০১:১৮ পি.এম
‘নামাজ ছাড়বেন না এবং অন্যের হক নষ্ট করবেন না’—পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমন আহ্বান জানিয়েছেন আশেকানে গাউছিয়া রহমানিয়া মইনিয়া সহিদীয়া মাইজভান্ডারীয়ার প্রধান পৃষ্ঠপোষক শাহজাদা সৈয়দ সহিদ উদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী।
তিনি উল্লেখ করেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (দ.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে সত্য, ন্যায়, মানবিকতা ও সম্প্রীতির সমাজ গড়ে তোলা প্রয়োজন।
মানুষের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি নামাজের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে এবং কোনোভাবেই অন্যের হক নষ্ট করা যাবে না।
আরও পড়ুন: ধানমণ্ডিতে নতুন শাখা উদ্বোধন করলো শান্তা সিকিউরিটিজ
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে ঐতিহাসিক ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শাহজাদা সৈয়দ সহিদ উদ্দিন আহমদ বলেন, মহানবী (দ.)-এর শিক্ষা শুধু ধর্মীয় জীবনের জন্য নয়, বরং মানুষের সামগ্রিক জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রেও অনুসরণীয়। তার আদর্শ ধারণ করতে পারলে সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ দূর হবে।
তিনি আরও বলেন, মহানবী (দ.)-এর পৃথিবীতে আগমন সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহর বিশেষ রহমত। তিনি সত্য, ন্যায়, ক্ষমা, সহনশীলতা ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দিয়েছেন। তার জীবনাদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে উসকানির অভিযোগে ছাত্রলীগ-শ্রমিক লীগের ৩০ নেতাকর্মী গ্রেফতার
দরুদ পাঠের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, হাশরের মাঠে কোনো আমলনামা কবুল না হলেও দরুদ কবুল হবে।
এ সময় তিনি সবাইকে বেশি বেশি দরুদ পাঠের আহ্বান জানান।
ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মিলাদ আগে, সিরাত পরে।’ শবে বরাতসহ ইসলামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে যারা বিরোধিতা করেন, তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা ইয়াজিদের ইসলামের পক্ষে, আর আমরা হোসাইনি ও মদিনার ইসলামের পক্ষে।’
আরও পড়ুন: ঢাবির জগন্নাথ হল থেকে ছাত্রলীগ নেতা অর্ক সাহা আটক
তিনি আরো বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) শুধু আনন্দ-উৎসবের বিষয় নয়; মহানবী (দ.)-এর জীবন, কর্ম ও আদর্শ নিজেদের জীবনে ধারণ করারও দিন। তার সুন্নাহ ও মানবিক মূল্যবোধ অনুসরণের মধ্য দিয়েই এ দিনের প্রকৃত শিক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে মুফতি আব্দুল মতিন চাঁদপুরী, মুফতি নজরুল ইসলাম রেজভী ও মাওলানা নজরুল ইসলাম মুন্সীগঞ্জীসহ দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম বক্তব্য দেন। এতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, আশেকান ও ভক্তরা অংশ নেন।
আলোচনা সভা শেষে শাহজাদা সৈয়দ সহিদ উদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারীর নেতৃত্বে জশনে জুলুশ বের করা হয়। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন থেকে শুরু হওয়া জুলুশটি মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব ও হাইকোর্ট এলাকা প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে ফিরে আসে। পরে জোহরের নামাজ শেষে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।
আরও পড়ুন: মোস্তফা জামাল হায়দারকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন