ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দেশের বাজারে আজ ২২ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকায়


দেশের বাজারে আজ ২২ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকায়

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের বাজারে সোনার দাম নির্ধারণ করে। সেই অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) দেশের বাজারে সর্বশেষ নির্ধারিত দামেই সোনা ও রুপা বিক্রি হচ্ছে।

সর্বশেষ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাজুস দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এতে ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরিতে দাম বৃদ্ধি পায় ২ হাজার ২১৬ টাকা।

বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম এখন ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা। এর আগে এই মানের সোনার প্রতি ভরির দাম ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা।

আরও পড়ুন: টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনে আইডিয়া জমা দেওয়ার আহ্বান

এছাড়া, ২১ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা। ১৮ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা।

যদিও সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরির দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি ৪ হাজার ১৪১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা।

এছাড়া, সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৬৮৩ টাকা।

বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। সোনা ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

আরও পড়ুন: ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে মূল্যস্ফীতি ও দারিদ্র্য কমবে: বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ

এছাড়া, মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে পুরোনো অলংকার বিনিময়ের (এক্সচেঞ্জ) ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো সোনা কেনার (পারচেজ) ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘুমন্ত স্বামীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, স্ত্রী-শাশুড়ি আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৯ এম


ঘুমন্ত স্বামীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, স্ত্রী-শাশুড়ি আটক

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাদ্রাসার মাঠে ঘুমন্ত অবস্থায় কামাল হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক স্ত্রী, শাশুড়ি ও শ্যালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের সাবেক স্ত্রী তানিয়া (৪০) ও শাশুড়ি করফুলের নেছাকে (৫৮) আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী সুধারাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তুষ্ট লাল। এর আগে রোববার রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব দুর্গানগর গ্রামের মোহাম্মদিয়া নুরানী মাদ্রাসার মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কামাল সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের খলিলুর রহমানের ছেলে। তার সাবেক স্ত্রী তানিয়া সদর উপজেলার পূর্ব দুর্গানগর গ্রামের আমজাদ হাজী মসজিদ বাড়ির আমির হোসেনের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুয়া খেলায় আসক্তি নিয়ে কামালের সঙ্গে তানিয়ার পারিবারিক কলহ ছিল। এর জেরে পাঁচ-ছয় বছর আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তবে বিচ্ছেদের পরও কামাল তার সাবেক স্ত্রীকে কাজে যাওয়া-আসার পথে বিরক্ত করতেন। কিছুদিন আগে কামাল সাবেক স্ত্রীর বাড়িতে আসেন। তবে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বাড়িতে জায়গা দেননি। এরপর থেকে তার মেয়েকে দেখতে তিনি শ্বশুর বাড়ির পাশের মোহাম্মদিয়া নুরানী মাদ্রাসার মাঠে মাথার নিচে ইট দিয়ে ঘুমাতেন।

পুলিশ জানায়, গত শনিবার ওই মাদ্রাসার মাঠে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কামাল ইট দিয়ে তার সাবেক শ্বশুর আমির হোসেনকে মারধর করে আহত করেন। এ ঘটনার জেরে পরদিন রোববার ঢাকা থেকে আসেন কামালের শ্যালক আকাশ (২০)। এরপর রোববার রাত ১১টার দিকে মাদ্রাসার মাঠে ঘুমন্ত কামালকে তার স্ত্রী তানিয়া, শাশুড়ি করফুলের নেছা ও শ্যালক আকাশ কামালের পেটের বাম পাশে, পিঠে, মাথায়, হাতে ও বাম উরুতে ছরিকাঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিহতের সাবেক স্ত্রী ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উইঘুর নেতা দোলকুন ঈসা নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে প্রশ্ন তুললেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৫ এম


উইঘুর নেতা দোলকুন ঈসা নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে প্রশ্ন তুললেন

উইঘুর সেন্টার ফর ডেমোক্রেসির সভাপতি দোলকুন ঈসা নাভি পিল্লাইকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে উইঘুর মানবাধিকারকর্মীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি এই প্রশ্ন উত্থাপন করেন।

ঈসা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, জাতিসংঘে উইঘুরদের অধিকার নিয়ে কথা বলার সময় তিনি চীনের চাপ, নজরদারি এবং তাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা মোকাবেলা করেছেন।

ঈসা আরও অভিযোগ করেন যে, ২০১৭ সালে তাকে জোর করে জাতিসংঘের চত্বর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। পিল্লাইয়ের দায়িত্ব পালনের সময়, বিশেষ করে ২০১২ ও ২০১৩ সালে, জাতিসংঘে প্রবেশ এবং বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে তাকে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল।

ঈসা দাবি করেন, পিল্লাইয়ের নেতৃত্বাধীন দপ্তর তার এবং অন্যান্য মানবাধিকারকর্মীদের অংশগ্রহণসংক্রান্ত তথ্য চীন সরকারের কাছে তাদের অনুমতি ছাড়া পাঠিয়েছিল। তার মতে, এইভাবে তথ্য প্রকাশ করা ছিল বিশ্বাসের গুরুতর লঙ্ঘন। তিনি এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান।

ঈসা প্রশ্ন করেন, কেন মানবাধিকারকর্মীদের তথ্য চীনের কাছে পাঠানো হয়েছিল এবং এর অনুমতি কে দিয়েছিল। যাদের সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল, তারা কেন তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন, সেই প্রশ্নও তিনি তুলেছেন।

পিল্লাইয়ের অন্য কাজের প্রশংসা করলেও ঈসা বলেন, এসব অর্জন তার দায়িত্ব পালনের সময় উইঘুর অধিকারকর্মীদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ মুছে দিতে পারে না। উইঘুরদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় পিল্লাইয়ের কাছ থেকে জোরালো ও স্পষ্ট সমর্থন না পাওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি উইঘুরদের ওপর চালানো নিপীড়নকে গণহত্যা বলে উল্লেখ করেন।

ঈসা জানান, উইঘুরদের অধিকার নিয়ে কাজ করার কারণে তার পরিবারও ভুগতে হয়েছে। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে চীনের একটি বন্দিশিবিরে তার মায়ের মৃত্যু হয়। তার দুই ভাই এখনো চীনে বন্দি রয়েছেন। ঈসা বলেন, বিষয়টি তার কাছে অত্যন্ত ব্যক্তিগত। চীনের কর্মকাণ্ড তার পরিবারের ওপর কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা বোঝাতেই তিনি এ কথা তুলে ধরেছেন।

ঈসার মতে, নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেও কেউ প্রশ্ন ও জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নন। তিনি মানবাধিকার সবার জন্য সমান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, এই অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতিতে উইঘুর জনগণকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও বর্তমান বাস্তবতা: নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৫ এম


জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও বর্তমান বাস্তবতা: নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন

২০২৪ সালের আগস্ট মাস কিছুটা দেরিতে উপস্থিত হয়েছে। প্রথম পাঁচ দিন ছিল জুলাইয়ের গর্ভে। আগস্টের পাঁচ দিন নিয়ে জুলাই স্ফীত হয়ে ৩৬ দিনে পরিণত হয়েছে এবং একটি নতুন বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছে। নতুন বাংলাদেশটি কী? এর স্বরূপ কেমন ছিল? আজ দুই বছর পর সেই বাংলাদেশের সঠিক চিত্রটি বোঝার সময় এসেছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলন যখন নাহিদ ইসলামের ঘোষণায় এক দফার আন্দোলনে পৌঁছায় এবং সেই ঘোষণা অনুযায়ী ১৭ বছরের এক দানবীয় অপশক্তির পতন ঘটে, তখন মানুষ ভাবতে শুরু করে, এটাই জুলাই। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছিল, এরপর কী হবে? আবার তারা স্বগতোক্তির মতো বলেছিল, যা খুশি তাই হোক, অন্তত রাক্ষসী হাসিনার হাত থেকে দেশ মুক্ত হয়েছে। অধিকাংশ মানুষ মনে করেছিল, হাসিনার পতনই জুলাইয়ের চূড়ান্ত আকাঙ্ক্ষা। কিছুদিন পর হাসিনা-ব্যবস্থার সুবিধাভোগীরা এইটুকুও বলতে নারাজ হয়ে যায়। তারা বলতে শুরু করে, জুলাই ছিল চাকরিতে কোটা সংস্কারের আন্দোলন, ব্যস, এর বেশি কিছু নয়। আমেরিকানরা টাকা দিয়ে এনজিওগুলোকে মাঠে নামিয়েছে হাসিনার পতন ঘটানোর জন্য। টাকা, ক্ষমতা, বুলেট—সবই তো হাসিনার ছিল। তিনি কি পেরেছিলেন মানুষকে নিবৃত্ত করতে? পারেননি। সারা দেশের মানুষ একটি আকাঙ্ক্ষা বুকে ধারণ করে চব্বিশের জুলাইয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল। এমন স্বতঃস্ফূর্ত জনস্রোত টাকা দিয়ে তৈরি করা যায় না। ছেলেকে পুলিশ গাড়িতে তুলছে, মা তার পিঠ চাপড়ে দিচ্ছে—টাকা দিয়ে কোনো মাকে এই উচ্চতায় তোলা যায় না। হাজার হাজার মা রাস্তায় নেমে এসে পুলিশের গুলি উপেক্ষা করে সন্তানতুল্য ছাত্রছাত্রীদের মুখে পানি, ফলের রস, নুডলস তুলে দিচ্ছেন। কেউ টাকা দিয়ে এমন একটি দৃশ্য আবার তৈরি করতে পারবে?

সবাই একটি আকাঙ্ক্ষা নিয়ে হাসিনার পতন ঘটাতে নেমে এসেছিল—আর যেন কেউ এ দেশে হাসিনা হতে না পারে। মানুষ অর্ধশতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা হাসিনা-ব্যবস্থা থেকে মুক্তি লাভের আকাঙ্ক্ষা বুকে ধারণ করে, মৃত্যুকে তুচ্ছজ্ঞান করে, রাজপথে নেমে এসেছিল। শুধু শেখ হাসিনার পতন নয়, জুলাই একটি বৃহত্তর আকাঙ্ক্ষার নাম। সেই আকাঙ্ক্ষাটিকে আমাদের ভালো করে বুঝতে হবে।

৩৬ দিনের জুলাই ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে যে নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছে, সেই বাংলাদেশ শুধু হাসিনামুক্ত বাংলাদেশ নয়; বরং সেই বাংলাদেশ সব ধরনের বৈষম্যমুক্ত একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। যেখানে মানুষকে মূল্যায়িত হতে হবে তার মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে। দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য জন্মাতে হবে না জিয়া বা মুজিব পরিবারে। কৃষক-শ্রমিকের সন্তান, যদি তার মেধা থাকে, যোগ্যতা থাকে, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা থাকে, সেই হবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এই বাংলাদেশেরই বিভাষ রচনা করেছে জুলাই। একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্নই জুলাই। জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর নামের মধ্যেই নিহিত আছে ১৮ কোটি মানুষের স্বপ্নাকাঙ্ক্ষা।

একটি সমাজের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা কখনো অনৈতিক হয় না। ব্যক্তিগতভাবে মানুষ অসৎ হতে পারে, কিছু কিছু সমাজের সব নেতৃত্ব অসৎ ব্যক্তিদের হাতে চলে যেতে পারে। এই অসৎ ব্যক্তিদের প্রভাবে সমাজ কলুষিত হয়ে যায়। তখন মনে হয়, সমাজটি নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু সেই নষ্ট সমাজের ভেতরে লুকোনো একটি যৌথ আকাঙ্ক্ষা বা স্বপ্ন থাকে, যা কখনোই নষ্ট নয়। সেই আকাঙ্ক্ষাটি একটি সুন্দর, শুদ্ধ ও নৈতিক সমাজের—যেখানে কেউ কারো চেয়ে বড় নয়, কেউ কারো চেয়ে ছোট নয়।

পৃথিবীতে একটি দেশ আছে, যেখানে মানুষেরা একটি সামাজিক আইন মেনে চলে, যা তাদের অহংকারমুক্ত রাখে। আইনটি হচ্ছে, ‘আমি কারো চেয়ে বড় নই’। সেই দেশটির নাম নরওয়ে। এটি কোনো রাষ্ট্রীয় আইন নয়, কিন্তু এই সামাজিক প্রথা দেশটির সবাই মেনে চলে। কীভাবে একটি দেশের সব মানুষ এই মহৎ চিন্তাকে গ্রহণ করলেন? কোথা থেকে এলো এই আইন? বিষয়টি খুব আগ্রহোদ্দীপক। আসুন, একটু জেনে নিই।

ডেনিশ-নরওয়েজীয় লেখক এক্সেল স্যান্ডেমোসে একটি উপন্যাস লেখেন। উপন্যাসটির নাম En flyktning krysser sitt spor। এর ইংরেজি নাম A Fugitive Crosses His Tracks। এর বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘একজন পলাতক নিজের পথ অতিক্রম করে’। উপন্যাসটি ১৯৩৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

এই উপন্যাসে একটি ছোট্ট শহরের গল্প আছে। শহরটির নাম ইয়ান্তে। এই শহরের মানুষ খুব দুষ্টু, তারা সর্বদা কলহে লিপ্ত থাকেন। ইয়ান্তে শহরের মানুষকে সভ্য করার জন্য একটি আইন তৈরি করা হয়। সেই আইনের নাম ইয়ান্তেলোভেন, মানে ইয়ান্তের আইন। সেই আইনে ১০টি ধারা ছিল। সবগুলো ধারার সারমর্ম করলে দাঁড়ায়, তুমি নিজেকে অন্য কারো চেয়ে বড় ভাবতে পারবে না। অনেকেরই হয়তো ইয়ান্তেলোভেনের ১০টি ধারাই জানার আগ্রহ হতে পারে। তাই এখানে ধারাগুলো উল্লেখ করছি—

১. ভাববেন না যে আপনি বিশেষ কিছু।

২. ভাববেন না যে আপনি আমাদের মতো ভালো।

৩. ভাববেন না যে আপনি আমাদের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান।

৪. কল্পনা করবেন না যে আপনি আমাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।

৫. ভাববেন না যে আপনি আমাদের চেয়ে বেশি জানেন।

৬. ভাববেন না যে আপনি আমাদের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৭. ভাববেন না যে আপনি কোনো কিছুতেই বেশি পারদর্শী বা ভালো।

৮. আমাদের দেখে হাসবেন না (বা আমাদের উপহাস করবেন না)।

৯. ভাববেন না যে কেউ আপনার পরোয়া করে।

১০. ভাববেন না যে আপনি আমাদের কিছু শেখাতে পারবেন।

এরপর আরো একটি, ১১তম, অনানুষ্ঠানিক ধারা প্রশ্নের আকারে ইয়ান্তেলোভেনে আছে। সেটি হচ্ছে: আপনি কি ভাবেন, আমরা আপনার সম্পর্কে কিছুই জানি না?

ইয়ান্তেলোভেন নিয়ে অধিকারকর্মীরা এই সমালোচনা করতে পারেন যে মানুষের চিন্তা বা স্বাধীন ভাবনা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কি কোনো আইন হতে পারে? আমার বিবেচনায়, সেই আইন যদি বৃহত্তর সমাজের কল্যাণের জন্য হয়, তাহলে হতে পারে।

এখন সমস্যা হলো, আইন করলে আইনভঙ্গের জন্য শাস্তির বিধানও থাকতে হবে। সে ক্ষেত্রে কেউ যে আইন ভঙ্গ করেছে, তা প্রমাণও করতে হবে। আমি গোপনে কী ভাবছি, তা রাষ্ট্র কীভাবে প্রমাণ করবে? যদি আমি আমার সেই ভাবনা প্রকাশ করি, তখনই মানুষ জানবে এবং তা প্রমাণ করা যাবে। মানুষের মনের গোপন ভাবনা প্রমাণ করা সম্ভব নয়। আর সে কারণেই ইয়ান্তেলোভেন রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত কোনো আইন নয়। কিন্তু নরওয়ের মানুষ উপন্যাসের এই আইনকে তাদের অন্তরে জায়গা দিয়েছেন, ইয়ান্তেলোভেনকে সামাজিক প্রথার সর্বোচ্চ আসনে বসিয়েছেন।

কেউ যদি দৈবাৎ এমন কোনো আচরণ করেন যে তিনি অন্যদের চেয়ে বেশি জানেন বা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে সমাজ তাকে ভালো চোখে দেখে না। ফলে দেশটিতে কে সরকারপ্রধান আর কে ট্যাক্সিচালক কিংবা গতর খাটা শ্রমিক, তা নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। যখন তারা পাশাপাশি দাঁড়ান, কোনো রেস্তোরাঁয় বসেন বা কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে যান, সবাই সমান মর্যাদা পান এবং সবাই সবার দিকে সমান মর্যাদার দৃষ্টিতে তাকান। আচরণে তো বৈষম্য প্রকাশ করেনই না, মনেও নরওয়েজীয়রা নিজেকে কখনো পাশের জনের চেয়ে উন্নত কেউ ভাবেন না। দীর্ঘদিনের চর্চা এবং এই প্রথাকে হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করার মানসিকতা থেকেই তারা এই জায়গাটিতে পৌঁছাতে পেরেছেন।

নরওয়ের মানুষ নিজেদের ব্যক্তিগত সাফল্যের কথা কখনো প্রচার করেন না। কারণ, এতে তাদের মধ্যে অহংকার তৈরি হতে পারে। শুধু তা-ই নয়, তারা যে নিজেদের অন্যদের চেয়ে আলাদা ভাবছেন, সবাই এমনটাও মনে করতে পারেন, যা তাদের জন্য ভীষণ অপমানজনক। ইয়ান্তেলোভেনের প্রভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে। শুধু নরওয়ে নয়, সুইডেন ও ডেনমার্কেও এখন ইয়ান্তেলোভেনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে।

আমি যখন ১৯৯৯ সালে স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় বেড়াতে যাই, তখন তাদের বলতে শুনেছি, ইউরোপে উন্নয়নের ঢেউ উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়। অর্থাৎ উত্তর ইউরোপের দেশগুলো, যেমন নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ড—এই অঞ্চলগুলো থেকে দক্ষিণের ইতালি, গ্রিস অবধি উন্নয়নের ঢেউ প্রবাহিত হয়। শুধু উন্নয়ন নয়, আমি মনে করি, সভ্যতার ঢেউও উত্তর থেকে দক্ষিণমুখী প্রবাহিত হয়। ইয়ান্তেলোভেনের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ, মানবিক একটি প্রথা বা সামাজিক আইন উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু অবধি ছড়িয়ে পড়লে পৃথিবীর সভ্যতা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে।

জুলাই প্রসঙ্গে আমি কেন ইয়ান্তেলোভেনকে টেনে আনলাম? কারণ, জুলাইয়েও ইয়ান্তেলোভেনের মতো কিছু সামাজিক কোড তৈরি হয়েছে। আমাদের মধ্যে একজন এক্সেল স্যান্ডেমোসে নেই বলে সেই আকাঙ্ক্ষাগুলো নিয়ে কোনো মহৎ উপন্যাস এখনো রচিত হয়নি। তবে হবে না, তা বলা যায় না। হয়তো শিগগিরই তা হবে।

উপন্যাস রচিত না হলেও ২০২৪ সালের বর্ষা বিপ্লবের উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে ছাত্রদের উপর্যুপরি অনুরোধে যিনি ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দেশের হাল ধরেন, সেই ড. ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে একটি গ্রন্থে ধরে ফেলেছেন। উত্তাল জুলাইয়ে সারা দেশের পথে ও দেয়ালে লিখিত ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন, গ্রাফিতিগুলোর ছবি তুলে একটি গ্রন্থে সন্নিবেশ করেন তিনি। জুলাইয়ের রাজপথে উচ্চারিত ছাত্র-জনতার স্লোগানগুলো, গ্রাফিতিগুলো ও ছাত্র-জনতার সংলাপগুলো বিশ্লেষণ করলেই আমরা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পেয়ে যাই। সেগুলোই আসলে আমাদের জুলাইয়ের ইয়ান্তেলোভেন।

মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার তালিকা থেকেই আমরা তৈরি করতে পারি জুলাইয়ের ইয়ান্তেলোভেন। সেগুলো হচ্ছে—

১. তুমি যত উঁচু পদেই থাকো, অন্যকে ছোট করে কথা বলতে পারবে না।

২. পেশা, ধর্ম, বর্ণ, বংশ, পোশাক ইত্যাদির কারণে কোনো মানুষকে তুমি তোমার চেয়ে ছোট ভাবতে পারবে না।

৩. তুমি যত উঁচু পদেই থাকো না কেন, অন্যায় করলে তুমি অপমানিত হবে।

৪. অপরাধীর কোনো ক্ষমা নেই। সে যে-ই হোক, তাকে শাস্তি পেতে হবে।

৫. দল, জাত, ধর্ম, বয়স, সম্পর্ক নয়; মূল্যায়নের জন্য বিবেচিত হবে মেধা ও যোগ্যতা।

৬. তুমি যত শক্তিশালীই হও না কেন, অন্যের ওপর জুলুম করতে পারবে না। যদি করো, তোমাকে শাস্তি পেতে হবে।

৭. রাষ্ট্রের বা রাজনৈতিক দলের সর্বোচ্চ আসন কোনো বিশেষ পরিবারের জন্য সংরক্ষিত থাকবে না; সবচেয়ে যোগ্য মানুষই সেই পদ গ্রহণ করবে।

৮. যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে, তারা অন্যায় করলে বিনা বাধায় মানুষ প্রতিবাদ করবে। প্রতিবাদকারীদের দমন করার জন্য রাষ্ট্র শক্তি প্রয়োগ করতে পারবে না।

৯. এমন একটি ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা হবে, যেখানে মজলুম সম্মানিত হবে, জুলুমকারী অপমানিত হবে।

১০. অন্যায়কারী যত শক্তিশালীই হোক, মানুষ নির্দ্বিধায় তার চোখে চোখ রেখে সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে পারবে।

জুলাই সনদ এই আকাঙ্ক্ষাগুলো পুরোপুরি ধারণ করে না। সে জন্য দরকার একটি নতুন সংবিধান এবং সাংস্কৃতিক বিপ্লব। তারপরও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই অর্ধশতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা হাসিনাব্যবস্থা থেকে বের হওয়ার শুভ সূচনাটা করতে হবে। এই রচনায় যে ১০টি আকাঙ্ক্ষার কথা উল্লেখ করেছি, এর বাইরেও আরো অনেক কিছু আছে। একটি চলমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আমাদের এসব অর্জন করতে হবে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের যাত্রা শুরু হয়েছে মাত্র। ভ্রমণটা অনেক দীর্ঘ হবে। আমাদের ধৈর্য ও বিচক্ষণতার সঙ্গে বহুদূর হেঁটে যাওয়ার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।

লেখক: কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লিভারপুলের মাঠে সিটি সমর্থকদের হাতে শত শত কলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৬ এম


লিভারপুলের মাঠে সিটি সমর্থকদের হাতে শত শত কলা

অ্যানফিল্ডে কাল রাতে বিদ্রূপের ভাষায় লিভারপুল সমর্থকরা নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছিলেন, অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকরা হাজির ছিলেন শত শত ফোলানো কলা নিয়ে।

প্রথমবারের মতো দৃশ্যটি অদ্ভুত মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে সিটির সমর্থকদের কয়েক দশকের পুরনো ঐতিহ্য। ক্লাবের কঠিন সময়ের স্মৃতি এবং নিজেদের ফুটবল সংস্কৃতির পরিচয় দিতে লিভারপুলের মাঠ অ্যানফিল্ডের গ্যালারিতে কলা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তারা।

১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে সিটির সমর্থকদের মধ্যে কলা নিয়ে মাতামাতির সূচনা হয়। তখন সিটির স্ট্রাইকার ইমরে ভারাদিকে এক সমর্থক মজা করে ডাকেন ‘ইমরে ব্যানানা’ নামে।

এরপরের ম্যাচে আরেক সমর্থক মাঠে নিয়ে আসেন একটি ফোলানো কলা। সেখান থেকেই শুরু হয় এই ব্যতিক্রমী রীতি, যা আশির দশকের শেষভাগ থেকে নব্বইয়ের দশকজুড়ে সিটির সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করে।

সময়ের সঙ্গে ফোলানো কলা হয়ে ওঠে ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থক সংস্কৃতির পরিচিত প্রতীক। বিশেষ করে ইংলিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরের বাইরে কাটানো কঠিন দিনগুলোতে এই প্রতীক হয়ে উঠেছিল সমর্থকদের রসবোধ, আবেগ এবং ক্লাবের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের একটি মাধ্যম।

অ্যানফিল্ডে এবার সেই পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনেছেন সিটির সমর্থকেরা। লিভারপুলের সমর্থকেরা সিটির ইতিহাস ও অর্জন নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ব্যানার প্রদর্শন করছিলেন। এর জবাবে অতিথি দলের সমর্থকেরা নিজেদের অতীতের স্মৃতি সামনে এনে গ্যালারিতে ভিন্ন আবহ তৈরি করেছেন।

ম্যানচেস্টার সিটি সম্প্রতি অনেক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন শঙ্কা জেগেছে, তখন সিটির সমর্থকদের এই কলা প্রদর্শনে ফুটে উঠেছে নিজেদের ইতিহাসকে হাস্যরসের সঙ্গে গ্রহণ করার মানসিকতা।

ফোলানো কলাগুলো তাই গ্যালারির সাজসজ্জার অংশ নয়। এগুলো সিটির কঠিন সময়ের স্মৃতি, সমর্থকদের স্বতন্ত্র পরিচয় এবং প্রতিপক্ষের খোঁচার জবাবে নিজেদের মতো করে প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রতীকও।

মাঠেও দারুণ জবাব দিয়েছে সিটি। প্রিমিয়ার লিগে কাল লিভারপুলকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%