের আইল অব পোর্টল্যান্ড এবং আইল অব ওয়াইটের নিডলস এলাকায়ও ঘণ্টায় ৭৫ মাইল বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়। ঝড়ের আশঙ্কায় মেট অফিস আগেই কর্নওয়াল, আইলস অব স্কিলি এবং পশ্চিম ডেভনের কিছু এলাকায় অ্যাম্বার সতর্কতা জারি করেছিল। উপকূলে বড় ঢেউ এবং উন্মুক্ত স্থানে প্রবল বাতাস পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
ঝড়ের প্রভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শনিবার ২৪ অক্টোবর সকাল ৮টায় ন্যাশনাল গ্রিডের হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়, ঝড় শুরু হওয়ার পর থেকে ১ লাখ ১৭ হাজার ৩২০টি বাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ সংখ্যা দিয়ে ওই সময় পর্যন্ত কতটি স্থাপনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে ব্রাইটনের ঐতিহাসিক ওয়েস্ট পিয়ারের ধ্বংসাবশেষের একটি অংশ সমুদ্রে পড়ে যায়। ২০০৩ সালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই পিয়ারটি ক্রমাগত ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছিল। তাই সর্বশেষ ধসের ক্ষেত্রে ঝড়ের প্রভাবের পাশাপাশি স্থাপনাটির দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতাও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিমান ও ফেরি চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। স্কটিশ বিমান সংস্থা লগানএয়ারের ১৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। কর্নওয়ালের নিউকুয়ে বিমানবন্দরসহ কয়েকটি রুটে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আইলস অব স্কিলির সঙ্গে ফেরি চলাচলও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। এছাড়া, সড়কে গাছ ও ডালপালা পড়ে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। কিছু এলাকায় স্কুল খোলার সময় পরিবর্তন করা হয় এবং কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়।
অস্টেনের পর এবার নতুন ঝড় বোয়েলো নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মেট অফিসের পূর্বাভাসে উত্তর আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং উত্তর ইংল্যান্ডের কিছু এলাকায় প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা জানানো হয়েছে। উন্মুক্ত উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ মাইল বেগে দমকা বাতাস বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অঞ্চলভেদে আবহাওয়ার তীব্রতা ভিন্ন হতে পারে।
আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?
আবহাওয়াবিদদের মতে, আটলান্টিকের গভীর নিম্নচাপ এবং জেট স্ট্রিমের প্রভাবে ঝড়ের তীব্রতা বেড়েছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় বাসিন্দাদের আবহাওয়াগত সতর্কতা অনুসরণ, যাত্রার আগে বিমান ও ফেরি চলাচলের সর্বশেষ তথ্য যাচাই এবং উত্তাল সমুদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঝড় অস্টেনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার চূড়ান্ত হিসাব জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী হালনাগাদের অপেক্ষা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন