শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:০৩ এম
নামে নামে যমে টানে বলে একটি প্রবাদ প্রচলিত রয়েছে। তবে যমে না টানলেও আলাস্কায় নাম বিভ্রাটের কারণে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আলাস্কার দুই প্রার্থীর নাম নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। বর্তমানে আলাস্কার সিনেটর রিপাবলিকান। ডেমোক্র্যাটরা এই আসনটি দখল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। দুই পক্ষই আসনটি দখল করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে নাম নিয়ে বিতর্ক।
আলাস্কার বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটরের নাম ড্যান এস. সুলিভান। তবে এবারের ব্যালটে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ড্যানিয়েল জে. সুলিভান জুনিয়র নামের আরেকজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি কোনো দলের প্রার্থী নন। তবে বিষয়টি নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরের মধ্যে আগে থেকেই হৈচৈ শুরু হয়েছে।
তাদের দাবি, একই নামের দুই প্রার্থী ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে পারে। কিন্তু গত জুন মাসে আলাস্কার সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে যে দ্বিতীয় ড্যান সুলিভানের প্রার্থিতা বৈধ এবং তার নাম ব্যালটে থাকবে। যে কোনো নির্বাচনকে আগে থেকেই বিতর্কিত করে রাখতে ট্রাম্প শিবিরের জুড়ি নেই। হারলে যাতে অজুহাত তৈরি থাকে, সেজন্য তারা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর আলাস্কায় তো অজুহাত তৈরি হচ্ছে।
গত ২২ অক্টোবর মার্কিন বিচার বিভাগ আলাস্কার ফেডারেল আদালতে একটি নজিরবিহীন মামলা করেছে। মামলায় দাবি করা হয়েছে যে, যদি বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান অল্প ব্যবধানে হেরে যান, তবে আলাস্কা রাজ্য সরকার যেন নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল শংসাপত্র জারি করতে না পারে। পরদিন অর্থাৎ ২৩ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের সামনে প্রকাশ্যে স্বীকার করেন, তিনি নিজেই বিচার বিভাগকে এই মামলা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তবে আলাস্কার নির্বাচন কর্মকর্তারা এবং রাজ্যটির আইন বিভাগ এই মামলার তীব্র বিরোধিতা করছে। তাদের যুক্তি হলো, আমেরিকার সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যের নির্বাচন কিভাবে পরিচালিত হবে বা ব্যালটে কে থাকবে—তা সম্পূর্ণ রাজ্য আইনের বিষয়, এখানে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই।
মুখপাত্র স্যাম কার্টিস বলেন, ‘ব্যালটে প্রার্থীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা রাজ্য আইনের বিষয়, কোনো ফেডারেল বা কেন্দ্রীয় আইন নয়।’ কিন্তু আইনের চেয়ে রাজনীতিতে মানুষের ধারণাই সব সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে নিউইয়র্ক টাইমস এই বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছে। গত ২৮ অক্টোবর নিউ ইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে টেক্সট মেসেজ ও নথির বরাত দিয়ে উন্মোচন করা হয়, ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী মেরি পেলটোলার প্রচার শিবির ও জাতীয় ডেমোক্র্যাটিক দল পরিকল্পিতভাবে আলাস্কার ভোটার তালিকা ঘেঁটে ‘ড্যান সুলিভান’ নামের লোকদের খুঁজে বের করেছিল।
উদ্দেশ্য ছিল— একই নামের ডামি প্রার্থী দাঁড় করিয়ে রিপাবলিকান ভোটারদের বিভ্রান্ত করা এবং বর্তমান সিনেটরের ভোট কেটে পেলটোলাকে জেতানো। তবে মেরি পেলটোলার প্রচার শিবির এই নিয়োগের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা একে ‘নোংরা রাজনীতি’ ও ’কারচুপি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে এভাবে ছায়া প্রার্থী দাঁড় করানোর কৌশল আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন নয় এবং এটি আইনিভাবে নিষিদ্ধ বা অবৈধও নয়।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনটি ট্রাম্পের শোচনীয় জনপ্রিয়তার রেটিং, উচ্চ জ্বালানি তেলের দাম এবং অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধ থেকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মূল আলোচনাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার একটি বিরল সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। তবে চাইলেও আলাস্কার ভোটারদের বিভ্রান্ত করা অত সহজ নয়। নাম নিয়ে বিতর্কের কারণে ভোটারদের বিভ্রান্তি এড়াতে আলাস্কার নির্বাচন কমিশন ব্যালট পেপারে বড় ধরনের পার্থক্য করে দিয়েছে। বর্তমান সিনেটরের নামের পাশে স্পষ্ট করে লেখা থাকবে— ড্যান এস সুলিভান (রেজিস্টার্ড রিপাবলিকান, বর্তমান পদাধিকারী)।
অপর প্রার্থীর নাম লেখা থাকবে ড্যানিয়েল জে. সুলিভান জুনিয়র এবং তার পাশে কোনো দলীয় প্রতীক বা রাজনৈতিক দলের নাম থাকবে না। তাছাড়া আলাস্কায় ‘র্যাংকড-চয়েস’ ভোটিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যেখানে ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ক্রমানুসারে (১ম পছন্দ, ২য় পছন্দ) ভোট দিতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যাপক প্রচার ও কড়াকড়ির কারণে সাধারণ ভোটাররা এখন সতর্ক, যার ফলে এই ডামি প্রার্থীর কারণে ভোটের ফলাফলে খুব বড় পরিবর্তন ঘটার আশঙ্কা কম। ভোটাররা বিভ্রান্ত হোন আর না হোন, রিপাবলিকান প্রার্থী হেরে গেলে যে ভবিষ্যতে এ বিতর্ক অনেকদূর যাবে, এটি নিশ্চিতভাবে বলা যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটার কারখানা পরিদর্শন করেছেন।
তিনি বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় কারখানাটির পরিদর্শনে যান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী টয়োটার প্রথম প্রাইভেটকারটি ঘুরে দেখেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, কারখানায় পৌঁছানোর পর টয়োটা কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে গাড়িতে ওঠার জন্য আমন্ত্রণ জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে গাড়িটিতে ওঠেন।
১৯৩৫ সালে টয়োটা পরিবারের প্রথম গাড়ির প্রোটোটাইপ ‘টয়োটা মডেল এ-ওয়ান’ তৈরি করা হয় এবং এর ধারাবাহিকতায় ১৯৩৬ সালে টয়োটার প্রথম বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী গাড়ি ‘টয়োটা মডেল এএ’ নির্মিত হয়। বর্তমানে জাপানের টয়োটা সংগ্রহশালায় গাড়িটির প্রতিরূপ সংরক্ষিত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পেন্টাগন কংগ্রেসকে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অন্তত ৪ হাজার ৭১০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তার আগে এই ব্যয়ের হিসাব প্রকাশিত হলো। নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির হাতে আগামী দুই বছর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কি না, তা নির্ধারিত হবে।
বুধবার পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া তহবিলের ৯৭ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ বা দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হয়েছে। গত জুলাইয়ে ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এ কর ও ব্যয়ের পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরা হয়েছিল। এই আইনটি চলতি বছরের শুরুর দিকে কার্যকর হয়েছিল।
নিউইয়র্ক টাইমসসহ বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের ব্যয় অন্তত ৪ হাজার ৭১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। কংগ্রেসের কর্মকর্তাদের কাছে পেন্টাগনের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এর মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত বোমা, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় সংগ্রহের জন্য সম্ভাব্য ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার ব্যয়ের হিসাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানের জন্য ৭৬০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। নৌবাহিনীর প্রায় দুই ডজন যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরির জন্য ব্যয় হয়েছে ১৫০ কোটি ডলার। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সেনাদের কার্যক্রম সচল রাখতে স্থলবাহিনীর ব্যয় হয়েছে ২১০ কোটি ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তাঁরা বড় স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি এবং বিভিন্ন ছোট অগ্রবর্তী অবস্থানে দায়িত্ব পালন করছেন।
পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে ৬১০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। এছাড়া ওই অঞ্চলে বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী সেনাদের পরিবহন ও সহায়তায় ৬৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং মার্কিন সেনাদের চিকিৎসাসেবায় আড়াই কোটি ডলারের কাছাকাছি ব্যয় হয়েছে।
কংগ্রেসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রান্সপোর্টেশন কমান্ডের ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ২২ লাখ ডলার। সাইবার সহায়তা কার্যক্রমে সাইবার কমান্ড ব্যয় করেছে ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
তবে এই হিসাবের বাইরে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো মেরামতের সম্ভাব্য ব্যয়। যুদ্ধজাহাজ ও উড়োজাহাজ চালাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির খরচও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে যুদ্ধের প্রকৃত আর্থিক বোঝা আরও বাড়তে পারে।
যুদ্ধে ১৮ জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে পেন্টাগন। তবে ওয়াশিংটন পোস্ট ছয়জন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা অন্তত ২২। পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা হতাহত বিশ্লেষণব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৮৬৫ জন মার্কিন সামরিক সদস্য আহত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। শ্রমিকদের ইটপাটকেল নিক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়ার ফলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরের পর গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর শিল্পাঞ্চলে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, কাশিমপুর শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা দুপুরের পর কাজে যোগ না দিয়ে কারখানা থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা মাসিক ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবি জানান। পরে জরুন এলাকা ও আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা তাদের সঙ্গে যোগ দেন।
একপর্যায়ে, কোনাবাড়ী বিসিক শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা অন্য কারখানার শ্রমিকদেরও বের হয়ে আসার আহ্বান জানান। এরপর বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অধিকাংশ কারখানা কর্তৃপক্ষ এ সময় ছুটি ঘোষণা করে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, "কোনাবাড়ী ও কাশিমপুরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। পরে তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামী ১ নভেম্বর থেকে দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত ও রাতযাপনের সুযোগ চালুর কথা থাকলেও, নির্ধারিত দিনে জাহাজ চলাচল শুরু করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ‘প্রয়োজনীয় অনুমোদন জটিলতা’ কারণে ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজগুলো তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না। এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং জেলা প্রশাসনের চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ার কারণে।
তবে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী যে, প্রয়োজনীয় অনুমতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগামী ৪ অথবা ৫ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন নৌরুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভার পরেই এই তথ্যগুলো সামনে আসে।
সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানিয়েছেন, গত ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গত ২৫ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় এবং পরবর্তীতে ২৭ অক্টোবর একটি সংশোধিত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে দ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াত ও রাতযাপনের বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংশোধিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। ইতোমধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে তিনটি জাহাজের ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। তবে জাহাজ চালুর জন্য নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনুমোদন, বিআইডব্লিউটিএর রুট পারমিট এবং জেলা প্রশাসকের অনুমতি আবশ্যক। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব।
হোসাইন ইসলাম বাহাদুরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ১ নভেম্বর থেকে ৩ হাজার ৫০০ পর্যটকের জন্য অনলাইন সফটওয়্যার চালুর বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। বর্তমানে তিনটি জাহাজ প্রস্তুত রয়েছে এবং আরও সাতটি জাহাজ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন মিললেই ৪ বা ৫ নভেম্বর থেকে সার্ভিস শুরু করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে জাহাজ চলাচলের জেটি ও অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ‘ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার’ (টুয়াক)-এর সাধারণ সম্পাদক আকতার নুর। তিনি বলেন, জাহাজ ছাড়ার জন্য নির্ধারিত ঘাটের পন্টুনের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সেখানে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের সিদ্ধান্ত হয়। ২৫ অক্টোবরের প্রাথমিক নির্দেশনায় শুধু নভেম্বরে দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসার নিয়ম থাকায় হোটেল-রেস্তোরাঁ ও জাহাজ মালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। পরে গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকরা সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং পর্যটকদের জন্য পূর্বে নির্ধারিত ১০০ টাকার পরিবেশ সংরক্ষণ ফিও বাতিল করা হয়েছে। তবে আগের নিয়মানুযায়ী কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়াছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকেই জাহাজগুলো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ