১১:০৫ এম
অবশেষে পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার হলেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের বহুল পরিচিত মাদক ব্যবসায়ী মো. কাজল মিয়া (৪৭), যিনি ‘ইয়াবা কাজল’ নামে পরিচিত।
দীর্ঘদিন ধরে অধরা অবস্থায় থাকা কাজল এলাকায় মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। তার এই গ্রেপ্তারে চুনারুঘাট পৌর শহরের স্থানীয়রা স্বস্তির অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমানের নির্দেশে এবং হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদের তত্ত্বাবধানে চুনারুঘাট থানার একটি বিশেষ দল এ অভিযান পরিচালনা করেছে।
আরও পড়ুন: পূর্বধলায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
চুনারুঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এএসআই খালিদ হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স পৌর শহরের নিজ এলাকা থেকে কাজল মিয়াকে গ্রেপ্তার করার ক্ষেত্রে সফল হন। কাজল মিয়া হচ্ছেন চুনারুঘাট পৌরসভার চন্দনা ধলাইপাড় এলাকার মৃত জহর হোসেনের পুত্র।
কাজলের মাদক ব্যবসা সংবাদপত্রে প্রকাশিত হওয়ার পর এই বিষয়টি সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমানের নজরে আসে এবং তিনি দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
স্থানীয়দের মতে, পৌরসভার চন্দনা ও ধলাইপাড়সহ পুরো উপজেলায় কাজল ও তার সহযোগীরা একচ্ছত্রভাবে মাদকের সিন্ডিকেট পরিচালনা করছিল। রাতের অন্ধকারে ইয়াবার চালান পরিবহনের মূল হোতা ছিলেন এই কাজল।
যদি কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতেন, তাহলে সাধারণ মানুষ এবং প্রতিবাদীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হয়রানির সম্মুখীন হতে হতো।
আরও পড়ুন: শিবচরে সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের উপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
পুলিশের নথি অনুযায়ী, কাজল মিয়া সম্পর্কে দেখা যায় যে তার বিরুদ্ধে ২০০৬ সাল থেকে মাূক, চুরি, মারামারিসহ নানা দৃষ্টান্তমূলক অপরাধের মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বরও তাকে একটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
কিন্তু জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি দ্বিগুণ উৎসাহের সঙ্গে পুনরায় মাদক ব্যবসায় লিপ্ত হন। তার এই ভয়াবহ কার্যক্রমে এলাকার কিশোর ও তরুণ সমাজ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিল এবং সামাজিক অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছিল।
এদিকে ‘ইয়াবা কাজল’ গ্রেপ্তার হওয়ার খবরটি চুনারুঘাটের সচেতন মহল ও সুশীল সমাজে সন্তোষের সৃষ্টি করেছে। অনেকের বিশ্বাস, মূল হোতা ধরা পড়ায় পৌর এলাকায় মাদকের কেনাবেচা অনেকটা নিরব হবে।
তবে সচেতন মহল জোর দাবি করছে যে, শুধু একজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করলেই মাদকের বিস্তার বন্ধ হবে না। কাজলের মতো ব্যক্তিদের পেছনে থাকা মাদকের মূল উৎস, সরবরাহের রুট, পরিবহনকারী এবং পর্দার আড়ালের প্রভাবশালী সহযোগীদেরও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে, যাতে কোনো আইনি ফাঁকফোকর গলে এই অপরাধীরা আর পার না পেতে পারে।
আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে মহাসড়কে মিলল অজ্ঞাত নারীর মরদেহ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন