০৮:০৩ এম
এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দুই দিন আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ঘটে শিহাবের। সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, সেই শিহাবই জিপিএ-৫ পেয়েছে। এমন সাফল্যের দিনে তার ঘরে নেই। আনন্দ উদযাপনের পরিবর্তে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তার পরিবার গভীর শোকে কাতর হয়ে পড়েছে।
নিহত শিহাব কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মানুরা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তিনি ঢাকা বিমানবন্দর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এই বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম জানিয়েছে, শিহাবের বাবা তোফাজ্জল হোসেন ঢাকা শহরে গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। শিহাব ছিল পরিবারের একমাত্র ছেলে, তার দুটি ছোট বোন রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) চাচার বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে যায় শিহাব।
আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি
সম্ভবত শনিবার দুপুরে গোসল করার পর বাড়ির ছাদে কাপড় শুকাতে গিয়ে শিহাব বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে থাকে। বিয়ের অনুষ্ঠানের ডেকোরেশনের জন্য টানানো রঙিন বাতির তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়ে যায় সে। তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিহাবকে মৃত ঘোষণা করেন।
শনিবার সন্ধ্যায় শিহাবের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। শিহাবের চাচা তাজুল ইসলাম বলেন, ‘চাকরির কারণে শিহাবের পরিবার ঢাকা শহরে বাস করতো। চাচার বিয়েতে যোগ দিতে তারা গ্রামের বাড়িতে এসেছিল। শিহাব ছিল তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। তার দুটি ছোট বোন রয়েছে।’
সোমবার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জানা যায়, শিহাব জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফল প্রকাশের দিন তার এই সাফল্যে স্বজনদের আনন্দিত হওয়ার কথা থাকলেও, একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোকে পরিবারের মধ্যে নেমে এসেছে নীরবতা।
শশীদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রিয়াদ মন্তব্য করেছেন, ‘চাচার বিয়ের অনুষ্ঠানে এসে শিহাবের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু সত্যিই অত্যন্ত মর্মান্তিক। সোমবার এসএসসির ফল প্রকাশ হয়েছে এবং শিহাব জিপিএ-৫ পেয়েছে। একমাত্র সন্তানকে হারানোর ফলে পরিবারের মধ্যে এখন শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।’
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ
তিনি জানান, শিহাবের মৃত্যু পর পরিবারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নি ইসলাম বলেছেন, ‘এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। আমরা পরিবারের খোঁজখবর গ্রহণ করেছি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন