ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বারিন্দ মেডিকেল কলেজে অবরুদ্ধ সাবেক সমন্বয়কসহ চারজন জিম্মায় ছাড়


বারিন্দ মেডিকেল কলেজে অবরুদ্ধ সাবেক সমন্বয়কসহ চারজন জিম্মায় ছাড়

রাজশাহীর বারিন্দ মেডিকেল কলেজে গিয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়কসহ চারজন। পুলিশ এবং সেনাবাহিনী প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে কলেজ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

এই চারজন হলেন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক জি কে এম মেশকাত চৌধুরী মিশু, সংগঠনের জেলা কমিটির মূখ্য সংগঠক সোহাগ সরদার, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল বারী ও ছাত্রনেতা আল-সাকিব। উল্লেখ্য, মিশু ও সাকিব রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অপরদিকে, আব্দুল বারী ও সোহাগ সরদার রাজশাহী কলেজে পড়াশোনা করছেন।

আরও পড়ুন: সিরাজদিখানে সার ডিলার নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক: সরকারি তালিকায় নাম, গুদাম ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন, ঘুষের অভিযোগ!

বারিন্দ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মালিক হলেন আওয়ামী সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ছিলেন আত্মগোপনের আগে। তার বাবা মো. শামসুদ্দিন বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

বারিন্দ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. বেলাল উদ্দীন জানান, এই চারজন গতকাল এসে তাদের সচিবের সঙ্গে কথা বলে গিয়েছিলেন। আজ আমার সঙ্গে বসার কথা ছিল। কিন্তু তারা আমার সঙ্গে না বসে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কক্ষে যান এবং বিভিন্ন কথাবার্তা বলছিলেন। অধ্যক্ষ উল্লেখ করেন, কলেজে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা রয়েছে এবং তারা এসবের প্রতিবাদ করেন।

অধ্যক্ষ আরও জানান, তার কলেজে একটি অনুষ্ঠান চলছিল, তাই পুলিশ আগে থেকেই উপস্থিত ছিল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ সেনাবাহিনীকে খবর দেয়। পরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কুইক রেসপন্স টিমের (সিআরটি) সদস্যরাও ঘটনাস্থলে আসেন এবং চারজনকে থানায় নিয়ে যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামসুদ্দিন বলেন, "এখন কিছু বলা যাচ্ছে না। আমার সাথে কঠোর ভাষায় কথাবার্তা বলেছে।" এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

আরও পড়ুন: শেরপুরে দৈনিক কালবেলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে,

সন্ধ্যায় ওই চার ছাত্রনেতাকে নগরীর চন্দ্রিমা থানা থেকে অন্য ছাত্রনেতাদের জিম্মায় দেওয়া হয়। আরএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) সাবিনা ইয়াসমিন জানান, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাই ছাত্রনেতাদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে সন্ধ্যায় সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মিশু গণমাধ্যমে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠিয়েছেন। তিনি লেখেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দেশের ছাত্র-জনতার উপর গণহত্যার সাথে জড়িত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের আশ্রয় প্রশ্রয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "বেশ কয়েকদিন ধরে বারিন্দ মেডিকেল কলেজ থেকে আমাদের কাছে বেশকিছু অভিযোগ আসতে থাকে। সেখানে আওয়ামী লীগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাবার (যিনি শাহরিয়ার আলমের অবর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন) আশ্রয়ে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী কর্মরত রয়েছেন।"

তিনি লেখেন, "চলমান অপারেশন ডেভিল হান্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করতে আমরা সেখানে তথ্য সংগ্রহ করতে যাই। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত সচিব ভারপ্রাপ্ত তাজুল ইসলাম রনির সাথে যোগাযোগ করে আমরা প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল ও চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনায় বসি। আলোচনার একপর্যায়ে সেখানে কর্মরত বেশ কয়েকজন অফিস স্টাফ (যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত) এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ঢুকে পড়েন এবং আমাদের বাকবিতণ্ডা শুরু করেন। এর মধ্যে রুম এবং প্রতিষ্ঠানটির বাইরে মব তৈরি করে আমাদের আটকে ফেলা হয় এবং ইচ্ছেকৃতভাবে চাঁদাবাজ বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়।" মিশু লেখেন, "আমরা এই ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি। এবং অনতিবিলম্বে ঘটনার সাথে জড়িত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।

আরও পড়ুন: সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার পরও কি জাগবে প্রশাসন? বরিশালে প্রাণনাশের শঙ্কায় সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোমস্তাপুরে যাকাতের চেক বিতরণ, ৪১ হতদরিদ্রকে ৬ হাজার টাকা প্রদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৩ পি.এম


গোমস্তাপুরে যাকাতের চেক বিতরণ, ৪১ হতদরিদ্রকে ৬ হাজার টাকা প্রদান

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে সরকারি যাকাত ফান্ডের আওতায় যাকাতের অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে উদ্বুদ্ধকরণ ও ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের হতদরিদ্রদের মধ্যে যাকাত বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা এগারোটায় উপজেলা সভাকক্ষে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন দ্বারা আয়োজিত বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আতিকুল ইসলাম আজম।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার তানভীর আহমেদ সরকার, প্রসাদপুর কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল হাই সিদ্দিকি কামাল, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপার ভাইজার আনোয়ারুল হক এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মডেল কেয়ার টেকার কাওসার জামান প্রমুখ।

এই অনুষ্ঠানে দুঃস্থ, অসহায় ও হতদরিদ্র ৪১ জনকে চেকের মাধ্যমে ছয় হাজার টাকা করে যাকাত বিতরণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঈশ্বরদীর বেনারসি পল্লী নানা সংকটে, শিল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৪ পি.এম


ঈশ্বরদীর বেনারসি পল্লী নানা সংকটে, শিল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

ঐতিহ্যবাহী ঈশ্বরদী বেনারসি শিল্প বর্তমানে বিভিন্ন সংকটের মুখোমুখি হয়ে টিকে থাকার জন্য লড়াই করছে। দক্ষ কারিগরের অভাব, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, উৎপাদন খরচের বৃদ্ধি এবং বাজার সংকটের কারণে এই খাতের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সতর্ক করে বলছেন, যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে হাজারো মানুষের জীবিকার উৎস হিসেবে পরিচিত এই শিল্পটি শীঘ্রই হারিয়ে যেতে পারে।

এক সময় পুরো এলাকা ছিল তাঁতের খটখট শব্দে মুখর। কারিগরদের দক্ষ হাতে তৈরি বেনারসি ও কাতান শাড়ির কদর ছিল দেশজুড়ে। ভারতেও এই শাড়ির ব্যাপক চাহিদা ছিল। তবে সময়ের পরিক্রমায় সেই রূপ এখন ম্লান হয়ে গেছে। সরকারি উদ্যোগে বাস্তবায়নের দুই দশক পার হলেও পাবনার ঈশ্বরদীর বেনারসি পল্লী এখনও পূর্ণতা পায়নি। বরাদ্দ পাওয়া অধিকাংশ প্লটে কারখানা গড়ে ওঠেনি, ফলে পড়ে থাকা জমি ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। তাঁত ও কারিগরের সংখ্যা কমে গেছে।

ঈশ্বরদী পৌর শহরের ফতেমোহাম্মদপুর এলাকায় গড়ে ওঠা এই বেনারসি পল্লী শত বছরের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ব্রিটিশ আমলে ভারতের উত্তর প্রদেশ থেকে আসা বেনারসি কারিগরদের মাধ্যমে এই অঞ্চলে অভিজাত শাড়ি তৈরির প্রসার ঘটে। যদিও শিল্পটি কালক্রমে বিস্তার লাভ করেছিল, তবে বর্তমানে নানা প্রতিকূলতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড ২০০৪ সালে প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে পাঁচ একর জমির ওপর বেনারসি পল্লী স্থাপন করে। এর লক্ষ্য ছিল ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পকে পরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া এবং তাঁতিদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। কিস্তিতে প্লট দেওয়ার মাধ্যমে সেখানে কারখানা বানানোর সুযোগ পান ৯০ জন তাঁতি।

কিন্তু দুই দশকেও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। বরাদ্দ পাওয়া ৯০টি প্লটের মধ্যে কারখানা গড়ে উঠেছে মাত্র সাতটিতে, যার মধ্যে বর্তমানে চালু আছে তিনটি। অনেক প্লটের নির্মাণ কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কোথাও দেয়াল উঠলেও ছাদ হয়নি, আবার কোথাও কারখানার কোনো চিহ্নই নেই। দীর্ঘদিনের অযত্নে পল্লীর বড় একটি অংশ এখন ঝোপঝাড়ে পরিণত হয়েছে।

তাঁতিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অবকাঠামোগত জটিলতার পাশাপাশি বাজার সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েক দফায় বেড়েছে সুতা, চুমকিসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম। একই সময়ে কম দামি ভারতীয় শাড়ির দাপটে দেশীয় বেনারসি ও কাতানের বাজার সংকুচিত হয়েছে।

উৎপাদন খরচ বাড়লেও শাড়ির দাম সেই অনুপাতে বাড়াতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়দের ভাষ্য, এক সময় ফতে মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় শত শত বেনারসি কারখানা ছিল, যেখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন হাজারো মানুষ। বর্তমানে অনেক কারিগর পেশা বদল করেছেন। আর যারা এখনও এই পেশায় আছেন, তারা অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

পল্লীর চালু থাকা কারখানাগুলোতে মান ও নকশা ভেদে হাতে তৈরি শাড়ি ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে শাড়ি তৈরিতে শ্রমিকের মজুরিই পড়ে যায় কয়েক হাজার টাকা। ফলে বাজারে কম দামি পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁতিরা।

কাঁচামালের দাম বাড়লেও বাজারে শাড়ির দর না বাড়ায় লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়ছে। এই অবস্থায় নতুন করে কারখানা করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন প্লটমালিকেরা। পাশাপাশি পল্লীটিতে সুতা প্রসেসিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় বাইরে থেকে কাজটি করাতে হচ্ছে, যা খরচ ও সময় দুটোই বাড়াচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কেবল প্লট বরাদ্দ দিয়ে এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাঁতিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, আধুনিক প্রযুক্তি, কাঁচামাল সহায়তা ও দক্ষ কারিগর ধরে রাখার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের রুচি অনুযায়ী নকশায় বৈচিত্র্য এনে দেশীয় বেনারসি-কাতানের বাজার সম্প্রসারণ জরুরি।

ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান জিলানী বলেন, "এক সময়ের সমৃদ্ধ এই শিল্প নানা কারণে এখন সংকটে। সরকারি সহায়তায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে পল্লীটি আবারও সচল করা সম্ভব।" জনবল সংকটের কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, "কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কর্মী না থাকায় তাকে একাই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আটঘরিয়া উপজেলার তাঁতিদের ঋণসংক্রান্ত কাজ সামলাতে হচ্ছে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাতিয়ায় ওছখালী-তমরদ্দি সড়কের বেহাল দশা, চরম ভোগান্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৪ পি.এম


হাতিয়ায় ওছখালী-তমরদ্দি সড়কের বেহাল দশা, চরম ভোগান্তি

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা সদর থেকে ওছখালী হয়ে তমরদ্দি বাজার পর্যন্ত এবং কাটাখালী পর্যন্ত বিস্তৃত ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি সংস্কারের অভাবে দীর্ঘ সময় ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পুরো সড়ক জুড়ে অসংখ্য বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এই করুণ অবস্থায় হাতিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে সব ধরনের যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

তমরদ্দি বাজার হাতিয়া উপজেলার সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। পাশাপাশি তমুরদ্দি লঞ্চঘাট অবস্থিত, যা দিয়ে প্রতিদিন শত শত যাত্রী সরাসরি রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করেন। এ ঘাটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক মালামাল ওঠানো ও নামানো (লোড-আনলোড) হয়। কিন্তু সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পণ্য পরিবহন খরচ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

অন্যদিকে, কাটাখালী এলাকা হাতিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ফুয়েল স্টেশনের যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মূলত কাটাখালী থেকেই প্রয়োজনীয় জ্বালানি পরিবহন করে হরেন্দ্র কোর্টের পাওয়ার স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়, যা দিয়ে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ করা হয়। সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সময়মতো ফুয়েল সরবরাহ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা পুরো দ্বীপের বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটানোর ঝুঁকি তৈরি করেছে।

এলাকাবাসী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল দশা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ১৫ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা না হলে হাতিয়ার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থমকে যাবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে।

এই অবস্থায় হাতিয়ার সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ী সমাজ অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনজীবন স্বাভাবিক করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) হাতিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ইমদাদুল হক বলেন, "ওছখালী থেকে তমরদ্দি সড়ক সংস্কার কাজের স্টিমেট আমরা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পাঠাবো। তবে আগামী এক মাসের মধ্যেই তমরদ্দি থেকে কাটাখালী সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করতে পারব বলে আশা রাখছি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাটমোহরে ১৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারী নিজাম উদ্দিন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৫ পি.এম


চাটমোহরে ১৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারী নিজাম উদ্দিন আটক

চাটমোহর থানা পুলিশ একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এক মাদক কারবারীকে আটক করেছে। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

আটক হওয়া মাদক কারবারীর নাম নিজাম উদ্দিন, বয়স ৩৫ বছর, তিনি পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার কুষ্টিয়াপাড়া গ্রামের জামির উদ্দিনের পুত্র। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে চাটমোহর রেলবাজার এলাকা থেকে পুলিশ তাকে আটক করে।

চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ অলিউর রহমান জানিয়েছেন, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ চাটমোহর রেলবাজার এলাকা থেকে ইয়াবাসহ নিজাম উদ্দিনকে আটক করে। এ ঘটনায় থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%